Daily Law Talk -আইন আদালত

Daily Law Talk -আইন আদালত "Equality Before Law"

কারাগারে / জেলখানায় কত মাসে বছর?  #জেলখানায়কতমাসেবছর জেলখানায় কত মাসে বছর? (প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা: ৫৯  এ বর্ণিত...
05/06/2026

কারাগারে / জেলখানায় কত মাসে বছর? #জেলখানায়কতমাসেবছর

জেলখানায় কত মাসে বছর? (প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত জেলকোড, ১৯২০ এর বিধি অনুযায়ি)

✪ স্বাভাবিকভাবে আমরা জানি ৩৬৫ দিনে বছর, ৩০ দিনে মাস; জেলখানার কয়েদিদের জন্যও কি সেই হিসেব প্রযোজ্য? নাকি তাদের বেলা ভিন্ন হিসেব? চলুন আজকে আলোচনা করা যাক সেই বিষয়েই..

➤ সূচনা আলোচনা: দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪৯ ধারায় বছর ও মাসের সংজ্ঞায় বলা আছে ব্রিটিশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যেভাবে বছর ও মাস গণনা করা হয় তাকেই বোঝাবে। একই কথা বলা হয়েছে General Clauses Act, 1897 আইনের ৩ (৫৯) ধারায়ও। সুতরাং, বছর মানে ৩৬৫ দিন ও মাস মানে ৩০ দিন এটাই প্রযোজ্য আইনে এবং কারাগারের ক্ষেত্রেও এই হিসেবেই বছর ও মাসের হিসেবটা হবে!

এখন প্রশ্ন হলো, আমরা যে শুনি জেলাখানায় ৮ মাস, ১০ মাস বা ৬ মাসে বছর এই কথাগুলো আসলো কিভাবে? চলুন তাহলে সেই বিষয়টা জেনে নেই।

➤ মূল আলোচনা: রেয়াতের মাধ্যমে মূলত কারাবন্দিদের দণ্ডকাল কমে আসে। তাহলে রেয়াত বিষয়টি বুঝলেই কিন্তু আমরা বুঝতে পারবো কয়েদিদের ক্ষেত্রে কত মাসে বছর কিংবা কত দিনে মাস!

আদালতের রায়ে কাউকে কারাগারে পাঠানো হলে আদালতের আর কোনো দায় থাকেনা এরপর থেকে দায়িত্ব বর্তায় কারা কর্তৃপক্ষের উপর। কারা কর্তৃপক্ষ ও কারাগারের যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় Prisons Act, 1894 এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত Jail Code, 1920 মোতাবেক।

জেলকোড, ১৯২০ এর ১১শ অধ্যায়ের ৭৫০-৭৮১ বিধিতে সন্নিবেশিত আছে বন্দিদের রেয়াত (remission) মঞ্জুরের বিধানবলী। রেয়াত মানে হলো অব্যাহতি দেয়া বা ছাড় দেয়া বা রেহাই দেয়া। এই রেয়াত এর মাধ্যমেই মূলত কোনো আসামীর দণ্ডের মেয়াদ কমানোর সুযোগ চলে আসে যা কিনা ঐ বিধিগুলো মোতাবেকই হতে হবে।

✪ রেয়াত (Remission) : রেয়াত দুই প্রকারের হয়: সাধারণ ও বিশেষ রেয়াত।

➤ রেয়াত মঞ্জুর: জেলকোডের ৭৬১ বিধি মোতাবেক 'সাধারণ রেয়াত' মঞ্জুর করতে পারেন সিনিয়র জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট বা জেল সুপার বা তার কতৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো জেল কর্মকর্তা।
অপরদিকে, ৭৬৬ বিধি মোতাবেক সরকার বা আইজি প্রিজন্স অথবা জেল সুপার কার্যকর করতে পারেন 'বিশেষ রেয়াত'।

✪ জেলকোডের বিধি মোতাবেক রেয়াতের পরিমাণ:

➤ কারাবন্দীদের সাধারণ রেয়াৎ প্রাপ্তি:
☞ কারাগারের সব নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রতিমাসে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (এ)]

☞ শিল্প ও দৈনন্দিন দেয়া কাজগুলো সঠিকভাবে করাে জন্য প্রতিমাসে ২ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (বি)]

☞ কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৭ দিন ও নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৬ দিন। [বিধি: ৭৫৭]

☞ শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বাবুর্চি ও সুইপারের কাজে নিয়োজিত থাকলে অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি কোয়ার্টারে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৯]

