এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?

এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে? কথাসাহিত্যিক ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী। কোর্টরুম আমার গল্পের মঞ্চ। বাংলা সাহিত্যে প্রথম লিগাল থ্রিলার লেখক। He is a U.S.-trained lawyer, holding an LL.M.

Ferdows Hossen is an Advocate of the Supreme Court of Bangladesh and the Managing Partner of Just Legal Ltd., a law firm specializing in intellectual property, technology, data, and AI governance. He has over eight years of experience advising on intellectual property, technology law, constitutional issues, regulatory compliance, and cross-border legal matters, with a particular focus on the inter

section between law, technology, and public policy. from Northeastern University School of Law, and has also completed executive legal education at Harvard Law School. He earned his LL.B. (Honours) from the University of Dhaka. His professional work spans intellectual property, technology regulation, constitutional law, and the legal governance of emerging technologies. Ferdows began his professional journey in legal journalism, working as a court reporter for The ATN Times and The Daily Manobkantha, where he reported on legal developments and court proceedings. This experience strengthened his ability to analyze and communicate complex legal matters to diverse audiences. He has authored and presented research in intellectual property, technology law, and constitutional law, with his work recognized by academic and professional institutions in South Asia and beyond. His research has been featured in journals including the Commonwealth Law Review Journal, South Asian Law Review Journal, and the Indian Journal of Law and Legal Research. He has received international recognition for his contributions to intellectual property law, including being named a Top 25 IP Rising Star by Digital Confex. Ferdows is the founder of HuTech Rights, a pro bono legal initiative dedicated to protecting women and children from online abuse and technology-facilitated harm. Through this initiative, he works at the intersection of human rights, technology governance, and access to justice. Alongside his legal and academic work, Ferdows is an established literary writer. He is the author of a Bengali novel and a poetry collection exploring the relationship between artificial intelligence, humanity, and society. He currently serves as Associate Editor of Meghchil, a leading Bengali literary magazine. Before founding and leading Just Legal Ltd., Ferdows served as a Senior Associate at Dhaka Legal, an intellectual property law firm, and earlier practiced corporate and regulatory law at Legum Consultants Limited and MAK & Associates Inc., with experience in corporate, tax, VAT, and customs matters. He has also served as a panel lawyer and legal consultant to the Dhaka Metropolitan Police. He is a member in good standing of multiple Bar Associations in Bangladesh, including the Bangladesh Supreme Court Bar Association.

কোর্টরুমের ভেতরে যে যুদ্ধ — যেখানে অস্ত্র নাই, আছে শুধু প্রশ্ন, নীরবতা, আর একটা সাক্ষীর কাঁপা গলা — সেই টেনশন অন্য কিছুত...
16/05/2026

কোর্টরুমের ভেতরে যে যুদ্ধ — যেখানে অস্ত্র নাই, আছে শুধু প্রশ্ন, নীরবতা, আর একটা সাক্ষীর কাঁপা গলা — সেই টেনশন অন্য কিছুতে নাই। কোর্টরুমের এই টান টান উত্তেজনা নিয়ে ইংরেজি সাহিত্যে একটা পুরো জনরা দাঁড়ায়ে আছে — লিগাল থ্রিলার।

John Grisham আর Scott Turow, দুইজনই বিখ্যাত ট্রায়াল আইনজীবী, পৃথিবীর সেরা লিগাল থ্রিলার লেখক। ওদের বইগুলো বেস্টসেলার হইছে, হলিউডে সিনেমা হইছে।

বাংলা সাহিত্যে?
ক্রাইম থ্রিলার আছে — ফেলুদা, ব্যোমকেশ।
অ্যাকশন থ্রিলার আছে — মাসুদ রানা।
সাইকোলজিকাল থ্রিলার আছে — মিসির আলী।
কিন্তু লিগাল থ্রিলার নাই।
কেন?

কমেন্টে নম্বর লিখুন।
10/05/2026

কমেন্টে নম্বর লিখুন।

মানুষের গল্প শোনা আমার পেশাগত দায়িত্ব । মক্কেল গল্প বলে। আমি সেই গল্প কাস্টমাইজ করি। হলুদ কার্টিজ পেপারে বাঁধাই করি। তার...
06/05/2026

