Marriage and Divorce Counseling Centre

Directions

Marriage and Divorce Counseling Centre বিবাহ এবং তালাক সম্পর্কিত তথ্য জানতে চলে আসুন আমার পেইজে এবং লাইক কমেন্ট করে সাথে থাকুন...

13/08/2026

❝সংসার করতে না পারা নারী ও দিব্যি গার্মেন্টস করে যাচ্ছে, অথচ প্রতিদিনই বসের গালি শুনে কিন্তু স্বামীর ঘরে একটু সহ্য করে না।❞

28/07/2026

এক ব্যক্তি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গেল।
শরীয়াহ সম্মত দেখাশোনার সময় মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করল,
-আপনি কুরআনের কতটা মুখস্থ করেছেন?
ছেলেটি বলল, -আমি তেমন কিছু মুখস্থ করতে পারিনি, কিন্তু আমি সত্যিই একজন সৎ বান্দা হতে চাই।
তারপর ছেলেটি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল,
— আর আপনি?
মেয়েটি বলল, — আমি ‘জুজ আম্মা (সূরা আন-নাবা থেকে আন-নাস পর্যন্ত) ’ মুখস্থ করেছি।

এবং মেয়েটি প্রস্তাব মেনে নিল, কারণ সে অনুভব করেছিল যে ছেলেটি সত্যিই একজন সৎ মানুষ।
বিয়ের পর মেয়েটি স্বামীকে বলল,— তুমি কি আমাকে পুরো কোরআন মুখস্থ করিয়ে দেবে?

স্বামী উত্তর দিল,
— সমস্যা নেই, আমরা একসাথে মুখস্থ করি।
তারা সূরা মারিয়ম দিয়ে মুখস্থ শুরু করল।
এরপর একে একে সূরাগুলো মুখস্থ করতে করতে শেষ পর্যন্ত সে স্বামীর সামনে পুরো কোরআন খতম করল।
তারা দুজনেই হিফজ সম্পন্ন করল এবং ইজাজাহও (সার্টিফিকেট) লাভ করল।
পরে মেয়েটি প্রস্তাব দিল,
— "আমরা কি এবার সহীহ বুখারীর হাদিস মুখস্থ শুরু করতে পারি?"

একদিন স্ত্রীর বাবার বাড়ি সফরে গিয়ে স্বামী বলল,
— আলহামদুলিল্লাহ, আপনার মেয়ে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছে।

এ কথা শুনে শ্বশুর অবাক হলেন।
তিনি মেয়ের ঘর থেকে অনেকগুলো কাগজপত্র নিয়ে এসে জামাতার সামনে রাখলেন।
আর স্বামী তো হতবাক!

স্ত্রী আসলে বিয়ের আগেই পুরো কুরআন এবং কুতুবুস সিত্তাহ (বুখারী,মুসলিম, নাসাঈ,আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ) মুখস্থ করেছিল।

“সুবহানাল্লাহ! স্বামীর জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে সে শুরুতেই তাকে লজ্জায় ফেলেনি। বরং যখন অনুভব করল সে একজন সৎ মানুষ, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজে যেমন মুখস্থ করেছে, তেমনি তাকেও মুখস্থ করতে সাহায্য করেছে।”
এবং যখন বলেছিল, “আমি জুজ আম্মা (৩০ তম পারা) মুখস্থ করেছি,” তখন মিথ্যা বলেনি — কারণ বাকি অংশ মুখস্থের কথা সে অস্বীকারও করেনি।

হে আল্লাহ! যদি আমরা সৎ না হই, তবে আমাদের এমন সৎ জীবনসঙ্গী দিন, যারা আমাদেরকে আপনার নিকটবর্তী করবে। আর আমাদেরকেও সৎ বানিয়ে দাও।

07/07/2026

❝বিয়ে করার আগে শুধু মানুষটাকে দেখবেন না। যে পরিবার তাকে বড় করেছে, সেই পরিবারকেও দেখুন।❞

ভালোবাসা অনেক সময় red flag ঢেকে দেয়। কিন্তু একটা পরিবারের culture অনেকটাই বলে দেয় বিয়ের পর সেখানে সম্মান, দায়িত্ব আর সম্পর্ক কীভাবে চলবে।

আমি কয়েকটা বিষয় সবসময় observe করতে বলি

১. এই পরিবারে ছেলেদের accountability শেখানো হয়, নাকি excuse দেওয়া হয়?

যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের রাগ, অলসতা, মিথ্যা, প্রতারণা বা অসম্মানকে বারবার বলা হয়,
“ছেলেরা এমনই,”
তাহলে বিয়ের পর সে হঠাৎ বদলে যাবে এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

ইসলাম পুরুষকে দায়িত্ব দিয়েছে, অজুহাত নয়।

২. এই পরিবারে পুত্রবধূকে কি পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখা হয়, নাকি শুধু কাজ করার মানুষ হিসেবে?

যদি তাকে শুধু রান্না, সেবা আর ত্যাগের জন্য মূল্য দেওয়া হয়, কিন্তু সম্মান না দেওয়া হয়
তাহলে সেটা পারিবারিক ভালোবাসা নয়, সেটা অন্যায়।

ইসলামে স্ত্রী কোনো গৃহকর্মী নন।
তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত।

৩. ছেলে কি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

মা-বাবাকে ভালোবাসা ফরজ।

কিন্তু স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অধিকার না দিয়ে সব সিদ্ধান্ত অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।

একজন উত্তম স্বামী একই সঙ্গে বাবা-মায়ের হকও আদায় করেন, স্ত্রীর হকও আদায় করেন।

৪. পরিবারে অন্যায় হলে সবাই কি সত্যের পাশে দাঁড়ায়, নাকি শুধু নিজের ছেলের পাশে?

অনেক সময় অন্যায়কে টিকিয়ে রাখে পরিবারেরই কিছু সদস্য।

মনে রাখবেন,
এটা নারী বনাম পুরুষের বিষয় নয়।

এটা ন্যায় বনাম পক্ষপাতের বিষয়।

আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন প্রিয় মানুষের বিরুদ্ধেও ন্যায়ের সাক্ষ্য দিতে।

৫. এই পরিবারে মানুষের নিরাপত্তা বড়, নাকি সমাজে “মান-সম্মান”?

যদি প্রতিটি সমস্যা লুকিয়ে রাখা হয় শুধু মানুষ কী বলবে এই ভয়ে,
তাহলে সেখানে healing খুব কঠিন।

ইসলাম মানুষের ইজ্জত রক্ষা করতে বলে,
কিন্তু কখনোই জুলুম সহ্য করে চুপ থাকতে বলে না।

তবে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ…

সব কঠিন শাশুড়ি খারাপ নন।

সব মা-ছেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অসুস্থ নয়।

সব যৌথ পরিবার toxic নয়।

কিন্তু যদি একটি পরিবার বারবার অন্যায়কে স্বাভাবিক করে, জবাবদিহি এড়িয়ে যায়, আর একজন মানুষের কষ্টকে তুচ্ছ করে তাহলে সেটা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভাবার বিষয়।

বিয়ে শুধু দুইজন মানুষের মিলন নয়।

এটা দুইটা value system এর মিলন।

এমন পরিবার খুঁজুন, যারা মানুষের ভয় নয় আল্লাহকে বেশি ভয় করে।

কারণ যারা আল্লাহকে ভয় করে,
তারা ভুল করলে ক্ষমা চায়,
দায়িত্ব নেয়,
নিজেকে সংশোধন করে,
এবং ন্যায়বিচারকে আত্মীয়তার উপর প্রাধান্য দেয়।

শেষে একটা কথাই বলব

সেরা পরিবার সেইটা নয় যাদের সবচেয়ে বেশি টাকা আছে।

সেরা পরিবার সেইটা নয় যাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি সম্মান আছে।

সেরা পরিবার সেইটা, যেখানে তাওবা লজ্জার নয়, জবাবদিহি স্বাভাবিক, রহমত বাস্তব, আর আল্লাহর বিধান সংস্কৃতি বা অহংকারের চেয়ে বড়।

সেখানেই সুস্থ, নিরাপদ এবং বরকতময় দাম্পত্য গড়ে ওঠে।

13/06/2026

🔰কাবিননামার ১৮ নম্বর কলম: একটি ছোট্ট ঘর, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিকারঃ

আমি প্রায়ই লক্ষ্য করি, আমাদের দেশে বিয়ের সময় কাবিননামার বিভিন্ন শর্ত না পড়েই অনেকেই স্বাক্ষর করে ফেলেন। বিশেষ করে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলমটি নিয়ে অধিকাংশ মানুষই সচেতন নন। অথচ এই একটি কলম ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও পারিবারিক জীবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাবিননামার ১৮ নম্বর কলমে মূলত উল্লেখ করা হয়, স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা (Delegated Divorce/Talaq-e-Tafweez) অর্পণ করছেন কি না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই কলমে যদি নির্দিষ্টভাবে সেই ক্ষমতা প্রদান করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী স্ত্রীও নির্ধারিত শর্তে নিজ উদ্যোগে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটানোর অধিকার পেতে পারেন। অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন, তালাক দেওয়ার ক্ষমতা শুধু স্বামীরই থাকে। কিন্তু মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্বামী চাইলে কাবিননামার মাধ্যমে সেই ক্ষমতা স্ত্রীর কাছেও অর্পণ করতে পারেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ের সময় ১৮ নম্বর কলমটি ফাঁকা রাখা হয় অথবা না বুঝেই “না” লিখে দেওয়া হয়। অনেক কনে, এমনকি তাদের পরিবারও জানেন না যে এই কলমের আইনি গুরুত্ব কতখানি। আবার অনেক বরও না বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ফলে ভবিষ্যতে কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে আফসোস করেন।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে—১৮ নম্বর কলমে “হ্যাঁ” থাকলেই যে স্ত্রী যেকোনো সময় যেকোনো কারণে তালাক দিতে পারবেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। কাবিননামায় উল্লেখিত শর্ত এবং প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করেই সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হয়। তাই এই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক আইনি ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে কাবিননামার প্রতিটি কলম মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং বুঝে নিন। বিশেষ করে ১৮ নম্বর কলমটি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। কারণ একটি স্বাক্ষর হয়তো কয়েক সেকেন্ডে করা যায়, কিন্তু সেই স্বাক্ষরের আইনি প্রভাব অনেক বছর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

🍃 পরকীয়ায় নারী কেন জড়িয়ে পড়ে? অনেক নারী সংসারে থেকেও মানসিকভাবে একা অনুভব করেন। স্বামী যদি স্ত্রীর অনুভূতি, কথা ও চ...
08/06/2026

🍃 পরকীয়ায় নারী কেন জড়িয়ে পড়ে?

অনেক নারী সংসারে থেকেও মানসিকভাবে একা অনুভব করেন। স্বামী যদি স্ত্রীর অনুভূতি, কথা ও চাহিদার প্রতি উদাসীন হন, তাহলে তার হৃদয়ে শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
মানসিক অবহেলা ও একাকীত্ব

পরকীয়া (যি*না ও তার দিকে নিয়ে যায় এমন সম্পর্ক) ইসলাম ধর্মে একটি বড় কবিরা গুনাহ। তবে ইসলাম শুধু গুনাহকে নিষিদ্ধ করেনি, বরং সেই গুনাহের পেছনের কারণগুলোও চিহ্নিত করেছে এবং সমাধানের পথ দেখিয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে।"

ভালোবাসা ও সম্মানের অভাব
প্রত্যেক নারী ভালোবাসা, সম্মান ও মূল্যায়ন কামনা করে। যখন দাম্পত্য জীবনে এগুলোর অভাব দেখা দেয়, তখন শয়তান মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিতে চেষ্টা করে।

আল্লাহ বলেন:
"আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।"
— (সূরা আল-ইসরা ১৭:৩২)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার
বর্তমান যুগে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরপুরুষ ও পরনারীর সঙ্গে সহজ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক সময় একটি সাধারণ কথোপকথন ধীরে ধীরে হারাম সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায়।

দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দাম্পত্য সমস্যা
অপমান, অবহেলা, ঝগড়া-বিবাদ বা নি*র্যাতনের কারণে একজন নারী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। তবে ইসলাম শেখায়—কষ্টের সমাধান হারাম সম্পর্কে নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য, ধৈর্য ও শরিয়তসম্মত উপায়ে।

ঈমানের দুর্বলতা
যে কোনো পাপের মূল কারণগুলোর একটি হলো আল্লাহভীতি কমে যাওয়া। যখন মানুষ মনে রাখে না যে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন, তখন সে সহজেই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

পরকীয়া কখনোই সমস্যার সমাধান নয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দায়িত্ব একে অপরকে ভালোবাসা, সম্মান ও সময় দেওয়া। তবে অবহেলা বা কষ্ট কোনো অবস্থাতেই হারাম সম্পর্ককে বৈধ করে না।

সমাধান কী?

✅ নিয়মিত সালাত ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা
✅ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা যোগাযোগ রাখা
✅ একে অপরকে সময় ও গুরুত্ব দেওয়া
✅ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকা
✅ দাম্পত্য সমস্যায় ইসলামি পরামর্শ গ্রহণ করা
✅ আল্লাহর ভয়ে হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা

🌷 শেষ কথা
পরকীয়া নারী বা পুরুষ—কারো জন্যই সম্মানজনক নয়। একজন মানুষ অবহেলা, কষ্ট বা একাকীত্বের কারণে দুর্বল হতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের পথ হলো আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, হারামের দিকে নয়। তাই আমাদের উচিত একে অপরকে ভালোবাসা, সম্মান ও দ্বীনের পথে সহযোগিতা করা, যাতে পরিবারে শান্তি ও বরকত প্রতিষ্ঠিত হয়।

🌺 স্বামীকে পরকীয়ার ফিতনা থেকে রক্ষা করতে স্ত্রীর করণীয়ঃ-পরকীয়া শুধু একটি পাপ নয়; এটি পরিবার, দাম্পত্য ভালোবাসা এবং প...
08/06/2026

🌺 স্বামীকে পরকীয়ার ফিতনা থেকে রক্ষা করতে স্ত্রীর করণীয়ঃ-

পরকীয়া শুধু একটি পাপ নয়; এটি পরিবার, দাম্পত্য ভালোবাসা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা, চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং বৈধ সম্পর্কের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

একজন নেককার স্ত্রী তার উত্তম চরিত্র, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসার মাধ্যমে স্বামীকে ঘর ও পরিবারের প্রতি আরও আকৃষ্ট রাখতে পারেন।

১) ঘরে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তুলুন
কুরআন তিলাওয়াত, সালাত, যিকির ও ইসলামী আলোচনা ঘরে বরকত নিয়ে আসে। যে ঘরে আল্লাহর স্মরণ থাকে, সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণা দুর্বল হয়ে যায়।

২) স্বামীর বৈধ হক আদায়ে যত্নশীল হোন
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। একে অপরের চাহিদা ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

৩) ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করুন
অনেক সময় একটি সুন্দর কথা, আন্তরিক প্রশংসা বা হাসিমুখ সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। ভালোবাসা প্রকাশে কার্পণ্য করবেন না।

৪) পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের প্রতি খেয়াল রাখুন
স্বামীর সামনে পরিপাটি ও সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা ইসলামী আদবের অন্তর্ভুক্ত। এটি দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৫) ঝগড়া-বিবাদ ও অপমান থেকে বিরত থাকুন
রাগের মাথায় বলা কটু কথা হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। মতভেদ হলেও নম্রতা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

৬) ভালো সঙ্গের প্রতি উৎসাহিত করুন
সৎ ও দ্বীনদার বন্ধু মানুষকে কল্যাণের পথে রাখে। তাই স্বামীকে নেককার মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে উৎসাহ দিন।

৭) সন্দেহ নয়, বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ুন
অমূলক সন্দেহ অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। পারস্পরিক আস্থা ও স্বচ্ছতা একটি সুখী সংসারের ভিত্তি।

৮) সংসারকে শান্তির নীড় বানান
দিন শেষে স্বামী যেন ঘরে ফিরে প্রশান্তি অনুভব করেন। ভালো ব্যবহার, আন্তরিকতা ও হাসিমুখ ঘরকে সুখময় করে তোলে।

৯) একসাথে ইবাদত করুন
স্বামী-স্ত্রী একসাথে সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা করলে হৃদয়ের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

