আইনের আলো AINER ALO

Directions

আইনের আলো AINER ALO Plain language. Real answers.

⚖️ বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ও নিন্ম আদালতের অভিজ্ঞ আইনজীবীগণের নেতৃত্বে একটি সম্মিলিত আইনি সচেতনতা উদ্যোগ।
আপনার অধিকার, আপনার ভাষায়।
পারিবারিক · সম্পত্তি · শ্রম · নারী অধিকার
📩 প্রথম পরামর্শ বিনামূল্যে
Your rights.

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬সম্পত্তি দিয়ে দিলেন, তবুও আপনাকে ঘর ছাড়তে হবে না। ১৪৪ বছরের পুরনো আইনে যা বদলানো হ...
07/09/2026

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬

সম্পত্তি দিয়ে দিলেন, তবুও আপনাকে ঘর ছাড়তে হবে না। ১৪৪ বছরের পুরনো আইনে যা বদলানো হয়েছে।
------------------------------------------

একটি পরিচিত গল্প দিয়ে শুরু করা যাক নরসিংদীর আলহাজ্জ করিম সাহেব সারাজীবন পরিশ্রম করে একটা দোতলা বাড়ি বানিয়েছেন। বৃদ্ধ বয়সে ভাবলেন — ছেলে রাকিব তো সব দেখাশোনা করছে, ওকেই বাড়িটা হেবা করে দিই। দলিল হলো, রেজিস্ট্রি হলো। রাকিব মালিক হয়ে গেল।

দুই বছর না যেতেই ছেলের বউয়ের সাথে করিম সাহেবের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেল। একদিন রাকিব বাবাকে ডেকে বলল — "আব্বা, আপনি বড় ভাইয়ের কাছে চলে যান।"
করিম সাহেব অবাক হয়ে ভাবলেন — "কিন্তু বাড়িটা তো আমি বানিয়েছি! আমার কি কোনো অধিকার নেই?"

আইনজীবীর কাছে গেলেন। আইনজীবী মাথা নিচু করে বললেন — "দুঃখজনক হলেও সত্য, আপনি যখন হেবা করেছেন, তখনই মালিকানা শেষ। আইনের চোখে এখন বাড়িটা রাকিবের।"
এই কষ্টের গল্পটা বাংলাদেশে হাজারবার ঘটেছে। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই গল্পের শেষটা বদলে যাবে।


Transfer of Property Act ১৮৮২ সালে ব্রিটিশরা বানিয়েছিল। আইনটা খারাপ ছিল না — কিন্তু দানের ক্ষেত্রে একটাই নিয়ম ছিল: দিলে শেষ।
আইনের ধারা ১২২ বলতো — দান হলো স্বেচ্ছামূলক ও বিনামূল্যে সম্পত্তি হস্তান্তর। মানে একবার দিলে দাতার আর কিছু থাকে না। এটাই ছিল বিপদের গোড়া।
বাংলাদেশে বেশিরভাগ সম্পত্তি বিরোধ মামলা হয় সম্পত্তির বণ্টন ও মালিকানা নিয়ে — এটা আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও সংসদে স্বীকার করেছেন। আর এই মামলাগুলোর বড় একটা অংশ আসে পিতামাতার সম্পত্তি দেওয়ার পরের পরিস্থিতি থেকে।


৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদে Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026 পাস হয়েছে। এতে দুটো নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে — ধারা ১২২অ এবং ধারা ১২২ব।
এই দুটো ধারা একটা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। নাম হলো — "আজীবন ভোগস্বত্ব-সংরক্ষিত দান" বা Gift Reserving Usufruct।
সহজ বাংলায় বলতে গেলে এটা হলো এমন একটা দান — যেখানে আপনি সম্পত্তিটা দিচ্ছেন, কিন্তু যতদিন বাঁচবেন ততদিন সেটা ব্যবহার করার অধিকার আপনার থাকছে।

আর একটু বেশি সহজ করে বুঝুন ধরুন আপনার কাছে একটা আমবাগান আছে। আপনি ছেলেকে বললেন — "বাগানটা তোমার নামে লিখে দিচ্ছি। কিন্তু যতদিন বাঁচি, আমবাগানের আম আমি পাব, আমার জন্য থাকার জায়গা এখানে থাকবে।"
পুরনো আইনে এই কথাটার আইনি মূল্য ছিল না। এখন আছে।
করিম সাহেবের উদাহরণে ফিরে যাই। নতুন আইন থাকলে তিনি বলতে পারতেন — "রাকিব, বাড়িটা তোমার নামে লিখে দিলাম। কিন্তু ধারা ১২২অ অনুযায়ী যতদিন বাঁচি ততদিন এখানে থাকব। এই দলিলে সেটা লেখা আছে।" রাকিব আর তার বাবাকে বের করে দিতে পারবেনা।


