13/06/2023
সম্মানিত ট্যাক্স ক্লায়েন্টদের প্রতিঃ
………………………………………………
ট্যাক্স রিটার্ন এর মৌসুম প্রায় সমাগত। যার যার ডকুমেন্টস গুছিয়ে নিন। যাতে চাপ কম থাকতেই রিটার্ন প্রিপারেশন করে জমা দেয়া যায়। এবছর এমনিতেই বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে প্রতিটি ফাইলেই। প্রথম দিকে চাপ কম থাকতেই ডকুমেন্টসগুলো পৌঁছে দিন।
কাজেই শেষ মূহুর্তে দিলে আমরাও ঝামেলাতে পড়বো। আপনারাও। তাই এখন থেকেই যাবতীয় প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট আর স্টেটমেন্টগুলো সংগ্রহ করা শুরু করুন।
আর যারা নতুন tin করবেন , তাঁরা ৩০ শে জুনের আগে যোগাযোগ করুন। বাড়তি খরচ থেকে বেচেঁ যাবেন।
আর এবার দয়া করে কেউ কোনো অতি আব্দার করবেননা। হিসাবটা বরাবর দিয়েন। কারণ এনবিআর অত্যন্ত এক্টিভ বর্তমানে। অডিটে পড়লে তখন আর আমাদের কিছু করার থাকবেনা।
৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন জরিমানা ছাড়া।যাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় নেই তারা শূন্য রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর থেকে হয়তো এই শূন্য রিটার্ন জমা দেয়ার সুযোগ থাকবে না সুতরাং দ্রুত ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিট করে জরিমানা এবং আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকুন।
আর , ভ্যাট নিবন্ধন থাকলে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি উক্ত মাসের ১৫ তারিখ সরকারি ছুটির দিন থাকে তাহলে পরবর্তী কর্মদিবসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
০১-৩১শে মে মাসের মধ্যে যে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ হয়েছে।সেই আলোকে আপনার মাসিক ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করতে হবে।জরিমানা এড়াতে ১৫ই জুন মাসের মধ্যে মে ২০২৩ আপনার ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে জমা দিন। আর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ব্যর্থতায় মাসিক ৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং ১% বিলম্ব সুদ আরোপিত হবে।
আয়কর রেয়াত (Tax Rebate) পেতে বিনিয়োগ করুন।
30 শে জুন আয়কর পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার শেষ দিন।আয়কর ফাইলে করের বোঝা কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর নির্ধারিত খাতে 30শে জুন 2023 এর মধ্যে বিনিয়োগ করতে হবে।
আপনার করযোগ্য আয়ের ২o% বিনিয়োগ যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হবে। বিনিয়োগ যোগ্য আয় হতে আপনি সর্বোচ্চ ১৫% কর রেয়াত পাবেন। করদাতার বার্ষিক মোট বিনিয়োগ ও দানের ১৫% কর ছাড় মিলবে।
ধরুন, আপনার বার্ষিক কর যোগ্য আয় ৮ লক্ষ টাকা সুতরাং কর রেয়াত এর জন্য আপনার বিনিয়োগযোগ্য টাকার পরিমান ৮,০০,০০০* ২০%= ১,৬০,০০০ টাকা। আপনি যদি এই পরিমান টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে আপনার কর রেয়াতের পরিমান দাঁড়াবে ১,৬০,০০০*১৫%=২৪,০০০ টাকা।
কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারনে। তারমধ্যে একটি অপশন হলো - মিউচুয়াল ফান্ড বা Sip / Non - sip.
