Law & Remedy / আইন ও প্রতিকার

Law & Remedy / আইন ও প্রতিকার Kazi Fahmidur Rahman
advocate
Supreme Court of Bangladesh

আলহামদুলিল্লাহ.... 🏆🏆🏆আইনজীবী হিসেবে ১ যুগ অতিক্রম করে ১৩ তম বর্ষে পদার্পণ করলাম। যেতে হবে আরো বহুদূর ইনশাআল্লাহ। কাজী ফ...
01/04/2024

আলহামদুলিল্লাহ.... 🏆🏆🏆
আইনজীবী হিসেবে ১ যুগ অতিক্রম করে ১৩ তম বর্ষে পদার্পণ করলাম।
যেতে হবে আরো বহুদূর ইনশাআল্লাহ।

কাজী ফাহমিদুর রহমান
এ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
(হাইকোর্ট ডিভিশন)

***সম্মানিত করদাতা যাদের (TIN) টিন সার্টিফিকেট বিভিন্ন প্রয়োজনে নিয়েছেন। ট্যাক্সেবল ইনকাম থাকুক বা না থাকুক ২০২৩-২০২৪ ...
07/11/2023

***সম্মানিত করদাতা যাদের (TIN) টিন সার্টিফিকেট বিভিন্ন প্রয়োজনে নিয়েছেন। ট্যাক্সেবল ইনকাম থাকুক বা না থাকুক ২০২৩-২০২৪ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিন।
সরকার ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানার সমমুখীন হবেন!

# # #বিঃদ্রঃ - ৩০ নভেম্বর ২০২৩, Income Tax Filing এর শেষ সময়। এই সময়ের মধ্যে আপনার ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিশন সম্পন্ন করুন, অন্যথায় জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

# # #সম্মানিত করদাতা,
আপনার এবারের আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে নিচের ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে জমা দিন।

# #চাকরি/বেতন খাতে আয়ের তথ্য :
1. সেলারি সার্টিফিকেট ;
2. সেলারির বিপরীতে কর্তনকৃত টিডিএস -এর প্রত্যয়নপত্র;
3. ব্যাংক স্টেটমেন্ট (From 01-07-2022 to 30-06-2023);
4. Provident Fund info/GPF Balance Sheet. (if any)

# #ব্যবসা/পেশা খাতে আয়ের তথ্য:
5. ট্রেড লাইসেন্স;
6. ব্যবসার নামীয় ব্যাংক স্টেটমেন্ট;
7. ব্যবসার নামে লোন থাকলে- লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট;
8. ব্যবসা আয়ের উপর অগ্রীম আয়কর (AIT) বা উৎসে কর কর্তন (TDS) থাকলে অগ্রীম আয়কর বা উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র ও চালানের কপি;
9. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী;
10. মূল্যসহ ব্যবসার সম্পদের তালিকা (Furniture, fixture, Equipment & Machinarie etc.);

# #বিনিয়োগ ও ব্যাংক ইন্টারেস্ট তথ্য:
11. জীবন বীমা করা থাকলে প্রিমিয়াম প্রদানের রসিদ;
12. ডিপিএস করা থাকলে ডিপিএস স্টেটমেন্ট;
13. পূর্বের কোন ডিপিএস এনক্যাশ বা নগদায়ন করে থাকলে নগদায়ন প্রত্যয়নপত্র বা এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট ;
14. এফডিআর করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ও ইন্টারেস্ট প্রাপ্তির প্রত্যয়নপত্র;
15. শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ থাকলে ব্রোকার হাউস থেকে বিনিয়োগ প্রত্যয়নপত্র ও পোর্টফলিও এর কপি;
16. সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ;
17. সঞ্চয়পত্রের ইন্টারেস্ট প্রাপ্তি ও তার বিপরীতে টিডিএস কর্তনের প্রত্যয়নপত্র;

# #গৃহ-সম্পত্তি হতে আয়ের তথ্য:
18. আপনার বাড়ি/ফ্ল্যাট/দোকান ভাড়া দিয়ে আয় থাকলে ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিন;
19. আপনার বাড়ি/ফ্ল্যাট/দোকান এর পৌর কর বা সিটি কর্পোরেশন কর প্রদানের রসিদ;
20. হাউজ লোন থাকলে- লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট;

# #বৈদেশিক/রেমিট্যান্স আয়ের তথ্য:
21. বৈদেশিক/রেমিট্যান্স আয়ের সপক্ষে ব্যাংক সার্টিফিকেট বা এফএমজে ফরম/বৈদেশিক মুদ্রা ঘোষণা ফরম এর কপি; (মনে রাখবেন, বৈদেশিক আয় করমুক্ত হতে হলে তা আপনার নিজের আয় হতে হবে এবং প্রপার চ্যানেলে আসতে হবে);

# #সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তথ্য:
22. এ বছর আপনার নামে কোন জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি/গাড়ি ক্রয় করে থাকলে তার দলিলের কপি;
23. এ বছর আপনার কোন জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি/গাড়ি বিক্রি করে থাকলে বিক্রয় দলিলের কপি ও উৎসে কর্তনের কপি;
24. বাড়ি/ফ্ল্যাট নির্মাণাধীন থাকলে নির্মাণ বিনিয়োগের পরিমাণ;
25. আপনার নামে গাড়ি থাকলে পারসোনাল ট্যাক্স টোকেনের কপি;
26. আপনার ব্যাংক লোন থাকলে লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট ;
27. ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে বাড়ি নির্মাণকালে সাইনিং মানি পেয়ে থাকলে তার ডকুমেন্ট;
28. ব্যক্তিগত লোন ৫ লাখ টাকার বেশি হলে এর সপক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ;
29. পরিবারের কারো কাছ থেকে কোন দান গ্রহণ করলে বা কাউকে দান করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ; আর টাকা দান হলে তার সপক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ;
30. এছাড়াও আপনার অন্য কোন আয় থাকলে তার ডকুমেন্ট দিন;

# # #বি:দ্র: সকল Bank Statement/প্রত্যয়নপত্রের সময়কাল হবে 01/07/2022 থেকে 30/06/2023 ইং পর্যন্ত।

# #অন্যান্য তথ্যাবলি:
31. আপনি এ বছর নতুন করদাতা হলে আপনার এনআইডি এর ফটোকপি, টিআইএন সার্টিফিকেট, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এড্রেস ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি;

# # #32. আপনি পুরাতন করদাতা হলে গত বছরে দাখিলকৃত রিটার্ন এর কপি লাগবে;

33. আপনার আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও তাদের বয়স।

# # #দৃষ্টি আকর্ষণ: যথাযথ কর পরিগণনার জন্য আপনার সকল কাগজপত্র একত্রে দিন।

মনে রাখবেন, এবার ৩০ নভেম্বরের পরে রিটার্ন দাখিল করলে আইনানুযায়ী কর রেয়াত পাবেন না এবং ৪% বিলম্ব ফি দিতে হবে।

