01/08/2026
আজ আলোচনা করবো Election সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ WP No. 1053 of 2026 জনাব সারোয়ার আলম
-বনাম-
নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক প্রতিনিধিত্বকৃত, নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭। মামলাটির শুনানি হয়েছে ২৪.০৬.২০২৬, ২৯.০৬.২০২৬ এবং ০২.০৭.২০২৬ ইং তারিখে এবং
রায় ঘোষনা হয়েছে তারিখ: ০৯.০৭.২০২৬
মাননীয় Madam Justice Fahmida Quader রায়টি প্রদান করেন। রায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় Coram non judice, malice in law, maintainibility of Writ Petition in Election matter, status at date of submission of nomination paper, functus officio, reopen and rehear প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। Election সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় এখানে আলোচনায় এসেছে। যারা Election বিষয় নিয়ে জানতে আগ্রহী বর্তমান রায়টি তাদের জন্য অবশ্যই পাঠ্য।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দাখিলকৃত এই আবেদনে নিম্নলিখিত শর্তে Rule Nisi রুল নিশি জারি করা হয়েছিল:-
“প্রতিপক্ষদের প্রতি কারণ দর্শাতে বলে একটি রুল নিশি জারি করা হোক যে, ১২.০২.২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ নং সংসদীয় আসন, চট্টগ্রাম-২ থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আবেদনকারীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে প্রতিপক্ষ নং ০১ কর্তৃক নির্বাচন আপিল নং ৬২৪/ ২০২৬-এ প্রদত্ত ১৮.০১.২০২৬ তারিখের রায় ও আদেশ (সংযুক্তি-চ) যা আপিল মঞ্জুর করেছে, তা আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে প্রদানকৃত এবং আইনগতভাবে নিষ্ফল ঘোষণা করা হবে না কেন এবং/অথবা এই আদালতের কাছে উপযুক্ত মনে হওয়া অন্য বা অধিকতর আদেশ প্রদান করা হবে না কেন।”
রুল নিষ্পত্তির ভিত্তিমূলে/ প্রেক্ষিতে সংক্ষেপে WP ঘটনাপ্রবাহ এই যে, আবেদনকারী ১২.০২.২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ নং সংসদীয় আসন, চট্টগ্রাম-০২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিপ্রায়ে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পেশাগত দলিলাদি এবং আয়কর রেকর্ডের সত্যায়িত অনুলিপিসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তা গ্রহণের পর রিটার্নিং অফিসার একটি প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ প্রদান করেন এবং আবেদনকারী ও তাঁর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে ০২.০১.২০২৬ তারিখের আদেশে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে, প্রতিপক্ষ নং ৪ প্রতিপক্ষ নং ১-এর নিকট নির্বাচন আপিল নং ৬২৪ অব ২০২৬ দাখিল করেন। উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণের পর ১৮.০১.২০২৬ তারিখে প্রতিপক্ষ নং ১ আপিলটি খারিজ করে দেন এবং রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বহাল রাখেন, ফলে আবেদনকারীর প্রার্থিতা বৈধ হিসেবে বজায় থাকে।
অতঃপর আবেদনকারীর জন্য চরম বিস্ময়ের বিষয় হলো, তিনি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, পূর্বে খারিজকৃত আপিলটি প্রতিপক্ষ নং ১ কর্তৃক পুনরায় খোলা হয়েছে এবং মঞ্জুর করা হয়েছে, ফলে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। আবেদনকারী পরবর্তীতে জানতে পারেন যে, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪:৩০ মিনিটে আবেদনকারীকে কোনো নোটিশ প্রদান বা অংশগ্রহণ ছাড়াই আপিলটি পুনরায় শুনানি করা হয়েছিল, যদিও আপত্তিকৃত আদেশে ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ওই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
আবেদনকারীর বক্তব্য হলো, প্রতিপক্ষ নং ১-এর ইতিমধ্যে উভয়পক্ষের শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত একটি আপিল পুনরায় খোলা ও পুনঃশুনানির কোনো এখতিয়ার ছিল না। আবেদনকারীর মতে, আপিলকারী পূর্বের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে একমাত্র আইনসম্মত প্রতিকার ছিল মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের নিকট উপযুক্ত প্রতিকার প্রার্থনা করা, প্রতিপক্ষ নং ১-কে তার নিজের চূড়ান্ত আদেশ reconsider বা re open অনুরোধ জানানো নয়।
মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের সময় আবেদনকারী ঋণখেলাপি ছিলেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁর নাম খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং মনোনয়ন দাখিলের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাঁকে খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে প্রকাশ বা বিবেচনা করা থেকে বিরত রাখার জন্য একটি নিষেধাজ্ঞা লাভ করেছিলেন। ফলে রিটার্নিং অফিসার যথাযথভাবেই তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
নির্বাচন আপিলের প্রথম শুনানিতে প্রতিপক্ষ নং ৪ আবেদনকারী ঋণখেলাপি বলে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন এবং সে অনুযায়ী আপিলটি খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে, আবেদনকারীর অনুপস্থিতিতে কথিত দ্বিতীয় শুনানিতে প্রতিপক্ষ নং ৪ মাননীয় জজ-ইন-চেম্বার কর্তৃক প্রদত্ত পূর্বের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতকরণের আদেশের উপর নির্ভর করেন, যার ফলে প্রতিপক্ষ নং ১ তার নিজের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পাল্টে আপিলটি মঞ্জুর করে দেন। উক্ত স্থগিতাদেশ, নির্বাচন আপিল নিষ্পত্তির পরে প্রদত্ত হওয়ায়, তা মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখে আবেদনকারীর অবস্থান বাতিল বা পরিবর্তন করার জন্য পূর্ববর্তী কার্যকারিতা লাভ করতে পারে না।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বেই তিনি প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের নিকট তাঁর ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ২০,০০,০০০/- টাকা জমা দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের অধীনে উক্ত অর্থ গ্রহণের পর, আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে নিয়মিত ঋণগ্রহীতা হিসেবে গণ্য করতে আইনগতভাবে বাধ্য ছিল, ফলে তাঁকে অযোগ্যতার উদ্দেশ্যে ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
আপত্তিকৃত ১৮.০১.২০২৪ তারিখের আদেশটি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে, যুক্তিহীন, স্বেচ্ছাচারী এবং স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির লঙ্ঘন, কেননা এটি প্রতিপক্ষ নং ১ কর্তৃক নির্বাচন আপিল ইতিমধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার পর কোনো নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই প্রদান করা হয়েছে। ফলে, অন্য কোনো সমানভাবে কার্যকর প্রতিকার না থাকায়, আবেদনকারী তাঁর বৈধভাবে গৃহীত মনোনয়নপত্র বাতিলকারী আপত্তিকৃত আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট এখতিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন।
Writ. Petitioner পক্ষে যুক্তিতর্ক:
আবেদনকারীর পক্ষে বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব এহসানুল করিম নিম্নলিখিত যুক্তিসমূহ উপস্থাপন করেছেন:
১.তর্কিত আদেশটি প্রতিপক্ষ নং ৫-এর অনুরোধে আবেদনকারীকে কোনো নোটিশ প্রদান বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
২. উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে নির্বাচন আপিল নং ৬২৪ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে আবেদনকারীর প্রার্থিতা বহাল রাখার পর, প্রতিপক্ষ নং ১ ফাংকটাস অফিসিও (কার্যভারহীন) হয়ে পড়েন এবং আপিল পুনরায় খোলা ও পুনঃশুনানির এখতিয়ার হারান।
৩. প্রতিপক্ষ নং ১ একই বিষয়ে দুটি পরস্পরবিরোধী আদেশ প্রদান করেছেন, যা তর্কিত আদেশকে অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্ষমতার একটি disguise প্রয়োগে পরিণত করেছে।
৪. মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের তারিখে আবেদনকারী ঋণখেলাপি ছিলেন না। তাঁর ঋণের অবস্থার পরবর্তী কোনো পরিবর্তন কেবল ভবিষ্যৎমুখী প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং তাঁর প্রার্থিতা পূর্ববর্তীভাবে বাতিল করতে পারে না।
৫. মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বে আবেদনকারী ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা ২৭ ক-এর অর্থে ঋণখেলাপি ছিলেন না; সুতরাং এই ভিত্তিতে তাঁর প্রার্থিতা আইনসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
৬. উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে প্রদত্ত পূর্ববর্তী আদেশের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ নং ১ আবেদনকারীর প্রার্থিতা বৈধভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা একটি নিহিত আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা পরবর্তীতে নিষ্পত্তিকৃত কার্যধারা পুনরায় খুলে প্রত্যাহার করা যায় না।
