ঢাকার বাড়ী

Call Directions Contact the business

ঢাকার বাড়ী Provide property solution all over Dhaka. Feel free for contact property consultancy .

16/10/2026

বিশেষ শর্তে পূর্বাচল-ঝিলমিলে ফার এ ছাড় দিয়ে ফের ড্যাপ সংশোধন
নতুন গেজেটে জলাশয় ও ভূমি ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় জমির শ্রেণিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
Published : 15 Oct 2026, 01:59 AM

বিশেষ শর্তে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা ফার এ ছাড় দিয়ে ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সংশোধন এনেছে সরকার।

বুধবার ২০২২-৩৫ মেয়াদের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ড্যাপের এ সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বা ফার এ ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি ড্যাপের আওতাধীন নির্দিষ্ট কিছু মৌজায় ‘ওপেন স্পেস’ থেকে ‘ভারি শিল্প’ এলাকায় পরিবর্তন এবং জলস্রোত ‘ওভারলে’ জোন সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ২৪ অগাস্ট নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিছু জায়গায় ছাড় দিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তাতে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লক-ভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোরও সুযোগও বাড়ে। ভবন নির্মাণে সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়।

এরপরও এ পরিকল্পনায় সংশোধন আনতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা বিভিন্ন সময় ড্যাপ সংশোধনের দাবি জানাতে থাকেন।

বুধবার আবারও ড্যাপ সংশোধন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ৫ কাঠা বা এর বেশি আয়তনের আবাসিক প্লটের ক্ষেত্রে বর্তমান ফার এর সঙ্গে আরও দশমিক ৫ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশেস এ প্রণোদনা পেতে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য রাজউকে আবেদন দাখিল করতে হবে।

প্রণোদনার শর্ত হিসেবে গেজেটে বলা হয়েছে, প্রণোদনা পাওয়া প্লটে চূড়ান্ত নির্মাণ অনুমোদন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে ‘প্লিন্থ লেভেল’ পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। এই শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে জরিমানা হিসেবে নকশা অনুমোদনের জন্য প্রদত্ত ফি-এর ২০ গুণ অর্থ রাজউকের অনুকূলে প্রদান করতে হবে।

ড্যাপের সংশোধনীতে আইলবহর মৌজার মহানগর ১০৪৭, ১০৪৮ ও ১০৫০ দাগের প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার 'ওপেন স্পেস' থেকে পরিবর্তন করে শর্ত সাপেক্ষে 'ভারি শিল্প এলাকা' হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

শর্তাবলীতে বলা হয়েছে, আবেদন করা ভূমি বুড়িগঙ্গা নদীর 'ফোর সোর' সংলগ্ন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে।

এছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকেও অনাপত্তি বা মতামত গ্রহণ করতে হবে। সিটি জরিপ রেকর্ডের পর্চায় 'হালট' শ্রেণি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করতে হবে এবং নির্মাণ করা সব ভবনে সংশ্লিষ্ট বিধি ও কোড অনুসরণ করে রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রে ড্যাপের অনুমোদনযোগ্য ভূমি ব্যবহার এবং জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনার মধ্যে কোনো ভিন্নতা বা সাংঘর্ষিক অবস্থা দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (পর্চায় উল্লিখিত খাল, ক্যানেল, পুকুর, রাস্তা বা চলার পথ, জলাশয় ইত্যাদি) ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনার পরিবর্তে ড্যাপের প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার নির্দেশনা অনুযায়ী অকুপেন্সি টাইপ নির্ধারিত হবে।

এছাড়া অনুমোদিত আবাসিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদিত লে-আউটের ভূমি ব্যবহারের নির্দেশনার আলোকে এটি নির্ধারিত হবে।

ফ্ল্যাট কেনার আগে যা জানা জরুরী- একটি নিজস্ব আবাসন কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং জীবনের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা...
15/10/2026

ফ্ল্যাট কেনার আগে যা জানা জরুরী-

একটি নিজস্ব আবাসন কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং জীবনের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা এক নিশ্চিন্ত ঠিকানা। দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণ এবং আধুনিক জীবনযাত্রার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে এখন নান্দনিক ও সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ফ্ল্যাট কেনাবেচার প্রবণতা বেড়েছে। তবে কেবল আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী সময়ে মারাত্মক আইনি জটিলতা, নির্মাণগত ত্রুটির ঝুঁকি কিংবা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র সই কিংবা বায়না করার আগে কিছু মৌলিক বিষয় নিখুঁতভাবে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জমির মালিকানা ও আইনি বৈধতা

ফ্ল্যাট কেনার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো জমির নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা।

● অনুমোদিত নকশা: প্রকল্পটি রাজউক (বা সংশ্লিষ্ট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) থেকে অনুমোদিত কি না এবং ভবনের সিএসটি ও নকশা অনুমোদন অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে।