কাজী ফাহমিদুর রহমান
আইনজীবী
০১৮২৪৯৬৬৬৬৬ (whatsapp)

🎯 আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ১০টি নিঞ্জা টেকনিক 🎯⛳ আয়কর আইনের ব্যাপ্তি সীমাহীন।  আয়কর রিটার্ন দাখিল আয়কর  আইনের একটি অংশ। য...
02/11/2023

🎯 আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ১০টি নিঞ্জা টেকনিক 🎯

⛳ আয়কর আইনের ব্যাপ্তি সীমাহীন। আয়কর রিটার্ন দাখিল আয়কর আইনের একটি অংশ। যদিও রিটার্ন জমা দেয়া আইনের একটি অংশ কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয় রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে। তাই সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করা অতীব জরুরি। তাই আমরা চাই বা না চাই, আমাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক তথাপি আয়কর আইনের অনুশাসন ও সুনাগরিকের দায়িত্ব প্রতিপালন সরূপ কিছু ব্যতিক্রম প্রত্যেক ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যাদের আয় আছে এবং যাদের আয় নাই কিন্তু ই-টিন আছে তাদের প্রত্যেকেই আবশ্যিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

আমাদের দেশে রিটার্ন দাখিল করাকে অনেকে ঝক্কি বা ধকল হিসেবে গণ্য করে। অনেকের মাঝে অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা আছে যে, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই ট্যাক্স অফিসের নজরে পড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন, বরঞ্চ, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে ট্যাক্স অফিসের নজরে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু, আয়কর রিটার্ন দাখিল করতেই হবে তাই কৌশলী হওয়ার বিকল্প ব্যতীত অন্য কিছু নেই। কেননা, শুধুমাত্র কৌশলী হলেই আমরা আমাদের করের বোঝাই শুধু কমাতেই পারব না বরঞ্চ যেকোন ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারব।

🔎 নিম্নে রিটার্ন দাখিল করার ১০টি নিঞ্জা টেকনিক নিয়ে আলোচনা করা হলঃ

🔴পুনশ্চঃ এই নিবন্ধের ১০টি টেকনিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে তথ্য সমৃদ্দ হতে চাইলে সমগ্র নিবন্ধটি পড়ুন এবং পড়ার পড়েও যদি কোন টেকনিক নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানান। আপনার প্রশ্নের উত্তর যদি আমাদের জানার পরিধির মধ্যে থাকে তাহলে আমারা যথাসময়ে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি যদি এমন হয় যে, ইতিমধ্যেই আপনি সমগ্র বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন তাহলে দয়া করে নিবন্ধটি ইগ্নোর করুন। চলুন, এবার শুরু করা যাক।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-১
প্রথমেই আমাদের দেখতে হবে যে, একজন ব্যক্তির ই-টিন থাকলেই কি আয়কর রিটার্ন বা ট্যাক্স রিটার্ন জমা বা দাখিল করার প্রয়োজন আছে কিনা? যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তাদেরকে দুইটি শর্তের আলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। শর্ত-ক) যাদের করযোগ্য আছে এবং শর্ত-খ) যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। শর্তের প্রথম অংশ অর্থাৎ ‘ক’ খুবই সুস্পষ্ট। আমরা ‘খ’ অংশ নিয়ে আলোচনা করব অর্থাৎ যাদের আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যেমনঃ ধরুন, যারা চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা কোন ধরণের সেবা দিতে চায়, দেশে বা দেশের বাহিরে করমুক্ত আয় করে কিংবা জমি কিনতে চায়, জমি বিক্রি করতে চায়, লোন বা ঋণ নিতে চায়, ফার্মের অংশীদার হতে চায় কিংবা কোন ধরণের লাইসেন্স নিতে চায় ইত্যাদি যে কোন কাজে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। যেহেতু এই সব ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রয়োজন হবে তাই অনায়েসে বলা যায় যে, এই সব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তাই, রিটার্ন দাখিল ব্যতীত ভিন্ন কিছু আছে বলে আমাদের জানা নেই।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-২
দ্বিতীয় নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে, যে কোন মুল্যে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, স্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে যদি যেকোন সময় রিটার্ন জমা দেয়া যায় তাহলে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে কেন আয়কর রিটার্ন দাখিল করব? এর উত্তর হচ্ছে যে, ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে যেকোন ধরণের কর অব্যহতি, রেয়াত, অবকাশ বা হ্রাসকৃত হারে কর পরিশোধ ইত্যাদি কোন সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না। তাই, আমরা যদি ট্যাক্স আইনের আওতায় কোন সুবিধা নিতে চাই তাহলে মাথায় রাখতে হবে যে, ৩০ শে নভেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ এবং বর্তমান আইনে সময়ের আবেদনের কোন সুযোগ নাই।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৩
তৃতীয় নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে, করমুক্ত আয় মানেই ট্যাক্স রিটার্ন (রিটার্ন দাখিল) মুক্ত নয়। আমার আয় করমুক্ত এর অর্থ এই নয় যে, আমার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে না। উদাহরণ সরূপ, আমরা ফ্রিলান্সারদের আয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি।
আমাদের মধ্যে যারা ফ্রিলান্সিং করে যারা আয় করে তাদের মধ্যে অনেরকেরই মনে প্রশ্ন জাগে “ফ্রিলান্সিং বা প্রবাসীদের আয় কি সত্যিই করমুক্ত?” এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে যদি আয়টি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ৬ষ্ঠ তফসীলের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে আনয়ন করা হয় এবং আবশ্যিকভাবে যদি ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা হয় তবেই তা করমুক্তের আওতায় পড়বে। মোদ্দকথা, করমুক্ত দাবি করতে হলে ৩টি প্রধান শর্ত পালন করতে হবে। যথাঃ
১) সংশ্লিষ্ট আয়টি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ৬ষ্ঠ তফসীলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে;
২) অর্জিত অর্থ (ফরেন রেমিট্যান্স) ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আনতে হবে;
৩) প্রতি বছর ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