৭. দ্বিতীয় শুনানিতে, প্রতিপক্ষ নং ১ আবেদনকারীর অনুপস্থিতিতে মাননীয় জজ-ইন-চেম্বারের একটি আদেশের উপর নির্ভর করেছিল, যদিও বিষয়টি বিচারাধীন ছিল। উক্ত নির্ভরতার ভিত্তিতে প্রদত্ত আপত্তিকৃত আদেশ স্বেচ্ছাচারী, অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে।
৮. আবেদনকারী ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের অধীনে তা গ্রহণের পর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাঁকে নিয়মিত ঋণগ্রহীতা হিসেবে গণ্য করতে আইনগতভাবে বাধ্য ছিল। ফলে তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা স্বেচ্ছাচারী ও আইনগত ভিত্তিহীন ছিল।
৯. আইনগত কর্তৃত্ব ও যথাযথ প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে আবেদনকারীর বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল করে আপত্তিকৃত আদেশ সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিতকৃত আবেদনকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন যে, নির্ধারণের একমাত্র প্রশ্ন হলো মনোনয়নপত্র দাখিল বা যাচাই-বাছাইয়ের তারিখে আবেদনকারী ঋণখেলাপি ছিলেন কিনা। যেহেতু কোনো পর্যায়েই কোনো আপত্তি উত্থাপিত হয়নি, রিটার্নিং অফিসার যথাযথভাবেই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আবেদনকারীকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। সুতরাং বিষয়টি পুনরায় খোলার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন যে, নির্বাচন আপিলটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিল করা হয়নি এবং একটি বিশেষ আইনে সময়সীমার আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সে অনুযায়ী আপিলটি সরাসরি খারিজ হওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন যে, স্মারকলিপিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ধারা ৫ অনুযায়ী কোনো আইনগত ভিত্তি প্রকাশ করা হয়নি, না-ই সেই ব্যাংকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যার সাপেক্ষে আবেদনকারী কথিতভাবে ঋণখেলাপি ছিলেন। উপরন্তু, আপিল পর্যায়ে কোনো নতুন ঘটনাগত ভিত্তি আইনগতভাবে উত্থাপন করা যায় না। যেহেতু আপিলটি স্বীকৃতভাবে ০৯.০২.২০২৬ তারিখে দাখিল করা হয়েছিল, ১৮.০১.২০২৬ তারিখের আদেশে তা গ্রহণ বা মঞ্জুর করার কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না।
বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট জনাব নাসিরউদ্দিন বলেন যে, স্বীকার না করেও যদি ধরে নেওয়া হয় যে আপিলটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করা হয়েছিল, তথাপি বিধি ৫ স্পষ্টভাবে বলে যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত আদেশই চূড়ান্ত। সুতরাং প্রতিপক্ষ নং ১-এর তার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পুনরায় খোলা ( re open) বা পুনর্বিবেচনার কোনো এখতিয়ার ছিল না।
বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন যে, মনোনয়নপত্র দাখিল বা যাচাই-বাছাইয়ের সময় কোনো আপত্তি উত্থাপিত না হওয়ায় মনোনয়নটি আইনসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছিল। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, নির্বাচন কমিশন যদি ধারা ৫-এর লঙ্ঘন করে কোনো আদেশ প্রদান করে থাকে, তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষের প্রতিকার ছিল মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে রিট দাখিল করা, ইতিমধ্যে চূড়ান্তত্ব( finality) অর্জনকারী একটি বিষয় পুনরায় খোলা ও পুনর্বিবেচনা করা নয়।
প্রতিপক্ষ নং ৫-এর পক্ষে যুক্তিতর্ক:
প্রতিপক্ষ নং ৫ Affidavit এবং supplementary affidavit দাখিল করেছেন। প্রতিপক্ষ নং ৫-এর পক্ষে বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব মোহাম্মদ শিশির মনির সাবমিশন এ উথ্থাপন করেন যে, বর্তমান রিট পিটিশনটি আইনগতভাবে maintainable নয়। তিনি বলেন যে, রিট এখতিয়ারের অধীনে নির্বাচন বিষয়ে বিচারিক হস্তক্ষেপ কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই অনুমোদিত, যথা : যেখানে আপত্তিকৃত কর্মটি আইনগত অসদুদ্দেশ্য (ম্যালিস ইন ল) দ্বারা diluted অথবা করাম নন জুডিস, অর্থাৎ এখতিয়ার ব্যতিরেকে প্রদত্ত। বর্তমান মামলায় এই দুটি ব্যতিক্রমী ভিত্তির কোনোটিই বিদ্যমান নেই। তর্কিত আদেশটি সক্ষম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ারের প্রয়োগে প্রদত্ত হওয়ায়, রিট পিটিশনটি maintainable নয় এবং তা প্রাথমিক পর্যায়েই খারিজযোগ্য।
এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট হাইকোর্ট বিভাগ ও মাননীয় আপিল বিভাগের কিছু রায়ের উল্লেখ করেন, যা ৬৯ ডিএলআর (এডি) ৪১১, ৬৯ ডিএলআর ১২০, ৬২ ডিএলআর (এডি) ৪২৫, ৪৮ ডিএলআর (এডি) ১২৮, ২০ বিএলডি ৬৯, ১৬ এলএম (এডি) ৬৬৩, ১ সিএলআর (এইচসিডি), এআইআর ১৯৫২ (এইচসি) ১২, ৫০ ডিএলআর (এডি) ১২৯ এবং ৪৪ ডিএলআর (এডি) ৩১৯-এ প্রকাশিত।
তিনি অতঃপর বলেন যে, আবেদনকারী ২০১৭ সাল থেকে একজন অভ্যাসগত ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং মাননীয় আপিল বিভাগের প্রদত্ত আদেশসমূহ বিবেচনায় তিনি এখনও তাই রয়ে গেছেন। ফলে, জনপ্রতিনিধি আদেশ, ১৯৭২-এর ১২(১)(ঘ)(ম) অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদনকারী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন যে, ২৪.০৩.২০২১ তারিখে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ৬,৪৭,৪২,০৭৯.৮২ টাকা বকেয়া আদায়ের জন্য অর্থ ঋণ আদালত নং ১, চট্টগ্রামে অর্থ ঋণ মামলা নং ১০১ অব ২০২১ দায়ের করে। মামলাটি ১৩.১০.২০২২ তারিখের রায়ে ডিক্রি হয় এবং ডিক্রিটি ১৭.১০.২০২২ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়।
অতঃপর, ডিক্রিদার ব্যাংক জারি মামলা নং ৭৭৭ অব ২০২৩ শুরু করে, যা পরবর্তীতে জারি মামলা নং ১০৭৪ অব ২০২৫ হিসেবে পুনঃনম্বরকৃত হয়। জারি কার্যধারাটি এখনও বিচারাধীন এবং ২৮.০৬.২০২৬ তারিখের তথ্য স্লিপ (সংযুক্তি-৭) অনুযায়ী, অর্থ ঋণ আদালত নং ৩, চট্টগ্রাম জারি মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ০৯.০৮.২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট আরও বলেন যে, বিদ্যমান ডিক্রি ও বিচারাধীন জারি কার্যধারার প্রেক্ষিতে আবেদনকারী আইনের দৃষ্টিতে এখনও একজন ঋণখেলাপি এবং সুতরাং জনপ্রতিনিধি আদেশ, ১৯৭২-এর ১২(১)(ঘ)(ম) অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য অযোগ্য।
সবশেষে বলা হয় যে, আবেদনকারীর অভ্যাসগত ও অব্যাহত ঋণখেলাপি অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে, প্রতিপক্ষ নং ১ যথাযথভাবেই প্রতিপক্ষ নং ৫ কর্তৃক দাখিলকৃত নির্বাচন আপিল মঞ্জুর করেছেন এবং আইনানুযায়ী আবেদনকারীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
সমস্ত নথি পর্যালোচনান্তে
প্রাথমিকভাবে, এই Writ মামলার adjudication এর বিষয়সমূহ হলো:
প্রথমত, প্রতিপক্ষ নং ৫-এর উত্থাপিত আপত্তির প্রেক্ষিতে একটি নির্বাচন বিষয়ক মামলায় বর্তমান রিট পিটিশনটি maintainable কিনা।
দ্বিতীয়ত, উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আপিল খারিজ করার পর, নির্বাচন কমিশন একই দিনে আবেদনকারীর অনুপস্থিতিতে একই আপিল পুনরায় খুলে পুনঃশুনানি করতে আইনসম্মতভাবে পারে কিনা।
তৃতীয়ত, প্রাসঙ্গিক তারিখে, অর্থাৎ মনোনয়নপত্র দাখিল বা যাচাই-বাছাইয়ের তারিখে আবেদনকারী ঋণখেলাপি ছিলেন কিনা।
চতুর্থত, আবেদনকারীর মনোনয়নপত্র বাতিলকারী আপত্তিকৃত আদেশ আইনগত অসদুদ্দেশ্য, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন, এখতিয়ারের অভাব বা প্রাসঙ্গিক উপাদানের অভাবে malice in law কিনা।
এটি অবিতর্কিত (undisputed) যে আবেদনকারী ১২.০২.২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ নং সংসদীয় আসন, চট্টগ্রাম-০২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিপ্রায় পোষণ করেছিলেন। তিনি ২৯.১২.২০২৫ তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার ০২.০১.২০২৬ তারিখের আদেশে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আবেদনকারীকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেন।
প্রতিপক্ষ নং ৫, একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে, ০৯.০১.২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশনের নিকট নির্বাচন আপিল নং ৬২৪/ ২০২৬ দাখিল করেন। আবেদনকারীর বক্তব্য হলো, জনপ্রতিনিধি আদেশ, ১৯৭২-এর অধীনে প্রণীত সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধি ৫-এর অধীনে যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ থেকে নির্ধারিত পাঁচ দিনের সময়সীমার বাইরে আপিলটি দাখিল করা হয়েছিল। আরও বলা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিল বা যাচাই-বাছাইয়ের সময় কোনো আপত্তি উত্থাপিত হয়নি এবং সুতরাং আবেদনকারীর প্রার্থিতা গ্রহণ করার পর, পরবর্তী চ্যালেঞ্জটি ভুল ধারণাপ্রসূত।
