24/09/2025
আইনানুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে পিতা কিংবা উত্তরাধিকারীগনের সম্পত্তি বন্টন:
হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির বন্টনের মূল নীতি;
দায়ভাগ মতবাদ: এই মতবাদ অনুসারে সম্পত্তি বন্টন করা হয়, যেখানে মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি অনুসরণ করা হয়।
উত্তরাধিকার আইন: বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ (The , 1956) এবং এর পরবর্তী সংশোধনীগুলো কার্যকারিতা অনুযায়ী।
উইল: মৃত ব্যক্তি উইল বা ইচ্ছাপত্র রেখে যেতে পারেন, যা সম্পত্তির বন্টনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন মূলত দায়ভাগ (The Daya Bhag বা The Daya-bhaga) মতবাদ অনুসরণ করে, যেখানে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর পুত্ররা প্রধান উত্তরাধিকারী হন এবং কন্যাদের তুলনায় বেশি অংশ পান। বিধবা স্ত্রীর জীবনস্বত্ব থাকলেও তিনি সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন না এবং তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টিত হয়। তবে হিন্দু মহিলাদের জীবনস্বত্বে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে নতুন বিধান ও হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দায়ভাগ মতবাদ: বাংলাদেশে মূলত দায়ভাগ মতবাদ ( ) অনুসরণ করা হয়, যা জীমূতবাহন রচিত একটি #হিন্দু আইনগ্রন্থ। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ/ of )। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে। ১. পিণ্ডদান; ২. পিণ্ডলেপ ও ৩. জলদান। মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।
#হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর আসেন মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী। সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলা অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুসারে বিধবা স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে পুত্রের সমান জীবনস্বত্ব পাবেন।
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও বিধবা স্ত্রী না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিত কন্যা ও পরে পুত্রবতী কন্যা সম্পত্তি পাবেন। তবে কন্যারা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে জীবনস্বত্ব পান। যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা কেউ জীবিত না থাকেন, তাহলে কন্যার পুত্র বা দৌহিত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা ও দৌহিত্র কেউই জীবিত না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির পিতা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, দৌহিত্র ও পিতা কেউ জীবিত না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির মাতা জীবনস্বত্ব পাবেন। ওপরের কেউই যদি জীবিত না থাকেন, তাহলে ক্রমানুসারে সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, ভাইয়ের পুত্র, ভাইয়ের পুত্রের পুত্র, বোনের পুত্র, পিতামহ, পিতামহী, পিতার ভাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন।
পুরুষের সুপারিশ: সাধারণত সম্পত্তি বন্টন সম্পর্কের নৈকট্যের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী অনুযায়ী হয়। এই মতবাদ অনুসারে, একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পুত্ররাই তার সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হন।
পিতার সম্পত্তি বন্টন: পিতার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে বন্টিত হয়।
স্ত্রী ও পুত্রের অনুপাত: পুত্র ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পান।
একাধিক স্ত্রী: একাধিক স্ত্রী থাকলে সম্পত্তির অংশ তাদের মধ্যে সমানভাবে বন্টিত হবে।
মৃত নারীর সম্পত্তি: মৃত নারীর ক্ষেত্রে, ছেলে থাকলে ছেলে ও মেয়েরা ২:১ অনুপাতে অংশ পান, অর্থাৎ ছেলেরা যা পান, মেয়েরা তার অর্ধেক পান।
#বিধবা স্ত্রীর অধিকার: বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির ওপর জীবনস্বত্ব ( ) লাভ করেন। অর্থাৎ তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন তবে তা বিক্রি বা অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন না। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট, ১৯৩৭( 's to , 1937) অনুযায়ী হিন্দু বিধবা নারীরা স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন।
স্ত্রীধন: হিন্দু আইনে স্ত্রীধন হলো একজন নারীর নিজের অর্জিত বা প্রাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি যা তিনি বাবা, মা, স্বামী বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে উপহার, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো উপায়ে পেয়ে থাকেন। এই সম্পত্তির ওপর নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে; তিনি তা নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার, বিক্রি বা দান করতে পারেন এবং তার মৃত্যুর পর তা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন হয়।