প্রথমত — সম্পত্তি যাবে, ভোগ থাকবে। পিতামাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট রক্ত সম্পর্কীয় ব্যক্তিদের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন। কিন্তু দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত — দাতার আগে গ্রহীতা মারা গেলে কী হবে? ধরুন করিম সাহেব বাবা, রাকিব ছেলে। বাবা বাড়ি দিয়েছেন কিন্তু ভোগ রেখেছেন। বাবার আগে যদি রাকিব মারা যায় — তাহলে বাড়ির মালিকানা যাবে রাকিবের উত্তরাধিকারীদের কাছে। কিন্তু করিম সাহেবের আজীবন ভোগদখলের অধিকার তখনও বহাল থাকবে।

তৃতীয়ত — নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এই হস্তান্তর করতে হবে। মুখের কথায় হবে না।

চতুর্থত — বিক্রিতে দুজনের সম্মতি লাগবে। বাবা সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইলে ছেলের সম্মতি লাগবে। আবার ছেলে বিক্রি করতে চাইলে বাবার সম্মতি লাগবে। এটা একটা যৌথ লক।

পঞ্চমত — জরুরি চিকিৎসার বিশেষ বিধান। ধরুন বাবার হার্টের অপারেশন দরকার, টাকা নেই, সম্পত্তি বিক্রি করতে হবে — কিন্তু ছেলে সম্মতি দিচ্ছে না। তাহলে বাবা জেলা জজের কাছে যেতে পারবেন। জেলা জজ বিক্রির অনুমতি দিতে পারবেন।

ষষ্ঠত — সকল ধর্মের মানুষের জন্য। এই বিধান মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ — সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।


সরকার Transfer of Property Act-এ দান সংক্রান্ত বিধান সম্প্রসারণ করেছে এবং এক্ষেত্রে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় থেকে নীতিগত অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বীকার করা হয়েছিল যে দাতা ভোগদখল ধরে রেখেও দান বৈধ হতে পারে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টও ১৯৯৬ সালে Baby Ammal v. Rajan Asari মামলায় স্বীকার করেছে যে দাতা যদি সম্পত্তির মালিকানার সাথে জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার রাখেন, সেটা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

আইনজীবীদের এখনই যা ভাবতে হবে
নতুন আইনটা এসেছে, কিন্তু সহায়ক বিধিমালা এখনো আসেনি। তাই আদালতে এই আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে — এবং সেই প্রশ্নগুলো সুযোগও তৈরি করবে।
দলিলে কী কী লিখবেন? স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন যে এটি ধারা ১২২অ-এর অধীনে করা হচ্ছে। ভোগদখলের সুনির্দিষ্ট সীমা লিখুন — বাবা কি ভাড়া নিতে পারবেন? রক্ষণাবেক্ষণের দায় কার? কর কে দেবেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দলিলে না থাকলে পরে মামলা হবে।

সম্পত্তি বন্ধকের প্রশ্ন: ছেলে কি বাবার ভোগদখল চলাকালে সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক দিতে পারবেন? তৃতীয় পক্ষের ক্রেতার সুরক্ষা কী? এই প্রশ্ন গুলোর এখনো উত্তর নেই এবং নিশ্চই আদালতে আসবে।

শেষ কথা
Transfer of Property Act ১৮৮২ সালে যখন তৈরি হয়, তখন ব্রিটিশরা ভাবেনি বাংলাদেশের কোনো বৃদ্ধ বাবা সম্পত্তি দেওয়ার পর রাস্তায় বসবেন। ১৪৪ বছর পরে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সংসদ সেই ফাঁকটা বন্ধ করল। এটা একটা ভালো পদক্ষেপ — তবে এই আইনের মাঠ পর্যায়ের ব্যাখ্যা নির্ধারণে আইনজীবীদের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে বড়।

লেখক: আমীরুল ইসলাম (খোকন), অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
সাবেক নির্বাহী সদস্য (২০২০-২১), সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ।

চেক ডিজঅনার — আপনি কি জানেন এটা ফৌজদারি অপরাধ?---------------------------------------গত মাসে একজন ব্যবসায়ী আমার কাছে এল...
22/08/2026

চেক ডিজঅনার — আপনি কি জানেন এটা ফৌজদারি অপরাধ?
---------------------------------------

গত মাসে একজন ব্যবসায়ী আমার কাছে এলেন।
তিন লাখ টাকার চেক। ব্যাংকে দিয়েছেন — ফেরত এসেছে। Insufficient funds. মানে অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন — "স্যার, এখন আমি কি শুধু সিভিল মামলা করতে পারবো? নাকি আর কিছু আছে?"