● খতিয়ান ও মালিকানা: জমির সিএস, এসএ, আরএস ও সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না এবং বিক্রেতা বা ডেভেলপার কোম্পানির নামে হালনাগাদ নামজারি ও ভূমি কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

● নিষ্কণ্টক সনদ: জমিটি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রাখা আছে কি না কিংবা এটি নিয়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা বা আইনি বিরোধ চলছে কি না, তা অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি

যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনছেন, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

● নিবন্ধন ও সদস্যপদ: ডেভেলপার কোম্পানিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নিবন্ধিত সদস্য কি না, তা যাচাই করুন।

● পূর্ববর্তী প্রকল্পের রেকর্ড: প্রতিষ্ঠানটির হস্তান্তর করা পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর মান, নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তরের সুনাম এবং তাদের ব্যবহার করা নির্মাণসামগ্রীর মান কেমন, তা নিজে গিয়ে খোঁজ নিন।

কৌশলগত অবস্থান ও সামাজিক পরিবেশ

বাসস্থানের অবস্থান দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণ করে।

● যোগাযোগ ও সংযোগ: মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে বা প্রধান সড়কের সঙ্গে প্রকল্পটির যোগাযোগ কতটা সহজ, তা দেখা দরকার।

● নাগরিক সুবিধা: কাছাকাছি ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, শপিং মল ও কাঁচাবাজার আছে কি না।

● জলাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা: বর্ষাকালে ওই এলাকায় পানি জমে কি না এবং এলাকাটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বসবাসের উপযোগী কি না, তা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

ভবনের নকশা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা

আধুনিক বাসস্থানে নিরাপত্তা ও আরামদায়ক পরিবেশ থাকা বাধ্যতামূলক।

● আলো-বাতাস ও লে–আউট: ফ্ল্যাটে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে কি না।

● জরুরি সেবা ও অগ্নিনির্বাপণ: ভবনটি জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি) অনুযায়ী ভূমিকম্প সহনশীল কি না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য ফায়ার হাইড্রেন্ট, জরুরি সিঁড়ি ও ফায়ার স্কেপ রাখা হয়েছে কি না।

● আধুনিক ফিচার: পর্যাপ্ত ক্যাপাসিটির লিফট, ব্যাকআপ জেনারেটর, নিজস্ব সাবস্টেশন, পানির উৎস, সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং বর্তমান সময়ের চাহিদানুযায়ী স্মার্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট ফিচার বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আছে কি না।

মোট ব্যয় ও লুকানো খরচের হিসাব

ফ্ল্যাটের প্রকৃত দাম কেবল স্কয়ার ফুট মূল্যের ওপর নির্ভর করে না।

● অতিরিক্ত খরচ: মূল দামের বাইরে ইউটিলিটি সংযোগ চার্জ (বিদ্যুৎ, গ্যাস/এলপিজি, পানি), কার পার্কিং স্পেসের দাম, সার্ভিস চার্জ এবং ভবিষ্যৎ মেইনটেন্যান্স ফি কত হবে, তা শুরুতেই স্পষ্ট করে চুক্তিপত্রে থাকা আবশ্যক।

● রেজিস্ট্রেশন ফি: ফ্ল্যাট হাতবদলের সময়ে সরকারি স্ট্যাম্প ডিউটি, গেইন ট্যাক্স, ভ্যাট ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ কত টাকা খরচ হবে, তার একটি স্পষ্ট হিসাব রাখা প্রয়োজন।

● ব্যাংকঋণ সুবিধা: কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ওই প্রকল্পে ব্যাংকগুলোর অনুমোদন আছে কি না, তা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো।

ফ্ল্যাট কেনা জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। আবেগের বশবর্তী না হয়ে আইনি নথি, নির্মাণ মান এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন সচেতন ক্রেতার পরিচয়

ট্রপিক্যাল হোমস গড়েছে ৩ হাজার ফ্ল্যাট দেশের দ্রুত বিকাশমান আবাসনশিল্পে উন্নত স্থাপত্যশৈলী ও দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মা...
12/10/2026

ট্রপিক্যাল হোমস গড়েছে ৩ হাজার ফ্ল্যাট

দেশের দ্রুত বিকাশমান আবাসনশিল্পে উন্নত স্থাপত্যশৈলী ও দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে ট্রপিক্যাল হোমস্‌ লিমিটেড। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একই ধারায় দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন বড় প্রকল্প ও উঁচু ভবন নির্মাণ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, ট্রপিক্যাল হোমস্‌ এ পর্যন্ত ১০২টি প্রকল্প সফলভাবে হস্তান্তর করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭০টি আধুনিক আবাসিক এবং ৩২টি বাণিজ্যিকভাবে নান্দনিক ভবন। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কৌশলগত ও প্রাণবন্ত স্থানে আরও ২৫টি নতুন প্রকল্পের উন্নয়ন ও আধুনিক নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

