17/07/2026
বাংলাদেশে নতুন একটি কোম্পানি খোলা মানে একদম একা একটা জঙ্গল পার হওয়ার অ্যাডভেঞ্চার নয়, বরং এক দল বন্ধু মিলে একটি ডিজিটাল ভিডিও গেমের বিভিন্ন লেভেল পার করার মতো উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা। আর এই রোমাঞ্চকর গেমের মূল ভিলেন কিংবা শেষ বস হচ্ছে 'রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস' বা সংক্ষেপে RJSC। গেমের প্রথম লেভেলে আপনার প্রথম কাজ হলো আপনার কোম্পানির জন্য একটি ইউনিক বা জুতসই নাম খুঁজে বের করা, যাকে অফিশিয়াল ভাষায় বলা হয় 'নামের ছাড়পত্র' বা Name Clearance।
এই ধাপটি ঠিক যেন কোনো জনপ্রিয় অনলাইন গেমের জন্য মনের মতো একটা গেমিং ইউজারনেম খোঁজার মতো—যদি নামটা অন্য কেউ আগেই নিয়ে থাকে, তবে গেম আপনাকে লাল বাতি দেখিয়ে বলবে "দয়া করে অন্য নাম ট্রাই করুন"!
একবার যদি আপনার পছন্দের নামটি ভাগ্যক্রমে টিকে যায়, তবেই আপনি পৌঁছে যাবেন গেমের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত লেভেলে, যেখানে আপনাকে তৈরি করতে হবে কোম্পানির জন্মকোষ্ঠী বা ভাগ্যলিপি।
এই স্ক্রিপ্ট লেখার পর্বে আপনার সঙ্গী হবে MoA (মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন) এবং AoA (আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন), যা আসলে আপনার কোম্পানির ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সীমানা এবং ভেতরে কে কীভাবে রাজত্ব চালাবে তার অলিখিত নিয়মকানুন। এই নিয়মের মারপ্যাঁচে যখন আপনি ব্যস্ত, ঠিক তখনই যদি আপনার টিমে কোনো বিদেশী ইনভেস্টর বা বিদেশী বন্ধু থাকে, তবে গেমের ডিফিকাল্টি লেভেল হুট করে এক ধাপ বেড়ে যাবে; কারণ তখন বাংলাদেশের একটি ব্যাংকে সাময়িক অ্যাকাউন্ট খুলে বিদেশ থেকে টাকা আনার পর 'এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট' নামক এক জাদুকরী কাগজের টুকরো সংগ্রহ করতে হবে, যা ছাড়া আপনার গেমের পরের দরজা কোনোভাবেই খুলবে না।
এই সব নথিপত্র আর সার্টিফিকেটের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যখন আপনি চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য RJSC-এর অনলাইন পোর্টালে আপনার ফাইলগুলো আপলোড করবেন, তখনই শুরু হবে আসল ক্লাইম্যাক্স। এখানে আপনার পকেট থেকে সরকারি ফি আর ডিজিটাল স্ট্যাম্প ডিউটির কিছু কয়েন খসিয়ে দেওয়ার পর যখন RJSC-এর সিস্টেম আপনার সব কাগজপত্র দেখে সবুজ সংকেত দেবে, স্ক্রিনে ভেসে উঠবে কাঙ্ক্ষিত 'সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন'। এটা পাওয়া মানে গেমের মূল মিশন সফল এবং আপনার কোম্পানি এখন খাতা-কলমে একটি জীবন্ত সত্তা, কিন্তু বিজয়ের এই আনন্দ উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই আপনার সামনে হাজির হবে গেমের বোনাস বা 'পোস্ট-ক্রেডিট' লেভেল।
নতুন এই বোনাস লেভেলে পা রাখা মাত্রই আপনার সাধের কোম্পানিকে বাস্তবে ডানা মেলতে হলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে এনবিআর-এর e-TIN (ট্যাক্স সার্টিফিকেট), সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যবসার লেনদেন সচল রাখতে ভ্যাট বা BIN সার্টিফিকেট নামের আরও কিছু রত্ন কুড়িয়ে নিতে হবে। অন্তত দুজন ডিরেক্টর আর একটা নির্দিষ্ট অফিসের ঠিকানা পকেটে নিয়ে যখন আপনি এই শেষ বাধাগুলোও পার করে ফেলবেন, তখনই স্ক্রিনে বড় করে লেখা উঠবে—"অভিনন্দন! আপনার ব্যবসা এখন বাজারের অন্য সব প্রতিযোগীদের টেক্কা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত!"