মানুষের গল্প শোনা আমার পেশাগত দায়িত্ব । মক্কেল গল্প বলে। আমি সেই গল্প কাস্টমাইজ করি। হলুদ কার্টিজ পেপারে বাঁধাই করি। তারপর আদালতে দাখিল করি। আদালত কখনো বিশ্বাস করে। কখনো করে না। আমি মামলা জিতি। অথবা হারি।
কিন্তু কিছু গল্প আছে যেগুলো হলুদ কার্টিজ পেপারে লেখা হয় না। কোনো আদালতে বলা হয় না। শুধু কিছুদিন আমার ভিতরে থাকে। তারপর একদিন হারায় যায়। এই গল্পটাও সেইরকম একটা গল্প।
------------------------------------------------------------------------
তিল
১.
মোনামী ভালো গান গায়।
ফেসবুকে লাইভ করে। লাখ লাখ ভক্ত। আমিও।
প্রতি শুক্রবার রাতে ওর লাইভ দেখি। খালি গলায় গান গায়।
ঠোঁটের নিচে একটা কালো তিল।
আমি দেখি। কালো তিল। তিলের পাশে মেকাপ। ভাবি—এটা কি সত্যি তিল?
একদিন রাত দুইটায় মেসেঞ্জারে নক দেয়—
‘ভাইয়া, আপনি আইনজীবি?’
আমি ওর প্রোফাইল চেক করি। নীল টিক। রিপ্লাই দিই — ‘হ্যাঁ।’
Seen।
তারপর কিছু আসে না।
আমি টাইপ করি — “কী সমস্যা?”
পাঠাই না। ডিলিট করি।
পাঁচ মিনিট পরে ও লেখে —
‘একদিন আসব চেম্বারে।’
বলি — ‘আসেন।’
ও একটা হাসির ইমোজি দেয়। হলুদ।
তারপর অনেক শুক্রবার।
খালি গলা। কালো তিল।
লাইভে হাজার হাজার কমেন্ট ভাসে।
“আপু লাভ ইউ।”
“আপু আপনার চোখ সুন্দর।”
আমি কিছু লিখি না। শুধু দেখি।
একদিন লাইভে ও হঠাৎ ক্যামেরার দিকে তাকায়ে কয় —
“কিছু মানুষ আছে, কিছু বলে না। শুধু থাকে।”
আমি স্ক্রিনের দিকে তাকায় থাকি। মনে হয় কথাটা আমাকে বলছে। আবার মনে হয় না।
২.
একদিন কোর্ট শেষে কলাভবনের দিকে যাই। আমগাছের নিচে বসি। পাশে একটা কাপল। হাতে হাত।
বাদামওয়ালা আসে। বলি — ‘বাদাম দে।’
দেয়। হাতে নিই। তারপর বলি — ‘নে, ফিরায়ে দি।’
বাদামওয়ালা বিরক্ত হয়। টাকা ফেরত দেয়। আমি টাকা নিই না। ও এবার অবাক হয়। হাঁটতে হাঁটতে পিছনে ফেরে। আমাকে দেখে। আবার হাঁটে।
এই গাছের নিচে আমরাও বসতাম। আমি আর বিনতি। ও আমার হাতের উপর নখ দিয়ে আঁকত। আমি সরাতাম না। আমরা তখন বাদাম কিনতাম। খাওয়া হত না।
কাপলটার দিকে তাকাই। মেয়েটাও কি নখ দিয়ে আঁকে? দেখা যায় না।
আমার সামনে একটা আমপাতা পড়ে আছে। হলুদ।
ফু দিই। হলুদ।
ফু দিলে হলুদ দাগ যায় না।
পাশের গুরুদুয়ারার দেয়ালে একটা ছোট আমগাছ। সবুজ পাতা। গাঢ় সবুজ।
পাতায় একটা প্রজাপতি বসে। হলুদ ডানা।
তাকায়ে থাকি।
হঠাৎ মনে হয় —
যদি মোনামীর তিলটা আসলে সত্যি না হয়?
মোবাইল বের করি। ওর ছবি জুম করি। তিলটা বড় হয়। আরো কালো হয়। আঙুল রাখি স্ক্রিন ঠান্ডা।
৩.
বাসে একদিন ট্রাফিকে আটকা। পাশের রিকশায় একটা মেয়ে। জ্যামে। ঠোঁটের নিচে তিল।
আমি তাকায় থাকি। মেয়েটা একসময় বুঝে ফেলে। মুখ ঘুরায়।
আমি চোখ সরাই না।
মেসেঞ্জারে লিখি —
‘মোনামী আসবেন——’
ওপাশে “typing” ওঠে। নামে। ওঠে। নামে।
তারপর আসে —
‘আসব একদিন।’
আমি স্ক্রিনশট নিই।
কেন নিই জানি না।
৪.
এক সন্ধ্যায় হাইকোর্ট মাজারের সামনের রাস্তা।
একটা মেয়ে বাইকের পিছনে। কোলে কালো ভ্যানিটি ব্যাগ।
ঠোঁটের নিচে কালো তিল।
আমি বাইকের দিকে তাকায় থাকি যতক্ষণ দেখা যায়।
মেসেঞ্জারে টাইপ করি —
‘মোনামী আসবেন না?
থামি।
ব্যাকস্পেস টিপি। টিপি।
তারপর আবার লিখি —
‘আপনাকে সামনাসামনি দেখলে চিনতে পারব মনে হয়।’
এটাও পাঠাই না। ডিলিট করি।
প্রতি শুক্রবার লাইভে আমি থাকি। কমেন্ট করি না। শুধু দেখি।
একদিন ও লাইভে গান থামায়ে হঠাৎ কয় —
“অনেকেই ভাবে আমি কাউকে দেখি না। সব দেখি।”
আমার বুকের ভিতর কেমন করে।
ও কি জানে?
স্ক্রিনে নিজের মুখ দেখি। কালো। মোবাইল পকেটে রাখি।
তারপর অনেক অনেক শুক্রবার।
খালি গলা। কালো তিল।
৫.
একদিন বিকেলে মুহুরি কয় —
‘স্যার, একজন দেখা করতে আইছে।’
বলি — ‘পাঠা।’
চুল খোলা। ঠোঁটের নিচে কালো তিল।
কয় — ‘ভাইয়া, আমি মোনামী।’
বলি — ‘ও হ্যাঁ। জ্বি। বসেন।’
টেবিলের উপর কলম। আমি কলমটা সরাই না।
ও বসে। ব্যাগটা কোলে রাখে। দুই হাতে ধরে।
আমি তাকাই তিলটার দিকে।
ও কয় —