প্রতিপক্ষ নং ৫-এর প্রধান আপত্তি হলো, একটি নির্বাচন বিষয়ক মামলায় রিট পিটিশনটি maintainable নয়। বলা হয়েছে যে, নির্বাচন বিরোধে রিট এখতিয়ার কেবল সেসব ক্ষেত্রে আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে যেখানে আইনগত অসদুদ্দেশ্য (ম্যালিস ইন ল) রয়েছে অথবা কর্তৃপক্ষ করাম-নন-জুডিস হিসেবে কাজ করেছে, এবং প্রতিপক্ষ নং ৫-এর মতে বর্তমান মামলায় উভয় ভিত্তির কোনোটিই বিদ্যমান নেই।
এটি সত্য যে, নির্বাচন বিষয়ক মামলায় রিট এখতিয়ার সংযমের সাথে প্রয়োগ করা হয়। তবে যেখানে আপত্তিকৃত কর্মটি এখতিয়ার ব্যতিরেকে, করাম-নন-জুডিস, আইনগত অসদুদ্দেশ্য দ্বারা প্রণোদিত অথবা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘনে প্রদত্ত, সেখানে এই আদালতের সাংবিধানিক এখতিয়ার রুদ্ধ হয় না। ৪১ ডিএলআর (এডি) ৬৮, ৪৮ ডিএলআর (এডি) ২০৮, ৬২ ডিএলআর (এডি) ৪২৫ এবং ৬৯ ডিএলআর (এডি) ৪১১-এ প্রকাশিত সিদ্ধান্তসমূহ এই সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিকে সমর্থন করে যে, আপত্তিকৃত কর্মটি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে হলে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে রিট এখতিয়ার আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান মামলায়, আবেদনকারী নির্দিষ্টভাবে করাম নন জুডিস এবং আইনগত অসদুদ্দেশ্য উভয়ই দাবি করেছেন।
প্রথমে স্পষ্ট করতে হবে আইনগত অসদুদ্দেশ্য কী এবং করাম নন জুডিস কী।
আইনগত অসদুদ্দেশ্য (ম্যালিস ইন ল)
আইনগত অসদুদ্দেশ্য বলতে বোঝায় আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয় এমন উদ্দেশ্যে অথবা অপ্রাসঙ্গিক, অনুচিত বা অগ্রহণযোগ্য ভিত্তিতে আইনগত ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের প্রয়োগ। এর জন্য ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা ক্রোধের প্রমাণ প্রয়োজন হয় না; বরং যখন একটি কর্তৃপক্ষ আইনসম্মত যৌক্তিকতা ছাড়া বা বহিরাগত উদ্দেশ্যে কাজ করে তখন এটি উদ্ভূত হয়। ড. নুরুল আলম ইসলাম মামলায় মাননীয় আপিল বিভাগ আইনগত অসদুদ্দেশ্যকে আইনগতভাবে বহিরাগত বা স্পষ্টত ভুল ধারণাপ্রসূত কর্মের ভিত্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে (৩৩ ডিএলআর (এডি) ২০১)।
Coram non judice
করাম নন জুডিস একটি আইনগত মতবাদ যার অর্থ “বিচার করতে অক্ষম ব্যক্তির সম্মুখে।” করাম নন জুডিস বলতে এমন একটি সংস্থাকে বোঝায় যা সঠিকভাবে গঠিত নয়। এটি প্রযোজ্য হয় যখন একটি আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের একটি বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য আইনগত এখতিয়ার বা যথাযথ গঠন না থাকে, যার ফলে তার কার্যধারা ও সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে নিষ্ফল হয়ে পড়ে (রেফ. ৫৩ ডিএলআর (এডি) ৩৮)।
এখন নির্ধারণের প্রশ্ন হলো, বর্তমান রিট পিটিশনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনগত অসদুদ্দেশ্য malice in law ও করাম নন জুডিস মতবাদ প্রযোজ্য কিনা এবং মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতিতে রিট পিটিশনটি maintainable কিনা।
বর্তমান মামলায়, নির্বাচন কমিশনের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল আবেদনকারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আইনগতভাবে প্রাসঙ্গিক তারিখে ঋণখেলাপি ছিলেন কিনা। ৬৯ ডিএলআর (এডি) ৪১১-এ প্রকাশিত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিক মামলায় মাননীয় আপিল বিভাগ সুস্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, একজন প্রার্থীর খেলাপি অবস্থা নির্ধারণের প্রাসঙ্গিক তারিখ হলো যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ। প্রতিপক্ষ নং ৫-এর পক্ষে উত্থাপিত এই যুক্তি মেনে নিলেও যে প্রাসঙ্গিক তারিখ ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের অব্যবহিত পূর্বের দিন, আবেদনকারী উভয় তারিখেই ঋণখেলাপি ছিলেন না।
আবেদনকারীর খেলাপি অবস্থার প্রশ্নে এটি একটি স্বীকৃত সত্য যে, আবেদনকারীর নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে কখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। এটি প্রাথমিকভাবে এই অনুমান সৃষ্টি করে যে, আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সার্কুলারের আওতায় ঋণখেলাপি নন।
