03/12/2024
এসেছি আবার চলে যাব, রেখে যাব আর্তনাদের পদচিহ্ন কারণ আমরা যারা বলতে পারিনা, যাচনা করতে পারিনা অথচ আমরা বুঝি আমাদের অধিকারের সীমানা কতটুকু, পৃথিবীর মঞ্চের কৃত্রিম ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট আমাদের চেতনা। যুগে যুগে শ্রেণীহীনতার কথা বলে আমাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জন্ম নিতে থাকে নব্য শোষকের ও শাসকের দল আর আমাদের লাশগুলো পড়ে থাকে রাস্তার মোড়ে, এ্যাভিনিউতে অথবা বিদ্রোহী বেশে কোন এক জঙ্গলে কখনোবা লোহার প্রাচীর ঘেরা কপাট বন্ধ ঘরে ্প্রাণ সংহারের প্রতীক্ষার লড়াইয়ে। পৃথিবীর আদি থেকে শ্রেণী বৈষম্য ছিল এখনো আছে ভবিষ্যতেও থাকবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম তা না হলে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ অসম্ভব। শাসক শ্রেণী শ্রমিক শ্রেণী, বণিক শ্রেণী ধনীক শ্রেণী গরিব শ্রেণী সকল শ্রেণীই স্রষ্টার সৃষ্ট কর্ম কারণ মানবজাতিকে পরীক্ষার জন্য কর্মে কে শ্রেষ্ঠতর, কিন্তু যে যেই শ্রেণীর অধিবাসী তাকে তার স্ব স্থানে কন্টকহীন জীবন উপভোগের ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়াই শাসক শ্রেণীর কাজ, এতেই আমরা পরিতৃপ্ত কিন্তু তারা তাদের শ্রেণী সীমা ভেদ করে আসমান দখলের অভিপ্রায়ে মানব রচিত বিভিন্ন তন্ত্র ও বাদের কুমন্ত্রণা দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য আমাদেরকে বলিদান করে আমরা আবার তা আদর্শ ভেবে হাসি মুখে মেনে নিয়ে জীবন দিয়ে শহীদের তকমা অর্জন করি। পৃথিবীতে অধিকাংশ লড়াই সংঘটিত হয়েছে বৈষমহীনতার কথা বলে অথচ এর পিছনে ছিল ক্ষমতার লড়াই আর এই লড়াইয়ে হার জিতের পরিসমাপ্তি ঘটে কে কত রক্ত দিতে পারে অথবা নিতে পারে আর সেই রক্তের হোলি খেলায় আমরা অগ্রগামী এইসব অহিংস ও সহিংস ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রকৃতি প্রদত্ত আমাদের নিজ নিজ শ্রেণীকে বিভাজিত করে সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অনাচার সৃষ্টি করে জন্ম হয় নতুন ছোট বড় শাসক শ্রেণী ও শোষক শ্রেণীর যেটা সমাজের তৃণমূলের সহাবস্থান ও সংহতি ধ্বংস করে এমনকি পরিবারেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, তাই মানব রচিত এইসব ব্যবস্থার অন্তরালে খুঁজতে হবে অন্য কোন ব্যবস্থা তাতেই নিহিত আছে আমাদের মুক্তি।