Adv. Palash Saha

Adv. Palash Saha আপনার সকল প্রকার আইনি পরামর্শ ও সহায়তার জন্য আমরা আছি পাশে😊

মুঠোফোন এ যোগাযোগ এর জন্য -০১৭১৪২৬২৩৮০

জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কেউ আপনাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৮ ধারা মোতাবেক স...
10/08/2026

জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কেউ আপনাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৮ ধারা মোতাবেক সংযুক্ত আবেদনপত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারবেন অথবা বিজ্ঞ আদালতে সরাসরি মামলাও করতে পারবেন।

আপনার জমির মালিকানার প্রমাণক দলিলপত্র আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। আইন অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে বৈধ মালিকানার সম্পত্তির দখল ফিরে পাবেন।
Adv. Palash Saha

আজকের বিষয় বিবাহ পরবর্তী তালাক: তালাকের নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে স্বামী মারা গেলে কী হবে?বাংলাদেশের আইনের প্র...
22/07/2026

আজকের বিষয় বিবাহ পরবর্তী তালাক:

তালাকের নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে স্বামী মারা গেলে কী হবে?

বাংলাদেশের আইনের প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটির উত্তরের
মূল আইন: Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৭

ধারা ৭(১) অনুযায়ী, স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে এবং তার একটি কপি স্ত্রীকে দিতে হয়।

ধারা ৭(৩)-এর মূল কথা হলো—চেয়ারম্যানের কাছে তালাকের নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না, যদি তার আগে তালাক প্রত্যাহার না করা হয়। স্ত্রী গর্ভবতী হলে ধারা ৭(৫) অনুযায়ী ৯০ দিন বা গর্ভাবস্থার সমাপ্তি—যেটি পরে ঘটে—তার আগে তালাক কার্যকর হয় না।

এখন প্রশ্ন: ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে স্বামী মারা গেলে কী হবে?
১. স্বামী ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেলে—সাধারণ নীতিতে তালাক কার্যকর হবে না
যদি স্বামী তালাকের নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যান, তাহলে তাঁর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তালাক আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি। কারণ ধারা ৭(৩) অনুযায়ী, নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর পর ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না।
অতএব, স্বামীর মৃত্যুর সময় স্ত্রী আইনগতভাবে তাঁর স্ত্রী হিসেবেই বিবেচিত হবেন—এবং মৃত্যুর কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান হবে না; বরং স্বামীর মৃত্যুতে বিবাহের অবসান ঘটবে।

২. এর ফলে স্ত্রী উত্তরাধিকারী হতে পারেন
যেহেতু স্বামীর মৃত্যুর সময় তালাক কার্যকর হয়নি, তাই মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্ত্রী মৃত স্বামীর উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁর নির্ধারিত অংশ দাবি করতে পারবেন।
অর্থাৎ, শুধু তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেই স্ত্রী উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না, যদি স্বামী ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে মারা যান এবং তালাক তখনও কার্যকর না হয়ে থাকে।

৩. ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর স্বামী মারা গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন
ধরা যাক—
১ জানুয়ারি চেয়ারম্যান তালাকের নোটিশ পেলেন;
৯০ দিনের সময় শেষ হলো;
এরপর স্বামী মারা গেলেন।
এক্ষেত্রে, যদি তালাক পূর্বে প্রত্যাহার করা না হয়ে থাকে এবং ধারা ৭-এর অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য থাকে, তাহলে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে তালাক কার্যকর হয়ে যেতে পারে। ফলে স্বামীর মৃত্যুর সময় যদি বিবাহ ইতোমধ্যে আইনগতভাবে শেষ হয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রী সাধারণত স্ত্রী হিসেবে উত্তরাধিকার দাবি করতে পারবেন না।

সহজ উদাহরণ
উদাহরণ–১:
স্বামী ১ জানুয়ারি তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানকে দিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি স্বামী মারা গেলেন।
★৯০ দিন পূর্ণ হয়নি।
★তালাক কার্যকর হয়নি।
★মৃত্যুর সময় স্ত্রী আইনগতভাবে স্ত্রী ছিলেন।
★উত্তরাধিকার আইনের শর্ত সাপেক্ষে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার পাবেন।