নির্বাচন বিষয়ক মামলায় একজন প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসেবে অযোগ্য কিনা তা নির্ধারণের প্রাসঙ্গিক তারিখ হলো মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ অথবা সর্বশেষে যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ। নথিতে থাকা উপাদান দেখায় যে, আবেদনকারী ২৯.১২.২০২৫ তারিখে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয় ০২.০১.২০২৬ তারিখে। নথিতে থাকা উপাদান আরও প্রকাশ করে যে, ২৯.১২.২০২৫ তারিখে, যখন মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয় এবং ০২.০১.২০২৬ তারিখে, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহকে আবেদনকারীকে ঋণখেলাপি হিসেবে দেখানো থেকে বিরত রাখে, তা যমুনা ব্যাংক পিএলসি ব্যতীত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল। উপরন্তু, নির্বাচন কমিশন ১৮.০১.২০২৬ তারিখের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করে আপিলটি নিষ্পত্তি করে, যার মাধ্যমে মাননীয় জজ-ইন-চেম্বার হাইকোর্ট বিভাগের পূর্বের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। উক্ত ঘটনা মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই উভয়ের অনেক পরে ঘটেছিল। একটি পরবর্তী ঘটনা প্রাসঙ্গিক সংবিধিবদ্ধ তারিখে আবেদনকারীর যোগ্যতা আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রণ বা পূর্ববর্তীভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি যে, বিচারিক আদেশসমূহ সাধারণত ভবিষ্যৎমুখী কার্যকর হয় যদি না তা স্পষ্টভাবে পূর্ববর্তী কার্যকারিতাসম্পন্ন করা হয়।
আবেদনকারী দলিলাদি দাখিল করেছেন যা দেখায় যে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, যমুনা ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র সাথে তাঁর দায় প্রাসঙ্গিক তারিখের পূর্বেই পুনঃতফসিল, নিয়মিতকরণ বা নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি উত্থাপিত হয়নি।
যমুনা ব্যাংক পিএলসি সম্পর্কে, আবেদনকারীর বক্তব্য হলো, হাইকোর্ট বিভাগের পূর্বের আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে তাঁকে খেলাপি হিসেবে দেখাতে বাধা দিয়েছিল। যদিও ৩০.১১.২০২২ তারিখের মাননীয় জজ-ইন-চেম্বারের একটি আদেশ যমুনা ব্যাংক সম্পর্কিত ছিল, আরও দেখায় যে যমুনা ব্যাংক যাচাই-বাছাইয়ের পূর্বে ২৯.১২.২০২৫ তারিখে আবেদনকারীর ঋণ দায় পুনঃতফসিল করেছিল। সুতরাং, যাচাই-বাছাইয়ের তারিখে, যমুনা ব্যাংকের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা যায় না।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি সম্পর্কে, উপাদান দেখায় যে, মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বেই ঋণ সুবিধা পুনঃতফসিল করা হয়েছিল এবং ডাউন পেমেন্ট পূর্বেই প্রদান করা হয়েছিল। ব্যাংকটি নিয়মিত অবস্থার সনদও প্রদান করেছিল।
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড সম্পর্কে, আবেদনকারী প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়েছিলেন এবং ঋণ নিয়মিত/পুনঃতফসিল করা হয়েছিল ।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি সম্পর্কে, উপাদান দেখায় যে ২৯.১২.২০২৫ তারিখে পুনঃতফসিল এবং ৩০.১২.২০২৫ তারিখে সনদায়ন করা হয়েছিল । স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ২৪.০৭.২০২৪ তারিখে ঋণের সম্পূর্ণ নিষ্পত্তির সনদ প্রদান করে । ব্যাংক এশিয়া পিএলসিও একটি পত্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে সুতরাং, দাখিলকৃত দলিলাদি অনুযায়ী, আবেদনকারী ২৯.১২.২০২৫ বা ০২.০১.২০২৬ কোনো তারিখেই ঋণখেলাপি ছিলেন না।
প্রতিপক্ষ নং ৫ হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিতকারী মাননীয় জজ-ইন-চেম্বারের ১৮.০১.২০২৬ তারিখের আদেশের ওপর নির্ভর করেছিল। তবে উক্ত আদেশ দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রাসঙ্গিক তারিখের পরে প্রদত্ত হওয়ায়, স্পষ্টভাবে পূর্ববর্তী retrospective কার্যকারিতাসম্পন্ন না করা হলে, একটি আদালতের আদেশ prospective ভবিষ্যৎমুখী কার্যকর হয়। নির্বাচন কমিশন নিজেই এই ভিত্তিতে অগ্রসর হয়েছিল যে, ১৮.০১.২০২৬ তারিখের আদেশের কারণে সেই পর্যায়ে আবেদনকারীকে খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই আইনগত যুক্তি আইনগতভাবে ভুল ধারণাপ্রসূত। একটি পরবর্তী ঘটনা ইতিমধ্যে যাচাই-বাছাইকৃত ও গৃহীত মনোনয়নপত্রকে পূর্ববর্তীভাবে বাতিল করতে পারে না। উপরন্তু, প্রতীয়মান হয় যে, মাননীয় জজ-ইন-চেম্বারের উক্ত আদেশটি পরবর্তীতে খারিজ/অচল হয়ে যায়। এবং সুতরাং আপত্তিকৃত আদেশের মূল ভিত্তিই আর কার্যকর ছিল না।