১০) স্বামীর জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন
মানুষের অন্তর আল্লাহর হাতেই। তাই স্বামীর ঈমান, তাকওয়া, চরিত্রের পবিত্রতা ও হিদায়াতের জন্য নিয়মিত দোয়া করুন।

🌺 মনে রাখবেন
পরকীয়া থেকে বেঁচে থাকার দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর নয়; স্বামীরও কর্তব্য আল্লাহকে ভয় করা, নিজের দৃষ্টি হেফাজত করা এবং হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা।

যে দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হয় তাকওয়া, ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বস্ততার উপর, সেই সংসারেই নেমে আসে আল্লাহর রহমত ও বরকত।

🤲 আল্লাহ আমাদের পরিবারগুলোকে পরকীয়া, অশ্লীলতা ও সকল ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। ( আমীন )

26/05/2026

স্ত্রীর হক নষ্ট করার ভয়াবহ পরিণতিঃ-

ইসলামের আলোকে কিছু হৃদয়স্পর্শী কথাঃ

অনেক মানুষ মনে করেন,
❝আমি তো সংসারের খরচ দিচ্ছি, তাই দায়িত্ব শেষ।❞
কিন্তু ইসলাম শুধু ভরণ-পোষণের কথা বলেনি; বরং দাম্পত্য সম্পর্ককে ভালোবাসা, সম্মান ও দয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে।

একজন স্ত্রী শুধু ঘরের মানুষ নন; তিনি একজন অনুভূতিশীল মানুষ, একজন আমানত, একজন সঙ্গী — যার হক আদায় করা স্বামীর ঈমানি দায়িত্ব।

▪️১. স্ত্রী আপনার অধীন নয়, আপনার দায়িত্ব

আল্লাহ তাআলা স্ত্রীকে স্বামীর জন্য শান্তি ও সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
তাকে অপমান করা, অবহেলা করা বা ছোট করা কখনোই পুরুষত্বের পরিচয় নয়; বরং এটি দায়িত্বহীনতার লক্ষণ।

যে স্বামী স্ত্রীর অনুভূতিকে মূল্য দেয় না, সে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কদর করে না।

▪️২. কোমল আচরণ সুন্নাহ

রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, অথচ তিনি পরিবারের সাথে সবচেয়ে কোমল আচরণ করতেন।

তিনি কখনো স্ত্রীদের অপমান করেননি, কঠোর ভাষায় আঘাত দেননি।
বরং হাসিমুখে কথা বলা, ভালোবাসা প্রকাশ করা ও ভুল ক্ষমা করা ছিল তাঁর চরিত্র।

▪️৩. স্ত্রীর কান্না অবহেলা করবেন না

অনেক স্ত্রী মুখে কিছু না বললেও অন্তরে ভেঙে পড়েন।
তাদের নীরব কান্না, দীর্ঘশ্বাস ও কষ্ট আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।

মজলুমের দোয়ার মাঝে কোনো পর্দা নেই।
আর জুলুম যদি নিজের ঘরের মানুষের উপর হয়, তবে তার ভয়াবহতা আরও বেশি।

▪️৪. সংসারে শান্তি আসে সম্মান থেকে

শুধু টাকা-পয়সা দিয়ে সুখী পরিবার গড়া যায় না।
যেখানে সম্মান নেই, সেখানে ভালোবাসাও টেকে না।

একজন স্ত্রী সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা অনুভব করেন স্বামীর ভাষা, আচরণ ও ব্যবহারে।
কঠিন কথা অনেক সময় এমন ক্ষত তৈরি করে, যা বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হয়।

▪️৫. স্ত্রীর হক কিয়ামতে আদায় করতে হবে

অনেক মানুষ নফল ইবাদতে মনোযোগী হলেও পরিবারের হক নষ্ট করেন।
কিন্তু কিয়ামতের দিন মানুষের হক আগে আদায় হবে।

স্ত্রীর উপর করা অন্যায়, অপমান বা মানসিক কষ্ট— সবকিছুর হিসাব দিতে হবে আল্লাহর দরবারে।

▪️৬. ভালো স্বামী হওয়াও ইবাদত

একজন স্বামী যখন স্ত্রীর কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেন, তার পাশে দাঁড়ান, তার ভুল ক্ষমা করেন — তখন সেটিও ইবাদত হয়ে যায়।