গ্রাহকদের সর্বোচ্চ আস্থা ও সুদৃঢ় সন্তুষ্টি অর্জন নিশ্চিত করেছে, এমন দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ লাখ বর্গফুট আয়তনের বিশাল নির্মাণকাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে শেষ করেছে। এর মধ্য দিয়ে ৩ হাজারের বেশি পরিবারকে তাদের বসবাসের স্থান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২ হাজার ৬৮২টি ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক স্পেস ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩৬০ জন দক্ষ স্থায়ী কর্মী নিয়োজিত আছেন এবং ১ হাজারের বেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞ পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে কর্মসংস্থান পেয়েছেন।

ট্রপিক্যাল হোমসের অন্যতম সুউচ্চ ও আইকনিক উদ্যোগ হলো ঢাকার মালিবাগে নির্মাণাধীন ৪৫ তলাবিশিষ্ট ‘টি এ টাওয়ার’। এটি নির্মিত হতে যাওয়া দেশের সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক ভবন। পাশাপাশি বনশ্রীর মূল ও প্রধান সড়কে ৬ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ‘ট্রপিক্যাল হায়দার আম্রপুরী’ কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্পটি ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির এই প্রকল্পগুলো আধুনিক নাগরিক সুবিধা, সুরক্ষার অবকাঠামো ও সবুজ পরিবেশবান্ধব নকশায় তৈরি করছে।

ট্রপিক্যাল হোমসের চেয়ারম্যান তানভীর রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্রপিক্যাল হোমসের মূল লক্ষ্য শুধু সম্পত্তি তৈরি করা নয়, বরং এমন আধুনিক আবাসন গড়ে তোলা, যা গ্রাহকদের জীবনের স্বপ্ন, জীবনধারা এবং মূল সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আমরা আভিজাত্য, স্বাচ্ছন্দ্য ও টেকসই পরিবেশের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে নির্ভরযোগ্য সেবাদানে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম ড. মো. রেজাউল করিম। তাঁর মূল রূপকল্প ও নীতি অনুসরণ করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মধ্যম ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বিশ্বস্ত আবাসনের স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করছেন বলে জানান তানভীর রেজা।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্বচ্ছতা, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও সততার নীতিই কোম্পানিটি এখন আবাসন খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বিটিআইয়ের সাফল্য গ্রাহক সন্তুষ্টিলেখা:আয়শা আক্তার চৌধুরীপ্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩০যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি...
12/10/2026

বিটিআইয়ের সাফল্য গ্রাহক সন্তুষ্টি
লেখা:আয়শা আক্তার চৌধুরী
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩০

যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশলে স্নাতক করা এক তরুণের স্বপ্ন ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার, যা স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণের মান, গ্রাহকসেবা, অঙ্গীকার রক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতায় ‘উৎকৃষ্ট’ হবে। সেই স্বপ্ন নিয়ে ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজের (বিটিআই) একটি বড় সাফল্য গ্রাহকের ‘সন্তুষ্টি’ অর্জন।

চার দশক পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখা যায়, তারা ৯৫ শতাংশ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগে অথবা সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ‘বিটিআইয়ের গ্রাহকেরাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রচারমাধ্যম, চার দশক ধরে তাঁরাই আমাদের কথা বলে আসছেন।’ এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, কেবল ফ্ল্যাট হস্তান্তরেই দায়িত্ব শেষ করেন না বিটিআইয়ের কর্মীরা; বরং বিক্রয়োত্তর সেবায় কাজ করে যায় দুটি বিভাগ। এর মধ্যে গ্রাহক সম্পর্ক বিভাগ (সিআরডি) হস্তান্তরের পর নির্দিষ্ট সেবাভেদে পাঁচ বছর পর্যন্ত, আর প্রপার্টি সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট (পিএসএম) আজীবন গ্রাহকের পাশে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, মানসম্মত নির্মাণ ও সময়মতো হস্তান্তরই বিটিআইয়ের ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি। এর পেছনে রয়েছে কঠোর পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, পেশাদারত্ব, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ। নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তাঁদের মতে, সময়ানুবর্তিতা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ তাঁদের গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। অগ্নিনিরাপত্তা, ভূমিকম্পসহনশীল কাঠামো এবং রাজউক ও বিএনবিসির নির্দেশনা মেনে প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকালে শ্রমিক, ভবন, সমাজ ও পরিবেশ—এই চার ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান কর্মকর্তারা।

আবাসনের পাশাপাশি গ্রাহকের প্রয়োজনে সেবার পরিধিও বাড়িয়েছে বিটিআই। প্রপার্টি ব্রোকারেজ, বিটিআই বিল্ডিং প্রোডাক্টস, স্কয়ার ফিট স্টোরি ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ের মতো সেবা যুক্ত হয়েছে। এখন জোর দেওয়া হচ্ছে ‘ওয়েলনেস কমিউনিটিতে’।