☞ দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের ১ তারিখ হতে ১ বছর পার হবার পর; কারা অপরাধের সর্বশেষ শাস্তিভোগের তারিখ হতে ১ বছর অতিক্রম করার পর বন্দি যদি অন্যকোনো কারা অপরাধ না করেন সেক্ষেত্রে বছরে আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবেন। [বিধি: ৭৬০]

◑ তাহলে দেখা যাচ্ছে, একজন বন্দী বিধি মোতাবেক কাজকর্ম করলে মাসে ১০-১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পেতে পারেন যা সম্ভব নয় তবে প্রত্যেক বন্দিই কিছু রেয়াত পেয়ে থাকেন। ফলে বন্দিদের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে দিনের পরিমাণ কমে আসে।

➤ কারাবন্দীদের বিশেষ রেয়াৎ প্রাপ্তি: বিশেষ রেয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে জেলকোডের ৭৬৫ ও ৭৬৬ বিধিতে। উক্ত বিধি দুটি মোতাবেক জেল সুপার বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিন ও আইজি প্রিজন্স অথবা সরকার বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বিশেষ রেয়াত প্রদান করতে পারেন। যে যে ক্ষেত্রে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা হয়:
☞ কারাগারে শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের বিষয় শনাক্ত করা কিংবা প্রতিরোধ করার কাজে সহযোগিতা করা।
☞ হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদানে কৃতিত্ব।
☞ বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ কোনো কাজ কিংবা আয় বৃদ্ধিকারক উন্নতমানের কোনো কাজ।
☞ আক্রমণ হতে কারা কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রক্ষা করা।
☞ কারা বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আগুন বা সমপ্রকৃতির জরূরী ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করা।
☞ পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতা।
☞ টেকনিক্যাল বা একাডেমিক ট্রেনিং গ্রহণে দক্ষতা প্রদর্শন।
☞ কারাগারের বিধিবিধান পালনে মনোযোগী হওয়া ও একটানা তিন বছর কোনো কারাশাস্তি ভোগ না করা।

✪ রেয়াত প্রাপ্তির শর্তাবলী:
☞ জেলকোডের ৭৬৮ বিধি মোতাবেক এক দণ্ডের তৃতীয়াংশের বেশি রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগবে।
☞ বিচারাধীন বন্দি কোনো রেয়াতই পাবেন না।
☞ জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ব্যতীত ৬ মাসের কম মেয়াদের কারাদণ্ডে সাধারণ রেয়াত প্রযোজ্য নয়।
☞ বিধি ৭৫৪ মোতাবেক কারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আঘাত করার অপরাধে কারা কর্তৃপক্ষ রেয়াত বাতিল করতেও পারবেন।

✪ উপসংহার: উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে একজন কারাবন্দী রেয়াতের ভিত্তিতে দণ্ডাকাল কমিয়ে আনতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এমনও হতে পারে বছর ৬ মাসেও হতে পারে কিংবা ৮ মাস বা ১১ মাসেও হতে পারে। একেক বন্দীর ক্ষেত্রে সাধারণ ও বিশেষ রেয়াতের মাধ্যমে বন্দিরা দণ্ডকাল কমিয়ে আনতে পারবেন।

বিস্তারিত জানতে পেজে নক দিন অথবা

⚖️ নির্ভরযোগ্য আইনি পরামর্শের জন্য এখনি যোগাযোগ করুন❤️

📌 কেন আমাদের আইনি পরামর্শ নেবেন?
✔️ অভিজ্ঞ ও দক্ষ আইনি নির্দেশনা
✔️ আপনার সমস্যার গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হয়
✔️ দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক সমাধানের পরামর্শ
✔️ অনলাইনেই সহজে পরামর্শ গ্রহণের সুবিধা

#আইন #আইনবিচার #আইনিপ্রতিকার #আদালত #বিচার #লিগ্যাল #আইনিপরামর্শ

📌​লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প নেই? তাও কি ধার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব❓✅অবশ্যই, লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প পেপার...
03/06/2026

