Solution Legalis

Solution Legalis We try to teach & Learn Law via Social Media. Contact us through inbox. Thank You. Happy Learning.

বাংলাদেশে পিতা-মাতার অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২০১৩ সালে "পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩" পাস করা হয়। ...
03/06/2026

বাংলাদেশে পিতা-মাতার অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২০১৩ সালে "পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩" পাস করা হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর সামাজিক আইন। নিচে এই আইনের মূল বিষয়গুলোর একটি সহজ সামারি দেওয়া হলো:
​১. ভরণ-পোষণের সংজ্ঞা
​আইন অনুযায়ী, "ভরণ-পোষণ" বলতে কেবল খাওয়া-পরা বোঝায় না, বরং এর পরিধি আরও বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে:
​পর্যাপ্ত অন্ন ও বস্ত্র।
​নিরাপদ ও উপযুক্ত বাসস্থান।
​প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা।
​বার্ধক্যে সঙ্গ দেওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করা।
​২. সন্তানের মূল দায়িত্বসমূহ
​আইন অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তানকে (ছেলে ও মেয়ে উভয়ই) পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে।
​একত্রে বসবাস: পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও আলাদা রাখা যাবে না। সন্তানকে তার নিজের ঘরে বা পিতা-মাতার পছন্দ অনুযায়ী তাদের সঙ্গে বসবাস করতে হবে।
​নিয়মিত যোগাযোগ: সন্তান যদি কাজের সূত্রে বা অন্য কোনো কারণে আলাদা থাকেন, তবে নিয়মিত পিতা-মাতার খোঁজখবর নিতে হবে এবং আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।
​মাতার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার: পিতা জীবিত বা মৃত—যাই হোক না কেন, সন্তানকে মায়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং তার ভরণ-পোষণ আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
​৩. যৌথ বা একাধিক সন্তানের ক্ষেত্রে নিয়ম
​যদি কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকে, তবে তারা নিজেরা আলোচনা করে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বণ্টন করে নেবেন। যদি তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারেন, তবে আদালত নির্ধারণ করে দেবে কোন সন্তান কতটুকু দায়িত্ব বা আর্থিক অবদান রাখবে।
​৪. দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণ
​পিতা-মাতা যদি জীবিত না থাকেন, কিন্তু দাদা-দাদী বা নানা-নানী জীবিত থাকেন, তবে পিতার স্থলে দাদা-দাদী এবং মাতার স্থলে নানা-নানীর ভরণ-পোষণ করা সন্তানের (নাতি-নাতনিদের) জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য হবে।
​৫. অপরাধ এবং শাস্তি (ধারা ৫)
​এই আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে তা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
​প্রধান শাস্তি: কোনো সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করে বা অবহেলা করে, তবে তার সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
​স্ত্রী বা স্বামীর প্ররোচনা: যদি সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী কিংবা অন্য কোনো আত্মীয় পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষণ দিতে বাধা দেয় বা সন্তানকে প্ররোচিত করে, তবে তিনিও একই অপরাধে অপরাধী হবেন এবং সমপরিমাণ শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
​৬. মামলা প্রক্রিয়া ও আপোষ-মীমাংসা
​আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য: এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (Cognizable), জামিনযোগ্য (Bailable) এবং আপোষযোগ্য (Compoundable)।
​আদালত: এই সংক্রান্ত মামলা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করতে হবে।
​লিখিত অভিযোগ: পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এই অপরাধ আমলে নেবে না।
​আপোষের সুযোগ (ধারা ৮): মামলা আদালতে যাওয়ার পরও আদালত চাইলে বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, পৌর মেয়র বা কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার জন্য পাঠাতে পারেন। উভয় পক্ষ সম্মত হলে সেখানেই বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব।
​একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট:
এই আইনটি করার মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং প্রবীণ বয়সে পিতা-মাতার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষার আইনি ভিত্তি তৈরি করা।

31/05/2026

সাম্প্রতিক একজন উচ্চ আদালতের আইনজীবী মিডিয়ার সামনে বলেছেন, অভিযুক্ত বা আসামী যদি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৪ অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট এর সামনে দোষ স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেন, তাহলে তাকে সাথে সাথে সাজা দেয়া উচিত। দেখা যাক, আইন কি বলে। এর উত্তর হলো, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির দোষস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (Confession) রেকর্ড করার সাথে সাথেই ম্যাজিস্ট্রেট তাকে সরাসরি সাজা দিতে পারেন না।

​আইনগতভাবে এর পেছনের মূল কারণ এবং প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

​১. ১৬৪ ধারার উদ্দেশ্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের এক্তিয়ার

​১৬৪ ধারার অধীনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট কেবল আসামির জবানবন্দি রেকর্ড (Record) করার ক্ষমতা রাখেন, তাৎক্ষণিক বিচার করার বা সাজা দেওয়ার নয়। এটি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার (Investigation) একটি অংশ, বিচার (Trial) নয়।

​২. মামলার সঠিক ফোরামে বিচার

​১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (Charge Sheet) জমা দেবে। এরপর অপরাধের ধরন অনুযায়ী মামলাটি বিচারের জন্য উপযুক্ত আদালতে (যেমন: দায়রা আদালত বা সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) পাঠানো হয়। বিচারিক আদালতই কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে সাজা দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন।

​৩. দোষস্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের সুযোগ

​আইন অনুযায়ী, আসামি বিচার শুরু হওয়ার পর (Charge Hearing বা অভিযোগ গঠনের সময়) ১৬৪ ধারার ওই জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে পারেন এবং দাবি করতে পারেন যে সেটি জোরপূর্বক বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল। তাই ১৬৪ ধারার জবানবন্দি চূড়ান্ত সাজা ভিত্তির একমাত্র কারণ হতে পারে না; বিচারক এটিকে অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের সাথে মিলিয়ে মূল্যায়ন করেন।

​ব্যতিক্রম: কখন দোষ স্বীকার করলে সরাসরি সাজা দেওয়া যায়?

​১৬৪ ধারার বাইরে, যদি বিচারের সময় (Trial Stage) অর্থাৎ অভিযোগ গঠনের সময় (Section 242/243 or Section 265E of CrPC) আসামি আদালতের সামনে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে নিজের দোষ স্বীকার করেন, তখন বিচারক চাইলে মামলার মেরিট বিবেচনা করে সরাসরি ওই দিনই সাজা ঘোষণা করতে পারেন। একে বলা হয় "Plea of Guilty" বা বিচারের সময় দোষ স্বীকার।
সংক্ষেপে: ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দোষ স্বীকার করলে সাথে সাথে সাজা দেওয়া যায় না।

Address

Santinagar
Dhaka

Opening Hours

Monday 17:30 - 23:00
Tuesday 17:30 - 23:00
Wednesday 05:30 - 23:00
Friday 17:30 - 23:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Solution Legalis posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category