বর্তমানে ঢাকার আদাবর, আফতাবনগর, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, গুলশান, নর্থ গুলশান, মিরপুর, বনানী ও উত্তরায় এবং চট্টগ্রামের নর্থ খুলশী, এস এস খালেদ রোড ও জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে বিটিআইয়ের প্রকল্প চলমান। এ ছাড়া ৩০০ ফিট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নেমেই স্বর্ণালী আবাসনে ছয় বিঘা জমিতে হবে নতুন প্রকল্প ‘অ্যাকুয়ারেল’। এতে পুরোনো দিনের উঠানসহ বাড়ির ধারণা ও সব ঋতুর আমেজ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের আবাসনকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলছে প্রতিষ্ঠানটি।

কল- 01721-157027
12/10/2026

কল- 01721-157027

স্মার্ট আবাসন টেকসই নগরায়ণআবাসন থেকে টাউনশিপ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বৃহৎ অবকাঠামোয় বিস্তৃত ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটবুধবার ৭ অ...
10/10/2026

স্মার্ট আবাসন টেকসই নগরায়ণ
আবাসন থেকে টাউনশিপ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বৃহৎ অবকাঠামোয় বিস্তৃত ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট
বুধবার ৭ অক্টোবর ২০২৬ (বনিকবার্তা)

ইউনাইটেড সিটি, মাদানী এভিনিউ, ঢাকা |
১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গণ্ডি পেরিয়ে টাউনশিপ, ভূমি উন্নয়ন, প্রকৌশল ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে বিস্তৃত হয়েছে।

আবাসন ছাড়িয়ে সমন্বিত নগর উন্নয়নে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট

তিন দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতায় আবাসন থেকে টাউনশিপ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বৃহৎ অবকাঠামোয় বিস্তৃত হয়েছে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের কার্যক্রম। সে অভিজ্ঞতারই সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে ইউনাইটেড সিটিতে আবাসনের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন উপাদানকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।

ঢাকার মাদানী এভিনিউয়ে প্রায় ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে ইউনাইটেড সিটি। আবাসিক প্লট ও কনডোমিনিয়ামের পাশাপাশি এর মহাপরিকল্পনায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক এলাকা ও সামাজিক অবকাঠামো। এর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে কার্যক্রমের অংশ হয়েছে; অন্যগুলো রয়েছে উন্নয়ন ও পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায়ে। একটি বৃহৎ এলাকার আবাসন, সেবা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নেয়ার এ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটছে।

১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গণ্ডি পেরিয়ে টাউনশিপ, ভূমি উন্নয়ন, প্রকৌশল ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯০টির বেশি প্রকল্পে কাজ করেছে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেট। এসব প্রকল্পে প্রায় এক কোটি বর্গফুট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট নির্মাণ ও উন্নয়নাধীন রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বর্গফুট উন্নয়ন।

এ পরিসরের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর ব্যবহারিক বৈচিত্র্যও যুক্ত হয়েছে। আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে বহুমুখী করেছে। ইউনাইটেড সিটিতে সে অভিজ্ঞতাকে একটি বৃহত্তর ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মধ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড সিটিতে দৈনন্দিন জীবনের সমন্বয়

একটি পরিবারের কাছে বাসস্থানের অবস্থান মূল্যায়নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তানের স্কুল, চিকিৎসার সুযোগ, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও যাতায়াতের বাস্তবতা। ঢাকার মতো শহরে এসব সেবার দূরত্ব দৈনন্দিন সময় ও ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইউনাইটেড সিটির পরিকল্পনায় তাই আবাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও সেবার অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

টাউনশিপটির শিক্ষা অবকাঠামোর অংশ ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং স্যার জন উইলসন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল এবং ইউনাইটেড কলেজ অব নার্সিং। একই এলাকায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাসস্থানকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও সেবার একটি বিস্তৃত পরিসর গড়ে তুলছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোর অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে মসজিদ আল মুস্তফা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার বর্গফুট আয়তনের চারতলা মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বৃহৎ একটি জনপদের পরিকল্পনায় এ ধরনের সামাজিক পরিসর মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্মিলিত জীবনেরও অংশ।

ইউনাইটেড সিটির মহাপরিকল্পনায় রয়েছে ১৩৬টি সড়ক ও ২৭টি পার্ক। আবাসিক প্লটের জন্য প্রায় ৭৫ একর, বাণিজ্যিক প্লটের জন্য ১১ একর ও কনডোমিনিয়াম উন্নয়নের জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারিত। এর সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ। এসব উপাদান বাস্তবায়নের অগ্রগতির সঙ্গে টাউনশিপটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দৃশ্যমান হবে।

