07/10/2020
প্রথমে কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছিনা।গত ৩-৪ দিন যাবৎ ইন্টারনেট এ নোয়াখালীর একটি ধর্ষণের ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব প্রতিবাদ হচ্ছে,লেখালেখি হচ্ছে। আমি শুধু ওই ঘটনার বিবরণ পড়েছি কিন্তু দেখিনি কারণ ঘটনার বিবরণ শুনেই আমার হাত ,পা কাপতেছিলো ভিডিও দেখার সাহস করিনি।কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে ফেসবুক এ ভিডিওটি চলে আসে অপ্রত্যাশিত ভাবে।আমি ভিডিওটি দেখার পর আমার কয়েক সেকেন্ড নিঃশাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, পুরু শরীর কেঁপে উঠেছিল।আমি এটা কি দেখলাম।এর আগে আরো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এমনকি প্রতিদিন ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন ভাবে আমরা জানতে পারি।কিন্তু নোয়াখালীতে একটা মায়ের সাথে যেটা ঘটেছে, এটা মনে হয় সমগ্র ঘটনাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।একটা মাকে কি করে এভাবে অসম্মান করছে কিছু মানুষ রুপি পিশাচ।একদল মানুষ বলে মেয়েরা অশালীন পোশাক পরে বাহিরে বের হয় এ কারণে মেয়েরা ধর্ষিত হয়।আমিও কিন্তু অশালীন পোশাকের পক্ষে না।কিন্তু উনিত একজন মা।প্রায় মধ্য বয়সী।এবং পর্দানশীল মহিলা।অন্যদের কথা নয় বাদ ই দিলাম।উনার মেয়ে বিয়ে হয়েছে।ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে।আর যারা উনাকে এভাবে অসম্মান করেছে তারা উনার ছেলের বয়সী।বার বার উনি চিৎকার করে বাবা, ভাই বলে ডাকছে।একজন মেয়ে মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হচ্ছে তার বাবা এবং ভাই।এই নিরাপদ দুটি ডাক শুনেও তাদের অন্তরে একটুও দয়া হয়নি।কিভাবে হবে?কারণ ওরাতো কারো বাবা,ভাই না ।ওরা হচ্ছে ধর্ষক।ওরা মানুষের মতো দেখতে কিন্তু মানুষ না।আমার মনে হয় না ওই ভিডিও দেখে কোন সুস্থ মানুষ সুস্থ থাকতে পারবে।যারা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ তারাই কেবল সুস্থ থাকতে পারবে।তাহলে এ দেশে একজন মাও তার সম্মান নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারবেনা তার স্বামীর সাথে?আমাদের সমাজে মায়েরা তাদের মেয়েদের বলে বিয়ের আগে এত ঘুরাঘুরি কিসের বিয়ের পরে স্বামীর সাথে ঘুরতে যেও।আজ আর সেই কথাটিও বলার অপেক্ষা রাখেনা।কারন আজকাল স্বামীর সাথে ঘুরতে গিয়েও স্ত্রী ধর্ষিত হচ্ছে।ওই ভিডিও টি দেখে বিশ্বাস হচ্ছেনা যে এটি আমাদের দেশে হতে পারে।১৯৭১সালে আমাদের মা,বোনেরা ধর্ষিত হয়েছিল পাকিস্তানী দের দ্বারা।আজ ধর্ষিত হচ্ছে নিজ দেশের মানুষের দ্বারা এবং স্বাধীন দেশে।লাখো মা,বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে।কিন্তু সেই স্বাধীন দেশেই মা,বোনরা আজ পরাধীন, ধর্ষিত, নির্যাতিত, অবহেলিত।ধর্ষক রুপি পুরুষদের বলতে চাই তুমরা যেই মা,বোনের ইজ্জতকে অসম্মান করছো সেই মায়ের পেটে তুমার জন্ম হয়েছে,সেই মা তুমাকে নয় মাস অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে,সেই মায়ের পায়ের নিচেই তুমার বেহেস্ত।যদি তুমি আখিরাত বিশ্বাস করো।সেই নারীই তুমার মা,তুমার বোন,তুমার স্ত্রী,তুমার আদরের কন্যা।নারীদের আল্লাহ নিজে ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন,আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ(sm) মায়েদের ব্যাপারে একটি হাদিসে উল্লেখ করেছেন সন্তানের নিকট তার পিতামাতার হকের ব্যাপারে।নবী (sm)পর পর প্রথমে তিনবার মায়ের হকের কথা বলেছেন।এরপর বাবার হকের কথা বলেছেন।ওই মায়ের চিৎকার আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌছিয়ে গিয়েছে।এই দুনিয়াতে যদি ঐ ধর্ষকদের বিচার না হয় ,আখিরাতে আল্লাহ নিজে বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ।যদিও আমাদের দেশ নারী শাসিত ।আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, শিক্ষা মন্ত্ৰী একজন নারী। তবুও ধর্ষিত নারীর বিচারের জন্য আদালতের দরজায়,দরজায় ঘুরতে হয়।যদিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনেকগুলি speacial tribunal রয়েছে।কারণ একটাই আমাদের এই সমাজ হচ্ছে পুরুষ শাসিত,দেশ নারী শাসিত হলে কি হবে?সবাই শুধু ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করে,কেউ একথা বলেনা যে নারীকে শালীন পোশাক পরতে হবে এবং সাথে সাথে পুরুষের দৃষ্টিকে সংযত রাখতে হবে।ধর্ষকদের বলতে চাই তুমরা শুধু এক মাকে বিবস্ত্র করোনি,সারা পৃথিবীর মায়েদের বিবস্ত্র করেছ,সারা পৃথিবীর মায়েদের লজ্জা হরণ করেছ।সারা পৃথিবীর মায়েদের চিৎকার আল্লাহর কাছে পৌছিয়ে গিয়েছে,বাঁচতে পারবে তো আল্লাহর বিচার থেকে?আমি একজন নারী হয়ে,একজন কন্যা সন্তানের মা হয়ে,একজন মানুষ হিসেবে, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ,একজন আইনজীবী হিসেবে এই সরকারের কাছে ধর্ষকদের বিচার চাই একমাত্র মৃত্যু দন্ড।ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি যদি মৃত্যু দন্ড না হয় তাহলে সমাজে এমনভাবে ধর্ষন বাড়বে একটা সময় আসবে যখন কন্যা তার পিতাকে দেখে ভয় পাবে, বোন তার ভাইকে দেখে ভয় পাবে।কারণ আমাদের দেশে পিতা দ্বারা আপন কন্যা সন্তান ধর্ষিত হওয়ার জঘন্যতম ঘটনাও ঘটেছে। আমি মৃত্যু দন্ড চাই কারণ এটাই ইসলামিক পদ্ধতি এবং আমি একজন কন্যা সন্তানের মা।তাকে নিরাপদে রাখতে পারবো তো?সবশেষে বলি তুমরা যারা ধর্ষক তারা ধর্ষণ শেষে নিজ বাড়িতে গিয়ে তাকাতে পারবে তো তুমার মায়ের দিকে,তুমার বোনের দিকে, তুমার কন্যার দিকে?
এডভোকেট নাসরীন
জজকোর্ট,ঢাকা