উদাহরণ–২:
স্বামী ১ জানুয়ারি চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিলেন। ৯০ দিন পূর্ণ হলো। এরপর ১০ এপ্রিল স্বামী মারা গেলেন।
* ৯০ দিনের সময় অতিক্রান্ত হয়েছে।
* তালাক কার্যকর হয়ে থাকলে মৃত্যুর সময় স্ত্রী আর স্ত্রী ছিলেন না।
*সেক্ষেত্রে স্ত্রী হিসেবে উত্তরাধিকার পাওয়ার প্রশ্ন থাকবে না।

★★★একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এখানে ৯০ দিন গণনার শুরু হবে স্বামী যেদিন নোটিশ লিখেছেন বা স্ত্রী যেদিন নোটিশ পেয়েছেন, সেদিন থেকে নয়; ধারা ৭(৩) অনুযায়ী চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ delivered/প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ থেকে। তাই কোনো মামলায় স্বামীর মৃত্যুর তারিখ, চেয়ারম্যানের নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ, নোটিশ প্রত্যাহার হয়েছিল কি না এবং স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন কি না—এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সারকথা:
স্বামী তালাকের নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে, সাধারণভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে; ফলে মৃত্যুর সময় বিবাহ বহাল ছিল এবং স্ত্রী, উত্তরাধিকার আইনের অন্যান্য শর্ত সাপেক্ষে, স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হবেন।

নোট: এটি সাধারণ আইনি ধারণা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরাসরি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

“আইন সহজে জানুন, সচেতন থাকুন।”

 #সাইবার_হয়রানি!!!ফেসবুকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন?আজকাল অনেকেই সাইবার বুলিং, ছবি বিকৃতি, হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছ...
17/07/2026

#সাইবার_হয়রানি!!!

ফেসবুকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন?
আজকাল অনেকেই সাইবার বুলিং, ছবি বিকৃতি, হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন। এটা কিন্তু সাধারণ ব্যাপার না - এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আক্রান্ত হলে যা করবেন:
১) সাথে সাথে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন - প্রোফাইল লিংক, তারিখ, সময়সহ
২) মেসেজ বা কমেন্টের রিপ্লাই না দিয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
৩) নিকটস্থ থানায় গিয়ে জিডি করুন বা সরাসরি মামলা করুন
৪) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী এসব অপরাধের নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান আছে
একা মোকাবিলা করার দরকার নেই। আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।"

কর্মরত  কোন অফিসে খুব বেশি বিনয়ী হবেন না। বিনয়ী লোক পাইলে সবাই তার উপর চেপে বেসে।  আসুন কর্মক্ষেত্রে কিভাবে নিজেকে মানিয়...
17/07/2026

কর্মরত কোন অফিসে খুব বেশি বিনয়ী হবেন না।

বিনয়ী লোক পাইলে সবাই তার উপর চেপে বেসে।
আসুন কর্মক্ষেত্রে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিবেন।

যারা নতুন জবে ঢুকেছেন বা জয়েন করবেন, তাদের জন্য ১৬ টি টিপস।

১। কোন নতুন অফিসে জয়েন করলে নিজ থেকে কারো সাথে পরিচত হতে যাবেন না, কোন সিনিয়র সবার সাথে পরিচিত করালেই তবে যাবেন।

২। আগ বাড়িয়ে নিজেকে জাহির করে নিজের পরিচয় দিতে যাবেন না। অফিসে ঢুকুন জানুন, মানুষগুলোকে বুঝার চেষ্টা করুন।

৩। পোশাক পরিধানে সচেতন হোন।৷

৪। বসের বা সিনিয়র এর সাথে সু সম্পর্ক রাখুন, তবে সব সময় ইয়েস স্যার ইয়েস স্যার করবেন না।

৫। সঠিক সময় সঠিক জায়গায় না বলতে শিখুন। না বলতে পারাটা ও একটি এচিভমেন্ট।

৬। সকালে ঠিক টাইমে প্রবেশ করুণ। অফিস টাইম শেষ হইলে অফিস থেকে প্রস্থান করুন। ছুটি শেষে বসকে দেখানোর জন্য বসে থাকবেন না, এতে নিজের ক্ষতি ও অন্যের ক্ষতি করছেন।

৭। নতুন অফিসে জয়েন করা মানেই আপনি সুন্দরবনে ঢুকে গেছেন, এইখানে বাঘ তাড়া করবে, সচেতন হোন, কার চরিত্র কি রকম বুঝার চেষ্টা করুন। কে কিভাবে এটাক করতে চায় বুঝার চেষ্টা করুন, কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।