এরপরেও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, “আমার আয় তো আইননুযায়ী করমুক্ত এবং এবার স্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে যদি যেকোন সময় রিটার্ন জমা দেয়া যায় তাহলে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে কেন আয়কর রিটার্ন দাখিল করব?” এর উত্তর হচ্ছে যে, ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে আমার এই করমুক্ত আয় করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে, তাই ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এছাড়াও, ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে করমুক্ত, রেয়াত ইত্যাদি কোন সুবিধাতো পাবই না বরঞ্চ অতিরিক্ত হিসেবে ১৭৪ ধারা অনুযায়ী কর জমা দিতে হবে।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৪
চতুর্থ নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, আয়, ব্যয়, সম্পত্তি, বিনিয়োগ, লোন বা ঋণ ইত্যাদি উপাদান চিহ্নিত করা ও আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে উল্লেখ করা এবং প্রমাণসরূপ ডকুমেন্ট দাখিল করা। এক্ষেত্রে এই উপাদানগুলোকে ৬টি ভাগে ভাগ করে নিলে আমাদের ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ করতে সুবিধা হবে। যথাঃ ১) আয়ের হিসাব {কোন কোন খাত থেকে আয় হচ্ছে যেমন, বেতন খাত, FDR এর মুনাফা, করমুক্ত আয় (ফ্রিলান্সারদের আয়) ইত্যাদি}। ২) ব্যয়ের খাত (কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে যেমন, পারিবারিক খরচ, বাড়ি ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়া ইত্যাদি)। ৩) পূর্ববর্তী সম্পদ (৩০ শে জুন ২০২২ পর্যন্ত যেই সম্পদ গুলো অর্জিত হয়েছে, যেমন, জমি-জমা, ব্যাংকের টাকা, গাড়ি ইত্যাদি)। ৪) বর্তমান সম্পদ (১ লা জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ শে জুন ২০২৩ পর্যন্ত অর্জিত সম্পদ, যেমন, জমি-জমা, ব্যাংকের টাকা, গাড়ি ইত্যাদি)। ৫) দান ও ঋণ ৬) বিনিয়োগ (সরকার নির্ধারিত বিনিয়োগের খাত, যেমন, সঞ্চয় পত্র, জীবন বীমার প্রিমিয়াম ইত্যাদি)। মোদ্দকথা, একটি ট্যাক্স রিটার্নে সাম্ভাব্য সকল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন । প্রথমেই বের করার চেষ্টা করুন আপনার আয় কোনটি। এই আয়ের উপরই কর নির্ধারণ হবে। তারপর সারা বছর কি কি খাতে খরচ করেছেন তার একটি হিসাব করুন। এরপর আপনার সম্পত্তি চিহ্নিত করুন। যেমন ধরুন, আপনি গাড়ি কিনেছেন। এই গাড়ি ক্রয় করা ব্যয় নয় বরঞ্চ সম্পদ। এভাবে সম্পদগুলো আলাদা করুন। এবার দান নিয়ে কথা বলা যাক। তারপর ধরুন, আপনি যদি আপানর স্ত্রীকে ব্যাংকিং চ্যানেলে কোন অর্থ দান করে থাকেন তাহলে তার স্বপক্ষে ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন। এখানে একটি বিষয় হচ্ছে যে, দানের ক্ষেত্রে দানের বিষয় দুইজনের ট্যাক্স ফাইলে প্রতিফলন থাকতে হবে। যেমনঃ ধরুন, জনাব রহিম তার স্ত্রী মিসেস করিমন বিবিকে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে দান করেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, দুই জনের ট্যাক্স ফাইলে এই ৫ লক্ষ টাকা দানের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ জনাব রহিমের ট্যাক্স ফাইল থেকে ৫ লক্ষ টাকা দান হিসেবে বিয়োগ হবে অন্যদিকে মিসেস করিমন বিবির ফাইলে ৫ লক্ষ টাকা দান হিসেবে যোগ হবে। তথাপি, দানের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করতে হবে। অর্থাৎ, তাদের বলতে হবে যে, তারা কি কারণে একজন আরেকজনকে দান করেছেন। সর্বশেষে হচ্ছে, ঋণ। ঋণ অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলে হতে হবে এবং ঋণের স্বপক্ষে ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৫
পঞ্চম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, একটি চেকলিস্ট তৈরি করা অর্থাৎ কি লাগবে, কি লাগবে না কিংবা কি দিব এবং কি দিব না। এভাবে ১,২,৩ সিরিয়াল করে সব লিখব। তারপর চেকলিস্ট অনুযায়ী দলিলাদি সংগ্রহ করব। ইতিমধ্যেই আমরা আমাদের চতুর্থ নিঞ্জা টেকনিকে দেখেছি যে, কিভাবে আয়, ব্যয়, সম্পত্তি, বিনিয়োগ, লোন বা ঋণ ইত্যাদি উপাদান চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত উপাদানগুলোর জন্য ডকুমেন্ট সংগ্রহ করব। আমাদের এই পেজে একটি চেকলিস্ট দেওয়া আছে, এক্ষেত্রে , আমরা চাইলে পেজে দেওয়া চেকলিস্ট এর সহযোগিতা নিতে পারি।
এই চেকলিস্টে আমরা দেখতে পারব যে, আয়ের খাত যদি হয় চাকুরী তাহলে আমাদের কি কি ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে অথবা আয়ের খাত যদি হয় ব্যবসা তাহলে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে। এই ভাবে সকল ডকুমেন্ট একাট্টা করব।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৬
ষষ্ঠ নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, কর গণনা, রেয়াত, অব্যহতি ইত্যাদি সঠিকভাবে পরিগণনা করা। আমরা যদি আমাদের আয়ের খাত চিহ্নিত করতে পারি তাহলে এর পর আমাদের চিহ্নিত করতে হবে কোন আয়ের খাত নিয়মিত কর হার সম্বলিত কিংবা কোন আয়ের খাত নুন্যতম কর হার সম্বলিত অথবা কোন আয়ের খাত হ্রাসকৃত কর হার সম্বলিত বা কর অব্যহতিপ্রাপ্ত। সেক্ষেত্রে, আমরা অবশ্যই আয়কর আইন, ২০২৩; আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪, আয়কর পরিপত্র ২০২৩-২৪ এর নিয়ম ও ব্যাখ্যা অনুসরণ করব। কেননা, একমাত্র সঠিকভাবে আইন পালনই আমাদের কর ভার হ্রাস হবে।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৭
সপ্তম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, আয়কর রিটার্ন ফরমের ঘরগুলো অর্থাৎ যেই রিটার্ন ফরমটা আমরা পূরণ করব সেই আয়কর রিটার্ন ফরমটা ভালো ভাবে বুঝতে হবে। রিটার্ন ফরমের ঘরগুলোতে কোন ঘরে কি লিখতে হবে তা আমাদের আয়ত্ত করতে হবে। যেমনঃ সম্পত্তির ঘরগুলোতে কোন ঘরে কোন সম্পত্তি কিংবা আয়ের ঘরগুলোতে কোন ঘরে কোন আয় বসবে এই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। শুধু তাই নয়, কোন ঘরগুলোতে কোন তথ্য দিয়ে পূরণ করছি তা জানাও আবশ্যক। এই বছর নতুন আইন পাস হওয়ার দরুন নতুন রিটার্ন ফরম প্রকাশ হয়েছে। তবে, আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪ এর ভাষ্যমতে, পূর্বের আয়কর রিটার্ন ফরম প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন সাপেক্ষে জমা বা দাখিল করা যাবে।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৮
অষ্টম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, রিটার্নের সাথে কি কি ডকুমেন্ট জমা দিব। আয়কর রিটার্নের সাথে অবশ্যই সকল সংশ্লিষ্ট বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের অনুলিপি জমা দিব। রিটার্ন ফরম আমরা যেসব ডকুমেন্টের উপর ভিত্তি করে পূরণ করেছি তার অনুলিপি বা ফটোকপি জমা দিতে হবে। উদাহরণসরূপ, জনাব রানা একজন বেসরকারি চাকুরীজীবী, তার আয়ের একমাত্র খাত হচ্ছে বেতন খাত। তাহলে জনাব রানাকে তার অফিস বেতন খাতের স্বপক্ষে বেতন বিবরণী বা স্যালারি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। সেই সার্টিফিকেটের ফটোকপি ট্যাক্স রিটার্নের সাথে জমা দিতে হবে।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৯
নবম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, ট্যাক্স রিটার্নটি সঠিকভাবে গুছিয়ে জমা দেয়া। ট্যাক্স রিটার্ন যদি হাতে লিখে পূরণ করা হয় তাহলে কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার না করাই উত্তম। ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ করার পর যেসব পাতায় করদাতার স্বাক্ষর প্রয়োজন সেসব পাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। যদি নতুন রিটার্ন ফরম জমা দিতে চাই সেক্ষেত্রে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি সবার উপরে রাখতে হবে তাহলে ট্যাক্স অফিস সহজেই আপনার ট্যাক্স রিটার্ন জমা করতে পারবে এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি দ্রুত আপনার হাতে ফেরত দিতে পারবে। এরপর রিটার্ন ও রিটার্নের সাথে যেসব ডকুমেন্ট (অবশ্যই ফটোকপি) দাখিল করব তা একসাথে বাঁধাই করব। বাঁধাই করার পর সকল ডকুমেন্ট (রিটার্ন ফরম সহ) একসেট ফটোকপি করে নথি সংরক্ষণের স্বার্থে নিজের কাছে রেখে দিব। এভাবেই আমাদের রিটার্নটি প্রস্তুত করার পর আয়কর অফিসে জমা দিব।

