Advocate Shafiq Zaman

Advocate Shafiq Zaman Adv Shafiq Zaman is a Criminal Defense Lawyer.
(38)

In addition to his practice, he focuses on criminal defense, advocate for individuals and families victimized by implicit and explicitly discriminatory systems, police brutality and predatory corporations.

বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে যারা নিরলসভাবে সহায়তা করেন, নাগরি...
18/02/2026

বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে যারা নিরলসভাবে সহায়তা করেন, নাগরিকের আইনি অধিকার রক্ষা করেন এবং দুর্বল ও অন্যায়ের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন, এইভাবে থানা হাজতখানায় বিজ্ঞ আইনজীবীদের দেখতে পাওয়া সত্যিই নিন্তাত্য কষ্টের। দ্রুত মুক্তির প্রার্থনা করছি।

ভরণপোষণ (Maintenance) বলতে একজনের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদাগুলোকে বোঝায়। আইনত বা নৈতিকভাবে কোনো ব্যক্তি যখ...
11/02/2026

ভরণপোষণ (Maintenance) বলতে একজনের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদাগুলোকে বোঝায়। আইনত বা নৈতিকভাবে কোনো ব্যক্তি যখন অন্য কোনো ব্যক্তির জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করতে বাধ্য থাকে- তখন তাকে ভরণপোষণ বলা হয়।
ভরণপোষণের অন্তর্ভুক্ত প্রধান বিষয়গুলো হলো:
১। খাদ্য এবং পানীয়।
২। বস্ত্র (পোশাক-আশাক)।
৩। বাসস্থান (থাকার জায়গা)।
৪। চিকিৎসা সুবিধা।
৫। শিক্ষা (সন্তানদের ক্ষেত্রে)।

পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ভরণপোষণের কিছু সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র রয়েছে:

১. #স্ত্রীর ভরণপোষণ: #মুসলিম ও #হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিয়ের পর স্ত্রীর যাবতীয় খরচ বহন করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব। এমনকি বিবাহবিচ্ছেদের পর ( #ইদ্দতকালীন সময় পর্যন্ত) বা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পরেও স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন। মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে- #পারিবারিক #আদালত #আইন, ২০২৩ ( Courts Act, 2023)- একজন স্ত্রী বা সন্তানের ভরণপোষণের মামলা এই আইনের ৫(গ) ধারা অনুযায়ী করতে হবে।। হিন্দু বিবাহিত মহিলা পৃথক আবাস ও #ভরণপোষণ আইন, ১৯৪৬ এবং #খ্রিস্টান বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ (The Act, 1869) দ্বারা পরিচালিত হয়।

২. #সন্তানের ভরণপোষণ:
সন্তানদের (ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে বিয়ের আগ পর্যন্ত) ভরণপোষণ দেওয়ার দায়িত্ব বাবার। এটি একটি অলঙ্ঘনীয় আইনি বাধ্যবাধকতা।

৩. #পিতামাতার ভরণপোষণ:
আমাদের দেশে 'পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩' রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, সন্তানরা তাদের বাবা-মায়ের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। সন্তান যদি এটি না করে, তবে বাবা-মা আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।

ভরণপোষণ না দিলে কী হয়?
যদি কেউ আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ভরণপোষণ না দেয়, তবে #ভুক্তভোগী ব্যক্তি পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। আদালত তখন বিবাদীর আয় এবং সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ #অর্থ ( #মাসিক বা #এককালীন) প্রদানের নির্দেশ দেন। এক্ষেত্রে ভরণপোষণ মানে শুধু টাকা দেওয়া নয় বরং প্রিয়জনের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা।

দেওয়ানী মামলা/মোকদ্দমা (Civil Suit)-  এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নাগরিক অধিকার আদা...
10/02/2026

দেওয়ানী মামলা/মোকদ্দমা (Civil Suit)- এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নাগরিক অধিকার আদায়, ক্ষতিপূরণ বা কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়। সাধারণত দেওয়ানী মামলা হয় অধিকার আদায়ের জন্য, আর #ফৌজদারি মামলা হয় অপরাধের শাস্তির জন্য। ফৌজদারি মামলার মতো এখানে কাউকে জেল বা ফাঁসি দেওয়া হয় না বরং এখানে মূলত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পাওনা আদায় করা হয়। বিবাদীকে শাস্তি দেওয়া এই মামলার উদ্দেশ্য নয় বরং #ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে তার প্রাপ্য ফিরিয়ে দেওয়া বা #ক্ষতিপূরণ দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

