Advocate Nayem

Advocate Nayem বিনামূল্যে আপনার আইনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ এবং উত্তর পেতে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

বিষয়: ভূমি মন্ত্রণালয়ের ০৫ মার্চ ২০২৪ তারিখের পরিপত্রের আলোকে বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন ও ভূমি উন্...
24/07/2026

বিষয়: ভূমি মন্ত্রণালয়ের ০৫ মার্চ ২০২৪ তারিখের পরিপত্রের আলোকে বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন ও ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ সংক্রান্ত মতামত।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ২৮ক ধারার বিধান অনুযায়ী ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বাতিল করা হলেও উক্ত সম্পত্তিতে সরকার বা কোনো ব্যক্তির আইনানুগ স্বত্ব বা স্বার্থের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়নি। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে স্মারক নং-৩১.০০.০০০০.০৪৫.৫৩.০৬০.১৬-৬৪ মূলে জারিকৃত পরিপত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

উক্ত পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে কেবল ‘খ’ তফসিল বাতিল হওয়ার কারণে পূর্বের সকল দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত বৈধ দলিলাদি, মালিকানার ধারাবাহিকতা, আদালতের আদেশ এবং বিদ্যমান রেকর্ড যাচাইপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যেসব সম্পত্তির ক্ষেত্রে বৈধভাবে হোল্ডিং খোলা ছিল এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হতো, সেসব ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া বৈধ রেজিস্ট্রিকৃত দলিল থাকা সত্ত্বেও যেসব ক্ষেত্রে রেকর্ড সংশোধন হয়নি, দলিলের সত্যতা ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে হোল্ডিং খোলা এবং ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

আবার, যেসব সম্পত্তি আদালতের রায়ের মাধ্যমে অবমুক্ত হয়েছে অথবা ‘খ’ তফসিল বিলুপ্তির কারণে বিচারাধীন মামলা আইনগতভাবে অকার্যকর (abate) হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দাখিলকৃত কাগজপত্র ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করে রেকর্ড সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তবে কোনো ব্যক্তি যদি বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির মালিকানা দাবির সমর্থনে বৈধ দলিল বা আইনগত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ৯২ ধারা অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তি খাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অতএব, বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া একদিকে যেমন ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড সংশোধন করা যাবে না, তেমনি বৈধ দাবিদারদের আইনগত অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা যাবে না। প্রতিটি আবেদন আইন, বিধি ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উল্লিখিত পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করে নিষ্পত্তি করা সমীচীন।

মতামত:
বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বৈধ দলিলাদি, মালিকানার ধারাবাহিকতা, দখল এবং পূর্ববর্তী রেকর্ড যাচাইপূর্বক রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৪৩ ও ১৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রমাণিত বৈধ মালিকের ক্ষেত্রে রেকর্ড সংশোধন ও ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ করা যাবে এবং বৈধ প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে ৯২ ধারায় খাস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংগৃহিত

📌📌কিউরেটিভ পিটিশন (Curative Petition) কি, বাংলাদেশে কি এর অস্তিত্ব আছে? রিভিউ-পরবর্তী আইনি বাস্তবতা ও শেষ মুহূর্তের কৌশল...
02/06/2026

📌📌কিউরেটিভ পিটিশন (Curative Petition) কি, বাংলাদেশে কি এর অস্তিত্ব আছে? রিভিউ-পরবর্তী আইনি বাস্তবতা ও শেষ মুহূর্তের কৌশল

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায়, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির 'রিভিউ' (Review) আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর প্রায়ই একটি জটিল আইনি প্রশ্ন সামনে আসে—কমনওয়েলথভুক্ত কিছু দেশের মতো বাংলাদেশেও কি "কিউরেটিভ পিটিশন" দায়ের করে সাজা স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার শেষ কোনো সুযোগ রয়েছে?