📌​লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প নেই? তাও কি ধার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব❓
✅অবশ্যই, লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প পেপার না থাকলেও যে আইনি পন্থায় ধার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব, তা সহজ ভাষায় বলছি। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এটি আপনার প্রোফাইল বা পেজে শেয়ার করতে পারেন:
👉​অনেকেই সুসম্পর্কের খাতিরে বা বিপদে পড়ে পরিচিত মানুষকে কোনো লিখিত চুক্তি (Stamps/Agreement) ছাড়াই টাকা ধার দিয়ে থাকেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখন, যখন পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে অপরপক্ষ গড়িমসি শুরু করে বা অস্বীকার করে।
​যেহেতু কোনো লিখিত চুক্তিপত্র নেই, অনেকেই ভাবেন এই টাকা আর কোনোদিন আইনি উপায়ে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। কিন্তু ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল! দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, লিখিত চুক্তি না থাকলেও কিছু বিকল্প প্রমাণের ভিত্তিতে আপনি আপনার পাওনা টাকা ফেরত পেতে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
✔️​লিখিত চুক্তি না থাকলে কী কী প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে?
১. ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং স্টেটমেন্ট: আপনি যদি টাকাটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে পাঠিয়ে থাকেন, তবে সেই ট্রানজেকশন আইডি বা স্টেটমেন্ট আদালতে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
২. মেসেজ বা চ্যাট হিস্ট্রি: টাকা ধার দেওয়া বা নেওয়ার বিষয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো বা সাধারণ এসএমএস-এ যদি কোনো কথাবার্তা হয়ে থাকে, তবে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও ‘সাক্ষ্য আইন’ অনুযায়ী তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
৩. অডিও বা ভিডিও রেকর্ড: টাকা লেনদেন বা পরবর্তীতে টাকা স্বীকার করে কথা বলার কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ড থাকলে তাও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার সম্ভব।
৪. সাক্ষী (Witness): টাকা লেনদেনের সময় বা পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাওয়ার সময় যদি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন, তবে আদালতে তাদের মৌখিক সাক্ষ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
​আপনার করণীয় কী?
👉​আইনি নোটিশ (Legal Notice): একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রথমে বিবাদীকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করুন। অনেক সময় এই নোটিশের মাধ্যমেই বিরোধের মীমাংসা হয়ে যায়।
👉​টাকা আত্মসাতের মামলা (Cheating/Misappropriation): যদি নোটিশের পরও টাকা ফেরত না দেয় বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তবে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারা অনুযায়ী আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সম্ভব।
​অর্থ জারি মামলা: এছাড়া দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমেও টাকা আদায়ের জন্য মোকদ্দমা করা যায়।
🔺​সতর্কতা: আইনি জটিলতা এড়াতে যেকোনো বড় অঙ্কের লেনদেনে সর্বদা লিখিত চুক্তি বা অন্তত একটি "ডিমান্ড প্রমিসরি নোট" এবং সিকিউরিটি চেক রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। তবে চুক্তি না থাকলেও ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই।
​আইন জানুন, সচেতন থাকুন।

✍️আবু বক্কর ছিদ্দিক ফাহিম
আইনজীবী,জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

​ #আইনিসচেতনতা #টাকাউদ্ধার #বাংলাদেশআইন

22/04/2026

ভূমি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত! “পর্চা”, “দাগ”, “খতিয়ান”, “মৌজা”, “জমা খারিজ”, “নামজারি”, “তফসিল” ইত্যাদি বিষয়ের ডেফিনেশন এবং জেনে নিন ভূমি বিষয়ক জরুরী সব তথ্য।

১!“নামজারী” বা মিউটেশন কাকে বলে?
ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।

২!“জমা খারিজ”কাকে বলে?
যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।

৩!“খতিয়ান” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে।
খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক। আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকে “খতিয়ান” বলে। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান…
ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS কি?

৪!ভূমি বা Land কাকে বলে?
“ভূমি কাকে বলে?”- এর আইনী সংজ্ঞা রয়েছে। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- এর ২(১৬)- ধারা মতে, “ভূমি (land) বলতে আবাদি, অনাবাদি অথবা বছরের যেকোন সময় পানিতে ভরা থাকে এবং ভূমি হতে প্রাপ্ত সুফল, ঘরবাড়ি বা দালান কোঠা বা মাটির সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য দ্রব্য অথবা স্হায়ীভাবে সংযুক্ত দ্রব্য এর অন্তর্ভুক্ত বুঝাবে।”