প্রতিপক্ষ নং ৫-এর এই দাবি যে আবেদনকারী একজন অভ্যাসগত ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি, তা প্রাসঙ্গিক তারিখের পূর্বে পুনঃতফসিল, নিয়মিতকরণ ও নিষ্পত্তি প্রদর্শনকারী সমসাময়িক ব্যাংক দলিলাদির উপর প্রাধান্য পেতে পারে না। একজন প্রার্থী খেলাপি কিনা তা কেবল একজন স্বার্থান্বেষী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যায় না। কমিশনের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিবেচনা করা। আপত্তিকৃত আদেশে এই ধরনের কোনো অনুশীলনের প্রতিফলন নেই।
প্রতিপক্ষ নং ৫-এর পক্ষে বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট আরও যুক্তি দেন যে, যেহেতু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একটি অর্থ ঋণ জারি মামলা এখনো বিচারাধীন, তাই তিনি এখনও ঋণখেলাপি রয়ে গেছেন এবং সে কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে যথাযথভাবে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন। আমরা এই যুক্তি গ্রহণ করতে অপারগ। কেবল একটি অর্থ ঋণ জারি মামলার বিচারাধীনতা, বিশেষত যখন সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই পরবর্তীতে ঋণ দায় নিয়মিত বা সম্পূর্ণ সমন্বয় করেছে, তা প্রমাণ করে না যে একজন ব্যক্তি নির্বাচনী আইনের উদ্দেশ্যে এখনও ঋণখেলাপি। সংযুক্ত ডকুমেন্ট থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সুস্পষ্টভাবে সনদায়ন করেছে যে মনোনয়নপত্র দাখিল বা যাচাই-বাছাইয়ের তারিখের পূর্বে বা তারিখে আবেদনকারীর ঋণ দায় পুনঃতফসিল, নিয়মিত অথবা সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
আবেদনকারী নির্দিষ্টভাবে এই বক্তব্যও রেখেছেন যে, শুধুমাত্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ জারি আদালতের সামনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে না পারার কারণে জারি কার্যধারা সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয়নি এবং এই ধরনের বিচারাধীনতা ইতিমধ্যে অনুমোদিত নিয়মিতকরণ বা নিষ্পত্তির প্রভাবকে বাতিল করে না। ব্যাংকের সক্ষম কর্তৃপক্ষ যখন সরকারি অনুমোদন পত্র ও সনদের মাধ্যমে নিজেরাই স্বীকার করে যে দায়সমূহ নিয়মিত বা সম্পূর্ণ সমন্বয় করা হয়েছে, তখন কেবল প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত কারণে জারি কার্যধারার ধারাবাহিকতা প্রকৃত আইনগত অবস্থানকে অতিক্রম করে যেতে পারে না অথবা প্রযোজ্য নির্বাচনী আইনের অর্থে আবেদনকারীকে “ঋণখেলাপি” বানাতে পারে না। সুতরাং, এই বিষয়ে প্রতিপক্ষ নং ৫-এর উত্থাপিত যুক্তি ভুল ধারণাপ্রসূত এবং আইনগত সারবত্তাহীন।
প্রাসঙ্গিক তারিখের সম্পূর্ণ পরবর্তী একটি ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এবং মাননীয় আপিল বিভাগের বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত, হাইকোর্ট বিভাগের বিদ্যমান আদেশসমূহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহের দাখিলকৃত দলিলগত প্রমাণ উপেক্ষা করে, নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্তকে নির্ধারণীয় বিষয়ের সম্পূর্ণ বহিরাগত বিবেচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধরনের সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতার প্রয়োগ পরিচালনাকারী আইনগত নীতির পরিবর্তে আইনগতভাবে ভুল ধারণাপ্রসূত ও বহিরাগত বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে ছিল।
সে অনুযায়ী, এই আদালত এই বিবেচিত মতে পৌঁছেছে যে, আপত্তিকৃত সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে malice in law, কেননা নির্বাচন কমিশন তার সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার অপ্রাসঙ্গিক ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য ভিত্তিতে প্রয়োগ করেছে, ফলে আপত্তিকৃত আদেশটি আইনগতভাবে অটেকসই।
নথিতে থাকা উপাদান এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত বিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নির্বাচন কমিশন ১৮.০১.২০২৬ তারিখে আনুমানিক দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় আপিলটি শুনানি করে তা খারিজ করে দেয়, ফলে রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বহাল থাকে। অতঃপর আপিল খারিজের ফলাফল ডিজিটাল কম্পিউটার বোর্ডে প্রদর্শিত হয়। অতঃপর, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪:৩০ মিনিটে, নির্বাচন কমিশন আবেদনকারীর অনুপস্থিতিতে কথিতভাবে আপিলটি পুনরায় খুলে পুনঃশুনানি করে এবং আবেদনকারীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে তা মঞ্জুর করে।