🔹উচ্চ আদালতের সাংবিধানিক এখতিয়ার এবং আমাদের বিচারিক প্র্যাকটিসের আলোকে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

১. বাংলাদেশের বিচারিক ধারাবাহিকতা (Judicial Hierarchy)

একটি স্পর্শকাতর ফৌজদারি বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তির চূড়ান্ত আইনি ধাপগুলো মূলত নিম্নরূপ:
✅ 1. বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায় (Tribunal Judgment)
✅ 2. হাইকোর্ট বিভাগে আপিল / ডেথ রেফারেন্স (HC Division Appeal / Death Reference)
✅ 3.আপিল বিভাগে আপিল
✅ 4. আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় (Appellate Division Judgment)
✅5. রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (Review under Article 105)
✅ 6. রাষ্ট্রপতির নিকট অনুকম্পা প্রদর্শন (Mercy Petition under Article 49)

সাধারণ নিয়মে, রিভিউ পিটিশন খারিজের অর্থই হলো প্রচলিত বিচারিক লড়াইয়ের সমাপ্তি। এর মাধ্যমে মামলার চূড়ান্ততা (Finality of Judgment) প্রতিষ্ঠিত হয়। যার পর কেবল রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মার্সি পিটিশনের সুযোগ বাকি থাকে।

২. কিউরেটিভ পিটিশনের উৎস ও বিবর্তন: বৈবাহিক বিরোধ থেকে ফাঁসির মামলা:
বিশ্বের বিচারিক ইতিহাসে "Curative Petition" ধারণাটির জন্ম হয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগান্তকারী দেওয়ানি (বৈবাহিক) মামলা Rupa Ashok Hurra vs. Ashok Hurra (2002)-এর মাধ্যমে।

🔹মূল দেওয়ানি গ্রাউন্ড: এই মামলায় রায় দেওয়া হয় যে, আদেশের মধ্যে "ন্যাচারাল জাস্টিস" বা প্রাকৃতিক ন্যায়ের গুরুতর লঙ্ঘন (যেমন: পক্ষকে শুনানির সুযোগ না দেওয়া) বা বিচারকের পক্ষপাতিত্বের (Bias) সুনির্দিষ্ট শঙ্কা থাকলে রিভিউ খারিজের পরেও শেষ আবেদন বা 'Curative Petition' চলবে।
🔹ফৌজদারি ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ:দেওয়ানি বিরোধে জন্ম হলেও যেখানে মানুষের "জীবনের অধিকার" (Right to Life) জড়িত, সেখানে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নীতিটি ফৌজদারি ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করে।
🔹ফৌজদারি নজির:বহুল আলোচিত "Navneet Kaur (2014)এবং ২০২০ সালের " নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলায়" মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রিভিউ খারিজের পর এই বিশেষ পিটিশনকে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ ও শুনানি করা হয়।

৩. কিউরেটিভ পিটিশন কেন বাংলাদেশের সংবিধানে অনুপস্থিত?
ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট "জুডিশিয়াল ইনোভেশন" বা বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই নতুন ধাপের জন্ম দিলেও, বাংলাদেশের আইনি বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন:
💠সংবিধানের প্রাধান্য (Article 7): আমাদের সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের স্পষ্ট পরিধির বাইরে গিয়ে নিজস্ব ক্ষমতাবলে নতুন কোনো "আপিল-সদৃশ ধাপ" বা বিশেষ পিটিশন সৃষ্টি করতে পারে না।
💠চূড়ান্ত আপিল আদালত (Article 103): সংবিধান অনুযায়ী আপিল বিভাগই দেশের সর্বোচ্চ এবং শেষ আদালত। এর সিদ্ধান্তের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় আর কোনো সমান্তরাল আবেদন চলতে পারে না।
💠 রিভিউ-এর কঠোর সীমাবদ্ধতা (Article 105): রিভিউ ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। রায়ে কেবল কোনো দৃশ্যমান ভুল (Apparent Error) থাকলে এটি কার্যকর হয়। রিভিউ খারিজ হওয়ার সাথে সাথে বিচারিক আদালতের দরজা চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
💠বিচারিক চূড়ান্ততার নীতি (Finality of Judgment): আমাদের আইনি ব্যবস্থার অন্যতম মূল ভিত্তি হলো—“Litigation must come to an end”। বিচার প্রক্রিয়া অন্তহীন হতে পারে না।