এ দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘মানুষ শুধু একটি ফ্লোর প্ল্যানের মধ্যে বাস করে না, তারা একটি কমিউনিটিতে বাস করে। তাদের প্রয়োজন ভালো স্কুল, কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি, সবুজ পার্ক ও নিরাপদ যাতায়াত। একটি ভবনের নির্মাণ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে, কিন্তু একটি কমিউনিটির যাত্রা কখনো শেষ হয় না।’

বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ দেয়া বক্তব্যে তিনি প্রকল্পের সাফল্য মূল্যায়নে মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিবেচনায় একটি টাউনশিপের নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্ব থাকে। সেবা ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বাসিন্দাদের পরিবর্তিত প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মেলানোর সামর্থ্যই এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নির্ধারণ করে।

বাণিজ্য ও নগর জীবনের নতুন গন্তব্য

আবাসিক উন্নয়নের পাশাপাশি ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, ধানমন্ডি সেন্টার পয়েন্ট, ইউনিসেন্ট্রাল ও ইউনাইটেড হাউজ। অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিসর নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।

খুচরা বাণিজ্য ও ভোক্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প সেন্টারপয়েন্ট। প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের প্রকল্পটি বিমানবন্দর ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে বাণিজ্যিক স্থাপনার পাশাপাশি খোলা জায়গা, কেনাকাটা, খাবার ও বিনোদনের সুবিধা রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির পরিকল্পনায় শুধু খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র নয়, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে মানুষের অবসর ও সামাজিক ব্যবহারের জায়গাকেও যুক্ত করা হয়েছে।

এ ধরনের উন্নয়নের অর্থনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ব্যবসার উপযোগী স্থান, মানুষের সহজ প্রবেশ এবং বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করে। একটি প্রকল্পের নকশা ও ব্যবস্থাপনার মান তাই সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সেবা গ্রহণকারী মানুষের অভিজ্ঞতা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউনাইটেডের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কাজকে একসঙ্গে দেখলে নগরজীবনের এ পারস্পরিক সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়।

ভবন পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনা

রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের মূল্যায়নে শুধু নির্মাণ ব্যয় নয়, ভবন ব্যবহারের পুরো সময়ের পরিচালন ব্যয় ও কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার, নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিষয়গুলো নকশার পর্যায়েই বিবেচনায় রাখা হলে ভবন পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

গুলশান সেন্টার পয়েন্টে ব্যবহৃত লো-ইমিসিভিটি বা লো-ই এবং রিফ্লেক্টিভ গ্লাস সূর্যের তাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ভবনটিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে জ্বালানি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতাকে ভবনের নকশা ও পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোয় পয়োবর্জ্য পরিশোধনাগার বা এসটিপি এবং পানি শোধনাগার বা ডব্লিউটিপি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের ব্যবহার ও ভবনের সেবামান ধরে রাখার জন্য এ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

শিল্প ও বাণিজ্যের অবকাঠামোয় নির্মাণ অভিজ্ঞতা

ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের প্রকৌশল সক্ষমতার আরেকটি দিক দেখা যায় আবাসন ও অফিস ভবনের বাইরের প্রকল্পগুলোয়। টেকনাফ স্থলবন্দরে ভূমি উন্নয়ন, গুদাম, সংযোগ সড়ক এবং পণ্য ও যাত্রী জেটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ অভিজ্ঞতা পণ্য পরিবহন ও সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তার কাজের পরিধি তুলে ধরে।

বিদ্যুৎ অবকাঠামোয়ও রয়েছে নির্মাণ অভিজ্ঞতা। ঢাকা ইপিজেডের জন্য ৮৮ মেগাওয়াট ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের জন্য ৭২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ একাধিক কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছে। প্রকল্পগুলোর ধরন আলাদা হলেও ভূমি প্রস্তুতি, প্রকৌশল ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনার সমন্বয় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

স্থলবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর এ বৈচিত্র্য প্রতিষ্ঠানটির কাজকে দেশের উৎপাদন, বাণিজ্য এবং সেবার সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া হিসাবে, এর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কর্মসংস্থানের পরিধি ৭৫০ জনের বেশি। ফলে উন্নয়নের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের ধরন ও ব্যবহারও ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের অবস্থান বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

পরবর্তী উন্নয়নে সমন্বয়ের গুরুত্ব

প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ বর্গফুটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ইউনাইটেড রিয়েল এস্টেটের সামনে বড় পরিসরের কাজের সুযোগ তৈরি করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্মাণের মানের পাশাপাশি সেবা ব্যবস্থাপনা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বৃহত্তর নগর অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একটি টাউনশিপের নিজস্ব পরিকল্পনা যত বিস্তৃতই হোক, এর কার্যকারিতা আশপাশের সড়ক, গণপরিবহন, পানি সরবরাহ ও নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একইভাবে আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে দক্ষ নকশা ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং সহায়ক নীতির প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বেসরকারি আবাসন ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সাফল্য শুধু প্রকল্পের ভেতরের অবকাঠামোর ওপর নয়, বৃহত্তর নগর পরিকল্পনার সঙ্গে এর সমন্বয়ের ওপরও নির্ভর করবে।