স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানো, তাকে সম্মান দেওয়া, তার মন ভালো রাখার চেষ্টা করা — এসব ছোট কাজও আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান।

▪️৭. ভয় নয়, ভালোবাসাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে

যে সংসারে স্ত্রী স্বামীর আচরণে আতঙ্কিত থাকে, সেখানে ধীরে ধীরে রহমত কমে যায়।

ইসলাম এমন সম্পর্ক চায়, যেখানে দু’জন দু’জনের পোশাকের মতো হবে — নিরাপত্তা দেবে, আড়াল করবে, শান্তি দেবে।

▪️৮. একজন নেককার স্বামীর পরিচয়

নেককার স্বামী সেই ব্যক্তি নন, যিনি শুধু বাইরের মানুষের কাছে ভালো।
বরং প্রকৃত উত্তম মানুষ তিনি, যিনি ঘরের মানুষের কাছেও উত্তম।
কারণ পরিবারের সাথে আচরণই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।

🔹 মনে রাখবেন—
স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে কখনো প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় না।
একজন নারীর ভাঙা মন অনেক সময় পুরো সংসারের বরকত কমিয়ে দেয়।

🔹 নিজেকে প্রশ্ন করুন—
আমার স্ত্রী কি আমার উপস্থিতিতে শান্তি অনুভব করে, নাকি ভয় ও কষ্ট?

কারণ একজন মানুষ বাইরে যতই ভালো হোক,
যদি ঘরের মানুষ তার আচরণে কষ্ট পায় — তবে সেই ভালোত্ব অসম্পূর্ণ।

💌 স্ত্রীকে ভালোবাসুন, সম্মান করুন, তার অনুভূতিকে মূল্য দিন।
এতে শুধু সংসারই সুন্দর হয় না, আল্লাহর কাছেও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

( হাদিস )

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সন্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। প্রিয় নবী (ﷺ) ...
23/04/2026

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সন্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে।

প্রিয় নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘‘স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।’’[১]

‘‘যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।’’[২]

‘‘স্ত্রীর কাছে স্বামীর এমন অধিকার আছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীর দেহের ঘা চেঁটেও থাকে তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না।’’[৩]

‘‘মহিলা যদি নিজ স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানতো, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো।’’[৪]

‘‘তাঁর শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! নারী তার প্রতিপালকের হক ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক আদায় করেছে। সওয়ারীর পিঠে থাকলেও যদি স্বামী তার মিলন চায় তবে সে বাধা দিতে পারবে না।’’[৫]

‘‘দুই ব্যক্তির নামায তাদের মাথা অতিক্রম করে না (কবুল হয় না) ; সেই ক্রীতদাস যে তার প্রভুর নিকট থেকে পলায়ন করেছে, সে তার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত (নামায কবুল হয় না।)’’[৬]

স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহ্ববান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিশ্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’ অন্য এক বর্ণনায় ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিশ্তা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’[৭]

‘‘রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়লে, রমযানের রোযা পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।[৮]

‘‘শ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।’’[৯]

স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর জন্য আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আনুগত্য। সুতরাং স্বামীকে অসন্তুষ্ট বা অমর্যাদা করা চলবে না, মনে রাখতে হবে স্বামীকে সন্তুষ্ট করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।

রেফারেন্সঃ
১] (ইবনে আবী শাইবাহ ,নাসাঈ, তাবারানী, হাকেম , প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৮৫পৃঃ)
২] (তিরমিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৫৫নং)
৩] (হাকেম , ইবনে হিববান, ইবনে আবী শাইবাহ , সহীহুল জামে ৩১৪৮ নং)
৪] (ত্বাবারানী, সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৫২৫৯নং)
৫] (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিববান , আদাবুয যিফাফ ২৮৪পৃঃ)
৬] (ত্বাবারানী, হাকেম , আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ২৮৮নং)
৭] (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৮৩পৃঃ)

৮] (ত্বাবারানী, ইবনে হিববান, সহীহ, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৫৪নং)

৯] (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ১৮৩৮নং)

Address

Baridhara, Gulshan/2, Dhaka/
Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Marriage and Divorce Counseling Centre posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share