৪. বাংলাদেশে রিভিউ-পরবর্তী বাস্তবতা: "Last-Ditch Attempt" বা শেষ কৌশল: বাংলাদেশে 'Curative Petition' শিরোনামে কোনো দাপ্তরিক আবেদন সরাসরি আইনগতভাবে রক্ষণীয় নয় (Not Maintainable)। তবে শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া বা ন্যাচারাল জাস্টিসের গুরুতর লঙ্ঘন হলে 'Recall' বা 'Inherent Power'-এর আবেদনই একমাত্র বৈধ পথ, যা অত্যন্ত বিরল এবং ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনা করেন।
রিভিউ খারিজের পর ফাঁসি বা চূড়ান্ত সাজা স্থগিতের জন্য (যেমন: ফাঁসি কার্যকরে অতিরিক্ত বিলম্ব বা Inordinate Delay-এর গ্রাউন্ডে) আইনজীবীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি মোড়কে কিছু বিশেষ Miscellaneous Petition বা জরুরি মোশন দায়ের করেন:

🔹মোশন ফর রিকল (Motion for Recall / Clarification):যদি পূর্বের আদেশে কোনো মারাত্মক পদ্ধতিগত ত্রুটি বা টাইপিং ভুল থাকে, তবে রায় সংশোধনের জন্য এই আবেদন করা হয়।
🔹আদালতের সহজাত ক্ষমতা (Inherent Power - Article 104): "পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার" (Complete Justice) নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগের অসীম ক্ষমতা রয়েছে। রিভিউ খারিজের পর যদি সম্পূর্ণ নতুন ও অকাট্য কোনো প্রমাণ সামনে আসে, তবে এই ধারায় শেষ চেষ্টা করা হয়।
🔹মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের রিট (Fresh Writ - Article 102): ফাঁসি কার্যকরের আগমুহূর্তে যদি জেল কোড (Jail Code) লঙ্ঘন করে আসামিকে পর্যাপ্ত সময় বা নোটিশ না দেওয়া হয়, তবে 'Due Process' লঙ্ঘনের গ্রাউন্ডে জরুরি রিট করে স্থগিতাদেশ (Stay Order) চাওয়া যায়।

আইনি পরিভাষায় রিভিউ এবং মার্সি পিটিশন খারিজের পর ফাঁসি ঠেকানোর এই প্রক্রিয়াকে "Last-Ditch Attempt"বা শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত চেষ্টা বলা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে কিউরেটিভ পিটিশনের কোনো ফর্মাল বা দাপ্তরিক অস্তিত্ব নেই। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এবং ন্যায়বিচার অক্ষুণ্ণ রাখতে ফেয়ার ট্রায়াল (Fair Trial)-এর সকল উপাদান বজায় রেখে যৌক্তিক সময়ে মামলা নিষ্পত্তি এখন সময়ের দাবী।

নাইমুল ইসলাম
অ্যাডভোকেট

ভালো লেগেছে তাই শেয়ার করলাম
Post credit
অ্যাডভোকেট স্নিগ্ধা আকতার

স্ট্যাম্পে লেনদেন ও ৪০৬/৪২০ ধারার মামলাঃ কেন অধিকাংশ আসামিই খালাস পেয়ে যান?রহিম তার বন্ধু করিমকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ৩ লক...
25/04/2026

স্ট্যাম্পে লেনদেন ও ৪০৬/৪২০ ধারার মামলাঃ কেন অধিকাংশ আসামিই খালাস পেয়ে যান?

রহিম তার বন্ধু করিমকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ৩ লক্ষ টাকা দেন এবং ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিপত্র করেন। সেখানে লেখা ছিল, ৬ মাসের মধ্যে বিদেশ পাঠাতে না পারলে রহিম টাকা ফেরত দেবেন। রহিম বিদেশ পাঠাতেও পারলেন না, টাকাও ফেরত দিলেন না। করিম আদালতে দন্ডবিধি’র ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করলেন।

বিচারিক পর্যায়ে আদালত দেখলেন যে, রহিমের কাছে স্ট্যাম্পটি একটি 'চুক্তিপত্র'। যেহেতু করিম স্বেচ্ছায় এবং স্বজ্ঞানে চুক্তিতে সই করেছেন, তাই এটি একটি দেওয়ানি দায়। রহিম যে শুরু থেকেই প্রতারক ছিলেন, তার কোনো অকাট্য প্রমাণ করিম দিতে পারেননি। ফলে রহিমকে খালাস প্রদান করা হয় এবং করিমকে পরামর্শ দেওয়া হয় দেওয়ানী আদালতে 'মানি স্যুট' মোকদ্দমা করে টাকা আদায়ের জন্য।