যে ব্যক্তি মামলা করেন তাকে বলা হয় ' #বাদী' ( ) এবং যার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় তাকে বলা হয় ' #বিবাদী' ( )। এই মামলাগুলো সাধারণত দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ ( ) অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

সাধারণত দেওয়ানী মামলার কারনসমূহ-
১. #জমি সংক্রান্ত: জমির মালিকানা দাবি করা, দখল ফিরে পাওয়া বা জমি বণ্টন (বন্টন নামা) সংক্রান্ত মামলা।
২. #পারিবারিক: বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর আদায়, সন্তানের অভিভাবকত্ব বা ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ।
৩. #চুক্তি সংক্রান্ত: কেউ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে বা পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে সেই টাকা আদায়ের মামলা।
৪. #ইঞ্জাংশন বা #নিষেধাজ্ঞা: কোনো কাজে আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা (যেমন: অবৈধভাবে #ঘর নির্মাণ বন্ধ করা)।
৫. #উত্তরাধিকার: পৈতৃক সম্পত্তির বন্টন বা হিসসা নিয়ে বিবাদ।
৬. #মানহানি ও ক্ষতিপূরণ: মানহানি বা অন্য কোনো কারণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে ক্ষতিপূরণ দাবি।
৭. #ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের মামলার #অর্থ #ঋণ #আদালত।
৮. #খতিয়ান বা #রেকর্ড সংশোধনের জন্য ভূমি #জরিপ #ট্রাইব্যুনাল।

#দেওয়ানী মামলা থানায় করা যায় না। দেওয়ানী মামলা দায়ের করার জন্য আপনাকে আপনার এলাকার দেওয়ানী আদালতে ( ) বা জেলা জজ আদালত যেতে হবে।

মামলা করার প্রক্রিয়া মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত:১। ফৌজদারি ( ) অপরাধের জন্য, অন্যটি২। দেওয়ানি ( ) বা জমি-জমা ও পাওনা আদায়ের ...
09/02/2026

মামলা করার প্রক্রিয়া মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত:
১। ফৌজদারি ( ) অপরাধের জন্য, অন্যটি
২। দেওয়ানি ( ) বা জমি-জমা ও পাওনা আদায়ের জন্য।

যেসব কারণে ফৌজদারি মামলা হয়:
ফৌজদারি মামলা মূলত সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী অপরাধের জন্য করা হয়। যখন কোনো কাজ বা আচরণ রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী #দণ্ডযোগ্য #অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তখনই ফৌজদারি মামলার উদ্ভব হয়।

​সাধারনত #প্রধান কারণগুলো হলো:

​১. শরীর বা জীবন সংক্রান্ত অপরাধ:
​কারো শারীরিক ক্ষতি করা বা জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ফৌজদারি অপরাধের সবচেয়ে বড় কারণ।
#খুন বা হত্যার চেষ্টা: কাউকে মেরে ফেলা (দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা) বা মারার চেষ্টা করা।
#মারামারি বা জখম: কাউকে আঘাত করা, হাড় ভেঙে দেওয়া বা শারীরিক নির্যাতন করা।
​ #অপহরণ: কাউকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া।
​ #ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন: নারী বা শিশুর ওপর যেকোনো ধরনের যৌন সহিংসতা।

২. ​ #সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ:
​অন্যের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি বা আত্মসাৎ করা:
#চুরি ও ছিনতাই: গোপনে বা জোর করে অন্যের সম্পদ নেওয়া।
#ডাকাতি: দলবদ্ধভাবে অস্ত্র ঠেকিয়ে সম্পদ লুট করা।
#প্রতারণা (Cheating): মিথ্যে তথ্য দিয়ে বা জালিয়াত করে কারো টাকা বা সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া।
​ #অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ: গচ্ছিত রাখা সম্পদ আত্মসাৎ করা।
#অনধিকার প্রবেশ: জোর করে কারো বাড়িতে বা জমিতে ঢুকে পড়া।

