14/05/2026
Complaint Register Case বা সরাসরি আদালতে মামলার ক্ষেত্রে CrPC-এর ২০০ ধারার কার্যক্রম:
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হলে প্রথমেই ম্যাজিস্ট্রেটকে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুসারে অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করতে হয়। এ সময় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিযোগপত্রের উল্টো পৃষ্ঠায় জবানবন্দি লেখা হয়, যা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। কারণ, ২০০ ধারার জবানবন্দির সার্টিফায়েড কপি বা জাবেদা নকল গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাই নির্ধারিত ফরমে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করাই উত্তম।জবানবন্দির নির্ধারিত ফরমে অভিযোগকারী ছাড়াও সাক্ষীদের বক্তব্যও লিপিবদ্ধ করা যায়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের কপি আদালতে দাখিল করতে হয়। এছাড়া অভিযোগকারীর মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করার নির্দেশনা রয়েছে।
২০০ ধারায় জবানবন্দি গ্রহন করা দরকার নাই যখন:
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সব ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়। কোনো আদালত বা সরকারি কর্মচারী কর্তৃক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে অভিযোগ দায়ের করা হলে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন হয় না। তবে ব্যক্তিগত কারণে অভিযোগ দায়ের করা হলে অবশ্যই ২০০ ধারায় অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করতে হবে এবং জবানবন্দি গ্রহণ করতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি দরখাস্তকে সরাসরি এজাহার (FIR) হিসেবে গণ্য করার জন্য থানাকে নির্দেশ দিতে পারেন। তবে তার আগে অভিযোগকারীকে অবশ্যই ২০০ ধারায় পরীক্ষা করতে হবে।
২০০ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পর ম্যাজিস্ট্রেট যেসব আদেশ প্রদান করতে পারেন:
(ক) মামলাটি সরাসরি আমলে গ্রহণ:
ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারায় অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১) ধারা অনুসারে অভিযোগটি সরাসরি আমলে গ্রহণ করতে পারেন। আমলে গ্রহণের পর ম্যাজিস্ট্রেট ২০৪ ধারা অনুসারে প্রসেস ইস্যু করবেন। এখানে “প্রসেস” বলতে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা বোঝানো হয়েছে।
(খ) তদন্তের নির্দেশ প্রদান:
২০০ ধারায় অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করার পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০২(১) ধারা অনুসারে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। এই তদন্ত স্থানীয় পুলিশ, Police Bureau of Investigation (PBI) অথবা অন্য কোনো সংস্থাকে দেওয়া হতে পারে।
তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ম্যাজিস্ট্রেট যুক্তিসঙ্গত আদেশ প্রদান করেন।গতকাল বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে উক্ত আইনে একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করার জন্য একজন নারী অভিযোগ দায়ের করিলে বিচারক তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য বরিশাল জেলা বারের সভাপতিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন
(গ) এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ:
ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারায় অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারা অনুসারে অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিতে পারেন। তখন সংশ্লিষ্ট থানায় এটি জিআর মামলা হিসেবে রুজু হয় এবং পুলিশ ১৭৩ ধারা অনুসারে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এজাহার হিসেবে গণ্য করার প্রধান শর্ত হলো—অপরাধটি অবশ্যই আমলযোগ্য (Cognizable) হতে হবে। কোনো ম্যাজিস্ট্রেট আংশিক এজাহার বা আংশিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। তাকে হয় এজাহার হিসেবে গণ্য করতে হবে, নয়তো অন্য উপযুক্ত আদেশ দিতে হবে।
(ঘ) অনুসন্ধানের নির্দেশ:
২০০ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পর ম্যাজিস্ট্রেট অনুসন্ধান (Inquiry) করার নির্দেশ দিতে পারেন। এই অনুসন্ধান সাধারণত অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে করানো হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন দায়েরকৃত অভিযোগের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল সরাসরি মামলা আমলে নিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে (CJM) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন এবং CJM তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে অনুসন্ধান কার্য সম্পন্ন করান। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়। গতকাল বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করার জন্য একজন নারী অভিযোগ দায়ের করিলে বিচারক তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য বরিশাল জেলা বারের সভাপ্রতিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন৷
পুলিশ কর্তৃক প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন ধরণ:
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের হলে, ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পর অভিযোগটি ২০২(১) ধারা অনুসারে তদন্তে পাঠাতে পারেন অথবা ১৫৬(৩) ধারা অনুসারে এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
২০২(১) ধারার তদন্তের উদ্দেশ্য হলো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা। এই ধারার তদন্তে পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে না।
অন্যদিকে, ১৫৬(৩) ধারা অনুসারে তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪শ অধ্যায়ে বর্ণিত ১৫৪ হতে ১৭৬ ধারা পর্যন্ত বিধান এবং Police Regulations Bengal-এর ২৫৫ হতে ২৭৮ বিধি অনুসরণ করতে হয়।২০২(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ২০২(২এ) ধারা অনুসারে হলফের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে।অবার, ২০২(১) ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট যে কোনো ব্যক্তিকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারেন। তবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে তার পদ্ধতি সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। সে ক্ষেত্রে সাধারণত পুলিশি তদন্তের ন্যায় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের আমলে গ্রহণের ক্ষমতা:
ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুসারে অপরাধ আমলে গ্রহণ করেন। অপরাধ আমলে গ্রহণের ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের একক ও স্বতন্ত্র বিচারিক ক্ষমতা। কোনো উচ্চতর আদালত বা কর্তৃপক্ষ ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দিষ্টভাবে অপরাধ আমলে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে না।কোনো মামলা যদি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারা অনুসারে খারিজ করে, তবে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যেতে পারে। তবে রিভিশন আদালত সরাসরি মামলা আমলে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে না। একইভাবে দায়রা জজও কোনো আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য বিদ্যমান আছে—এমন পর্যবেক্ষণ প্রদান করতে পারেন না।
আজহারুল ইসলাম
আইনজীবী
জেলা ও দায়রা আদালত, ঢাকা৷
মোবা: ০১৭৭৭২১৬১৬২
and Justice