07/08/2025
#আলোচ্য বিষয় -
নাবালকের সম্পত্তি :
নাবালকের সম্পত্তি মানে হল সেই সম্পত্তি যা একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মালিকানাধীন। বাংলাদেশে, ১৮ বছরের কম বয়সী যে কেউ নাবালক হিসেবে বিবেচিত হন। নাবালকের সম্পত্তি সাধারণত তার স্বাভাবিক বা আইনগত অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং এর ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার দায়িত্ব তাদের উপর বর্তায়।
👉 নাবালকের সম্পত্তি সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
১/ আইনগত অভিভাবক:
পিতা, মাতা, অথবা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি নাবালকের সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক হতে পারেন।
২/ সম্পত্তি হস্তান্তর:
নাবালকের পক্ষে তার অভিভাবক কিছু ক্ষেত্রে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
৩/ স্বাভাবিক অভিভাবক:
মুসলিম আইনে পিতা হলেন নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক, তবে হিন্দু আইনেও পিতা ও পিতামহ উভয়ই অভিভাবক হতে পারেন।
৪/ সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি:
নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য সাধারণত আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে যদি স্বাভাবিক অভিভাবক না থাকেন।
৫/ নাবালকের স্বার্থ:
নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৬/ রেজিস্ট্রেশন আইন:
রেজিস্ট্রেশন আইন (১৯০৮) এর ৩৫ ধারা অনুসারে, কোনো নাবালক কোনো দলিল সম্পাদন করতে পারে না।
নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে, তার মৌলিক চাহিদা (যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণ করা এবং তার মঙ্গলের দিকে লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য।
👍 আদালত কর্তৃক নিয়োগকৃত অভিভাবক -
উপরোক্ত আইনগত অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে সন্তানের সম্পত্তির অভিভাবকদের জন্য আদালত কর্তৃক কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে নাবালকের সম্পত্তির তত্তাবধানের জন্য নিযুক্ত অভিভাবক আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি কোনো অংশ বন্ধক দিতে বা বিক্রয়, দান, বিনিময় বা অন্য কোনো প্রকারে হস্তান্তর করতে পারেন না।
👉 কার্যত অভিভাবক:-
কোনো ব্যক্তি আইনগত অভিভাবক কিংবা আদালত কর্তৃক নিয়োগকৃত অভিভাবক না হলেও স্বেচ্ছায় নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। এ ধরনের অভিভাবকত্বকে কার্যত অভিভাবক বলা হয়। একজন কার্যত অভিভাবক নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। তিনি নাবালকের স্থাবর সম্পত্তির কোনো স্বত্ব, স্বার্থ বা অধিকার হস্তান্তর করতে পারেন না এবং তিনি তা করলে সে হস্তান্তর বাতিল হবে। মা, চাচা, ভাই, শ্বশুর প্রমুখ হলেন কার্যত অভিভাবক। সন্তানের ক্ষেত্রে বাবার বংশের লোকদের ওপর প্রথমে দায়িত্ব ন্যস্ত হবে। তারা ব্যর্থ হলে মায়ের বংশের আত্মীয়রা নাবালকের বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের দায়িত্ব পাবেন। গার্ডিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০-এর ধারা ১৭ (ক)-এর অধীনে নাবালকের অভিভাবক হিসেবে নিযুক্তির জন্য শুধু নিকটাত্মীয় বা প্রিয়জনই নয়, নাবালকের যে কোনো আত্মীয় বা বন্ধুও পারিবারিক আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন। আদালত এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করতে পারে ক. নাবালকের কল্যাণ, খ. নাবালকের বয়স, লিঙ্গ ও ধর্ম, গ. আবেদনকারী অভিভাবকের চরিত্র ও আর্থিক সক্ষমতা, নাবালকের সঙ্গে তার গোত্র-সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা, ঘ. বাবা-মা কারো মৃত্যু হয়ে থাকলে মৃতের অন্তিম ইচ্ছা (কার কাছে সন্তান মানুষ হবে সে বিষয়ে), ঙ. নাবালক বা তার সম্পত্তির সঙ্গে আবেদনকারী অভিভাবকের অতীত বা বর্তমান কোনো সম্পর্ক থেকে থাকলে, চ. নাবালকের নিজস্ব ইচ্ছা, তার অভিভাবক নির্বাচনের মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তা থেকে থাকলে।
আদালত যাকে অভিভাবক নিয়োগ করবেন তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারবেন না। এবং ১০ নং ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত ফরমে তা করতে হবে। আদালত কর্তৃক নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ না করা হলে সেক্ষেত্রে নাবালকের বয়স ১৮ বছর পূর্ন হলেই সে সাবালক গণ্য হবে।
👉 নাবালক সম্পত্তি বিক্রয় প্রসঙ্গ :-
নাবালকের সম্পত্তি (যেমন জমি, বাড়ি ইত্যাদি) বিক্রি করার জন্য কিছু নিয়মকানুন রয়েছে যা নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করে। সাধারণত, নাবালকের অভিভাবক (যেমন পিতা, অথবা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি) নাবালকের সম্পত্তির দেখাশোনা করেন এবং তার মঙ্গলার্থে কাজ করেন। নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রির নিয়মাবলী:
১/ অভিভাবক নিয়োগ:
নাবালকের সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবক নিয়োগ করা হয়। এটি সাধারণত নাবালকের পিতা হন, অথবা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কেউ।
২/ আদালতের অনুমতি:
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক রাখার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
৩/ স্বাভাবিক অভিভাবক:
নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক হলেন তার পিতা। যদি পিতা না থাকেন, তবে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি অভিভাবক হতে পারেন।
৪/ সম্পত্তির মঙ্গলার্থ:
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে, তা অবশ্যই নাবালকের মঙ্গলের জন্য হতে হবে।
৫/ স্বার্থের পরিপন্থী নয়:
নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজের জন্য নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।
৬/ মামলা করার অধিকার:
নাবালক সাবালক হওয়ার পর (সাধারণত ১৮ বছর বয়স) তিন বছরের মধ্যে, যদি সে মনে করে যে তার সম্পত্তি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিক্রি করা হয়েছে, তাহলে সে আদালতের মাধ্যমে সেই হস্তান্তর বাতিল করার জন্য মামলা করতে পারে,
৭/ রেজিস্ট্রেশন আইন:
রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৩৫ ধারা অনুযায়ী, নাবালক কোনো দলিল সম্পাদন করতে পারে না। তাই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য দলিল করা হলে, তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং, নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করার আগে অভিভাবককে অবশ্যই আদালতের অনুমতি নিতে হবে এবং এই বিক্রি অবশ্যই নাবালকের মঙ্গলের জন্য হতে হবে।
#বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্যকে জানতে সাহায্য করুন।
courtesy: Adv subarna seema