​৩. শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ:
#সামাজিক অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা:​ #দাঙ্গা-হাঙ্গামা: দলবদ্ধ হয়ে মারামারি বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
#মানহানি: কারো সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচার চালানো।
#হুমকি প্রদান: কাউকে ভয় দেখানো বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া।
#রাষ্ট্রদ্রোহিতা: রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা উসকানিমূলক কাজ করা।

​৪. আধুনিক ও বিশেষায়িত অপরাধ:
#সাইবার অপরাধ: সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার, হ্যাকিং বা অনলাইনে হয়রানি।
#মাদক সংক্রান্ত: মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা, বহন বা সেবন।
#যৌতুক সংক্রান্ত: যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন বা চাপ দেওয়া।
#জালিয়াতি (Forgery): ভুয়া দলিল, পাসপোর্ট বা সরকারি কাগজপত্র তৈরি।

ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে আপনি #দুইভাবে #আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন:

১. #থানার মাধ্যমে (G.R. Case): সরাসরি থানায় এজাহার দিলে।
২. আদালতের মাধ্যমে (C.R. Case): নালিশি আরজির মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করলে।

​থানায় #এজাহার বা (First Information Report): যেকোনো অপরাধের শিকার হলে নিকটস্থ থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে বিস্তারিত জানান। পুলিশ আপনার অভিযোগ লিখে নেবে। এটিই সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করলে তারা তদন্ত শুরু করে।

#আদালতে মামলা (C.R. Case): যদি কোনো কারণে থানা মামলা নিতে অস্বীকার করে, তবে আপনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট এলাকার #ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা করতে পারেন। একে 'নালিশি মামলা' বলা হয়। আদালত অভিযোগ শুনে সরাসরি আমলে নিতে পারেন অথবা তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারেন।

প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করলে, বিশেষত তথ্য গোপন করে, তা দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। যার জন্য ১০ ...
26/01/2026

প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করলে, বিশেষত তথ্য গোপন করে, তা দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। যার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে এবং একইসাথে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারা ও পারিবারিক আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ তার জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করে এবং পূর্বের বিবাহের কথা গোপন রাখে, তবে তা #দ্বিবিবাহ বা #বহুবিবাহ হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি ফৌজদারি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এক্ষেত্রে, সাধারণত নিজের পূর্ব বিবাহিত অবস্থার কথা গোপন রাখা বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নতুন সঙ্গীকে বিয়েতে রাজি করানো ইত্যাদি প্রতারণা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

#ধর্মীয় ব্যাখা:-

#মুসলিম বিবাহ:- ইসলাম ধর্মে পুরুষদের সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি থাকলেও তা চরম সমতা, আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং ন্যায়বিচারের কঠোর শর্ত সাপেক্ষে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে গোপন বিয়ে করা ইসলামি শরীয়ত ও নৈতিকতার পরিপন্থী। বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

#মুসলিম #পারিবারিক #আইন (১৯৬১): দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে বর্তমান স্ত্রীর লিখিত অনুমতি এবং সালিশি কাউন্সিলের ( ) অনুমতি প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে সাধারণত অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তা সরাসরি আইনত অবৈধ না হলেও প্রথম স্ত্রীর #দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধ এবং শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

#হিন্দু ধর্মে দ্বিবাহ বা বহুবিবাহ ( ):
১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী, প্রথম স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি, অকার্যকর ( ) এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। অএ আইনে ধারা- ৫ ও ১১ অনুযায়ী এটি দ্বিবিবাহ (Bigamy) হিসেবে গণ্য হয়।

বাংলাদেশে #খ্রিষ্টান বিবাহ আইন ( , 1872) অনুযায়ী- প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করা আইনত বৈধ নয় । অনুযায়ী এবং বেশিরভাগ খ্রিস্টান সম্প্রদায় বহুবিবাহকে অবৈধ ও পাপ বলে মনে করে।