আমি বললাম — আরো অনেক কিছু আছে। এবং আইনটা আপনার পক্ষে।
অনেকেই জানেন না — চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স শুধু দেওয়ানি সমস্যা না। এটা ফৌজদারি অপরাধ।

আইন কী বলে?

নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী, চেক ডিজঅনার হলে যিনি চেক দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়। শাস্তি — এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা চেকের পরিমাণের তিনগুণ জরিমানা অথবা উভয়।
এই আইনটা শক্তিশালী কারণ — ফৌজদারি মামলার ভয়ে বেশিরভাগ মানুষ আদালতে যাওয়ার আগেই টাকা মিটিয়ে দেয়।

চেক বাউন্স হলে ধাপে ধাপে কী করবেন:

প্রথম ধাপ — চেক বাউন্সের পর ব্যাংক থেকে লিখিত প্রমাণ নিন। এই কাগজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় ধাপ — ৩০ দিনের মধ্যে যিনি চেক দিয়েছেন তাকে লিখিত নোটিশ পাঠান। রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠান — প্রমাণ থাকবে।

তৃতীয় ধাপ — নোটিশের ৩০ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে আদালতে মামলা করুন।

একটা জরুরি বিষয়:

মামলা করার সময়সীমা আছে। চেক বাউন্সের তারিখ থেকে আইনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা করতে হবে। এই সময় পার হলে মামলা করা যাবে না।

চেকে উল্লেখিত তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে, অথবা চেকের বৈধতার মেয়াদ (validity period) যেটা আগে শেষ হয় — তার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক থেকে ডিজঅনার/রিটার্ন মেমো পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতাকে (রেজিস্টার্ড ডাকযোগে) লিখিত নোটিশ দিয়ে টাকা চাইতে হবে।

নোটিশ প্রাপ্তির পর চেকদাতাকে ১৫ দিন সময় দিতে হবে — এই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করলে মামলার কারণ (cause of action) সৃষ্টি হবে না।

১৫ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও টাকা না পেলে, সেই দিন থেকে ১ মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগ/মামলা দায়ের করতে হবে (অর্থাৎ cause of action সৃষ্টি হওয়ার ১ মাসের মধ্যে)।

তাই দেরি করবেন না।
ব্যবসায়ীরা প্রায়ই বলেন — "আরেকটু দেখি, হয়তো দিয়ে দেবে।" দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। এই ভুলটা করবেন না।

এই আইনের আলো AINER ALO পেজটি follow, like , comment এবং share করে সবসময় আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। আইন জানুন • অধিকার বুঝুন • সচেতন থাকুন।

#আইনেরআলো #চেকবাউন্স #চেকডিজঅনার #ব্যবসায়িকআইন #ফৌজদারিআইন #আইনিসমাধান #ব্যবসায়ীদেরজন্য #বাংলাদেশআইন #সচেতনতা #আইনজানুন

20/08/2026

Live Law Discussion Sessions:
----------------------------------------
Part-1

আজকের আলোচনায় থাকছে ‘The Art of Criminal Practice’—অভিজ্ঞতার আলোকে ফৌজদারি আইন ও আদালতকেন্দ্রিক বাস্তবতার নানা দিক।

🎙️ আলোচনায়: সিনিয়র আইনজীবী জনাব প্রবীর নিয়োগী
📍 বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়াম

এই আইনের আলো AINER ALO পেজটি follow, like , comment এবং share করে সবসময় আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। আইন জানুন • অধিকার বুঝুন • সচেতন থাকুন।

#আইনেরআলো

সেরা ৫টি আইনি ভুল — যা মানুষ বারবার করে-----------------------------------------বেশ কিছুদিন হলো আইনের আলো চলছে।এই সময়ে ...
17/08/2026

সেরা ৫টি আইনি ভুল — যা মানুষ বারবার করে
-----------------------------------------

বেশ কিছুদিন হলো আইনের আলো চলছে।
এই সময়ে অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি। অনেক গল্প শুনেছি। অনেক সমস্যা দেখেছি।
আর দেখেছি — একই ভুল বারবার হচ্ছে। ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন সমস্যা, কিন্তু ভুলগুলো প্রায় একই।
আজ সেই পাঁচটা ভুলের কথা বলবো। যদি এই পোস্টটা পড়ে একজন মানুষও একটা ভুল এড়াতে পারেন — তাহলেই এই পেজ খোলা সার্থক।