৮। অফিসে কেউই আপনার বন্ধু না। কারো সাথে ভাল সম্পর্ক হলে খুশি হওয়ার কিছু নেই, দেখবেন উনিই আপনাকে সরাতে আগে থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

৯। এক কলিগের নামে আর কলিগকে কিছু বলতে যাবেন না। কথা পাস হবে৷ দেয়ালের না শুধু অফিসে চেয়ার টেবিলের ও কান আছে।

১০। পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে অফিস কলিগকে দাওয়াত করবেন না কেবল মাত্র নিজের নিজের বিয়ের দাওয়াত ছাড়া।

১১। তেল মারতে না পারলে কাজের উপর ফোকাস দিন, দিন শেষে আপনার কাজ ও যোগ্যতাই আপনাকে কর্মক্ষেত্রে টিকিয়ে রাখবে।

১২। দিনশেষে আফসোস করবেন না। অফিসে কাজ শেষে অফিসের চিন্তা অফিসে ফেলে আসুন। অফিস আপনার চিন্তা করে না।

১৩৷ চাকরির পাশাপাশি, অন্য কোন আর্থিক সাইট তৈরি করে রাখুন, যাতে চাকরি হারাবার ভয় না থাকে। রিজিকের মালিক রাজ্জাক।৷

১৪। অফিসের পিয়ন, দারোয়ান, ড্রাইভার এদের কে কখনোই ছোট ভাববেন না, এদের আপনার বসের সম পর্যায়ে ভাবুন। এরা অফিসের ইনফরমেশন বা আপনি কি করছেন তা যথাসময়ে বসের কাছে পোছায়। তাই এদের দুধ কলায় পোষার চেষ্টা করুন। তাতে আপনার পজিটিভ দিক৷ প্রকাশ পাবে।

১৫। সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যমে অফিস কলিগ এড করবেন না। খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নতুন আইডি খুলুন শুধু মাত্র তাদের জন্য।

১৬৷ অফিস শেষে নিজেকে প্রশ্ন করুন।৷ কিরে কেমন আছিস?
©

আজকের আলোচনা কিভাবে মৃ*ত্যু দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়:-মৃ*ত্যুদন্ডাদেশএটি কার্যকর করতে কয়েকটি আবশ্যকীয় ধাপ অতিক্রম করতে হয়...
07/07/2026

আজকের আলোচনা কিভাবে মৃ*ত্যু
দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়:-
মৃ*ত্যুদন্ডাদেশ
এটি কার্যকর করতে কয়েকটি আবশ্যকীয় ধাপ অতিক্রম করতে হয়-------- নিচে স্পষ্টভাবে আইনি ব্যাখা দেওয়া হলো----

***ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ -এর ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী দায়রা আদালত মৃত্যুদন্ড প্রদান করলে, সমস্ত কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে হয়। (রায় ঘোষণার ৩ দিনের মধ্যে (Rule 118 Cr.R.R.O)

**মৃত্যুদন্ড হলে আসামীপক্ষকে ৭ দিনের মধ্যে মাননীয় হাইকোর্টে আপীল করতে হয় (Sec. 371(3) CrPC)।

**আসামী আপীল না করলেও হাইকোর্ট স্বয়ং সবকিছু পর্যালোচনা করে রায় দিবে। হাইকোর্টও মৃৃত্যুদন্ড বহাল রাখলে মাননীয় আপীল বিভাগে আপীল হবে।

**আগে স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপীল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। পরে সংবিধান সংশোধন করে বলা হয়েছে আপীল বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোন মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবে না (Article 103, Constition)।

** আপীল বিভাগও মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রাখলে রিভিউ করা যাবে। রিভিউ হলো একই বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করার অাবেদন। ৯৯% ক্ষেত্রেই Review মঞ্জুর হয় না।

**সর্বশেষ আইনী পদক্ষেপ হিসেবে আপীল বিভাগের আদেশ প্রাপ্তির পর ২১ দিন হতে ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় (Sec.991 VI, Jail Code)।

***আইনগত লড়াই এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর দন্ডিত মহামান্য রাষ্টপতির নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করার সুযোগ পাবে [ Art 49, Constitution & Sec. 991, Jail Code)।

**মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দিনক্ষণ ঠিক করার পর আত্নীয়স্বজনকে শেষ দেখা করার জন্য খবর দেয়া হয় (Sec. 999 Jail Code)।