৫! ভূমি জরিপ/রেকর্ড কাকে বলে? ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত।
আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের জরিপ বিভাগ সরেজমিন জরিপ করে ভূমির মালিকানার যে বিবরণ
এবং নকশা তৈরী করে তাই রেকর্ড বা জরিপ। অর্থাৎ রেকর্ড বা জরিপ হচ্ছে মালিকানার বিরবণ এবং নকশার সমন্বয়। একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয়। এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তখ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নাম্বার, ভূমির দাগ নাম্বার, মালিক ও দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে। রেকর্ড বা জরিপ
প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত। রেকর্ড বা জরিপের ভিত্তিতে ভূমি মালিকানা সম্বলিত বিবরণ খতিয়ান হিসেবে পরিচিত। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান, ইত্যাদি। আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছে;
1. CS -Cadastral Survey
2. SA- State Acquisition Survey (1956)
3. RS -Revitionel Survey
4. PS – Pakistan Survey
5. BS- Bangladesh Survey (1990)

ক) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)
“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপে বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সমস্ত জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয়। প্রথম জরিপ হলেও এই জরিপ প্রায় নির্ভূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।
খ) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)
১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদের প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল।
জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।
গ) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)
সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বেও ভুল ত্রুটি সংশোধনক্রমে আ. এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয়। এর খতিয়ান ও ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে।
ঘ) সিটি জরিপ (City Survey)
সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এ যবত কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়।

৬!“পর্চা” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হ তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে “পর্চা” বলে।

৭!“মৌজা” কাকে বলে?
যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।
৮!“তফসিল” কাকে বলে?
জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।

৯!“দাগ” নাম্বার কাকে বলে? যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়।

১০!“ছুটা দাগ” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাকে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।

১১!“খানাপুরি” কাকে বলে? জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।

১২!“আমিন” কাকে বলে?
ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।

১৩!“কিস্তোয়ার” কাকে বলে?
ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।

১৪!“খাজনা” ককে বলে?
সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।

১৫!“দাখিলা” কাকে বলে?
ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।

১৬!"DCR কাকে বলে?
ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।

১৭!“কবুলিয়ত” কাকে বলে?
সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।

১৮!“নাল জমি” কাকে বলে?
২/৩ ফসলি সমতল ভূমিকে নাল জমি বলা হয়।

১৯!“খাস জমি” কাকে বলে?
সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।

২০!“চান্দিনা ভিটি” কাকে বলে?
হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী অকৃষি জমির যে অংশ প্রজার প্রতি বরাদ্ধদ দেওয়া হয় তাকে চান্দিনা ভিটি বলে।

২১!“ওয়াকফ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে।

২২!“মোতওয়াল্লী” কাকে বলে?
যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।

২৩!“দেবোত্তর” সম্পত্তি কাকে বলে?
হিন্দুধর্ম মতে, ধর্মীয় কাজের জন্য উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে।

২৪!“ফরায়েজ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফরায়েজ বলে।

২৫!“ওয়ারিশ” কাকে বলে?
ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।
২৬! “সিকস্তি” কাকে বলে?
নদী ভাঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকস্তি বলে। সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।

২৭!“পয়ন্তি” কাকে বলে?
নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।

২৮!“দলিল” কাকে বলে?
যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবে তাকে দলিল বলে।

ভূমির পরিমাপঃ

ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতকঃ
***************************
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট
১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট
১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০বর্গফুট

কাঠা পরিমাপঃ
****************
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট
১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ
১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ
২০ কাঠা = ১ বিঘা
৬০.৫ কাঠা =১ একর

একরের পরিমাপঃ
******************
১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ শতক = ০.৫ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

বিঘা পরিমাপঃ
*************
১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ
১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ
১ বিঘা = ২০ কাঠা
৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর

লিঙ্ক পরিমাপঃ
****************
১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি
১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর

কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপঃ
*******************************
১ কানি = ২০ গন্ডা
১ গন্ডা = ২ শতক
১ শতক =২ কড়া
১ কড়া = ৩ কন্ট ১ কন্ট = ২০ তিল

ফুট এর হিসাবঃ
*****************
১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট
১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু
১ শতক= ৪৩৫.৬০ বফু
১ কড়া = ২১৭.৮ বফু
১ কন্ট = ৭২ বফু
১ তিল= ৩.৬ বফু

বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ
*********************************
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)
শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন।

এন আই এক্ট ১৮৮১, সংশোধনী, অধ্যাদেশ নং ৩৪,২০২৬।
22/04/2026

এন আই এক্ট ১৮৮১, সংশোধনী, অধ্যাদেশ নং ৩৪,২০২৬।

ব্যাক্তিগত আয়কর পরিশোধ করুন।
01/03/2026

ব্যাক্তিগত আয়কর পরিশোধ করুন।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Daily Law Talk -আইন আদালত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share