12/05/2026
পারিবারিক সহিংসতা
নিজের পারিবারের কোন নারী বা শিশুদের সদস্যের উপর কোন প্রকার শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতন করা যাবে না এবং আর্থিক ক্ষতিও করা যাবে না। এখানে পারিবারের বলতে রক্ত সম্বন্ধীয় বা বৈবাহিক সম্পর্কীয় কারণে অথবা পালক বা যৌথ পরিবারের সদস্য হবার কারণে প্রতিষ্ঠিত কোন সম্পর্ককে বুঝাবে।
শারীরিক নির্যাতন বলতে এমন কোন কাজ বা আচরণ করাকে বুঝাবে, যার দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির (এমন কোন শিশু বা নারী যিনি পারিবারিক সম্পর্ক থাকবার কারণে পরিবারের অপর কোন সদস্য দ্বারা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন বা সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন) জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা শরীরের কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা থাকে
এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে অপরাধমূলক কাজ করতে বাধ্য করা বা প্ররোচনা প্রদান করা বা বলপ্রয়োগ করাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর মানসিক নির্যাতন বলতে মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন বা এমন কোন উক্তি করা, যার দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হয়রানি অথবা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অর্থাৎ স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশের উপর হস্তক্ষেপ করাকেও মানসিক নির্যাতন বুঝাবে।
যৌন নির্যাতন বলতে যৌন প্রকৃতির এমন আচরণ যার দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির সম্ভ্রম, সম্মান বা সুনামের ক্ষতি হয়। এবং আর্থিক ক্ষতি বলতে আইন বা প্রথা অনুসারে বা কোন আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যে সকল আর্থিক সুযোগ-সুবিধা,
সম্পদ বা সম্পত্তি লাভের অধিকারী তা হতে তাকে বঞ্চিত করা অথবা তার উপর তার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রদান না করা, বিয়ের সময় প্রাপ্ত উপহার বা স্ত্রীধন(হিন্দু আইনে) বা অন্য কোন দান বা উপহার হিসাবে প্রাপ্ত কোন সম্পদ হতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা বা এর উপর তার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করা।
তাছাড়া সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির মালিকানাধীন যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি তার অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করা বা এর উপর তার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান অথবা পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যে সকল সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধাদিতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির ব্যবহার বা ভোগদখলের অধিকার রয়েছে তা হতে তাকে বঞ্চিত করা বা এর উপর তার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
কেউ সুরক্ষা আদেশ বা এর কোন শর্ত লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং তার জন্য তিনি অনধিক ৬(ছয়) মাস কারাদন্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন এবং অপরাধ পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদন্ড বা ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়া আদালত উপযুক্ত মনে করলে কোন অপরাধীকে এসব শাস্তি প্রদান না করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের সমাজকল্যাণমূলক কাজে সেবা প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
কিন্তু কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কেউ এই আইনের অধীনে কোন মিথ্যা মামলা করলে তা হলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
এডভোকেট মোঃ নাছির উদ্দিন ভুঁইয়া
জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট, ঢাকা