🎯 নিঞ্জা টেকনিক-১০
দশম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়। পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুন। নিজের রিটার্ন নিজে পূরণ করতে চাইলে অন্যের কাছে আইনের ধারা জানতে না চেয়ে সবার আগে নিজেকে বই নিয়ে বসতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন বই পড়ব? আপনি সবার আগে আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪; তারপর আয়কর আইন,২০২৩ এবং সর্বশেষ আয়কর পরিপত্র ২০২৩-২৪ পড়ুন। দেখুন, আমাদের প্রকাশিত এই নিবন্ধ কিংবা কোন মানুষের মুখের কথাও কোন আইন না। আমাদের প্রকাশিত এই নিবন্ধ শুধুই একটি দিকনির্দেশনা। এই নির্দেশনা না মানলে কোন অপরাধ হবে না। কিন্তু আইনের বইয়ের আইন না মানলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তাই আবারও বলছি, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার সময় একবার নয়, বেশ কয়েকবার আয়কর আইন, ২০২৩; আয়কর নির্দেশিকা; আয়কর পরিপত্র ইত্যাদি বইগুলো ভালোভাবে পড়া উচিৎ। তথ্য সমৃদ্ধ না হয়ে আয়কর রিটার্ন পূরণ না করাই শ্রেয়।

পরিশেষে বলতে হয়, যদিও ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস তথাপি, ৩০ নভেম্বর এর জন্য অপেক্ষা না করে আগভাগেই রিটার্ন তৈরি করে জমা দিন।

Collected...

 #আয়কর বর্ষ ২০২৩-২০২৪ এ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আপনার যা যা প্রয়োজন - #ব্যক্তিগত তথ্য :1. Photocopy of E-TIN certificate.2...
25/10/2023

#আয়কর বর্ষ ২০২৩-২০২৪ এ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আপনার যা যা প্রয়োজন -

#ব্যক্তিগত তথ্য :
1. Photocopy of E-TIN certificate.
2. Photocopy of NID.
3. 1 copy Passport size photo

#চাকুরির তথ্য :
1. Salary certificate.
2. Bank statement from 01-07-2022 to 30-06-2023
3. Provident fund info. (if any)

#ব্যবসায়ের তথ্য:
1. ট্রেড লাইসেন্স
2. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী
3. সম্পদ ও দ্বায় বিবরনী
4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট

#বিনিয়োগের তথ্য:
1. D.P.S (যদি থাকে)
2. Insurance certificate (যদি থাকে).
3. Share Market Investment (যদি থাকে)
4. (সঞ্চয় পত্র - যদি থাকে)

#সম্পদ ও দায় বিবরনীঃ
1. House, Apartment (যদি নিজ নামে থাকে)
2. Land, Car , Furniture , Electronics, etc. (যদি নিজের নামে থাকে)
3. Bank Loan info. (যদি নিজ নামে হয়)
4. Others Loan (যদি নিজ নামে হয়)।

বি দ্রঃ যদি আপনি আগে রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন তাহলে অবস্যই ঐ রিটানের একটি ফটো কপি লাগবে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ - ০১৮২৪৯৬৬৬৬৬

আয়কর বর্ষ ২০২৩-২০২৪ এ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আপনার যা যা প্রয়োজন -ব্যক্তিগত তথ্য :1. Photocopy of E-TIN certificate.2. Ph...
09/10/2023

আয়কর বর্ষ ২০২৩-২০২৪ এ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আপনার যা যা প্রয়োজন -

ব্যক্তিগত তথ্য :
1. Photocopy of E-TIN certificate.
2. Photocopy of NID.
3. 1 copy Passport size photo

চাকুরির তথ্য :
1. Salary certificate.
2. Bank statement from 01-07-2022 to 30-06-2023.
3. Provident fund info. (if any)

ব্যবসায়ের তথ্য:
1. ট্রেড লাইসেন্স 2022-2023
2. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী
3. সম্পদ ও দ্বায় বিবরনী
4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট

বিনিয়োগের তথ্য:
1. D.P.S (যদি থাকে)
2. Insurance certificate (যদি থাকে).
3. Share Market Investment (যদি থাকে)
4. সঞ্চয় পত্র - (যদি থাকে)

সম্পদ ও দায় বিবরনীঃ
1. House, Apartment (যদি নিজ নামে থাকে)
2. Land, Car , Furniture , Electronics, etc. (যদি নিজের নামে থাকে)
3. Bank Loan info. (যদি নিজ নামে হয়)
4. Others Loan (যদি নিজ নামে হয়)।

বি দ্রঃ যদি আপনি আগে রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন তাহলে অবস্যই ঐ রিটানের একটি ফটো কপি লাগবে।

প্রয়োজনে- ০১৮২৪৯৬৬৬৬৬

স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অধিকার:স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ত্ব পালন করতে স্বামী বাধ্য। এক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর ...
01/04/2023