#বাইবেলে বিবাহকে একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে আজীবন পবিত্র বন্ধন হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। সৃষ্টির শুরুতে আদিপুস্তকে (Genesis 1-2) এবং যীশুর শিক্ষার মাধ্যমে (মথি ১৯:৪-৬) একবিবাহের ( ) আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

#বৌদ্ধধর্মে বহুবিবাহ বা দ্বিবিবাহ উৎসাহিত করা হয় না, তবে এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধও নয়; মূলত এটি পারিবারিক সুখ ও শান্তির জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়। বুদ্ধের শিক্ষা অনুযায়ী- এক পত্নী বা স্বামী থাকা নৈতিক ও সামাজিকভাবে শ্রেয়, কারণ বহুবিবাহ মানসিক ও পারিবারিক দুঃখকষ্টের কারণ হতে পারে।

প্রাসঙ্গিক #আইনি ভিত্তি:
#বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০- ( Code, 1860)

ধারা ৪৯৩: যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে কোনো নারীকে বিবাহিত বলে বিশ্বাস করান এবং সেই বিশ্বাসে তার সঙ্গে সহবাস করেন, তবে তিনি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

ধারা ৪৯৪: যদি কোনো ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও আইনসম্মতভাবে #পুনরায় বিয়ে করেন, তবে তিনি ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা সহ দণ্ডনীয় হবেন (মুসলিম পারিবারিক আইনের ব্যতিক্রম সাপেক্ষে)।

ধারা ৪৯৫: যদি কোনো ব্যক্তি #পূর্ববর্তী বিয়ের কথা গোপন রেখে প্রতারণার মাধ্যমে #দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিবাহ করেন, তবে যাকে প্রতারণা করা হয়েছে তার অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ বছর পর্যন্ত #সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১, ধারা- ৬: এই ধারাটি বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রথম স্ত্রী/স্বামীর অনুমতি ও আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিষিদ্ধ করে।

যদি কেউ এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন, তবে ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নিতে পারেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

আইনের শাসনের সাংবিধানিক ভিত্তি: #অনুচ্ছেদ ২৭: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।অনুচ্ছে...
04/01/2026

আইনের শাসনের সাংবিধানিক ভিত্তি:

#অনুচ্ছেদ ২৭: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

অনুচ্ছেদ ৩১: আইন অনুযায়ী আচরণ লাভের এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

অনুচ্ছেদ ২৬: মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না এবং এমন আইন স্বতঃসিদ্ধভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।

অনুচ্ছেদ ৩২: আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওয়াদা করা হয়েছে, যা জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

#বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সংবিধানের মূলনীতিতে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যা আইনের শাসন প্রয়োগের জন্য অপরিহার্য।

আইনের শাসনের #সাংবিধানিক ভিত্তি মূলত সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক অধিকারের অনুচ্ছেদগুলো; যা নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রের সকল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান আইনের অধীন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সরকারকেও আইন মেনে চলতে হবে, যা সাম্য, #স্বাধীনতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ মূলনীতি হলো স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, আইনের চোখে সবার সমানাধিকার এবং একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ।

The of the ‌‌‍’s of / Fundamental of /

আইন বিজ্ঞানের প্রধান মূলনীতিসমূহ:1. আইনের শাসন (Rule of Law)2. জবাবদিহিতা (Accountability)3. ন্যায্যতা ও সমতা (Fairness ...
04/01/2026

আইন বিজ্ঞানের প্রধান মূলনীতিসমূহ:

1. আইনের শাসন (Rule of Law)
2. জবাবদিহিতা (Accountability)
3. ন্যায্যতা ও সমতা (Fairness & Equality)
4. উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছতা (Openness & Transparency)
5. নিরপেক্ষ বিচার (Impartial Justice)
6. অধিকার ও কর্তব্য (Rights & Duties)
7. আইনের উৎস ও ব্যাখ্যা (Sources & Interpretation of Law)
8. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ (Social Control)

এই নীতিগুলো আইনশাস্ত্রের (Jurisprudence) মূল ভিত্তি তৈরি করে, যা শুধু আইন কী তা নয় বরং আইন কী হওয়া উচিত/What law ought to be তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
of