‘একজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক হইছে। বিয়ে করার কথা বলছিল। এখন করবে না। মামলা করতে চাই।’
জিগাই — ‘ফোর্স করছিল?’
কয় — ‘না।’
বলি — ‘তাইলে মামলা হবে না।’
ওর আঙুলগুলো ব্যাগের উপর শক্ত হয়। আরো শক্ত।
ও চুপ।
রুমের কোণায় একটা পানির জার। খালি। একদম খালি।
ও খালি জারের দিকে তাকায়। তারপর কয় —
‘ভাইয়া, আপনি প্রতি লাইভে থাকেন। আমি দেখছি।’
আমার গলা শুকায়।
ও কয় —
‘শুরুতে ভাবতাম coincidence. পরে বুঝছি না।’
আমি কিছু বলি না।
ফাইল টানি সামনে। লাল কলমে আঁকি। কি আঁকি জানি না। আঁকি।
ও কয় —
‘একদিন লাইভে আমি ইচ্ছা করে বলছিলাম কিছু মানুষ শুধু থাকে। আপনি তখনও ছিলেন।’
আমি এবার ওর চোখের দিকে তাকাই।
বিশ্বাস না।
ভয়ও না।
আরো খারাপ কিছু।
আমি বলি —
‘চ্যাটে বা অডিওতে বিয়ের কথা আছে?’
কয় — ‘হ্যাঁ।’
কলমটা তুলি।
মোনামী তাকায়।
আমি জানি মামলা খুব দূর যাবে না।
তাও বলি —
‘প্রতারণার মামলা করা যাবে।’
মিথ্যা আশ্বাস দিই।
৬.
জানালার কাচে একটা প্রজাপতি এসে বাড়ি খায়। হলুদ ডানা।
ঝাপটায়। ঝাপটায়।
প্রজাপতিটা রুমের ভিতর ঢুকতে চায়। গ্লাসটা সরায়ে দিলে ঢুকতে পারে।
আমি উঠি না।
মোনামীও না।
হঠাৎ ও ওঠে। ধীরে ধীরে জানালার কাছে যায়।
প্রজাপতিটা ডানা ঝাপটায়। ঝাপটায়।
মোনামী জানালার কাচে মুখ রাখে।
ব্যাগ থেকে খয়েরী লিপস্টিক বের করে নিচের ঠোঁটে লাগায়।
উপরের ঠোঁট চেপে রাখে।
কালো তিলটা গাঢ় হয়। আরো গাঢ়।
ও হঠাৎ কয় —
‘আপনি আমার ছবি save করেন?’
আমার হাত থেমে যায়।
বলি — ‘না।’
মিথ্যা বলি।
কারণ আমার ফোনে একটা folder আছে।
নাম দেই নাই।
শুধু ওর screenshot।
মোনামী কাচে হাত রাখে।
প্রজাপতিটা কাচের ওপাশে ডানা ঝাপটায়।
ও ফিরে আসে।
লিপস্টিক ব্যাগে রাখতে রাখতে কয় —
‘ভাইয়া আসি তাইলে।’
বলি — ‘ওকে।’
দরজার কাছে থামে। ঘোরে।
কয় —
‘ভাইয়া, আপনার ফি।’
একটু হাসি। বলি —
আপাতত লাগবে না।
ও তাকায়। সেই চোখে কী — বলতে পারব না।
বিশ্বাস না। অবিশ্বাসও না।
চলে যায়।
জানালার কাছে যাই। হাত রাখি কাচে।
প্রজাপতিটা নাই।
৭.
আমি নিচে যাই।
প্রজাপতিটা পড়ে আছে মাটিতে। হাতে নিই। ডানা ভাঙা। ফু দিই। ওড়ে না।
একটা আমপাতার উপর রাখি।
সন্ধ্যা নামে।
রাস্তায় গাড়ি। আসে। যায়।
মানুষের পায়ের আওয়াজ। আসে। যায়।
প্রজাপতিটা বসে থাকে। আমিও। পাশাপাশি।
৮.
মোবাইল ভাইব্রেট করে। মোনামীর নতুন লাইভ।
বুধবার।
ও কখনো বুধবারে লাইভে আসে না।
স্ক্রিন জ্বলে।
থাম্বনেইলে ওর মুখ। ঠোঁটের নিচে কালো তিল।
আমি লাইভে ঢুকি। মোনামী আজ গান গায় না।
চুপচাপ বসে থাকে।
কমেন্ট ভাসে।
“আপু মন খারাপ?”
মোনামী নিচের দিকে তাকায়।
তারপর খুব আস্তে কয় —
‘কিছু মানুষ আছে… সামনে কিছু বলে না।’
আমার বুকের ভিতর কেমন করে।
ও কয় —
‘শুধু তাকায়া থাকে।’
আমি স্ক্রিনের brightness কমাই।
মোনামী টেবিলের উপর কিছু রাখে।
লাল কলম।
আমার কলম। সেই কলম।
ও কলমটা আঙুলে ঘুরায়।
ধীরে।
চুপচাপ।
তারপর খুব আস্তে কয় —
‘আজকে একটা কথা বুঝলাম।’
থামে।
স্ক্রিনে ভিউয়ার বাড়তে থাকে।
14K watching.
20K watching.
25K watching.
“মানুষ অনেকদিন তাকায়া থাকলে একসময় মুখ আলাদা করতে পারে না। কোনটা অন্যের, কোনটা নিজের।”
কমেন্ট ভাসে।
“কে?”
“কি হইছে আপু?”
এবার ও ক্যামেরার খুব কাছে আসে।
ঠোঁটের নিচের কালো তিল বড় হয়। আরো কালো হয়।
“মনে হয় ঘুমাইলেও তাকায়া থাকবে।”
তারপর নিচের ঠোঁটে লিপস্টিক লাগায়। উপরের ঠোঁট চেপে রাখে।
কালো তিলটা গাঢ় হয়। আরো গাঢ়।
আমার হঠাৎ মনে হয় —
তিলটা আজ একটু অন্য জায়গায়। একটু ডানে।
আমি স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে যাই। মোনামী হাসে।
তারপর লাইভ শেষ হয়ে যায়। স্ক্রিন কালো হয়।
কালো স্ক্রিনে নিজের মুখ দেখি।
তাকায়ে থাকি। অনেকক্ষণ।
পাশের আমপাতাটা উল্টায় আছে।
প্রজাপতিটা নাই।
আমার হাতে হলুদ দাগ।
ফু দিই।
যায় না।
----------------------------------------------------------------