স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অধিকার:

স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ত্ব পালন করতে স্বামী বাধ্য। এক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর আস্থাভাজন থাকতে হবে ও স্বামীর ন্যায় সঙ্গত আদেশ পালন করতে হবে।

কিন্তু স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে যৌনমিলনে অস্বীকার করে বা অন্য কোন ভাবে স্বামীর অবাধ্য হয় সেক্ষেত্রে স্বামী
স্ত্রীকে ভরণ-পোষন দিতে বাধ্য থাকবে না।
-- মিতা খান -বনাম- হেমায়েত বিবি, ১৪ ডিএলআর (হাইকোর্ট), পৃষ্ঠা-৪৫৫।

তবে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে স্ত্রী আলাদা বসবাস করলে স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।
--মোঃ ইব্রাহিম হোসেন সরকার- বনাম- মোসা. সোলেমান্নেসা (১৯৬৭, ১৯ ডি এল আর পৃষ্ঠা ৭৫১।

কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট?➥১. পর্চা বা খতিয়ান। ➥২. দলিল। ➥৩. ম্যাপ বা নকশা।এই ডকুমেন্টগুলো ছাড়া ...
27/10/2022

কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট?
➥১. পর্চা বা খতিয়ান।
➥২. দলিল।
➥৩. ম্যাপ বা নকশা।
এই ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনি জমি বিক্রয়, হস্তান্তর অথবা ব্যাংক লোন হতে নানান সমস্যা হয়।
সেকারণে, জমির খতিয়ান, দলিলসহ সকল কাগজপত্র সংগ্রহে রাখার জন্য সরকারি নানান দপ্তর রয়েছে, যারা ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখে। এখন আপনার কাজ হল, ঐ সকল দপ্তরগুলো কে নিশ্চিত করে তাদের শরণাপন্ন হওয়া ও কাগজপত্র গুলো সংগ্রহ করা।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, কোথায়, কীভাবে এবং কত সময়ের ভেতরে আপনি জমির খতিয়ান, দলিল ও নকশা সংগ্রহ করবেন।
➥প্রথমত,আপনার জমির খতিয়ান বা পর্চা কোথায় পাবেন.?
জমির পর্চা বা খতিয়ান মূলত চারটি অফিসে পাবেন। তা হলো,
১/ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
২/উপজেলা ভূমি অফিস।
৩/জেলা ডিসি অফিস।
৪/সেটেলমেন্ট অফিস।
➤ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা তহশিল অফিস
ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদিও খতিয়ান বা পর্চার বালাম বহি থাকে কিন্তু আপনি এই অফিসে হতে খতিয়ানের কপি নিতে পারবেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে শুধু খসরা খতিয়ান নিতে পারবেন যেটা আইনত কোন মূল্য নেই তারপরেও এই অফিসটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার জমির খতিয়ান নাম্বার জানা না থাকলে এই অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন এছাড়া জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর এই অফিসে দিতে হয়।
➤উপজেলা ভূমি অফিস
যদিও উপজেলা ভূমি অফিসের মূল কাজ নামজারী বা খারিজ বা মিউটেশন করা তবে খসরা খতিয়ান তুলতে পারবেন। এই অফিস হতেও খতিয়ানের সার্টিফাইড পর্চা বা কোর্ট পর্চা তুলতে পারবেন না
➤জেলা ডিসি অফিস
এই অফিস হতে পর্চা বা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব সর্বাধিক। সব জায়গায় এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব রয়েছে।
➤সেটেলমেন্ট অফিস
শুধুমাত্র নতুন রেকর্ড বা জরিপের পর্চা / খতিয়ান এই অফিস হতে সংগ্রহ করা যাবে।
পাশাপাশি নতুন রেকর্ড এর ম্যাপ ও সংগ্রহ করা যায়।
❖প্রশ্নঃ খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগবে.?
উত্তরঃ সি এস, এস এ, আর এস, এর জন্য কত টাকা দিতে হবে তা নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর। তবে সিটি জরিপের জন্য 100 টাকা খরচ হবে।
➥দ্বিতীয়ত, আপনার জমির দলিল বা বায়া দলিল কোথায় পাবেন?
দলিল বা দলিল এর সার্টিফাইড কপি বা নকল মূলত দুটি অফিস হতে সংগ্রহ করা যায়, তা হলো।
১/উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
২/জেলা রেজিস্ট্রি বা সদর রেকর্ড রুম অফিস।
➤উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
যেখানে নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয় এই অফিস হতে নতুন দলিলের নকল ও মূল দলিল পাওয়া যায়। কিন্তু পুরাতন দলিল বা বায়া দলিল এই অফিসে পাওয়া যায় না।
➤জেলা রেজিস্ট্রি অফিস বা সদর রেকর্ড রুম
এই অফিসে নতুন বা পুরাতন দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল পাওয়া যায়। যদি কোন দলিল সঠিকভাবে তল্লাশি করে না পাওয়া যায়। তাহলে আপনারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করার মধ্য দিয়ে আপনার কাঙ্খিত দলিলখানা সংগ্রহ করতে
পারবেন।
❖ প্রশ্নঃ দলিল তুলতে কত টাকা খরচ হয়.?
উত্তরঃ সরকারি খরচ যদিও সামান্য কিন্তু নকলের খরচ নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর।
➥ আপনার জমির মৌজা ম্যাপ বা নকশা কোথায় পাবেন?
সাধারণত ম্যাপ বা নকশা দুইটি অফিসে পাবেন, তা হলো
১/জেলা ডিসি অফিস
২/ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ( DLR) অফিস, ঢাকা।
➤জেলা ডিসি অফিস:
এই অফিস হতে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস যেকোনো মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করা যাবে।
সংগ্রহ করতে যা লাগবে আবেদন ফরম + 20 টাকার কোর্ট ফি এবং 500 টাকা নগদ জমা বাবদ বা ডি.সি.আর বাবদ। অর্থাৎ 530 টাকায় মৌজা ম্যাপ তুলতে পারবেন।
➤ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, (তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়), ঢাকা।
সারা বাংলাদেশের যে কোনো মৌজা ম্যাপ
সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, জেলা ম্যাপ, বাংলাদেশ ম্যাপ উক্ত অফিস হতে তুলতে পারবেন।
এই অফিসের ম্যাপের গ্রহণযোগ্যতা ও অনেক বেশি। সারা বাংলাদেশের যে কোন ম্যাপ এই অফিসে পাওয়া যায়। ম্যাপ তুলতে খরচ আবেদন ফরম + কোর্ট ফি + ডি.সি.আর মোট= ৫৫০/= টাকা মাত্র।
❖প্রশ্নঃ ম্যপ তুলতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তরঃ আবেদন করার দিন হতে, ৫-৮ কার্য দিবসের ভিতরে ম্যাপ সরবরাহ করা হয়।