** মৃত্যুদন্ড রাতের যে কোন সময় কার্যকর করা হয় (Sec. 1001 Jail Code)।

**এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তার উপস্থিত থাকেন (Sec.1003 Jail Code)।

**তারপর পোস্টমর্টেম করে লাশ নিহত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন এর নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয় (Sec.1007, Jail Code)।

(বিঃদ্রঃ পোস্টটি অনুমতি ব্যতিত দয়া করে কপি করবেন না। জনস্বার্থে শেয়ার করতে পারেন)

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধন প্রয়োজন;সরকারি চাকুরে সন্তানদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্ববানপিত...
04/06/2026

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধন প্রয়োজন;
সরকারি চাকুরে সন্তানদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্ববান

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ৭(২) ধারা মোতাবেক ভরণ-পোষণের মামলা পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে নেওয়া যায় না অর্থাৎ বাবা-মা ব্যতীত মামলা দায়ের করা যায় না। ফলে এই আইনের অধীনে অতি বয়স্ক, অসুস্থ, পীড়িত বা অসচেতন বাবা-মায়ের পক্ষে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া যায় না। এই আইন যখন পাশ হয় তখনকার সমাজ বাস্তবতায় এটা বাড়াবাড়ি মনে হয়েছিল। কিন্তু দিন দিন সমাজের নৈতিক অধ:পতন বাড়ায় আইনটি আরও শক্ত করা দরকার।

ধারাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

"কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করিবে না।"

উক্ত আইনে অপ্রতুল সাজার বিধান আছে। জেল দেওয়ার সুযোগ নেই। আছে কেবল অর্থদণ্ড। ফলে এই আইনের প্রভাব দুর্বল। শাস্তি
বিষয়ক ৫(১) ধারা হুবহু তুলে ধরা হলো।

"কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।"

এক্ষেত্রে আইন সংশোধন করে বাবা-মায়ের পাশাপাশি একজন উপযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাকে বাদী হবার বিধান করা যেতে পারে এক্ষেত্রে সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রাধান্য পেতে পারে। এবং শাস্তির বিধান যুগোপযোগী করা যেতে পারে।

যদিও দায়ী সন্তানদের বিরুদ্ধে এই আইনে আপাতত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা, তথাপি সরকারি চাকরি করার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ২৮ ধারা অনুযায়ী "সরকার, জনপ্রশাসনের সকল পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতকল্পে, সরকারি কার্য সম্পাদনের নীতি, শুদ্ধাচার চর্চা এবং কর্মচারীগণ কর্তৃক অনুসরণীয় নৈতিকতার মানদণ্ডসমূহসহ অনুসরণের প্রক্রিয়া ও কৌশল প্রণয়ন করিবে।"

এই আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী, "অসদাচরণ’ অর্থ অসঙ্গত আচরণ বা চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর আচরণ, অথবা সরকারি কর্মচারীদের আচরণসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানের পরিপন্থী কোনও কাজ, অথবা কোনও সরকারি কর্মচারীর পক্ষে শিষ্টাচারবহির্ভূত কোনও আচরণ।"

নৈতিক স্খলন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। দুর্নীতি, সামাজিক জীবন, পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত স্বভাব-চরিত্রের ব্যাপার হতে পারে। সমাজের নৈতিকতার যে মানদণ্ড সেটার নিচে নামলে সেটিকে স্খলন বলা যায়। ফলে অসদাচরণ এর সংজ্ঞায় ফেলে শাস্তির আওতায় আনা যায়।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ ধারা ৩২ অনুসারে, "নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) লঘু দণ্ডসমূহ -
(অ) তিরস্কার;
(আ) নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
(ই) বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
(ঈ) কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

(খ) গুরু দণ্ডসমূহ-
(অ) নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
(আ) বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
(ই) চাকরি হইতে অপসারণ;
(ঈ) চাকরি হইতে বরখাস্ত।

যেই চাকরির ব্যস্ততা ও শান-শওকতের কারণে এতো উদাসীনতা, সেই চাকরিটা নিয়ে কিছুদিন ভুগলে জেল খাটার চেয়েও উপযুক্ত শাস্তি হয়ে যাবে।

প্রবীণ নাগরিকদের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবী রাখছি।

Address

Dhaka
1217

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv. Palash Saha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category