ভুল নম্বর এক: মৌখিক কথায় বিশ্বাস করে বড় লেনদেন করা।

জমি কিনেছেন, কথা হয়েছে মুখে, রেজিস্ট্রি করাননি। ব্যবসা শুরু করেছেন, চুক্তি নেই, বিশ্বাসে চলবে — এই ভরসায়। পঁচিশ বছর পর অথবা তিন বছর পর একই জায়গায় এসে দাঁড়াতে হয়। কাগজ ছাড়া কথা টেকে না — সম্পর্ক যতই ভালো হোক।

ভুল নম্বর দুই: সময়মতো মামলা না করা।

আইনে প্রায় সব মামলার একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। চেক বাউন্সে তিন বছর, দেনমোহরে তিন বছর, জমির মামলায় বারো বছর — এই সময় পার হলে মামলা করার অধিকার হারিয়ে যায়। অনেকে ভাবেন — "আরেকটু দেখি।" দেখতে দেখতে সময় চলে যায়।

ভুল নম্বর তিন: থানায় গিয়ে না জেনে কাগজে সই করা।

থানায় গেলে অনেক সময় কাগজ এগিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ ভয়ে সই করে দেন — কী লেখা আছে না জেনেই। পরে দেখা যায় সেই সইয়ের কারণে নিজেই বিপদে পড়েছেন। কোনো কাগজে সই করার আগে পড়ুন। বুঝতে না পারলে একজন আইনজীবীকে ডাকুন।

ভুল নম্বর চার: সাক্ষীদের সংগ্রহ না করা।

যে ঘটনা ঘটেছে তার সাক্ষী আছেন — কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়নি। বছর দুয়েক পর যখন দরকার হলো, তখন দেখা গেল সাক্ষী মারা গেছেন, বা সরে গেছেন, বা ভুলে গেছেন। ঘটনার পরপরই সাক্ষীদের কাছ থেকে affidavit করিয়ে নিন।

ভুল নম্বর পাঁচ: আইনজীবীর কাছে সব সত্য না বলা।

এটা সবচেয়ে বড় ভুল। মানুষ মনে করেন — কিছু তথ্য লুকালে বোধহয় মামলা শক্তিশালী হবে। আসলে উল্টো। আপনার আইনজীবী সব জানলে তিনি সঠিক কৌশল নিতে পারবেন। না জানলে অন্ধকারে লড়াই করবেন। ডাক্তারের কাছে যেমন সব বলেন — আইনজীবীর কাছেও তাই।

পোস্টটা save করুন। যখন দরকার হবে কাজে লাগবে।

এই আইনের আলো AINER ALO পেজটি follow, like , comment এবং share করে সবসময় আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। আইন নিজে জানুন এবং অপরকে জানার সুযোগ করে দিন।

#আইনেরআলো #আইনিভুল #সচেতনতা #আইনজানুন #বাংলাদেশআইন #জমিরআইন #চুক্তিআইন #আইনিপরামর্শ #ভুলএড়ান #আইনিটিপস

পুলিশ গ্রেফতার করলে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় আপনার অধিকার------------------------------------------এটা পড়ুন। তারপর আপনার পরিবার...
14/08/2026

পুলিশ গ্রেফতার করলে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় আপনার অধিকার
------------------------------------------

এটা পড়ুন। তারপর আপনার পরিবারকে পড়ান।
কারণ এই তথ্যটা হয়তো আপনার দরকার হবে না। কিন্তু আপনার ভাইয়ের দরকার হতে পারে। আপনার ছেলের দরকার হতে পারে। আপনার প্রতিবেশীর দরকার হতে পারে।

বাংলাদেশে প্রতিদিন অনেক মানুষ গ্রেফতার হন। তাদের অধিকাংশই জানেন না — গ্রেফতারের পরের ২৪ ঘণ্টায় তাদের কী অধিকার আছে। এই না জানাটাই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

গ্রেফতারের সাথে সাথে যা জানবেন:

গ্রেফতারের কারণ জানার অধিকার আপনার আছে। পুলিশ বলতে বাধ্য কেন ধরা হচ্ছে। এটা সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা।
প্রথম এক ঘণ্টায় যা করবেন:
চুপ থাকুন। এটা দুর্বলতা না, এটা বুদ্ধিমানের কাজ। যা বলবেন সেটা আদালতে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। পরিবারকে জানান — এটা আপনার অধিকার। পুলিশ পরিবারকে জানাতে বাধ্য।

গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে:

পুলিশ আপনাকে অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে বাধ্য। ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি — ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী।

আইনজীবীর অধিকার:

গ্রেফতারের পর থেকেই আইনজীবীর সাথে কথা বলার অধিকার আপনার আছে। পুলিশ এটা অস্বীকার করতে পারবে না।

টর্চার হলে কী করবেন:

থানায় কোনো শারীরিক নির্যাতন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বলুন। লিখিতভাবে অভিযোগ করুন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে অবশ্যই medical examination চাইবেন।

সবচেয়ে জরুরি কথা:

ভয়ে স্বীকারোক্তি দেবেন না। ভয়ে কাগজে সই করবেন না। এই দুটো ভুল পরে শোধরানো অনেক কঠিন।

এই আইনের আলো AINER ALO পেজটি follow, like , comment এবং share করে সবসময় আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। আইন নিজে জানুন এবং অপরকে জানার সুযোগ করে দিন।

একটি আইনের আলো
সম্পাদনা
-------------------------------------------

#আইনেরআলো #আইনিঅধিকার #গ্রেফতার #পুলিশআইন #সাংবিধানিকঅধিকার #ফৌজদারিআইন #বাংলাদেশআইন #সচেতনতা #আইনজানুন #নাগরিকঅধিকার

"স্বামী মারলে কোথায় যাবো?" — একটি সত্যিকারের প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর-------------------------------------গত সপ্তাহে inb...
09/08/2026

"স্বামী মারলে কোথায় যাবো?" — একটি সত্যিকারের প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর
-------------------------------------

গত সপ্তাহে inbox-এ এই প্রশ্নটা এলো।
নাম লেখেননি। শুধু লিখেছেন — "স্যার, স্বামী মারধর করে। বাবার বাড়ি যেতে চাই না — লোকলজ্জা। থানায় গেলে কি সত্যিই সাহায্য পাবো? নাকিঘুরতে হবে?"

এই প্রশ্নটা একজনের না। বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজারো মহিলা এই প্রশ্নটা বুকে নিয়ে ঘুমান।
আজ সম্পূর্ণ উত্তর দিচ্ছি।

প্রথম কথা — থানায় যাওয়া আপনার অধিকার, দয়া না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১১ ধারা অনুযায়ী স্বামী কর্তৃক শারীরিক নির্যাতন সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনে মামলা করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ আরো সরাসরি এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলে। এই আইনের ৩ ধারায় পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞায় শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতন — সবই অন্তর্ভুক্ত।

থানায় গেলে কী হয়?

থানায় গেলে GD (General Diary) করতে পারবেন। চাইলে সরাসরি মামলাও করতে পারবেন। পারিবারিক সহিংসতা আইন ২০১০-এর ১২ ধারা অনুযায়ী আদালত Protection Order দিতে পারে — মানে স্বামীকে আইনগতভাবে কাছে আসতে নিষেধ করা যায়।

থানায় না যেতে চাইলে সরাসরি আদালতে যান।
পারিবারিক সহিংসতা আইন ২০১০-এর ১২ ধারায় সরাসরি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দেওয়া যায়। থানার মধ্যস্থতা ছাড়াই।

সাথে সাথে যোগাযোগ করুন:

জাতীয় মহিলা আইনি সহায়তা সংস্থা: ১৬৪৩০ (Hotline, বিনামূল্যে) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন: ১০৯ Bangladesh National Women Lawyers Association (BNWLA): 02-9331801

এবার সেই মহিলাকে বলছি যিনি inbox করেছেন:
লোকলজ্জা একটা জিনিস। আপনার শরীর আরেকটা জিনিস। প্রতিবার যখন চুপ থাকেন, সে ভাবে পার পেয়ে গেছে। পরেরবার আরো জোরে মারবে। এই চক্র ভাঙতে হবে আপনাকেই।
আপনি একা না।

ভালো লাগলে বা এ ধরনের আরো পোস্ট পেতে লাইক, কমেন্ট বা ফলো দিয়ে সাথে থাকুন। পেজটি চালো রাখতে সহায়তা করুন।

#আইনেরআলো #নারীনির্যাতন #পারিবারিকসহিংসতা #নারীরঅধিকার #আইনিসহায়তা #১০৯ #হেল্পলাইন #বাংলাদেশআইন #সচেতনতা #আইনজানুন

--------------------------------------

 #আইনেরআলো    #সম্পাদকীয়
08/08/2026

#আইনেরআলো #সম্পাদকীয়

Address

Shegunbagicha, Dhaka
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আইনের আলো AINER ALO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category