Collected

16/10/2022

গভীর জীবনবোধ থেকে আমি কিছু মানি এবং প্রত্যক্ষ করেছি জীবনে এমনকিছু লাইফ ম্যানেজমেন্ট টিপস দেই।

১. মোট আয়ের ২০% ব্যাংকে সঞ্চয় করবেন, ৫-১০% ইন্স্যুরেন্স করে রাখবেন । যদি ভাবেন যে এই আয়েই তো চলে না, তাহলে লাইফস্টাইল ডাউনগ্রেড করে ৭০-৮০ % - এ নামাবেন, তারপরও কিন্তু সঞ্চয় করবেন।

২. অবিশ্বাস্য রকম ভালো অফার বা সুযোগ যা হুজুগ হয়ে আসে, এড়িয়ে চলবেন। এগুলো আপনার জন্য না। শেয়ার মার্কেটে আপনি বাম্পার মারতে পারবেন না, ইভ্যালির জ্যাক মা আপনার টাকাটাই গাপ করবে। এসবে টুকটাক খরচ করা ঠিক আছে, কিন্তু হাটুগেড়ে পুরো সঞ্চয় নিয়ে নেমে পড়লেন তো মরলেন!

৩. ভূয়া, নামহীন রিয়েল এস্টেট থেকে শতহাত দূরে থাকুন। ( পূূর্বাচলের আশেপাশে যত লোক কিস্তি দিয়ে যাচ্ছে, এত কাঠা জায়গা গোটা বাংলাদেশ মিলে নাই। )

৪. যে ব্যবসা বুঝেন না, অথবা নিজে পরিচালনা করবেন না, সেরকম ব্যবসায় পার্টনার হবেন না। অমুক ভাইয়ে ব্যবসা করে আপনাকে মাস শেষে মুনাফা দিবে- এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারনা।
(আমার পরিচিত কয়েকজন বিটকয়েনে ভালো মুনাফা করেছে, শুরু থেকেই আমাকে বারংবার বলেছিল; আমি বুঝি না, তাই জড়াই নি। বিটকয়েনে বিশাল ধরাও খেয়ে এখন সর্বশান্ত এমন মানু্ষও এখন আছে পরিচিতর মধ্যে। )

৫. ফেরত পাওয়ার আশায় কোনদিন ঋণ দিবেন না, বাধ্য না হলে নিবেনও না। ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউটের কাছ থেকে ঋণ নেয়া খারাপ কিছু নয়, যদি স্মার্টলি ম্যানেজ করতে পারেন।

৬. জীবনে মাঝে মাঝেই ধরা খাবেন। সবকিছু যেমন ভাবছেন তেমন যাবে না। পেরেশান হইয়েন না, এটা পার্ট অব লাইফ।

৭. কন্টিনিউয়াস আপনার পেশার সাথে জড়িত বিষয়ে নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে থাকবেন। এটি ভাত খাওয়া বাথরুম করার মতোই অভ্যাসের বিষয় করে ফেলুন। নতুন দক্ষতা তৈরি করতে না পারলে আপনার জীবনের প্রাইম টাইম ৫ বছরের বেশি হবে না, তারপরই ধ্বস নামতে শুরু করবে।

৮. নূন্যতম ৬ মাসের খরচের সমপরিমান ক্যাশ সবসময় সঞ্চয় রাখবেন। এই টাকা কাউকে কখনোই ধার দিবেন না বা বৃহত্তর পরিবারের অন্য কারো জন্য খরচ করবেন না।

আপনার চাকুরি কালকে চলে যেতে পারে, অথবা পরশু রাতে হার্ট এটাক হয়ে গেলে রিঙ পরানো লাগতে পারে হার্টে। তখন ক্যাশ ছাড়া উপায় নেই। এই টাকা সোনা বা জমিতে খাটাবেন না, কারন সময় মতো বিক্রি করতে পারবেন না।

৯. স্থাবর সম্পত্তি কখনোই এমন দূরত্বে কিনবেন না যেখানে আপনি নিয়মিত যেতে পারেন না। আপনি ঢাকা শহরে থেকে কুয়াকাটা জমি কিনে ফেলে রাখবেন ভবিষ্যতে লাভের আশায়, নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোনো ঝুট ঝামেলা হলে সেটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা আপনার আছে কী না। অধিকাংশ মানুষেরই সেই ক্ষমতা নেই।

©সংগৃহিত

আজ কোর্টের ১৭ নম্বর এজলাসে এক অভিনব কেস উঠেছে।  এক ভদ্রমহিলা জীবনের মধ্যাহ্ন পেরিয়ে এসে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হতে চান, ...
04/09/2022

আজ কোর্টের ১৭ নম্বর এজলাসে এক অভিনব কেস উঠেছে। এক ভদ্রমহিলা জীবনের মধ্যাহ্ন পেরিয়ে এসে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হতে চান, নিঃশর্তে। অথচ, স্বামী তার স্ত্রীকে কিছুতেই ছাড়তে চান না।

বিষয়টা এইরকম -- চাকরিরতা স্ত্রী, বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছে, হঠাৎ করেই ইচ্ছেপ্রকাশ করলেন যে, আর সংসার করবেন না তিনি। সংসার করতে তার আর ভালো লাগছে না। তাই, সব কিছু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে নিঃশর্তে ডিভোর্স চাইছেন দাম্পত্য জীবন থেকে। কিন্তু স্বামী চান, স্ত্রীর সাথে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাটাতে। একমাত্র মেয়ে তার নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত, তাই জীবনের বাকি সময়টা স্ত্রীয়ের সাথে একান্তে, আনন্দে কাটিয়ে দিতে চান তিনি।

কোর্টের চত্বরে বিশাল কৌতূহল -- বিচারক কার পক্ষে রায় দেবেন। কার দলিল কতটা পোক্ত জেতার জন্য।

শঙ্খনীল আর অনুপমা, দাম্পত্য জীবনের পঁচিশ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন একসাথে। একটি মাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে গড়ে ওঠা তাদের সংসারে কেউ কখনো অশান্তি দেখেনি। বাইরে থেকে সবাই জানতো এরা সবাই সুখী। এমনকি, শঙ্খনীল - অনুপমার বন্ধুমহলে ওরা স্বামী - স্ত্রী হিসেবে সেরা দম্পতির একটা উদাহরণও ছিল। সেই দম্পতির এমন কাহিনী যেন মেনে নেওয়া যায় না। পঁচিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে যখন মানুষ রজত জয়ন্তী বিবাহবার্ষিকী পালন করেন, ঠিক সেই সময়েই অনুপমার এমন আইনি আপিল।

বিচারক জিজ্ঞেস করলেন অনুপমাকে, "আপনার স্বামী কি পরকীয়া করেন? "