09/10/2026

দেশের আবাসন খাত বাঁচলে বাঁচবে অর্থনীতি

একটি ফ্ল্যাট বিক্রি কমে গেলে তার প্রভাব শুধু আবাসন ব্যবসায় সীমাবদ্ধ থাকে না, ধাক্কা লাগে রড-সিমেন্ট থেকে শুরু করে সিরামিক, কাচ, আসবাবপত্র ও পরিবহনশিল্পেও। কমে নির্মাণশ্রমিকের কাজ, চাপে পড়ে ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম।

অর্থাৎ, আবাসন খাতের স্থবিরতা একে একে থামিয়ে দিতে পারে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বহু শিল্পের চাকা। তাই আবাসন খাতকে সচল রাখা মানে শুধু ফ্ল্যাটের বাজার চাঙা করা নয়, বরং কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখা।

বাংলাদেশের আবাসন বাজারে বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। চাহিদা থাকলেও ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

প্রকল্প থাকলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ছে। ফ্ল্যাট প্রস্তুত থাকলেও অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করছেন।

উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, কর ও নিবন্ধন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে আবাসন ব্যবসার হিসাব কঠিন হয়ে উঠেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার আবাসিক ফ্ল্যাট বিক্রির গতি আগের তুলনায় কমেছে। এ পরিস্থিতিতে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে-মানুষ কি ফ্ল্যাট কিনতে চাইছেন না, নাকি আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে কিনতে পারছেন না?

একটি ভবন, বহু শিল্পের সংযোগ
একটি ভবনকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডের সমষ্টি। কিন্তু অর্থনীতির দৃষ্টিতে একটি ভবন আসলে বিশাল সরবরাহব্যবস্থার অংশ।

রড আসে ইস্পাত কারখানা থেকে, সিমেন্ট আসে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে। বালু ও পাথর সরবরাহ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এরপর যুক্ত হয় টাইলস, স্যানিটারি পণ্য, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম, রং, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও লিফটের মতো পণ্য। এসব উপকরণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হয় পরিবহনব্যবস্থার।

অর্থাৎ, একটি আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে বহু শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ হলে তার অর্থের প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে এসব খাতে। বিপরীতে, প্রকল্পের কাজ বন্ধ হলে সংকুচিত হয় সেই প্রবাহও।

নির্মাণসামগ্রীর বাজারে প্রথম ধাক্কা
আবাসন খাতের মন্দার অন্যতম বড় প্রভাব পড়ে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে। নতুন ভবন নির্মাণ কমে গেলে রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণের চাহিদা কমতে পারে।

চাহিদা কমে গেলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কারখানার পক্ষে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে চাপ তৈরি হয় ছোট সরবরাহকারী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর।

এর প্রভাব শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে যুক্ত ট্রাকমালিক ও চালকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

অর্থাৎ, আবাসন খাতের সংকট একটি প্রকল্প থেকে শুরু হলেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো শিল্পশৃঙ্খলে।

কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে প্রভাব
আবাসন খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ। একটি ভবন নির্মাণে প্রকৌশলী ও স্থপতির পাশাপাশি কাজ করেন রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, টাইলস মিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নির্মাণশ্রমিক।

নির্মাণকাজ কমে গেলে এসব মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আয় কমে গেলে কমতে পারে তাদের দৈনন্দিন ব্যয়ও। এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় দোকানপাট, বাজার, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবামূলক ব্যবসায়।

একজন শ্রমিকের আয় কমে যাওয়া শুধু তার পরিবারের জন্যই সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে তাঁর ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্য ব্যবসায়ীদের আয়েও। এভাবেই আবাসন খাতের সংকট অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব তৈরি করতে পারে।

গৃহঋণের সুদ ও ক্রেতার অপেক্ষা
আবাসন খাতের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ গৃহঋণের সহায়তায় ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ঋণের সুদের হার বাড়লে মাসিক কিস্তির পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে নতুন করে হিসাব করতে হয়-এখনই ফ্ল্যাট কেনা হবে, নাকি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা হবে।

এই অপেক্ষা আবাসন বাজারে চাহিদা ও বিক্রির গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

একজন ক্রেতা গৃহঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনলে সেই অর্থ ডেভেলপারের কাছে যায়। ডেভেলপার নির্মাণকাজে অর্থ ব্যয় করেন। সেখান থেকে অর্থ পৌঁছায় শ্রমিক, ঠিকাদার ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীদের কাছে। তারাও আবার নিজেদের ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে সেই অর্থ ব্যয় করেন।

অর্থাৎ, গৃহঋণ ও আবাসন বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়। এ প্রবাহ কমে গেলে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোও চাপে পড়তে পারে।