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
30/12/2025

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

আইন বিজ্ঞানের মূলনীতির একটি হচ্ছে- Ignorance of law is no excuse (আইনের অজ্ঞতা অজুহাত নয়) অর্থাৎ মানুষ যেন শুধু-  #আমি  ...
19/12/2025

আইন বিজ্ঞানের মূলনীতির একটি হচ্ছে- Ignorance of law is no excuse (আইনের অজ্ঞতা অজুহাত নয়) অর্থাৎ মানুষ যেন শুধু- #আমি #আইন #জানতাম #না বলে আইনি দায় এড়াতে না পারে, যা আইনি-শৃঙ্খলা ( Order) বজায় রাখতে অপরিহার্য। আইন না জেনে- কেউ কোনো আইন ভঙ্গ বা অপরাধ সংগঠন করলে আইনের অজ্ঞতার অজুহাত তাকে #অপরাধের #দায়মুক্তি বা Impunity দেবে না। কারণ #রাষ্ট্র ধরে নেয় বা আশা করে যে প্রত্যেক সচেতন #নাগরিক বা Prudent man তার দেশের আইনকানুন সম্পর্কে অবগত থাকবেন এবং তা মেনে চলবেন এবং তা মানতে বাধ্য। এই নীতিটি Juris Non Excusat বা Ignorantia Legis অর্থাৎ আইনের অজ্ঞতা কাউকে ছাড় দেয় না বা নামেও পরিচিত। এর মূল কথা হলো- প্রত্যেককেই আইন মেনে চলতে বাধ্য এবং এটি আইনের শাসন বা of Law এবং সমতা বা before Law নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি।

The of the people's of বা সংবিধানে- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ( বা অনুচ্ছেদ_ ৬ হতে২৫) এই অংশে নাগরিকদের কর্তব্য ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে। আইন ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র বা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ ও শাস্তি বিধানের মাধ্যমে আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে।

#শেষাংশ, আপনি যদি কোনো #আইন না জেনেও তা ভঙ্গ করেন, তবে সেই অজ্ঞতা কোনো অজুহাত হিসেবে গণ্য হবে না এবং আপনাকে #আইনি পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে‌। এটি #দেওয়ানি (Civil) ও #ফৌজদারি (Criminal) উভয় প্রকার আইনেই প্রযোজ্য।

অপরাধ বা ঘটনার কোন পর্যায়ে জিডি কিংবা মামলা করার প্রয়োজনীয়তা হয়?যখন এমন কোনো ঘটনা ঘটে যা মামলা করার মতো গুরুতর নয়, ...
08/10/2025

অপরাধ বা ঘটনার কোন পর্যায়ে জিডি কিংবা মামলা করার প্রয়োজনীয়তা হয়?

যখন এমন কোনো ঘটনা ঘটে যা মামলা করার মতো গুরুতর নয়, কিন্তু আপনি পুলিশের সহায়তা চান বা তথ্য লিপিবদ্ধ করতে চান, তখন জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করতে হয়। অন্যদিকে, চুরি, ডাকাতি, বা মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার মতো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে মামলা করার প্রয়োজন হয়।

______ #জিডি (GD) করার প্রয়োজনীয়তা কখন হয়?
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে যা সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না, সেক্ষেত্রে জিডি করা হয়। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রাথমিক এবং সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে জেনারেল ডায়েরি বা জিডি।

---- পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি যখন নিজের জীবন কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার অভাববোধ করেন সেক্ষেত্রে থানায় গিয়ে জিডি করা যায়। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে আদালত এই জিডি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে। অনেক সময় কারো বিরুদ্ধে অভিযোগও মামলা না করে জিডি আকারে করা হয়ে থাকে।

জিডি ( ) আইনগতভাবে দুই ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণ জিডি যা কোনো অপরাধের বিষয়বস্তু সংক্রান্ত হয়ে থাকে; আর বিশেষ জিডি যেটি সাধারণত আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে হয়ে থাকে। যেমন কোনো শিক্ষাসংক্রান্ত সনদ, দলিল, মোবাইল, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, চেকবই, লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে গেলে আইনগত রেকর্ড সংরক্ষণ বা পুলিশে প্রাথমিক তথ্য জানানোর জন্য সাধারণ ডায়েরি করা হয়ে থাকে।