অনুপমার উত্তর, "বর্তমানে আমার স্বামীর জীবনে আমি ছাড়া কেউ নেই। আমিই তার সবচেয়ে কাঙ্খিত নারী। "

বিচারক আবারও জিজ্ঞেস করেন, "তাহলে উনি কি অত্যাচারী? ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স হয় আপনার সাথে? "

অনুপমা হেসে বলল, "মোটা টাকা মাইনে পাওয়া বৌয়ের ওপরে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স করতে পারেন কোনো স্বামী? আমার মনে হয় না, সে ক্ষমতা কোনো স্বামীর থাকতে পারে বলে? "

"তাহলে কেন ডিভোর্স চান আপনি আপনার স্বামীর থেকে ? আপনার সাথে কোনো খারাপ কিছু না হলে তো আর শুধু শুধু একটা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন না আপনি ? "

বিচারকের এমন প্রশ্নে অনুপমা উত্তর দিতে শুরু করলো, "আজকের ভালোটুকু দেখেই আপনি বিচার করবেন ধর্মাবতার? আমার বিগত পঁচিশ বছরের প্রত্যেকটা দিনের কষ্ট, গ্লানি, চোখের জল, অমানসিক শারীরিক পরিশ্রম -- তার কি কোনো মূল্যই নেই ?

কলেজ জীবনে বন্ধুত্ব দিয়ে প্রেম আসে আমার জীবনে। দীর্ঘ সাত আট বছরের প্রেমের পরে আমাদের বিবাহিত জীবন শুরু হয়। বিয়ের পরেই দেখলাম, আমার স্বামীর মধ্যে থেকে সেই প্রেমিক হারিয়ে গেলো। সে তখন আমাকে তার মায়ের সাথে আপোষ করে চলার শিক্ষা দেয়, রান্না শিখে নিতে বলে, তার রোজকার জীবনের বহুকাজ আমার উপরে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে স্বামী হওয়ার মজা লুটতে শুরু করেন। স্বামীর মায়ের কাছে আমি তখন একজন তুচ্ছ প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্র, যাকে রোজ অতি তুচ্ছ কারণে হেনস্থা, অপমান করে আমার শাশুড়িমা মজা লুটছেন মআমি কিন্তু তখনও চাকুরীরতাই ছিলাম, ছিলাম অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি সাবলম্বী। তবুও স্বামীকে কাছে পাবার লোভে শাশুড়িমায়ের দেওয়া সমস্ত গ্লানি হাসিমুখে মেনে নিয়েছি। লোভ ছিল একটাই, আমার স্বামীর মধ্যে যে প্রেমিক মানুষটি আছে সে তার প্রেম দিয়ে আমায় ভরিয়ে রাখবে। যতই অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হই না কেন, বাজারে তো আর প্রেম বিকোয় না, যে অর্থ দিয়ে কিনে নেবো। তাই নিজের উজাড় করা ভালোবাসা দিয়ে, তার সংসারে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে, তার মায়ের সামনে নিজেকে চরম ব্যর্থ হিসেবে প্রমাণ করে আমি সেই প্রেমিকের প্রেম পেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি আমি সেই প্রেম।সেই প্রেমিক ভালোবাসার কবরে চাপা পড়ে গিয়ে একজন স্বামীকে ফিরিয়ে দিলো আমার কাছে, যে খুব ভালো সন্তান, যে খুব ভালো ভাই, আবার যে খুব ভালো বাবা, ভালো বন্ধু এমনকি ভালো বসও প্রমাণিত হলো।শুধু হতে পারলো না আমার প্রেমিক। ভালো প্রেমিক চাইনি,, প্রতিপত্তি থাকা, অর্থবান প্রেমিকও চাইনি। শুধু সামান্য একজন প্রেমিককে চেয়েছিলাম যার বিশাল হৃদয়টা শুধু আমার জন্য তোলা থাকবে, কিন্তু কিছুই হয়নি।

আমি সেই মানুষটার ভালোবাসার বাঁধনে পড়ে তার সন্তানের মা হলাম। সংসার, সন্তান, চাকরি -- সবকিছু সামলাতে গিয়ে যখন আমি নাজেহাল, যখন প্রতিদিন প্রতি ক্ষনে আমার শাশুড়িমায়ের গঞ্জনায় আমি অতিষ্ট, তখন আমার প্রেমিককে একটু পাশে চেয়েছিলাম, যে আমার পিঠের ব্যথায় তার হাতটা বুলিয়ে দেবে, যে অফিস শেষে তার ক্লান্ত শরীরটা নিয়েই আমার ক্লান্ত শরীরের পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, "চলো, আজ দুজনে মিলে কাজগুলো সেরে ফেলি। আমি মানা করলেও সে বলবে, "ক্লান্ত তো দুজনেই, অফিস তো দুজনেই করেছি, তাহলে ঘরের সবটুকু তুমি একা করবে কেন? "

আমি চেয়েছিলাম সেই প্রেমিককে যে তার মায়ের গঞ্জনার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, "এর চেয়ে বেশি কিছু আমার অনুপমা করতে পারবে না। তুমি ওকে অপমান করবে না। ভুলে যেওনা, অনুপমা শুধু আমার স্ত্রীই নয়, সে আমার ভালোবাসাও। "

সে বলেনি ধর্মাবতার, আমার হয়ে একটি কথাও খরচ করেনি সে | বরং বাচ্চা হওয়ার পরে যখন তখন আমার শরীরে, পেটে স্ট্রেচের দাগ, পেটটা মোটা, রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে চোখের কোণে কালি পড়ে গেলো, তখন আমার সেই কুশ্রী চেহারাটাকে সে অবজ্ঞা করতে শুরু করে। তার কাছে সে সময় চেহারায় চড়া রঙ মাখা অফিস কলিগটির দুঃখ ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অফিসের পরেও বাড়ি ফিরে এসে তার সাথে চলতো ফোনে বার্তালাপ। আমি সব দেখেও চুপ ছিলাম। বহুবার আমার স্বামীর কাছে কাকুতি মিনতি করে বলেছি -- "আমি তোমার প্রেমিকা হতে চাই। কিন্তু আমার স্বামী তখন অন্য মহিলার মধ্যে প্রেমিকা খুঁজতে ব্যস্ত। আমি তবুও যাইনি আমার স্বামীকে ছেড়ে, বুকের মধ্যে পাথর চাপা দিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম -- যদি আমার সেই হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকটাকে ফিরে পাই কোনোদিন, এই আশায়।