AI নিয়ে পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্রশ্ন হচ্ছে— AI-generated work-এর মালিক কে হবে। আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইন এই জ...
03/05/2026

AI নিয়ে পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্রশ্ন হচ্ছে— AI-generated work-এর মালিক কে হবে। আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইন এই জায়গায় বহুদিন ধরে হিমশিম খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর দিতে পারেনি। আমার এই LinkedIn লেখাটা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করেছে।
আমি ৫টা দেশের কপিরাইট আইন এবং আদালতের রায় স্টাডি করে দেখাইছি— কীভাবে AI-generated work-এর মালিকানা দাবি করা যাবে।
________________________________________
Peter Keller। হলিউডের এআই ফিল্ম প্রোডিউসার। FILM ART AI LLC-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি কমেন্টে লিখলেন— "The 'AI made it' vs 'I made it with AI' is a perfectly worded fundamental distinction."
"পারফেক্টলি ওয়ার্ডেড।"
এই কথাটা যে কারণে বললেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
________________________________________
আসল কথা হইলো—
বাংলাদেশে এআই নিয়ে এখন অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ আলাপ ঘুরছে— কীভাবে ব্যবহার করব। কোন টুল ভালো। কীভাবে প্রোডাক্টিভ হব।
কিন্তু একটা আলাপ হচ্ছে না।
এআই দিয়ে যা বানাচ্ছেন— সেটার আইনি মালিকানা আপনার আছে কি না।
এই প্রশ্নটাই আমার LinkedIn লেখার কেন্দ্রে।
________________________________________
এই প্রশ্নটা কেন জরুরি?
এক. বাংলাদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বাড়ছে। আমার LinkedIn কানেকশনে অনেকে শর্ট ফিল্মও বানাচ্ছে। হাজার হাজার কনটেন্ট তৈরী হচ্ছে।
দুই. সেই কনটেন্ট কেউ চুরি করলে বা কপি করলে— আইনে কি সুরক্ষা আছে?
তিন. আন্তর্জাতিক আইনে এই প্রশ্নের উত্তর এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
________________________________________
পাবলিক ডোমেইনের ফটোগ্রাফ দিয়ে ডকুমেন্টারি বানালে— ফটোতে কপিরাইট নেই। কিন্তু ডকুমেন্টারিতে আছে।
কারণ সেখানে মানুষের সিলেকশন আছে। ন্যারেটিভ আছে। সৃজনশীল রায় আছে।
এআই-তেও এই যুক্তিই কাজ করে।
প্রম্ট লেখা, এডিট করা, কিউরেট করা— এটা মানুষের কাজ।
সেটার কপিরাইট থাকার কথা।
কিন্তু আইন এখনো সেখানে পৌঁছায়নি।
________________________________________
বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর, কবি-সাহিত্যিক, লেখক, ফিল্মমেকার, মিউজিক ডিরেক্টর, আইনজীবী— এবং যারা এআই ব্যবহার করছেন— তাদের সবার এখনই আইনের মারপ্যাচটা জানা দরকার।
LinkedIn আর্টিকেলের লিংক কমেন্টে।
________________________________________
-ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী
#এআইআইন #কপিরাইট #বাংলাদেশ

আলহামদুলিল্লাহ। আজকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হইল। কিন্ত এই ডিগ্রিটা আমার চেয়ে একটা মেয়ে বেশি ডিজার্ভ করে। যে মেয়েটা বারবা...
25/04/2026