{ , ( ) 1943} পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ৩৭৭ প্রবিধান এবং (Code of , 1898) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ এবং ১৫৫ ধারায় জিডি তথা সাধারণ ডায়রির বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

_____ #অপরাধের কোন পর্যায়ে মামলা (FIR) রেকর্ড করা হয়?

#হত্যা, #ধর্ষণ, #অপহরণ-নির্যাতন, #চুরি, #ডাকাতি, #ছিনতাই বা কোনো নারীর প্রতি #নির্যাতন (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধীনে) এর মতো গুরুতর অপরাধ ঘটলে সরাসরি মামলা ( #এফআইআর) করতে হয়।

#স্থানীয় থানা ( ) যদি কোন কারণে মামলা নিতে না চায়; গড়িমসি করে তাহলে ওই ব্যক্তি সরাসরি আদালতে মামলা করতে পারেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিলে থানাকে এজাহার আকারে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন।

সাধারণত থানায় অভিযোগ দায়ের করার মাধ্যমে মামলার সূচনা হয়। অভিযোগটি একটি এজাহার বা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট ( ) হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় এবং এটি একটি জেনারেল রেজিস্টার ( ) মামলা হিসেবে গণ্য হয়। ফৌজদারি মামলা বা ক্রিমিনাল কেস থানায় অথবা আদালতে- উভয় স্থানে দায়ের করা যায়। দেওয়ানী মামলা বা সিভিল কেস আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে।

#ভিকটিম ( ) বা তার পক্ষে কেউ লিখিতভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ( ) কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।

#এজাহার ক্ষেত্রে পিআরবি বা পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ২৪৩ প্রবিধান এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় এজাহারের বিষয়বস্তু গুলো অনুসরণ করা হয়। এজাহার হলো জিআর মামলার মূলভিত্তি।

আপনার দলিল থাকার পরও যদি খতিয়ানে আপনার মালিকীয়তা (Ownership) এবং দখলীয় (Possession) জমির মালিকানা অন্যের নামে লিপিবদ্ধ ...
01/10/2025

আপনার দলিল থাকার পরও যদি খতিয়ানে আপনার মালিকীয়তা (Ownership) এবং দখলীয় (Possession) জমির মালিকানা অন্যের নামে লিপিবদ্ধ হয়; এমতাবস্থায় আপনি কী করবেন?

#দলিল থাকা সত্ত্বেও খতিয়ানে অন্যের নাম দেখা গেলে প্রথমে করণিক ভুল নাকি স্বত্বের ভুল, তা নির্ণয় করতে হয়। যদি দলিল সম্পাদনের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে বা লেখার ভুলের কারণে সৃষ্ট ত্রুটি বোঝায়- যেমন #দাগ, #খতিয়ান, #মৌজা, #চৌহদ্দি, #নাম, #বানান বা অন্য কোনো তথ্যের ভুল তাহলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। যদি এটি স্বত্বের ভুল হয়, অর্থাৎ মালিকানা অন্য কারো নামে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাহলে রেভিনিউ অফিসারের নিকট ৩০ ধারায় আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনে সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩১ ধারায় আপিল করতে হবে।

সাধারণত জরিপের সময় কোনো ভুল ধরা পড়লে অথবা খতিয়ানে অন্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে, #বাংলাদেশ #রাষ্ট্রীয় #অধিগ্রহণ ও #প্রজাস্বত্ব #আইন, ১৯৫০ (The and , 1950)-এর অধীনে রেভিনিউ অফিসারের ( ) নিকট ৩০ ধারায় আবেদন করতে হবে। এই আইনের মাধ্যমে জমির রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

৩০ ধারায় #আবেদন: জরিপের সময় কোনো ভুল ধরা পরলে বা খতিয়ানে অন্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে, রেভিনিউ অফিসারের নিকট ৩০ ধারায় একটি আবেদন জমা দিতে হবে।