জালাল মিয়া জমি বিক্রির জন্য কাদের বিশ্বাস এর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বায়না গ্রহণ করেন। পরে জালাল মিয়া জমিটি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। 'কাদের বিশ্বাস এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দ-বিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করেন।

আদালতে যখন বিচার শুরু হয়, তখন দেখা যায় জালাল মিয়া এবং কাদের বিশ্বাস এর মধ্যে একটি বৈধ লিখিত চুক্তি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়ার কথা ছিল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমা বা মানি স্যুট করে টাকা ফেরত এর মোকদ্দমা। যেহেতু এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি ছিল, তাই আদালত ধরে নেন যে এখানে জালাল মিয়ার শুরুতে প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তিনি পরবর্তীতে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। ফলে ফৌজদারি মামলায় জালাল মিয়া খালাস পেয়ে যান।

তিনশত টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে টাকা লেনদেন বা চুক্তি করার পর যখন কোনো বিরোধ তৈরি হয়, তখন সাধারণ মানুষ সরাসরি দন্ডবিধি’র ৪০৬/৪২০ ধারায় ফৌজদারি মামলা করেন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে যান।

৪২০ ধারার ক্ষেত্রে মামলার শুরুতেই প্রমাণ করতে হয় যে, আসামির শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল। যদি লেনদেনের সময় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি প্রতারণা নয়, বরং চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৪০৬ ধারা ক্ষেত্রে সম্পদ গচ্ছিত রাখার বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়।

উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো যেখানে একটি লিখিত চুক্তি (যেমন ৩শ টাকার স্ট্যাম্প) বিদ্যমান, সেখানে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে একটি দেওয়ানি সম্পর্ক তৈরি হয়। স্ট্যাম্পে লেখা থাকে যে "টাকা না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে"। এটি মূলত একটি চুক্তিবদ্ধ দায়। ফৌজদারি আদালত মনে করেন, এটি টাকা আদায়ের মোকদ্দমা কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নয়।

কারণ ৪২০ ধারায় সাজা দিতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে, আসামি যখন স্ট্যাম্পে সই করেছিলেন বা টাকা নিয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার মনে প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল। যদি আসামি শুরুতে কাজ করার চেষ্টা করেন কিন্তু পরে ব্যর্থ হন, তবে আইনানুযায়ী সেটি হবে চুক্তি ভঙ্গ, কিন্তু প্রতারণা নয়।

আবার স্ট্যাম্পে সাধারণত টাকা লেনদেনের স্বীকারোক্তি থাকে। কিন্তু দ-বিধির ৪০৬ ধারার জন্য বিশ্বাসভঙ্গ প্রমাণ করতে হয়। যদি স্ট্যাম্পে লেখা থাকে যে এটি একটি 'ঋণ' বা 'ধার', তবে সেটি বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ ঋণ দেওয়া মানে মালিকানা হস্তান্তর করা, আমানত রাখা নয়।

বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নিছক চুক্তি ভঙ্গ মানেই প্রতারণা নয়। যদি কোনো লেনদেনের শুরুতেই অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা ৪২০ ধারার আওতায় আসবে না। ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে করা চুক্তির ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য।

উচ্চ আদালত আরেকটি সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন, যদি কোনো বিরোধের সমাধান দেওয়ানি আদালতে সম্ভব হয় (যেমন স্ট্যাম্পের চুক্তি অনুযায়ী টাকা আদায়ের মামলা), তবে ফৌজদারি আদালত সেই মামলা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করেন। একে আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য করা হয়।

উচ্চ আদালত আরও বলছেন, পাওনা টাকা আদায়ের সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে ফৌজদারি মামলাকে ব্যবহার করা যাবে না। দেওয়ানি বিরোধকে ফৌজদারি রঙ দেওয়া আইনত দ-নীয়।

তবে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পের বিরোধে ফৌজদারি মামলার সাফল্যের জন্য কিছু বিষয়ে মনোযোগি হলে সাফল্য আসতে পারে। যেমন-
১। আসামি শুরুতেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাদীকে প্রলুব্ধ করেছিলেন। যেমন ভুয়া ভিসা দেখানো ইত্যাদি
২। টাকাটি ধার হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য 'আমানত' হিসেবে রাখা হয়েছিল।
৩। স্ট্যাম্পের সাক্ষীদের মাধ্যমে প্রমাণ করা যে, লেনদেনের সময়ই আসামির আচরণ সন্দেহজনক ছিল।