যুক্তির খাতিরে, আপিলটি গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নিলেও, নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে ১৮.০১.২০২৬ তারিখে দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় আপিলটি খারিজ করে। ফলে উক্ত আদেশ জনপ্রতিনিধি আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর ১৪(৫) অনুচ্ছেদের অধীনে চূড়ান্তত্ব লাভ করে। উক্ত চূড়ান্ত আদেশ প্রদত্ত হওয়ার পর, নির্বাচন কমিশন উক্ত আপিলের ক্ষেত্রে Functus officio ( কর্তৃত্বহীন) হয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত একটি নির্বাচন আপিল পুনর্বিবেচনা, পুনরায় খোলা বা পুনঃশুনানির অনুমোদন দেয় এমন কোনো বিধান দেখানো হয়নি। পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা একটি সংবিধিবদ্ধ সৃষ্টি এবং স্পষ্টভাবে প্রদত্ত না হলে অন্তর্নিহিত ক্ষমতার আকারে প্রয়োগ করা যায় না। নির্বাচন কমিশনের তার নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না এবং সুতরাং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত আপত্তিকৃত আদেশটি করাম নন জুডিসের একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। সুতরাং, একই দিন বিকাল ৪:৩০ মিনিটে পরবর্তী পুনঃশুনানিটি এখতিয়ার ব্যতিরেকে ছিল।
প্রতিপক্ষ নং ৫-এর আরও এই বক্তব্য যে, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর, আবেদনকারীর প্রতিকার কেবল জনপ্রতিনিধি আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৯ থেকে ৭২ অনুচ্ছেদের অধীনে নির্বাচনী দরখাস্তের মাধ্যমে রয়েছে, তাও প্রতিপক্ষকে সহায়তা করে না। বর্তমান রিট পিটিশনটি মনোনয়নপত্র বাতিলকারী নির্বাচন-পূর্ব আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা হয়েছিল এবং এই আদালত ইতিমধ্যে বিষয়টি গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশসহ রুল জারি করেছে। মাননীয় আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হস্তক্ষেপ করেনি এবং আবেদনকারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। এই আদালতের সামনে বিষয়টি নিছক একটি নির্বাচনী ফলাফল বিরোধ নয় বরং নির্বাচন কমিশনের তর্কিত administrative/quasi judicial প্রশাসনিক/আধা-বিচারিক আদেশটি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে প্রদত্ত হয়েছিল কিনা। সুতরাং, এই বিষয়ে আপত্তিটি প্রত্যাখ্যাত হলো।
আমরা আরও দেখতে পাই যে আপত্তিকৃত আদেশটি অ-বাচনিক (নন-স্পিকিং/ non speaking )। এটি যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ, সময়সীমার বিষয়, পুনর্বিবেচনার সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতার অনুপস্থিতি এবং আবেদনকারীর ব্যাংক দলিলাদি যথাযথভাবে সম্বোধন করে না।
রিটার্নিং অফিসার, ০২.০১.২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাইয়ে, আবেদনকারীকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি ৫-এর অধীনে, যাচাই-বাছাই আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তিকে পাঁচ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হবে, যা ০৭.০১.২০২৬ তারিখকে আপিল দাখিলের শেষ তারিখ করে তোলে। এটি অবিতর্কিত যে, নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ সংশ্লিষ্ট সময়কাল জুড়ে কার্যকর ছিল।
প্রতিপক্ষ নং ৫-এর পক্ষে বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট, ১১.১২.২০২৫ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করে যুক্তি দেন যে, আপিল ০৫.০১.২০২৬ থেকে ১১.০১.২০২৬-এর মধ্যে দাখিল করা যেতে পারত। কিন্তু গেজেটটি কেবল সাধারণ নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করে, যেখানে আপিল দাখিলের সময়সীমা বিধি ৫ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ থেকে গণনা করা হয় এবং সুতরাং প্রার্থীভেদে ভিন্ন হয়।
বর্তমান মামলায়, যাচাই-বাছাই ০২.০১.২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয়েছিল, অথচ প্রতিপক্ষ নং ৫ নির্বাচন আপিল নং ৬২৪ /২০২৬ কেবল ০৯.০১.২০২৬ তারিখে দাখিল কর