৩১ ধারায় #আপিল: রেভিনিউ অফিসারের রায়ের বিরুদ্ধে যদি আপনি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে আপনি সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩১ ধারায় আপিল করতে পারবেন।

--- ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ) মামলা (জটিল স্বত্ব সমস্যার ক্ষেত্রে)

যদি খতিয়ানে আপনার মালিকানার স্বত্ব ভুলভাবে অন্যের নামে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে এবং বিষয়টি স্বত্ব স্বীকৃতির ক্ষেত্রে জটিলতা হচ্ছে বলে অনুমান, তাহলে সময় অপচয় না করেই এই ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য আপনাকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।


জমির মালিকানা নির্ধারণ করতেই মূলত সরকার নিজ উদ্যোগে নিজ খরচে #রেকর্ড করিয়ে থাকে। সরকারি ভাবে যেহেতু এই রেকর্ড কার্য হয়ে থাকে, সেহেতু সরকারি হিসেবে জমির মালিক হচ্ছেন যার নামে জমিটি রেকর্ড করানো আছে।

যদি রেকর্ড ভুলবশত হয় এবং যার নামে রেকর্ড হয়েছে তিনি যদি ভুল স্বীকার করে আপনাকে দলিল করে দেন (হস্তান্তর বা না-দাবি দলিল), তাহলে আপনি মালিকানা ফিরে পাবেন।

দলিল সূত্রে যেমন জমির মালিক হওয়া যায়, রেকর্ড সূত্রেও জমির মালিক হওয়া যায়। সিএস, আরএস, বিএস ইত্যাদি রেকর্ডের মাধ্যমেও জমির মালিক হওয়া যায়। আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম রেকর্ড করা হয়, সিএস রেকর্ড। জমির দখল সত্ত্বের উপর ভিত্তি করে রেকর্ড করায় সিংহভাগ মানুষই রেকর্ড সূত্রে বা খতিয়ান সূত্রে সিএস রেকর্ডে জমির মালিক হয়েছে।

পরবর্তীতে এস.এ (SA) খতিয়ান এবং এরপর ভুল সংশোধনের জন্য আরএস (RS) রেকর্ড, সবশেষে বিএস (BS)। সাধারণত রেকর্ডগুলোর সময় জমির দখল সত্ত্বের পাশাপাশি দলিল দস্তাবেজও দেখেছেন সার্ভেয়াররা। তখন, জমির মালিকদেরকে নিজ নিজ নামে খতিয়ান বা কয়েকজনকে একটি খতিয়ানে জমির পরিমাণ, হিস্যা উল্লেখ করে মালিক ঘোষণা করা হয়েছে।

একজন ব্যক্তি যদি একটি জমির দলিল সূত্রে এবং রেকর্ড সূত্রে মালিক হয়, তাহলে তো কোন সমস্যা নেই; কিন্তু যদি একই জমির একজন মালিক দলিল সূত্রে হয় আর আরেকজন রেকর্ড সূত্রে মালিক হয়, তাহলে জমির প্রকৃত মালিক কে? -- এক কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আইনত অসম্ভব এবং এটি একটি জটিল বিষয় যা প্রতিটি ঘটনার ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক মালিকানা নির্ধারণ করতে দলিল ও রেকর্ডের মালিকানা ( ) ধারার বিশ্লেষণ, বর্তমান আইনগত পরিস্থিতি এবং প্রমাণ ভিত্তিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।পরিস্থিতি ভেদে উত্তরটি ভুল হয়ে সম্পূর্ণ পাল্টেও যেতে পারে। তাই সিএস রেকর্ডের মতো খণ্ড খণ্ড করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে মালিকানা নির্ধারন করাই আইনত বৈধ। অর্থাৎ সিএস ( ) থেকে শুরু করে আরএস ( ) বা বিএস ( ) রেকর্ড, সকল রেকর্ড ও দলিলের ( ) ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

আইনানুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে পিতা কিংবা উত্তরাধিকারীগনের সম্পত্তি বন্টন:হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির বন্টনে...
24/09/2025

আইনানুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে পিতা কিংবা উত্তরাধিকারীগনের সম্পত্তি বন্টন:

হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির বন্টনের মূল নীতি;