 #ফ্ল্যাট কেনার আগে যে আইনি ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই যাচাই করতে হবে১️⃣ জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র • RS, SA, CS, Khatian...
25/04/2026

#ফ্ল্যাট কেনার আগে যে আইনি ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই যাচাই করতে হবে

১️⃣ জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র
• RS, SA, CS, Khatian (যা প্রযোজ্য)
• #হালনাগাদ নামজারি (Mutation) খতিয়ান
• #সর্বশেষ পর্চা ও খাজনা পরিশোধের রসিদ
• #মৌজা ম্যাপ ও জমির নকশা

🔍 নিশ্চিত করতে হবে জমিটি নিরবচ্ছিন্ন ও বৈধ মালিকানাধীন কিনা।

২️⃣ #ডেভেলপার ও জমির মালিকের মধ্যে চুক্তিপত্র
• Development Agreement
• Power of Attorney (POA) – নিবন্ধিত ও কার্যকর কিনা
• POA বাতিল হয়নি কি না তা যাচাই

৩️⃣ #অনুমোদন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত ডকুমেন্ট
• রাজউক/সিডিএ/কেডিএ অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান
• ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (Land Use Clearance)
• সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভার অনুমোদন

৪️⃣ #ফ্ল্যাট বিক্রয় সংক্রান্ত ডকুমেন্ট
• Agreement for Sale (রেজিস্ট্রেশনযোগ্য)
• Payment Schedule ও রশিদ
• ফ্ল্যাটের সাইজ, অবস্থান ও শেয়ার উল্লেখ আছে কিনা
• হ্যান্ডওভার তারিখ ও দেরি হলে ক্ষতিপূরণ ধারা

৫️⃣ #মামলাজনিত বিষয় যাচাই
• জমি বা বিল্ডিং নিয়ে কোনো
• সিভিল মামলা
• ফৌজদারি মামলা
• ইনজাংশন অর্ডার আছে কি না

🔎 প্রয়োজনে কোর্ট সার্চ করানো উচিত।

৬️⃣ #ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
• রেজিস্ট্রেশনকৃত কবলা দলিল
• ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেওয়ার ডকুমেন্ট
• ইউটিলিটি সংযোগ (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি)
• অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

❌ ফ্ল্যাট কেনার সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই বর্জনীয়

🚫 ফেসবুক বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করা
🚫 মৌখিক আশ্বাসে টাকা প্রদান
🚫 রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ
🚫 অনুমোদনহীন বা আংশিক অনুমোদিত ভবনে ফ্ল্যাট ক্রয়
🚫 আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর

⚖️ গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরামর্শ

✔️ ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবি দিয়ে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করান
✔️ সব অর্থ লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করুন
✔️ চুক্তিপত্রে আপনার অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা নিশ্চিত করুন

📌 সঠিক যাচাই আপনাকে ভবিষ্যতের বড় আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করতে পারে।
ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধৈর্য্য ও আইনগত সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

23/04/2026

আমাদের সমাজে জমিজমা নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো— "টানা ১২ বছর কারো জমি দখলে রাখতে পারলে সেই জমির মালিকানা পাওয়া যায়।" আইনে একে বলা হয় ‘Adverse Possession’ বা বিরুদ্ধ দখল। কিন্তু ২০২৩ সালে নতুন ভূমি আইন পাসের পর এই নিয়মের কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
আসুন তামাদি আইন, ১৯০৮ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর আলোকে বর্তমান আইনি অবস্থানটি বিশ্লেষণ করি:

১. তামাদি আইনের ২৮ ধারা (বিরুদ্ধ দখল বা Adverse Possession):
তামাদি আইনের ২৮ ধারা এবং অনুচ্ছেদ ১৪২ ও ১৪৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারও সম্পত্তিতে প্রকাশ্য, নিরবচ্ছিন্ন এবং মূল মালিকের স্বার্থের বিরুদ্ধে (Hostile intent) টানা ১২ বছর দখল বজায় রাখেন, এবং মূল মালিক যদি এই সময়ের মধ্যে দখল উদ্ধারের কোনো মামলা না করেন, তবে মূল মালিকের উক্ত জমির উপর অধিকার বিলুপ্ত হয়। ফলস্বরূপ, দখলদার ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা লাভ করতে পারেন।

২. ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৭ ধারা:
সাম্প্রতিক এই যুগান্তকারী আইনে অবৈধ দখলকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি পেশিশক্তি, জবরদখল, বা অবৈধ পন্থায় অন্যের জমি দখল করেন বা দখলে রাখেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমান আইনি অবস্থান ও দুই আইনের সমন্বয়:

অনেকেই প্রশ্ন করেন, নতুন আইন আসার পর কি তামাদি আইনের ২৮ ধারা বাতিল হয়ে গেছে?

উত্তর হলো— না, তামাদি আইনের ২৮ ধারা সরাসরি বাতিল হয়নি। তবে নতুন আইনের ফলে জবরদখলকারীদের জন্য এটি আর আগের মতো ঢাল হিসেবে কাজ করবে না।

* জোরপূর্বক দখল অপরাধ: কেউ যদি এখন জোরপূর্বক বা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি দখল করে ১২ বছর পার করার পরিকল্পনা করেন, তবে মূল মালিক যেকোনো সময় ২০২৩-এর আইনের অধীনে ক্রিমিনাল অ্যাকশন বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারবেন।

* ফৌজদারি বনাম দেওয়ানি: তামাদি আইনের ২৮ ধারা একটি দেওয়ানি অধিকার (Civil Right) নিয়ে কথা বলে, অন্যদিকে ২০২৩ সালের আইনটি অবৈধ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Offence) বানিয়েছে। কোনো অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে দেওয়ানি অধিকার অর্জন করা যায় না (No one can benefit from his own wrong)।

* অতীতের দখল: তবে ২০২৩ সালের আইনটি ভূতাপেক্ষ (Retrospective) নয়। অর্থাৎ, এই আইন পাসের আগেই যদি কেউ তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী ১২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিরুদ্ধ দখলের মাধ্যমে আইনগতভাবে মালিকানা অর্জন করে থাকেন এবং আদালত কর্তৃক তা ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করে ১২ বছর পার করে মালিক হওয়ার দিন শেষ! নতুন ভূমি আইন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, যা সাধারণ ভূমি মালিকদের জন্য এক বিশাল সুরক্ষাকবচ।

🚨 হাম সম্পর্কে সচেতনতা 🚨হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ইদানিং এর প্রকোপ বাড়ছে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।🔸 লক্ষণ: জ্বর, কাশি, ...
29/03/2026

🚨 হাম সম্পর্কে সচেতনতা 🚨

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ইদানিং এর প্রকোপ বাড়ছে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
🔸 লক্ষণ: জ্বর, কাশি, চোখ লাল, শরীরে লাল ফুসকুড়ি
🔸 ঝুঁকিতে: ছোট শিশু ও টিকা না নেওয়া ব্যক্তি
🔸 প্রতিরোধ: সময়মতো MR টিকা নিন
👉 জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
👉 আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
✔️ সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।

22/02/2026

বিদেশে অবস্থান করা অবস্থায় কি তালাক প্রদান করা সম্ভব???

➡️হ্যা সম্ভব!!!

বিদেশ থেকে মুসলিম ধর্মে তা'লা'ক দেওয়ার বৈধ উপায় বাংলাদেশ আইনের আলোকে স্পষ্টভাবে, ধাপে ধাপে ও আইনসহ আলোচনা করা হলো ⬇️⬇️

➡️ প্রযোজ্য আইন
Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (MFLO)
👉 ধারা ৭ (Section 7)

➡️ নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে (MFLO S- 7)
POA ছাড়া দূতাবাসের মাধ্যমে বৈধ পদ্ধতি (মুসলিম)

★ ধাপ–১: বিদেশে বসে তালাক প্রদান
স্বামী নিজে তালাক ঘোষণা করবেন (লিখিত আকারে উত্তম)।

★ ধাপ–২: দূতাবাসে তালাকনামা সত্যায়ন (Attestation)
স্বামী নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনে গিয়ে করবেন:
লিখিত তালাকনামা প্রস্তুত
দূতাবাস কর্তৃক স্বাক্ষর ও পরিচয় সত্যায়ন (Attestation)
📌 এখানে POA লাগে না, কারণ স্বামী নিজে উপস্থিত।
⚠️ মনে রাখবেন:
👉 দূতাবাস তালাক দেয় না, শুধু দলিল সত্যায়ন করে।

