10/09/2026
নারীর কণ্ঠ, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নারী অধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ সদস্য, গবেষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি প্রতিনিধিরা।
ইউএন উইমেন-এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) কর্তৃক আয়োজিত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন এবং স্থানীয়করণ সম্পর্কিত অর্জিত অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের জাতীয় পর্যায়ের সংলাপ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
আজ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকার হোটেল লেক ক্যাসলে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে বক্তারা নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরবর্তী প্রজন্মের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নে নারী অধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকা এবং তৃণমূল নারীদের কণ্ঠস্বরকে আরও কার্যকরভাবে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম; গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা; এডাব-এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম জসিমউদ্দিন; বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল-এর শান্তি, সংঘর্ষ ও মানবাধিকার বিভাগের চেয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিলুফার সুলতানা, পিএসসি; ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ নারী পুলিশ নেটওয়ার্কের সদস্য এবং এআইডব্লিইপি বাংলাদেশ-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শামিমা পারভীন; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইং-এর সিনিয়র এসিসটেন্ট সেক্রেটারি আরিকুজ্জামান তিয়াশ এবং বিএনপিএস সংগঠিত শান্তি ও সম্প্রীতিতে নারী নেটওয়ার্কভুক্ত বিভিন্ন জেলার নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবর্গ।
বক্তারা বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার সফল বাস্তবায়ন শুধু জাতীয় পর্যায়ের নীতি বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, স্থানীয় বাস্তবতা, নারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, সংঘাত ও নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের নেতৃত্বকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান, নারী অধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ, গবেষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, নারীর অংশগ্রহণ যেন শুধু সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্বে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং শান্তি, নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল নারীদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় উদ্যোগ থেকে পাওয়া শিক্ষা জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও কর্মপরিকল্পনায় প্রতিফলিত করার ওপরও সংলাপে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের বাস্তবতা জাতীয় পর্যায়ের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করার প্রয়োজন রয়েছে। নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন শুধু শহর বা জেলা পর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা যাতে নিরাপত্তাহীনতা, বৈষম্য ও নানা ধরনের সামাজিক ঝুঁকির মুখোমুখি না হন, সে বিবেচনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের কাছে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার ধারণা, অধিকার ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নারী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। পাহাড়ি নারীদের কেবল সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।
বক্তারা বলেন, পরবর্তী জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় নারীর প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষায়িত প্রভাবকে বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়াও, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নারীদের বিশেষ ঝুঁকি এবং তাঁদের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা দাবি করেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সংকট হিসেবে দেখলে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো আড়ালে থেকে যায়। এই সংকটে নারীদের সুরক্ষা, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার নীতিগুলো আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। সংকট ও বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতিতে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করা নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্র।
সংলাপের উদ্বোধনী পর্বে বিএনপিএস-এর পরিচালক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শাহনাজ সুমী স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং উপপরিচালক নাসরিন বেগম নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন ও স্থানীয়করণের জন্য অ্যাজেন্ডাভিত্তিক স্থানীয় উদ্যোগগুলোর উল্লেখযোগ্য অর্জন, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন।