06/08/2026
১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের ইমিগ্রেশন! ✈️
একজন ১৫ বছরের ছেলে। জীবনে প্রথমবার একা বিদেশ ভ্রমণ। গন্তব্য ঢাকা (DAC) → ব্যাংকক (BKK)।
সবচেয়ে কঠিন অংশটা ছিল ইমিগ্রেশন।
⸻
ডেস্ক–০১
অফিসার: “তুমি একা যাচ্ছ?”
— “জ্বি।”
অফিসার: “কোথায় যাচ্ছ?”
— “ব্যাংকক।”
অফিসার: “কেন যাচ্ছ?”
— “বাবা-মায়ের কাছে।”
কিছুক্ষণ কথা বলে তিনি বললেন,
“ভিসা চেক ডেস্ক থেকে ভেরিফাই করে নিয়ে আসো।”
ভিসা চেক ডেস্কের দিকে যেতেই একজন অফিসার এসে বললেন,
“চলো, আমার সাথে।”
তিনি সরাসরি নিয়ে গেলেন স্যারের রুমে।
স্যার প্রথমেই বাবার পাসপোর্টের কপি চাইলেন।
— “তোমার বাবা কোথায়?”
— “ব্যাংককে।”
এরপর মায়ের পাসপোর্টের কপিও নিলেন।
দুটো পাসপোর্টের কপি কম্পিউটারে যাচাই করে কয়েক মুহূর্ত নীরবে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর মাথা তুলে বললেন,
“অদ্ভুত! তোমার মা-বাবাকে তো বাংলাদেশেই দেখাচ্ছে!” 😳
এরপর বললেন,
“তোমার বাবাকে ফোন দাও। Google Live Location পাঠাতে বলো।”
লোকেশন পাঠানো হলো।
এরপর বাবা-মায়ের পাসপোর্টের বাংলাদেশের ডিপার্চার সিল এবং থাইল্যান্ডের অ্যারাইভাল সিলের ছবিও চাওয়া হলো। সবকিছু মিলিয়ে দেখার পর অবশেষে বোর্ডিং পাসে বড় করে OK লিখে আবার ইমিগ্রেশন লাইনে যেতে বলা হলো।
⸻
ডেস্ক–০২
ভাবলো, এবার বুঝি সব শেষ… কিন্তু না।
আবার একই প্রশ্ন।
— “কোথায় যাবে?”
— “কেন যাবে?”
— “বাবার পাসপোর্টের কপি দাও।”
— “মায়ের পাসপোর্টের কপি দাও।”
সব দেখে অফিসার এবার বললেন,
“তোমার বাবা-মাকে তো বেইজিংয়ে দেখাচ্ছে। তারা কি সেখান থেকে ব্যাংকক যাবে?”
আবরার একদম শান্তভাবে উত্তর দিল,
“আঙ্কেল, বেইজিংয়ে আমিও বাবা-মায়ের সঙ্গে ছিলাম। আমরা এপ্রিলে একসাথেই বাংলাদেশে ফিরেছি। একটু আগেই সিনিয়র অফিসার ওই রুমে বলল, সিস্টেমে বাবা-মাকে বাংলাদেশে দেখাচ্ছে। তারপর বাবার-মায়ের ডিপার্চার সিল, থাইল্যান্ডের অ্যারাইভাল সিল আর Google Live Location দেখে বোর্ডিং পাসে OK লিখে দিয়েছেন।”
অফিসার বললেন,
“চলো, আবার স্যারের কাছে যাই।”
⸻
আসল রহস্য তখন বের হলো…
বড় স্যারের রুমে গিয়ে দেখা গেল,
ইমিগ্রেশনের একটি কম্পিউটারে দেখাচ্ছে আবরারের বাবা-মা বাংলাদেশেই আছেন, অর্থাৎ কোথাও যাননি।
অন্যদিকে আরেকটি কম্পিউটারে দেখাচ্ছে তারা বেইজিং গেছেন, কিন্তু এখনো দেশে ফেরেননি।
একই ডাটাবেজ, কিন্তু দুই কম্পিউটারে দুই রকম তথ্য!
স্যার কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন,
“একেকটা কম্পিউটার একেক রকম তথ্য দেখাচ্ছে! বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে।”
কিছুক্ষণ যাচাই-বাছাই করে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন।
বোর্ডিং পাসে বড় করে একটি রেফারেন্স নম্বর লিখলেন, অফিসারকে পাসপোর্টে সিল দিতে বললেন এবং নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে বললেন,
“ব্যাংককে পৌঁছানোর পর তোমার বাবাকে বলবে যেন আমাকে একবার ফোন করে জানায়।”
⸻
আলহামদুলিল্লাহ, আবরার নিরাপদে ব্যাংককে পৌঁছেছে।
পৌঁছানোর পর বড় স্যারকে ফোন করে জানানো হয়েছে।
তখন হয়তো বারবার প্রশ্ন, এক রুম থেকে আরেক রুমে যাওয়া—সবকিছু বিরক্তিকর মনে হচ্ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, একজন ১৫ বছরের ছেলে প্রথমবার একা বিদেশে যাচ্ছে—তাই তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি।
তারা নিয়ম মেনেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিশ্চিত হয়েছেন যে শিশুটি সত্যিই তার বাবা-মায়ের কাছেই যাচ্ছে।
সেই দায়িত্বশীল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক সম্মান ও কৃতজ্ঞতা। ❤️
আর আবরারের জন্য… জীবনের প্রথম Solo International Travel-ই হয়ে থাকল এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা সে সারাজীবন মনে রাখবে। ✈️🌍