★ ধাপ–৩: দূতাবাসের মাধ্যমে নোটিশ প্রেরণ
সত্যায়িত তালাকনামা দিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে (বা নিজে ডাকযোগে) পাঠাতে হবে:
স্ত্রীর বর্তমান ঠিকানায়
স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান / সিটি কর্পোরেশন মেয়রের কাছে
📮 মাধ্যম:
Diplomatic Mail / Registered Post / Courier

➡️ 📂 প্রমাণ:
প্রেরণের রসিদ ও কপি সংরক্ষণ করুন।

★ ধাপ–৪: ৯০ দিনের সালিশি সময় (আইনগত বাধ্যবাধকতা)
চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে
৯০ দিনের সালিশি (Arbitration Council) সময় শুরু
পুনর্মিলন না হলে—

★ ধাপ–৫: তালাক কার্যকর
নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর
চেয়ারম্যান চাইলে তালাক সনদ ইস্যু করবেন

➡️ যে সব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে,
১. কাবিননামা
২. জাতীয় পরিচয় পত্র
৩. পাসপোর্ট
৪. পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৫. বর্তমান ঠিকানার প্রমান পত্র
➡️ আইনের স্পষ্ট ভিত্তি (MFLO, Section 7)
Section 7(1):
তালাক দিলে স্বামীকে তা লিখিতভাবে চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে।
Section 7(2):
চেয়ারম্যান সালিশি পরিষদ গঠন করবেন।
Section 7(3):
নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তা লাক কার্যকর হবে, যদি পুনর্মিলন না হয়।
⚠️ চেয়ারম্যানকে নোটিশ না দিলে তা লা ক আইনত অ বৈ ধ ও দণ্ডনীয় অ প রা ধ।

➡️ গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা—এগুলো নয়
❌ শুধু দূতাবাসে তালাকনামা করলে তালাক বৈধ হয় না
❌ শুধু বিদেশি নোটারি করলেও বৈধ হয় না
✔️ চেয়ারম্যানকে নোটিশ = বৈধতার মূল চাবিকাঠি

➡️ মূল কথা (সংক্ষেপে)
✔️ দূতাবাস তালাক কার্যকর করার কর্তৃপক্ষ নয়
✔️ তবে দূতাবাস তালাকনামা সত্যায়ন (attestation) ও নোটিশ প্রেরণে সহায়ক মাধ্যম
✔️ চূড়ান্ত বৈধতা আসে বাংলাদেশের স্থানীয় চেয়ারম্যানকে

➡️ ব্যবহারিক পরামর্শ
তা লা ক নামায় তারিখ, পূর্ণ ঠিকানা, স্বাক্ষর স্পষ্ট রাখুন
স্ত্রীর এলাকার সঠিক চেয়ারম্যান নির্ধারণ করুন
ডাকের রসিদ ও কপি সংরক্ষণ করুন।

21/02/2026

চেক ডিসঅনার মামলায় খালাস পাওয়ার আইনি ফাঁকফোকরসমূহ;

চেক ডিসঅনার মামলায় খালাস পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো “বৈধ দায়-দেনা”। চেকটি অবশ্যই কোনো বৈধ ঋণ বা দায় পরিশোধের উদ্দেশ্যে ইস্যু হতে হবে। আসামী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কোনো টাকা ধার নেননি; বরং চেকটি চুরি হয়েছিল, জোর করে নেওয়া হয়েছিল বা কেবল সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং বাস্তবে কোনো পাওনা নেই—তাহলে খালাস পাওয়ার সুযোগ থাকে। এ বিষয়ে ইমরান রশিদ বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির।

A) বৈধ দায়-দেনা প্রমাণে ব্যর্থতা:
১। চেকটি যদি বৈধ ঋণ/দায়ের বিপরীতে ইস্যু না হয়ে থাকে
২। চেক চুরি, জোরপূর্বক নেওয়া বা কেবল সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া হলে
৩। বাস্তবে কোনো পাওনা না থাকলে

