18/04/2025
#অর্পিত_সম্পত্তিঃ ক ও খ তফসিল৷ অনেকে প্রশ্ন করেন যে অর্পিত সম্পত্তির ক ও খ তফসিল কি? .
অর্পিত সম্পত্তি ( ) হলো নিরুদ্দেশ মালিকের পক্ষে সরকার কাস্টোডিয়ান। সরকার সরাসরি মালিক নয়৷ ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান সরকারের Enemy Property Act, 1965 অনুয়ায়ী তালিকাভুক্ত সম্পত্তি হলো Enemy Property, যার ১৯৭৪ সালে নামকরণ করা হয় অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property)৷
অর্পিত সম্পত্তি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি৷ ১/১ খতিয়ান অর্থ অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি৷
অর্পিত সম্পত্তি তাদের প্রকৃত #মালিককে বা স্বার্থাধিকারীকে ফেরত দেওয়ার জন্য দুটো তালিকা করা হয় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইন, ২০০১ অনুযায়ী, যথাঃ ক তফসিল ও খ তফসিল৷
িলঃ যেসব অর্পিত সম্পত্তি সরকারের প্রত্যক্ষ দখলে আছে, ভিপি কেস নথি খোলা আছে এবং লীজ দেওয়া আছে৷
িলঃ যেসব জমি সরকারের প্রত্যক্ষ দখলে নাই, সরকার কখনও দখল করে নাই, ভিপিকেস নথি খোলা হয় নাই ও দখলকারকে কখনও নোটিস করা হয় নাই অথবা চূড়ান্ত কোনো গেজেটে ১/১ খতিয়ানে প্রকাশিত জমি (কিন্তু সরকারের দখলে নাই)৷
#উল্লেখ্য যে, ২৩-০৩-১৯৭৪ এর পর কোনো সম্পত্তিকে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা ভুক্ত করা বেআইনী ও অবৈধ৷
২০১১ সালের ৮ই ডিসেম্বর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইন, ২০০১ এর কিছু সংশোধন করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন তালিকা গেজেট প্রকাশ ও ট্রাইবুনাল গঠনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ ক তফসিল অবমুক্তির জন্য ট্রাইবুনালে, খ তফসিল অবমুক্তির জন্য ট্রাইবুনাল বা জেলা কমিটিতে আবেদেনের বিধান হয়৷ একই খ তফসিল ভুক্ত জমি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষ জেলা কমিটি ও ট্রাইবুনালে মামলা হলে উভয় মামলা ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির বিধান করা হয়৷
#ভিপিকেস নথি খোলা ও নোটিশ প্রদান ও কিছু নিয়ম অনুসরণ না করলে কোনো সম্পত্তিকে অর্পিত বলা যায় না, অধিকাংশ খ তফসিলের জমি ২৩-৩-১৯৭৪ এর পর অর্পিত তালিকাভুক্ত করা হয়, কোনো ভিপিকেস নথি খোলা হয় নাই ও নোটিশও প্রদান করা হয় নাই, যে জমি সরকারের দখলে নাই, তা সরকার প্রত্যার্পণ করতে পারে না, গণ আন্দোলন ইত্যাদি বাস্তব কারণে ২০১৩ সালের ৮ই অক্টোবর জাতীয় সংসদে খ তফসিল বাতিল করা হয় এবং স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, এসব সম্পত্তি কখনও অর্পিত সম্পত্তির তালিকা ভুক্ত ছিলো না৷ ১০ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট সই করেন৷
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ এর ২৮ক ধারা অনুযায়ী খ তফসিল ভুক্ত সম্পত্তি তালিকা বাতিল ও সরকারী সম্পত্তি নয়৷ এখানে দুটো তালিকা বাতিল হয়েছে৷ খ তফসিলের জন্য অর্পিত সম্পত্তির তালিকা ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ তালিকা৷
#বাতিল_খ_তফসিল ভুক্তো সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে নামজারী করে নিতে হবে৷ ভূমি অফিস ঝামেলা করলে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে৷ সাধারণ ভাবে ভূমি অফিস না দিলে এডিসি রেভিনিউ বরাবর আপীল করতে হবে৷ অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ সিভিল আইনজীবী ও যিনি অর্পিত সম্পত্তির বিষয়গুলো বুঝেন ও আপডেট আছেন এমন কারো মাধ্যমে আগাবেন৷
#ক তফসিলের অবমুক্তির জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ দেওয়া হয়৷ যা মোটামুটি ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায়৷ আইন অনুযায়ী ক তফসিল অবমুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাইবুনালে মামলা না করা হলে উক্ত সম্পত্তি স্বয়ংক্রিয় ভাবে সরকারী ১ নং খাস খতিয়ানে ভুক্ত সম্পত্তি হয়ে যাবে এবং পরবর্তী জরীপে ১ নং খাস খতিয়ান হিসাবে রেকর্ড প্রকাশিত হবে৷
#বর্তমানে ট্রাইবুনালে মামলা করবার অবকাশ নেই৷ হাইকোর্টে Writ করতে হবে৷
#অর্পিত সম্পত্তি ভুক্তভোগীরাই জানেন এর যন্ত্রনা৷ লক্ষ লক্ষ পরিবার ভুক্তভোগী৷ খ তফসিল বাতিল হওয়ায় কিছুটা রিলিজ এসেছে৷
#যারা ক তফসিলের ভুক্তোভোগী আছেন কিন্তু ট্রাইবুনালে যথা সময়ে মামলা করতে পারেন নাই, তারা অনতিবিলম্বে হাইকোর্টে রীট পিটিশন করুন৷
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ঃ (http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-856.html)
#আরো জানতে যোগাযোগ : ০১৭২৭৫৪৭৫৪০