আলহামদুলিল্লাহ। আজকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হইল। কিন্ত এই ডিগ্রিটা আমার চেয়ে একটা মেয়ে বেশি ডিজার্ভ করে। যে মেয়েটা বারবার আমার জীবনে সেইভিয়ার হয়ে ফিরে এসেছে।
----------------------------------------------------------------------
তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ি। প্রথম বর্ষে ধুমায়া আইন পড়লাম। ডিবেট আর মুটিং করলাম। দ্বিতীয় বর্ষে উঠে আইন আর ভাল লাগে না। ছাবা ছাবা লাগা শুরু হইল। আইনের বাইরে জগৎ পড়তে হবে। শুরু করলাম। সাহিত্য, কবিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
ঐ সময় Farhad Mazhar এর আখড়ায় যাওয়া শুরু করলাম। কবি নুরুল করিম খান রনি আমাকে নিয়ে গেল। ফরহাদ ভাই পুরি আর দুধ চা খাওয়াত। আমরা পুরি খেতে খেতে দর্শন নিয়ে আলাপ করতাম। সেই সময়ে ফরহাদ ভাইর কয়েকজন খলিফা ছিল — Mustain Zahir ভাই, Rezaul Karim Rony, Rezaur Rahman Lenin ভাই, মোহাম্মদ রোমেল, আরো কিছু। সত্যি কথা বলতে আমার ঐ সময়ের দর্শন নির্মাণে ফরহাদ ভাইর অনেক প্রভাব ছিল। আমি রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে শিখে গেলাম।
------------------------------------------------------------------------
সেই মেয়েটার সাথে তখনো আমার দেখা হয় নাই।
-----------------------------------------------------------------------
শীতের বিকেলে সলিমুল্লাহ হল থেকে বের হয়ে পুরান ঢাকার দিকে হাঁটতাম। একা একা। গায়ে কালো চাদর। নাজিমুদ্দিন রোডের জেলখানার লাল দেয়ালে হেলান দিয়ে সিগারেট খেতাম। ভাবতাম — এই রাষ্ট্র একটা ফাঁদ। ডিগ্রি আর সনদ মানুষের চিন্তাকে বন্দী করার অস্ত্র। ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে রাষ্ট্রের দাস বানায়ে ফেলা হয়।
আমি বিদ্রোহ করলাম নিজের সাথে। এভাবে দাস হওয়ার কোনো মানে নাই। ক্লাসে যাওয়া কমায়ে দিলাম। আরো কমায়ে দিলাম। তারপর আরো।
-------------------------------------------------------------------------
একদিন সেই মেয়েটার সাথে দেখা। প্রথম দেখা। আমি কইলাম — আপনার ভেতরে একজন ঈশ্বর আছে। মেয়েটা হাসে। যেন প্রস্তুত ছিল এটা শোনার জন্য। যেন সব ছেলেদের ফ্লার্ট করার ল্যাঙ্গুয়েজ একই।
আমি হাল ছাড়ি নাই। এবার বললাম — প্রত্যেকটা সুন্দরী মেয়ের ভেতর একজন করে ঈশ্বর থাকে। লাইনটা কোনো একটা উপন্যাস থেকে মেরে দিছিলাম। এখন মনে নাই কোন উপন্যাস।
মেয়েটা আবারো হাসল। আগের মত।
আমি হাল ছেড়ে দিলাম।
-----------------------------------------------------------------------
কিন্ত আমাদের ফের দেখা হল। চারুকলার পুকুর পাড়ে।
তখন আমার নতুন নতুন দর্শন। আমি মেয়েটার সাথে দর্শন নিয়ে আলাপ করতাম। রাষ্ট্র কিভাবে নাগরিকদের দাস বানায়ে রাখে। দাসত্বের মাধ্যমে শোষণ করে। মেয়েটা শুধু শুনত। মাঝে মাঝে হাসত। কিছু বলত না।
আমি বললাম — রাষ্ট্র ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যমে নাগরিকদের দাসত্বের বক্সে ঢুকায়ে ফালায়। সুতরাং এই ডিগ্রির পেছনে ছোটা যাবে না।
মেয়েটা শুনল। হাসল। বলল — ভাল চিন্তা। কিন্ত তোমার ক্লাসে ফিরে যাওয়া উচিত।
---------------------------------------------------------------------
আমি ভেবে পাইলাম না। এই মেয়েটা আমার দর্শন বুঝে। সাপোর্টও দেয় কিন্ত ক্লাসে ফিরে যেতে কয়। ক্যান?
আমি ক্লাসে ফিরলাম না।
মেয়েটা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিল।
তারপর আমার দর্শন নিয়ে লেকচার দেওয়ার মত আর কোনো শ্রোতা থাকল না।
আমি ক্লাসে ফিরে গেলাম।
অনার্স পাশ করলাম। আই অ্যাম ডান। আর ডিগ্রি করতে হবে না।
এক বিকেলে বুয়েটের ক্যান্টিনে খেতে খেতে বলল — এক বছরের মাস্টার্স। শেষ করে ফেল। এক বছর দেখতে দেখতে চলে যাবে।
আমি মাস্টার্স শেষ করলাম। ওঁকে দেখতে দেখতে।
-----------------------------------------------------------------
তারপর ল' প্র্যাক্টিস। বিয়ে করলাম। সংসার হল। একটা মেয়ে।
এক সময় মনে হল — আমি আমেরিকান ল' স্কুলে পড়ব। আবেদন করলাম। স্কলারশিপ পেলাম। কিন্ত মনের মধ্যে খটকা। ফুল প্র্যাক্টিস রেখে, সংসার রেখে, মেয়ে রেখে — এত বড় ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে কি না।
--------------------------------------------------------------------
সেই মেয়েটা। চুপচাপ শুনল।
তারপর বলল — আমেরিকানরা দুনিয়া চালায়। তারা কিভাবে চিন্তা করে সেটা জানা বেশি জরুরি। এখানে প্র্যাক্টিস করলে অনেক টাকা হবে। কিন্ত আমেরিকানদের হাতে শেখা — এটা ভিন্ন লেভেলের অভিজ্ঞতা। টাকায় হিসাব করা যাবে না।
আমি আমেরিকা আসলাম।
আজকে গ্রাজুয়েশন সেরিমনি। আমার নাম ধরে ডাকা হল। আমি মঞ্চে উঠলাম। আমার অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজর বলল — মে আই হাগ ইউ? আমি বললাম — অফ কোর্স।
আমরা হাগ করলাম। আমি ওঁর কানে কানে বললাম — দ্যাট গার্ল ডিজার্ভস দিস অনার স্কার্ফ মোর দ্যান মি।
আমার অ্যাডভাইজর মাথা নাড়ল। একটু।
তারপর আমাকে অনার স্কার্ফ পরায়ে দিল।
----------------------------------------------------------------------
পাদটীকা: সেই মেয়েটা এখন আমার বউ। আমার দুই মেয়ের মা। আমাদের তিনজনকে সে আগলায়ে রাখে যেভাবে মানুষ কাচের বাটি আগলায়ে ধরে। যত্নে। যাতে পড়ে ভেঙে না যায়।
--------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
বস্টন, যুক্তরাষ্ট্র। ২৪ এপ্রিল ২০২৬।