ফ্ল্যাট বিক্রির পরও অর্থনীতিতে তৈরি হয় চাহিদা
একটি পরিবারের নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি ধাপ শুরু হয়। নতুন বাসার জন্য প্রয়োজন হয় খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, পর্দা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, লাইটিং সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সংযোগ।

এতে উপকৃত হতে পারে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, গৃহসজ্জা ও প্রযুক্তিসেবার মতো খাত। ফ্ল্যাট কেনার পর বাসা সাজানো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার ব্যয়ও সংশ্লিষ্ট বাজারে চাহিদা তৈরি করে।

তাই আবাসন খাতের প্রভাব শুধু ভবন নির্মাণ বা ফ্ল্যাট বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভোক্তাপণ্যের বাজার ও বিভিন্ন সেবামূলক ব্যবসাও।

সংকটের মূল কোথায়?
আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ, গৃহঋণের ব্যয়, আমদানিনির্ভর উপকরণের দামে ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে খাতটির ব্যবসায়িক পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন, ডেভেলপাররা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক হন এবং বিনিয়োগকারীরাও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে নতুন প্রকল্প শুরু, নির্মাণকাজের গতি ও ফ্ল্যাট বিক্রির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে বাজারের স্থবিরতার মাত্রা নির্ধারণে ফ্ল্যাট বিক্রি, নতুন প্রকল্প, নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা, গৃহঋণ বিতরণ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করা জরুরি।

আবাসন খাত সচল করতে কী প্রয়োজন?
আবাসন খাতের গতি ফেরাতে শুধু ফ্ল্যাটের দাম কমানোর আলোচনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ক্রেতার সক্ষমতা, নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ।

প্রথমত, মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী গৃহঋণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন অর্থায়নব্যবস্থা শক্তিশালী করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, কর ও নিবন্ধন ব্যয়ের কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। চতুর্থত, নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে জমি ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা এবং নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আবাসন ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগনির্ভর। আজ বিনিয়োগ করে অল্প সময়ের মধ্যে মুনাফা পাওয়া যায় না। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য কর-সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ।

অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নে অর্থের উৎস, করব্যবস্থার ন্যায্যতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে প্রকৃত বিনিয়োগ কতটা বাড়ছে-এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আবাসন শুধু ইট-পাথরের গল্প নয়
একটি অর্থনীতির শক্তি শুধু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আস্থাও অর্থনৈতিক গতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

আবাসন খাত তাই শুধু ইট-পাথরের গল্প নয়। এটি রড ও সিমেন্টশিল্পের গল্প, নির্মাণশ্রমিকের মজুরির গল্প, ব্যাংকের ঋণের গল্প। একই সঙ্গে এটি আসবাবপত্র, সিরামিক, কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও পরিবহনশিল্পের গল্প।

সর্বোপরি, এটি অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ ও আস্থার গল্প।

আবাসন খাতের গতি কমে গেলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বহু শিল্পে। আবার খাতটি ঘুরে দাঁড়ালে সংশ্লিষ্ট শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

কারণ একটি ভবনের ভিত শক্ত হলে শুধু একটি ভবনই দাঁড়ায় না; এর সঙ্গে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় অর্থনীতির বহু স্তম্ভেরও।

09/10/2026

স্মার্ট আবাসন টেকসই নগরায়ণ
ভবিষ্যতের আবাসন ও আমাদের ভাবনা
প্রকাশ: বুধবার ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২
বণিক বার্তা

ভবিষ্যতের আবাসন নিয়ে তাই প্রশ্নটি শুধু কতগুলো বাড়ি নির্মাণ করা হবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো সে বাড়ি কোথায় হবে, কার জন্য হবে, কতটা সাশ্রয়ী হবে এবং পরিবর্তিত পরিবেশে কতদিন নিরাপদ ও বাসযোগ্য থাকবে।

মানুষের সভ্যতার ইতিহাস অনেকখানি তার আশ্রয়ের ইতিহাস। একসময় গুহা, গাছের ছায়া কিংবা ডালপালায় তৈরি অস্থায়ী কাঠামো ছিল মানুষের নিরাপদ আশ্রয়। কৃষিভিত্তিক স্থায়ী জনপদ গড়ে ওঠার পর ঘর হয়ে উঠল পরিবার ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্র। এরপর নগরসভ্যতা, শিল্পবিপ্লব, আধুনিক প্রকৌশল এবং প্রযুক্তির বিকাশ আবাসনের ধারণাকে বারবার বদলে দিয়েছে। আজ আমরা সে বিবর্তনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।