মেয়েকে নিয়ে আমি তখনও আলাদা হতে পারতাম, কিন্তু হইনি। কারণ, আমি চাইনি, আমার সন্তান তার বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হোক। কিন্তু আমার স্বামী কি ভেবে দেখেছিলেন, তার প্রেম, তার ভালোবাসাকে যদি আমি তার মতোই অপমান করতাম, বেচে আসতাম অন্য কোনো পুরুষের কাছে, তাহলে তার কেমন লাগতো? সে ভাবেনি ধর্মাবতার, সে কোনোদিন আমার জায়গায় তাকে বসিয়ে ভাবেনি, আমার কষ্টটা কোথায়? বরং আমার কিঞ্চিৎ প্রতিবাদও তার পৌরুষকে নাড়িয়ে দিতো। আমার সিঁথিতে এক চিলতে করুণার সিঁদুর দিয়েছে বলে সে বহুবার অতি সহজে বলতে পেরেছে , "বৌ, বৌয়ের মতো থাকবে। "

হ্যাঁ, ধর্মাবতার , "বৌ".... বৌ হয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে আমায়, প্রেমিকা হতে পারিনি। একমাত্র মেয়ের যাবতীয় দায়িত্ব একা বয়ে চলেছি, নিঃশব্দে, যতই কষ্ট হোক না কেন আমার, মুখ ফুটে বলতে পারিনি। কারণ আমি জানতাম আমার সব অনুরোধের একটাই উত্তর আসবে -- "পারবো না।

আমার স্বামী আমাকে সেরা বৌয়ের শিরোপা দিয়েছেন তার বন্ধুমহলে। গর্ব করে বুক ফুলিয়ে বলেছেন -- "আমার বৌয়ের সাথে আমার কখন ঝগড়া হয় না। আমার বৌ ভীষণ এডজাস্টিভ। আমার ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলায় না কখনো। "

কি করে নাক গলাবো বলুন তো? কি করে এডজাস্টিভ হবো না বলুন তো? তার ব্যক্তিগত জীবনটা তো তার একার ছিল। সে বিবাহিত হয়েও বিনা নোটিসে বন্ধুদের সাথে বেরিয়ে পড়তো ভ্রমণের পথে, রাতের পর রাত আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিতেন নির্বিদ্বিধায়। কখনো জানতে চাননি, অনুপমার তাকে প্রয়োজন আছে কিনা ? তার ব্যক্তিগত জীবনটা যেমন একান্ত তার, আমার ব্যক্তিগত জীবনটাও কি আমার একান্ত ব্যক্তিগত নয়?

আমি দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে স্ত্রীর ভূমিকা পালন করেছি, তেইশ বছর ধরে মায়ের ভূমিকা পালন করেছি, যে সন্তানকে নিজে যেচে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিলাম, তার প্রতি সমস্ত দায়িত্ব পালন করে তাকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছি, সাবলম্বী করে দিয়েছি। নিজের জীবনকে শূণ্য করে সবার জীবনকে পরিপূর্ণ করেছি।

কিন্তু বিনিময়ে আমি কি পেয়েছি -- কিচ্ছু না। বরং প্রতিক্ষনে আমার ভিতরের প্রেমিকাকে একটু একটু করে মরতে দেখেছি আমি , অবসাদে নিঃশব্দে তাকে কাঁদতে দেখেছি আমি। সেই প্রেমিকাকে আমি বাঁচাতে পারিনি ধর্মাবতার। কিন্তু আমার মধ্যে যে মানুষটা বেঁচে আছে এখনও, তাকে আমি পূর্ণরূপে বাঁচতে দিতে চাই, সেই মানুষটার জীবনে যত শূণ্য আছে, তাকে তৃপ্তি দিয়ে পূরণ করতে চাই তাই জীবন সায়হ্ন -- এ এসে আজ বন্ধন মুক্ত হতে চাই আমি, সংসারের সব মেকি সম্পর্ক থেকে। আমি জানি, আজ আমার স্বামী আমাকে ছাড়তে চাননা, কারণ, দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে আমার সেবা পেয়ে আমার সেবা পাওয়া তার অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছে, আমি আজ তার একটা অভ্যেস, একটা অবলম্বন, বলতে পারেন অন্ধের যষ্ঠীর মতো। কিন্তু অন্ধ হলেই যষ্ঠীর প্রয়োজন হয়, একটা লাঠির প্রয়োজন হয় ; একজন পঙ্গুর জীবনে তার লাঠিটা তার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তার ভালোবাসা হতে পারেনা কখনো আমার স্বামীর কাছেও আমি ঠিক তাই। আজ আমি তার একাকিত্ব জীবনে প্রয়োজন মাত্র , তার ভালোবাসা নই।

আমি এখন ইচ্ছেমতো ভোরের সূর্য্য দেখতে চাই, ইচ্ছেমতো পড়ন্ত দুপুর অব্দি বিছানার আলিঙ্গনে জড়িয়ে থাকতে চাই, ইচ্ছে মতো পাহাড় হতে চাই, ইচ্ছেমতো নদী। আমি সারারাত জেগে ডায়েরির বুকে মুখ লুকোতে চাই, লিখে রাখতে চাই মনের সব অভিব্যক্তি। পরেরদিন সকালবেলায় উঠে কাউকে চা জলখাবার করে দেবার তাড়া যেন আমাকে জোর করে ঘুমের কোলে না নিয়ে যেতে পারে, আমি সেই চেষ্টাটাই করতে চাই, আমি স্বাধীন হতে চাই।

খুব বেশি দাবী কি করেছি ধর্মাবতার? একটা মেয়ে হয়ে জন্মেছি বলে, আমৃত্যু শুধু দান করে যাবো, পাবো না কিছুই ? মনুষ্যজীবন তো পেয়েছি ঈশ্বরের কাছ থেকে , তাকে উপভোগ করার অধিকার তো কোনো পুরুষ বা কোনো সমাজ কেড়ে নিতে পারে না আমার কাছ থেকে ?

তাই, বাঁধনমুক্ত হয়ে মুক্ত বিহঙ্গের মতো জীবনের শেষ কটা বছর নিজের মতো করে বাঁচতে চাই, জীবনের সব ব্যর্থতা আর শুন্যতাকে আনন্দ আর পরিতৃপ্তি দিয়ে পূরণ করতে চাই। তাই, জীবনের সব পিছুটান থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চাই আমি। "

অনুপমার বক্তব্যে আদালতের এজলাস নিঃশব্দতায় ভরে গেলো। সত্যিই কি অনুপমা বেশি কিছু দাবী করেছে ? সত্যিই কি এই দাবী অনুপমার শুধু একার ? এই দাবী কি পৃথিবীর সব অনুপমার নয় ? পৃথিবীর সব অনুপমাই কি স্বামীর মধ্যে একজন প্রেমিককে খুঁজতে খুঁজতে ফুরিয়ে যায় না ?

উত্তর জানা নেই কারোরই। বিচারকও স্তব্ধ। জীবনের আদালতে বিচার করা যে শুধু কঠিনই নয়, সে বিচার যে বড়ো বেদনাদায়কও!

লেখাঃ অনন্যা পোদ্দার
ছবিঃ অদিতি হাফিজ

Collected

Address

Eskaton Garden
Dhaka

Telephone

+8801824966666

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law & Remedy / আইন ও প্রতিকার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share