"সরালে কিছু হত?কিছু হত না।অথবা সব বদলে যেত।"এই প্রশ্নটা নিয়ে আমার লেখা গল্প— চুল।মেঘচিল সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হইছে...
19/04/2026

"সরালে কিছু হত?
কিছু হত না।
অথবা সব বদলে যেত।"

এই প্রশ্নটা নিয়ে আমার লেখা গল্প— চুল।

মেঘচিল সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হইছে আজ।

কমেন্ট বক্সে লিংক। পড়লে জানাবেন।

গতকাল একটা ছেলেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।তার অপরাধ— সে সরকারের বিরুদ্ধে লিখছে।এই সরকারের অনেক মন্ত্রী একসময় গুম হইছ...
18/04/2026

গতকাল একটা ছেলেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।
তার অপরাধ— সে সরকারের বিরুদ্ধে লিখছে।
এই সরকারের অনেক মন্ত্রী একসময় গুম হইছিল। সেই গুমের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। আমরা গুম বিরোধী আইন পেলাম। নতুন সরকার সেই আইন বাতিল করল। আইন মন্ত্রী বললেন— আরো শক্ত আইন আসবে।
সেই আইনের অপেক্ষায় আছি।
তার মধ্যে একটা ছেলেকে তুলে নেওয়া ডিবি পরিচয়ে।
অংক মেলে না।
________________________________________
সৌদি আরবে গণতন্ত্র নাই। রাশিয়ায় নাই। তারাও নাগরিক গুম করে না। অপরাধ করলে ফাঁসি দেয়। অন্তত বিচারটুকু করে।
যে রাষ্ট্রে একজন মানুষ নিজের অপরাধ স্বীকার বা অস্বীকার করার সুযোগ পায় না— সে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না।
________________________________________
বাংলাদেশ একটা অদ্ভুত জনপদ।
এখানে মানুষ দানবের সাথে লড়তে লড়তে একদিন নিজেই দানব হয়ে যায়।
________________________________________
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed BNP এবং আইনমন্ত্রী Md. Asaduzzaman— গুম ইস্যুটাকে সিরিয়াসলি ট্যাকল করুন।
আপনারা এই পথ চেনেন।
আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন— এই পথের শেষে কী থাকে।
আমাদের অনুরোধ এই রাষ্ট্রকে আর দানব হয়ে উঠতে দিয়েন না।
-------------------------
-ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

13/04/2026
আলহামদুলিল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যামেস মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পাইলাম।
10/04/2026

আলহামদুলিল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যামেস মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পাইলাম।

🔴 আমেরিকা ৪৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ইরানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। দুই পক্ষই "বিজয়" দাবি করছে। কিন্তু আসল বি...
09/04/2026

🔴 আমেরিকা ৪৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ইরানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। দুই পক্ষই "বিজয়" দাবি করছে। কিন্তু আসল বিজয় কার?________________________________________
আমেরিকা কী পেল?

পেন্টাগনের নিজের ব্রিফিং বলছে, প্রথম ৬ দিনে খরচ ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। ১২ দিনে ১৬.৫ বিলিয়ন। ৩৯ দিনে পেন্টাগনের বাজেট খরচ দাঁড়িয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার। সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি মিলিয়ে মোট ৪৩ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ১৩ জন আমেরিকান সৈন্য নিহত। ৩০০ বেশি আহত। ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসে ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের সাপ্লিমেন্টাল ফান্ডিং চাইবে।
সোজা কথা, আমেরিকা যুদ্ধে জিতেছে বলে দাবি করছে। কিন্তু ৪৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করে কী অর্জন হইছে? গ্লোবাল সাউথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত। ন্যাটো মিত্ররা যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। এনার্জি শক নিজের অর্থনীতিতেই আঘাত করেছে।
কিন্তু বৃহত্তর কোনো স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য অর্জন হইছে? পারমাণবিক কর্মসূচি কি স্থায়ীভাবে বন্ধ হইছে? প্রক্সি নেটওয়ার্ক ভেঙেছে? রেজিম চেঞ্জ হইছে?
একটাও না।

ইরান কী পেল?

ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস। মিসাইল উৎপাদন ক্ষমতা শেষ। পারমাণবিক অবকাঠামোতে আঘাত। সুপ্রিম লিডার নিহত।
টিকে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। কিন্তু "টিকে থাকা" আটকোটি মানুষের জাতির জন্য খুব নিচু মানদণ্ড। দুই হাজারের বেশি ইরানি নিহত। সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপ। অর্থনীতি আগে থেকেই স্যাংশনে পঙ্গু, এখন পুনর্গঠনের খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই।
দুই পক্ষই হেরেছে। প্রশ্ন হলো, জিতলো কে?
________________________________________
রাশিয়া:

যুদ্ধের আগে রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। ক্রেমলিন সব নন-সিকিউরিটি খাতে ১০% বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারপর বোমা পড়ল তেহরানে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলো।
ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে গেল। কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিক্স (KSE) ইনস্টিটিউটের হিসাব, ২০২৬ সালে রাশিয়া অতিরিক্ত ৪৫ থেকে ১৫১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। যে মিলিটারি মেশিনকে থামাতে ন্যাটো বিলিয়ন বিলিয়ন খরচ করছে, সেটাকে আমেরিকা নিজেই ফান্ড করল।
পুরা আয়রনি।

চীন:

তেলের দাম বাড়লে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারকের ক্ষতি হওয়ার কথা। কিন্তু বেইজিং আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চীনের তেল আমদানি ১৬% বেড়েছিল। স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ ভরে রেখেছিল। রাশিয়া অতিরিক্ত দিনে ৩ লাখ ব্যারেল তেল দিচ্ছে, বাজারদরের চেয়ে কম দামে।

ফলাফল? যে এনার্জি শক জার্মানি ও ইতালিকে মন্দার দিকে ঠেলছে, সেটা আপেক্ষিকভাবে চীনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করছে। ইউরোপের ম্যানুফ্যাকচারিং খরচ বাড়ছে। চীনের কারখানা সাবসিডি আর ডিসকাউন্টেড রাশিয়ান তেলে চলছে।
এর বাইরে চীন তিনটা স্ট্র্যাটেজিক লাভ পেয়েছে। এক. "শান্তির পক্ষে দায়িত্বশীল শক্তি" হিসেবে কূটনৈতিক অবস্থান। দুই. আমেরিকার সামরিক মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকায় তাইওয়ান ইস্যুতে অতিরিক্ত সময়। তিন. ইরানের সাথে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ২৫ বছরের চুক্তি আরো শক্ত হইছে।

আমেরিকায় নিক্সন থেকে শুরু করে পুরো কোল্ড ওয়ারের কৌশল ছিল মস্কো-বেইজিং জোট ঠেকানো। চল্লিশ দিনে সেই কৌশল ভেঙে গেল।
________________________________________
পাকিস্তান:

সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিজয়ী পাকিস্তানের ঝুলিতে। এইটা কেউ বলবে না। কিন্তু বলতে হবে।
অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর। রাজনৈতিকভাবে অস্থির। কূটনৈতিকভাবে ভারতের ছায়ায়। পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে "সমস্যা" হিসেবে দেখা হতো, "অংশীদার" হিসেবে না। এই যুদ্ধ সেটা পাল্টে দিল।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং আর্মি চিফ জেনারেল আসিম মুনির যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতা করেছেন। ট্রাম্পের ডেডলাইনের ঘণ্টাখানেক আগে, যখন ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ম্যাসিভ স্ট্রাইকের পরিকল্পনা তৈরি ছিল, পাকিস্তান সেই ফাঁক পূরণ করল।
মুনির সারারাত নেগোশিয়েশনে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, এনভয় উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির সাথে।

ফলাফল?
পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার হোস্ট এখন ইসলামাবাদ। ১০ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে আসবে।

একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, যে নিজেই আইএমএফের টাকায় চলে, সে এখন মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তায় অপরিহার্য মধ্যস্থতাকারী। এই ভূমিকা আগে একচেটিয়াভাবে কাতার, ওমান আর তুরস্কের ছিল।
________________________________________
প্যাটার্নটা দেখুন।

আমেরিকা পৃথিবীর যেকোনো সামরিক টার্গেট ধ্বংস করতে পারে। চল্লিশ দিনে আবারো প্রমাণ করল। কিন্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা আর অর্জন করার সক্ষমতা এক জিনিস না।
সামরিক আধিপত্য কূটনৈতিক সুবিধায় রূপান্তরিত হয় নি। ইরানকে শক অ্যান্ড অ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে নি। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা শত্রুকে সমৃদ্ধ করেছে, মিত্রকে দরিদ্র করেছে।

রাশিয়া টাকা গুনেছে। চীন অবস্থান শক্ত করেছে। পাকিস্তান নিজেকে অপরিহার্য করেছে।
________________________________________
-ফেরদৌস হোসেন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী

শিরিন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার হইছে। আর ফেসবুকে একটা শ্রেণীর মানুষ আহাউহু শুরু করছে। সুরটা আফসোসের। দাবি, শিরিন শারমিন সবচ...
08/04/2026

শিরিন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার হইছে। আর ফেসবুকে একটা শ্রেণীর মানুষ আহাউহু শুরু করছে। সুরটা আফসোসের। দাবি, শিরিন শারমিন সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী ছিল। মেট্রিকে দেশসেরা। ইন্টারে দেশসেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। সেই মেধাবী ছাত্রীর আজ "করুণ পরিণতি"।
আমি বলি, এটা করুণ পরিণতি না। এটা শুরু।
________________________________________
দেখলাম সবাই এই গ্রেফতার থেকে একটাই শিক্ষা নিচ্ছে। রাজনীতি খারাপ। ছেলেমেয়েদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখো।
কিন্তু এই শিক্ষাটাই ভুল।

শিরিন শারমিন একজন আইনজীবী ছিল। শেখ হাসিনা তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি বানায়। তারপর ধীরে ধীরে স্পিকার। গত দেড় বছরে তাকে গ্রেফতার করা হয় নাই। সবাই ধরে নিছে যেহেতু তার রাজনীতির কোনো “কলঙ্ক” নাই্ তাই তাকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্ত গ্রেফতার হওয়ার পর সবাই শকড হইল।
সোজা প্রশ্ন হইল, জেলজীবন কি একজন রাজনীতিবিদের জীবনের বাইরে কিছু?
না।

একজন রাজনীতিবিদের আসল রাজনীতি শুরু হয় জেলখানা দিয়ে। এটা আমি বলতেছি না। ইতিহাস বলতেছে।
________________________________________
পৃথিবীর সকল রাজনৈতিক নেতারা জেল থেকে বের হয়ে শক্তিশালী হইছে