ভবিষ্যতের আবাসন নিয়ে তাই প্রশ্নটি শুধু কতগুলো বাড়ি নির্মাণ করা হবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো সে বাড়ি কোথায় হবে, কার জন্য হবে, কতটা সাশ্রয়ী হবে এবং পরিবর্তিত পরিবেশে কতদিন নিরাপদ ও বাসযোগ্য থাকবে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ প্রশ্ন আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বর্তমান ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবেলায় দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ নতুন আবাসন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের ভূমি সীমিত, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি এবং কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধাকে কেন্দ্র করে নগরমুখী মানুষের চাপ রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের আবাসন পরিকল্পনায় প্রথম বড় পরিবর্তনটি আসতে হবে ভূমি ব্যবহারে।

আনুভূমিকভাবে শহর বাড়ানোর পরিবর্তে পরিকল্পিত উল্লম্ব সম্প্রসারণ, উচ্চ ঘনত্বের আবাসন, মিশ্র ভূমি ব্যবহার, অব্যবহৃত ও স্বল্প ব্যবহৃত জমির কার্যকর ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। তবে উচ্চ ঘনত্ব মানে শুধু একই জায়গায় অনেক ভবন কিংবা অনেক মানুষ নয়। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, উন্মুক্ত ও সবুজ স্থান, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা, বাজার, খেলার জায়গা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকতে হবে। কারণ আমাদের প্রয়োজন শুধু ‘হাউজিং’ নয়, প্রয়োজন বাসযোগ্য ‘হ্যাবিট্যাট’।

দ্বিতীয় বড় পরিবর্তন আসবে প্রযুক্তিতে। প্রিফ্যাব্রিকেটেড ও মডুলার নির্মাণ, বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম), জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যুগোপযোগী জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ভবিষ্যতে নির্মাণের সময় ও ব্যয় কমাতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার আমাদের আবাসন পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা প্রদানের ধরনেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রযুক্তি আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কোথায় আবাসনের চাহিদা বাড়ছে, কোন জমি ব্যবহারের উপযোগী, কোথায় দুর্যোগ ঝুঁকি বেশি এবং কোন এলাকার অবকাঠামো কত মানুষের চাপ নিতে সক্ষম।

কিন্তু ভবিষ্যতের আবাসনকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক হলেই চলবে না, তাকে হতে হবে জলবায়ু সহনশীল। বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তর হতে পারে। ফলে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সহনশীল আবাসন, বন্যাপ্রবণ এলাকায় পানির গতিপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্মাণ এবং শহরে ভূমিকম্প সহনশীল ভবন, পর্যাপ্ত জলাধার ও সবুজ এলাকার প্রয়োজন আরো বাড়বে। সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী নকশাও ধীরে ধীরে আবাসনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অবশ্য মানুষের সামর্থ্য। বাজারে ফ্ল্যাট থাকলেই আবাসন সমস্যার সমাধান হয় না, যদি অধিকাংশ মানুষ তা কিনতে না পারেন। তাই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহজ অর্থায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়াভিত্তিক আবাসন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রস-সাবসিডির মতো মডেল নিয়ে আরো কাজ করতে হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেও স্বল্পব্যয়ের নগর ও গ্রামীণ গৃহায়ন প্রকল্প এবং অসহায় ও দুস্থ নাগরিকদের জন্য গৃহায়ন কার্যক্রমের বিষয়টি স্পষ্টভাবে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনুমোদিত জাতীয় নগরনীতি ২০২৫ পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সেখানে সাশ্রয়ী আবাসন, বিকেন্দ্রীকরণ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ও এসেছে। এ নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের আবাসন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকেও তাই শুধু প্লট বা ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আমাদের ভাবতে হবে একটি পরিবারকে ঘিরে। সে পরিবারের কর্মসংস্থান কোথায়, শিশুর বিদ্যালয় কত দূরে, চিকিৎসার সুযোগ আছে কিনা, যাতায়াতে কত সময় যাচ্ছে এবং আবাসন ব্যয় তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।

হাজার বছর আগে মানুষ ঘর বানিয়েছিল নিরাপত্তার জন্য। ভবিষ্যতের মানুষও নিরাপত্তা চাইবে, তবে সে নিরাপত্তার অর্থ হবে আরো বিস্তৃত। সেখানে থাকবে দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা, আর্থিক সামর্থ্য, প্রযুক্তির সুবিধা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন।

ভবিষ্যতের গৃহায়ন তাই মূলত ভবিষ্যতের মানুষের জীবনকে পরিকল্পনা করা। সেখানে প্রকৌশল থাকবে, প্রযুক্তি থাকবে, অর্থনীতি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা থাকবে। কিন্তু সবকিছুর কেন্দ্রে থাকতে হবে মানুষকে। একটি উন্নত রাষ্ট্রের পরিচয় শুধু তার আকাশছোঁয়া ভবনে নয়, বরং সে রাষ্ট্র তার সাধারণ মানুষের জন্য কতটা নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করতে পেরেছে, শেষ পর্যন্ত সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

Address

Dhaka

Telephone

+8801721157027

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ঢাকার বাড়ী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ঢাকার বাড়ী:

Shortcuts

Share

Category