😎 আদালত ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি
১। সঠিক আদালতে মামলা দায়ের না হলে
২। চেক ডিসঅনার হওয়ার আগেই মামলা দায়ের হলে
৩। নালিশী দরখাস্তে মামলা উদ্ভবের কারণ উল্লেখ না থাকলে
৪। আইন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না হলে

C) নোটিশ সংক্রান্ত ত্রুটি (ধারা ১৩৮)
১। আসামীকে ১৩৮ ধারার নোটিশ না দিলে
২। টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় না দিলে
৩। নোটিশে চেকে উল্লিখিত টাকার চেয়ে বেশি দাবি করলে
৪। নোটিশটি আসামীর সঠিক ঠিকানায় না পাঠানো হলে এবং আসামী প্রমাণ করতে পারলে যে তিনি নোটিশ পাননি

D) চেকের বৈধতা ও কারিগরি ত্রুটি
১। ৪৩ ধারা মতে চেকের কোনো কলাম অপূর্ণ থাকলে
২। ৫৮ ধারা মতে প্রতারণামূলকভাবে বা চুরি করে মামলা দায়ের হলে
৩। চেকে ওভাররাইটিং বা টেম্পারিং করে টাকার অংক পরিবর্তন করলে
৪। আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক ও পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে (এন.আই অ্যাক্টের ৩(ই) ধারা অনুযায়ী ইস্যুয়েন্স প্রমাণিত নাও হতে পারে)

▶️ উল্লেখযোগ্য নজির:
ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট, ২০১০, ডি.সি.আর ১ নং ভলিউম, পৃষ্ঠা ১০৮
৫৬ ডি.এল.আর পৃষ্ঠা ৬৩৬

E) সময়সীমা ও উপস্থাপন সংক্রান্ত ত্রুটি
১। চেক ৬ মাসের মধ্যে নগদায়নের জন্য জমা না হলে
২। ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ডিসঅনার হলে
৩। ধারা ১৩৮-এর শর্তাবলী পূরণ না হলে

F) পূর্বে টাকা পরিশোধের প্রমাণ
১। মামলা দায়েরের আগেই বাদীর দাবীকৃত টাকা আসামী নগদে পরিশোধ করলে

G) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত ত্রুটি
১। পাওনাদার নিজে মামলা না করে অন্যকে দিয়ে করলে যথাযথ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থাকতে হবে
২। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এ্যাক্ট, ২০১২ এর ২(৭) ধারা অনুযায়ী সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন অনুযায়ী সম্পাদিত না হলে ত্রুটি হবে
৩। দ্যা স্ট্যাম্প এ্যাক্ট, ১৮৯৯ এর প্রথম তফসিলের ৪৮(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৫০০/- টাকার স্ট্যাম্পড পেপারে ড্র না হলে ক্ষমতাপত্র আইনানুগভাবে সম্পাদিত হয়নি বলে ধরা হতে পারে
৪। ফলে ক্ষমতাপত্রে ত্রুটি থাকলে নালিশী মামলা আইনগতভাবে অচল ও বেআইনি হতে পারে

H) কোম্পানির চেক হলে পক্ষভুক্তির ত্রুটি
১। চেক যদি কোনো কোম্পানির হয়, তবে কোম্পানিকে আসামী করা বাধ্যতামূলক
২। শুধু এমডি বা ম্যানেজারকে আসামী করে কোম্পানিকে আসামী না করলে মামলা টেকনিক্যাল কারণে খারিজ হতে পারে

পরিশেষে:
• চেক ডিসঅনার মামলায় খালাস পাওয়ার পথ মূলত নির্ভর করে বৈধ দায়-দেনার অস্তিত্ব, ধারা ১৩৮-এর বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ, নোটিশ ও সময়সীমার যথাযথ অনুসরণ, চেকের কারিগরি বৈধতা এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত শুদ্ধতার ওপর।
• প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের কার্যকর জেরা এবং প্রয়োজনীয় সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামী তার নির্দোষিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
• আইনের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ না হলে মামলাটি টেকনিক্যাল কারণে দুর্বল হয়ে খালাসের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

*(বিজ্ঞ আইনজীবী সিরাজ প্রামাণিক লেখা অবলম্বনে)

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026এখন থেকে ৫,০০ ০০০/- টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপ...
16/02/2026

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026

এখন থেকে ৫,০০ ০০০/- টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Nayem posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share