নেলসন ম্যান্ডেলা:
দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ বছর কারাবন্দি। রবেন আইল্যান্ডে বিছানা নেই। পাথর ভাঙার কঠোর শ্রম। জেলে ঢুকছিল সশস্ত্র বিপ্লবী, যে বোমা বানাতে জানতো। বের হইলো এমন একজন মানুষ হয়ে, যে নিজের কারারক্ষীদের ক্ষমা করে দিছে। জেলে বসে শত্রুর ভাষা শিখছে। আইনের ডিগ্রি নিছে। আত্মজীবনী লিখছে। তারপর? গৃহযুদ্ধ ঠেকাইছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হইছে। নোবেল পাইছে।
ম্যান্ডেলা নিজে বলছেন, জেলখানা হলো নিজেকে চেনার আদর্শ জায়গা। বাইরে মানুষ বাহ্যিক অর্জন দিয়ে নিজেকে মাপে। জেল ভেতরটা দেখতে বাধ্য করে।

জওহরলাল নেহরু:
ব্রিটিশ ভারত। ৯ বার জেল। ৩,২৫৯ দিন কারাবাস। কী করছে জেলে? আহমদনগর ফোর্টে বসে লিখছে "দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া", পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস। জেলখানা তাকে লেখক বানাইছে। চিন্তক বানাইছে। স্টেটসম্যান বানাইছে। ১৯৪৭-এ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। জেল না খাটলে নেহরু হয়তো একজন ব্যারিস্টার হয়ে থাকতো। ইতিহাস তাকে মনে রাখতো না।

আনোয়ার ইব্রাহিম:
মালয়েশিয়া। ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ছিল। একদিন সরাসরি জেলে। দুইবার কারাবাস। প্রায় এক দশক। আদালতে কালো চোখ নিয়ে হাজির হওয়ার ছবিটা সারা পৃথিবীতে ছড়ায়ে গেল। সেটাই হয়ে গেল রিফর্মাসি আন্দোলনের প্রতীক। জেল সেলে বসে নিজেরই রাজনৈতিক শত্রুকে ক্ষমা করছে। জোট গড়ছে। তারপর? ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। জেল সেল থেকে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার।

ভাৎস্লাভ হাভেল:
চেকোস্লোভাকিয়া। নাট্যকার। ব্ল্যাকলিস্টেড। একাধিকবার জেলে। তারপর ভেলভেট রেভোলিউশনে প্রেসিডেন্ট। অং সান সু চি। মিয়ানমার। ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছর গৃহবন্দি। তারপর নির্বাচনে বিপুল বিজয়।

প্যাটার্ন একটাই। জেলখানা রাজনীতিবিদকে ধ্বংস করে না। পরিশোধিত করে। রোদে পোড়া মাটির মতো পোড়ায়ে পোড়ায়ে খাঁটি বানায়।
________________________________________
বাংলাদেশে এই প্যাটার্ন নতুন কিছু না

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। জেল খাটছে। বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী।
শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। জেল খাটছে। বের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জেল খাটছে। বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী।
এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman কেও এই পরীক্ষার মুখোমুখি হইতে হইছে।

জুলাই আন্দোলনের Akhter Hossen এর কথা ধরুন। এনসিপি'র। ছাত্রজীবন থেকে জেলে যাওয়া শুরু করছে। একটু একটু করে পুড়ে পুড়ে খাঁটি হইছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই আন্দোলন নাও হইলে আখতার রাজনীতিবিদ হইতো। অন্যভাবে। অন্য কোনো প্লাটফর্মে। কারণ জেলখানা তাকে আগেই তৈরি করে রাখছিল।

তাইলে কারা আফসোস করতেছে?

এই শ্রেণীটাকে চেনা দরকার।
এরা মধ্যবিত্ত। যারা কখনো রাজনীতি করে না। কেউ কেউ ভার্সিটি জীবনে রাজনীতি করে, কিন্তু সেটা একটা ভালো সরকারি চাকরি নিশ্চিত করার জন্য। রাজনীতির জন্য না।
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ উঠে আসে নিম্নবিত্ত আর উচ্চবিত্ত শ্রেণী থেকে। মাঝখানের মধ্যবিত্ত রাজনীতিকে ঘৃণা করে। ছেলেমেয়েদের "সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র" বানায়। রাজনীতি থেকে দূরে রাখে।

মজার ব্যাপার হইলো, এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীই রাজনীতির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। সব সময় সেফজোনে থাকে। সুযোগের অপেক্ষায়। রাজনীতিবিদ জেলে যায়, মধ্যবিত্ত আফসোস করে। রাজনীতিবিদ ক্ষমতায় আসে, মধ্যবিত্ত সুবিধা নেয়। ঝুঁকি নেয় না কখনো। আফসোস করে সব সময়।
________________________________________
শিরিন শারমিন চৌধুরীর রাজনীতি মাত্র শুরু হইলো।

যদি সে এই জেলজীবন সারভাইভ করতে পারে, খাঁটি রাজনীতিবিদ হয়ে ফিরবে। যদি ভয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেয়, বুঝতে হবে শিরিন শারমিন চৌধুরী কোনোদিনও রাজনীতিবিদ ছিল না। মধ্যবিত্ত রাজনীতির সুবিধাভোগী ছিল।

ধর্মীয় নেতাদের জন্য মসজিদ আর মন্দির যেমন ধ্যানঘর, জেলখানা রাজনীতিবিদের ধ্যানঘর।
________________________________________
-ফেরদৌস হোসেন
#জেলখানা_ধ্যানঘর #রাজনীতি #শিরিনশারমিন

Address

54, New Eskaton Road
Dhaka
1000

Telephone

+8801977944725

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে? posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to এ্যাডভোকেট ফেরদৌস - আইন কী বলে?:

Share