১। আপনি যদি মাসে মাসে নির্দিষ্ট একটি এমাউন্ট যেমন - ৫০০০টাকা বিনিয়োগ করে একই সাথে সঞ্চয়, লাভ এবং কর রেয়াত এর সুবিধা উপভোগ করতে চান তাহলে SIP ( Systematic Investment Plan ) করতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রতি বছর যে পরিমাণ টাকা আপনি জমা করবেন তার উপর ১৫% কর রেয়াত ( Tax Rebate) পাবেন, আপনার জমাকৃত টাকার উপর প্রতিবছর গড়ে ন্যূনতম ১০% বা ১২% লাভ পাবেন আর মূল টাকা তো পাবেনই।
অথবা
২। আপনি Non - Sip করতে পারেন। আপনি যদি থোক টাকা (যেমন - ১লাখ / ৫লাখ / ১০লাখ / ১কোটি) এককালীন সময়ের জন্য অর্থাৎ ১বছর / ২বছর / ৫বছররের জন্য রাখেন তাহলে একই সাথে কর রেয়াত ১৫% ( Tax Rebate) পাবেন এবং লাভ পাবেন প্রতি বছর ৭.৫% / ৮% করে আর মূল টাকা তো সঞ্চয় হিসেবে থাকবেই। এই ধরনের বিনিয়োগ সুবিধা তাদের জন্য বেস্ট যাদের সঞ্চয়পত্রের কোটা পূরন হয়ে গিয়েছে। কারন, সারাজীবনে ৫০ লক্ষ টাকা সঞ্চয়পত্রে আপনি রাখতে পারবেন, এরপর কি করবেন? তাদের জন্যই মূলত এই ধরনের বিনিয়োগ।
২০২৩-২৪ করবর্ষে ৩ কোটি টাকার পরিবর্তে ৪ কোটি টাকার নিট সম্পদ হলে সারচার্জ দিতে হবে। পূর্বে তাদের সর্বোচ্চ কর হার ৩০% থেকে কমিয়ে ২৫% এবং রিবেটের হার ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়।
যাদের ইটিআইএন দরকার তারা ন্যূনতম বছরে ২০০০ টাকা দেয়ার সামর্থ্য রাখে। মাসে ১৬৭ টাকা মাত্র।
এর বিনিময়ে রাষ্ট্রের কমপক্ষে ৩৮ টি সেবা তারা পাবেন। নতুন আরো ৬টি সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।মত ৪৪ টি সেবা।
যে ৩৮ প্রকার সেবা রাষ্ট্র হতে পাবেন....
---------------------------
১. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণের আবেদন করতে।
২. কোনো কোম্পানির পরিচালক কিংবা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে।
৩. আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ পেতে।
৪. সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে।
৫. সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রাপ্তি।
৬. বীমা বা সার্ভেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্তি বা লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন করতে।
৭. সিটি করপোরেশন, জেলা সদরের পৌর এলাকা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি, রেজিস্ট্রেশন, দলিল হস্তান্তর, বায়না বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য ১০ লাখ টাকার বেশি হলে।
৮. ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে হলে।
৯. চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, খরচ ও ব্যবস্থাপনা হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা যে কোনো পেশাদার সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি।
১০. মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্তি।
১১. কোনো ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি।
১২. ড্রাগ লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নে।
১৩. আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পের জন্য গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তি।
১৪. ভাড়ায় চালিত লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরা জলযান, ট্রলার, কার্গো, কোস্টার এবং বার্জের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি।
১৫. জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইট তৈরির অনুমতি পেতে।
১৬. সিটি করপোরেশন বা জেলা সদর পৌরসভায় সন্তান বা পোষ্যকে আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে বা জাতীয় পাঠ্যক্রমের অধীনে ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি করতে।
১৭. সিটি করপোরেশন বা সেনানিবাস এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে।
১৮. কোনো কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা এজেন্টশিপ পেতে।
১৯. অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে।
২০. আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খুলতে।
২১. ৫ লাখ টাকার বেশি পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে।
২২. ১০ লাখ টাকার বেশি ক্রেডিট ব্যালেন্সসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে।
২৩. ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে।
২৪. পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে।
২৫. মোটরগাড়ি, জমি, বাসস্থান বা যে কোনো স্থাবর সম্পদ সংশ্লিষ্ট অংশিদারত্ব ব্যবসা করতে।
২৬. কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেওয়ার সময়।
২৭. সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা, করপোরেশন থেকে 'বেতন' শিরোনামে মূল বেতন হিসেবে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পাওয়ার সময়।
২৮. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপায়ে অর্থ স্থানান্তরে কোনো কমিশন, ফি জাতীয় অর্থ পেতে।
২৯. পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ বা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করতে।
৩০. সরকারের কাছ থেকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) হিসেবে প্রতি মাসে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পেতে।
৩১. বীমা কোম্পানির এজেন্সি হিসেবে নিবন্ধন বা পুনর্নিবন্ধন করতে।
৩২. দুই বা তিন চাকা ছাড়া যে কোনো ধরনের মোটরগাড়ি নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন করতে।
৩৩. কোনো এনজিওকে বা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে কোনো মাইক্রো ক্রেডিট সংস্থার কাছে বিদেশি অনুদান ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে।
৩৪. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে।
৩৫. কোনো ক্লাবের সদস্যপদ পেতে চাইলে।
৩৬. পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা প্রদানের জন্য টেন্ডারের কাগজপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে।
৩৭. আমদানি বা রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ থেকে বিল অফ এন্ট্রি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে।
৩৮. ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে।
এছাড়াও জমি কেনা বেচা করতেও টিন প্রয়োজন হবে।
ঘোষণাটি শেষ হলো। ধন্যবাদ