দায়ভাগ মতবাদ: এই মতবাদ অনুসারে সম্পত্তি বন্টন করা হয়, যেখানে মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি অনুসরণ করা হয়।

উত্তরাধিকার আইন: বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ (The , 1956) এবং এর পরবর্তী সংশোধনীগুলো কার্যকারিতা অনুযায়ী।

উইল: মৃত ব্যক্তি উইল বা ইচ্ছাপত্র রেখে যেতে পারেন, যা সম্পত্তির বন্টনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন মূলত দায়ভাগ (The Daya Bhag বা The Daya-bhaga) মতবাদ অনুসরণ করে, যেখানে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর পুত্ররা প্রধান উত্তরাধিকারী হন এবং কন্যাদের তুলনায় বেশি অংশ পান। বিধবা স্ত্রীর জীবনস্বত্ব থাকলেও তিনি সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন না এবং তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টিত হয়। তবে হিন্দু মহিলাদের জীবনস্বত্বে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে নতুন বিধান ও হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

দায়ভাগ মতবাদ: বাংলাদেশে মূলত দায়ভাগ মতবাদ ( ) অনুসরণ করা হয়, যা জীমূতবাহন রচিত একটি #হিন্দু আইনগ্রন্থ। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ/ of )। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে। ১. পিণ্ডদান; ২. পিণ্ডলেপ ও ৩. জলদান। মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।

#হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর আসেন মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী। সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলা অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুসারে বিধবা স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে পুত্রের সমান জীবনস্বত্ব পাবেন।

মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও বিধবা স্ত্রী না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিত কন্যা ও পরে পুত্রবতী কন্যা সম্পত্তি পাবেন। তবে কন্যারা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে জীবনস্বত্ব পান। যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা কেউ জীবিত না থাকেন, তাহলে কন্যার পুত্র বা দৌহিত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।

মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা ও দৌহিত্র কেউই জীবিত না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির পিতা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, দৌহিত্র ও পিতা কেউ জীবিত না থাকেন, তাহলে মৃত ব্যক্তির মাতা জীবনস্বত্ব পাবেন। ওপরের কেউই যদি জীবিত না থাকেন, তাহলে ক্রমানুসারে সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, ভাইয়ের পুত্র, ভাইয়ের পুত্রের পুত্র, বোনের পুত্র, পিতামহ, পিতামহী, পিতার ভাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন।

পুরুষের সুপারিশ: সাধারণত সম্পত্তি বন্টন সম্পর্কের নৈকট্যের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী অনুযায়ী হয়। এই মতবাদ অনুসারে, একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পুত্ররাই তার সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হন।

পিতার সম্পত্তি বন্টন: পিতার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে বন্টিত হয়।

স্ত্রী ও পুত্রের অনুপাত: পুত্র ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পান।

একাধিক স্ত্রী: একাধিক স্ত্রী থাকলে সম্পত্তির অংশ তাদের মধ্যে সমানভাবে বন্টিত হবে।

মৃত নারীর সম্পত্তি: মৃত নারীর ক্ষেত্রে, ছেলে থাকলে ছেলে ও মেয়েরা ২:১ অনুপাতে অংশ পান, অর্থাৎ ছেলেরা যা পান, মেয়েরা তার অর্ধেক পান।

#বিধবা স্ত্রীর অধিকার: বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির ওপর জীবনস্বত্ব ( ) লাভ করেন। অর্থাৎ তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন তবে তা বিক্রি বা অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন না। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট, ১৯৩৭( 's to , 1937) অনুযায়ী হিন্দু বিধবা নারীরা স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন।

স্ত্রীধন: হিন্দু আইনে স্ত্রীধন হলো একজন নারীর নিজের অর্জিত বা প্রাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি যা তিনি বাবা, মা, স্বামী বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে উপহার, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো উপায়ে পেয়ে থাকেন। এই সম্পত্তির ওপর নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে; তিনি তা নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার, বিক্রি বা দান করতে পারেন এবং তার মৃত্যুর পর তা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন হয়।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Shafiq Zaman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Advocate Shafiq Zaman:

Share