Advocate Nayem

Advocate Nayem বিনামূল্যে আপনার আইনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ এবং উত্তর পেতে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।

স্ট্যাম্পে লেনদেন ও ৪০৬/৪২০ ধারার মামলাঃ কেন অধিকাংশ আসামিই খালাস পেয়ে যান?রহিম তার বন্ধু করিমকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ৩ লক...
25/04/2026

স্ট্যাম্পে লেনদেন ও ৪০৬/৪২০ ধারার মামলাঃ কেন অধিকাংশ আসামিই খালাস পেয়ে যান?

রহিম তার বন্ধু করিমকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ৩ লক্ষ টাকা দেন এবং ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিপত্র করেন। সেখানে লেখা ছিল, ৬ মাসের মধ্যে বিদেশ পাঠাতে না পারলে রহিম টাকা ফেরত দেবেন। রহিম বিদেশ পাঠাতেও পারলেন না, টাকাও ফেরত দিলেন না। করিম আদালতে দন্ডবিধি’র ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করলেন।

বিচারিক পর্যায়ে আদালত দেখলেন যে, রহিমের কাছে স্ট্যাম্পটি একটি 'চুক্তিপত্র'। যেহেতু করিম স্বেচ্ছায় এবং স্বজ্ঞানে চুক্তিতে সই করেছেন, তাই এটি একটি দেওয়ানি দায়। রহিম যে শুরু থেকেই প্রতারক ছিলেন, তার কোনো অকাট্য প্রমাণ করিম দিতে পারেননি। ফলে রহিমকে খালাস প্রদান করা হয় এবং করিমকে পরামর্শ দেওয়া হয় দেওয়ানী আদালতে 'মানি স্যুট' মোকদ্দমা করে টাকা আদায়ের জন্য।

জালাল মিয়া জমি বিক্রির জন্য কাদের বিশ্বাস এর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বায়না গ্রহণ করেন। পরে জালাল মিয়া জমিটি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। 'কাদের বিশ্বাস এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দ-বিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা করেন।

আদালতে যখন বিচার শুরু হয়, তখন দেখা যায় জালাল মিয়া এবং কাদের বিশ্বাস এর মধ্যে একটি বৈধ লিখিত চুক্তি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়ার কথা ছিল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমা বা মানি স্যুট করে টাকা ফেরত এর মোকদ্দমা। যেহেতু এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি ছিল, তাই আদালত ধরে নেন যে এখানে জালাল মিয়ার শুরুতে প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তিনি পরবর্তীতে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। ফলে ফৌজদারি মামলায় জালাল মিয়া খালাস পেয়ে যান।

তিনশত টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে টাকা লেনদেন বা চুক্তি করার পর যখন কোনো বিরোধ তৈরি হয়, তখন সাধারণ মানুষ সরাসরি দন্ডবিধি’র ৪০৬/৪২০ ধারায় ফৌজদারি মামলা করেন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে যান।

৪২০ ধারার ক্ষেত্রে মামলার শুরুতেই প্রমাণ করতে হয় যে, আসামির শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল। যদি লেনদেনের সময় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি প্রতারণা নয়, বরং চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৪০৬ ধারা ক্ষেত্রে সম্পদ গচ্ছিত রাখার বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়।

উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো যেখানে একটি লিখিত চুক্তি (যেমন ৩শ টাকার স্ট্যাম্প) বিদ্যমান, সেখানে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে একটি দেওয়ানি সম্পর্ক তৈরি হয়। স্ট্যাম্পে লেখা থাকে যে "টাকা না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে"। এটি মূলত একটি চুক্তিবদ্ধ দায়। ফৌজদারি আদালত মনে করেন, এটি টাকা আদায়ের মোকদ্দমা কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নয়।

কারণ ৪২০ ধারায় সাজা দিতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে, আসামি যখন স্ট্যাম্পে সই করেছিলেন বা টাকা নিয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার মনে প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল। যদি আসামি শুরুতে কাজ করার চেষ্টা করেন কিন্তু পরে ব্যর্থ হন, তবে আইনানুযায়ী সেটি হবে চুক্তি ভঙ্গ, কিন্তু প্রতারণা নয়।

আবার স্ট্যাম্পে সাধারণত টাকা লেনদেনের স্বীকারোক্তি থাকে। কিন্তু দ-বিধির ৪০৬ ধারার জন্য বিশ্বাসভঙ্গ প্রমাণ করতে হয়। যদি স্ট্যাম্পে লেখা থাকে যে এটি একটি 'ঋণ' বা 'ধার', তবে সেটি বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ ঋণ দেওয়া মানে মালিকানা হস্তান্তর করা, আমানত রাখা নয়।

বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নিছক চুক্তি ভঙ্গ মানেই প্রতারণা নয়। যদি কোনো লেনদেনের শুরুতেই অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা ৪২০ ধারার আওতায় আসবে না। ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে করা চুক্তির ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য।

উচ্চ আদালত আরেকটি সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন, যদি কোনো বিরোধের সমাধান দেওয়ানি আদালতে সম্ভব হয় (যেমন স্ট্যাম্পের চুক্তি অনুযায়ী টাকা আদায়ের মামলা), তবে ফৌজদারি আদালত সেই মামলা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করেন। একে আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য করা হয়।

উচ্চ আদালত আরও বলছেন, পাওনা টাকা আদায়ের সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে ফৌজদারি মামলাকে ব্যবহার করা যাবে না। দেওয়ানি বিরোধকে ফৌজদারি রঙ দেওয়া আইনত দ-নীয়।

তবে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পের বিরোধে ফৌজদারি মামলার সাফল্যের জন্য কিছু বিষয়ে মনোযোগি হলে সাফল্য আসতে পারে। যেমন-
১। আসামি শুরুতেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাদীকে প্রলুব্ধ করেছিলেন। যেমন ভুয়া ভিসা দেখানো ইত্যাদি
২। টাকাটি ধার হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য 'আমানত' হিসেবে রাখা হয়েছিল।
৩। স্ট্যাম্পের সাক্ষীদের মাধ্যমে প্রমাণ করা যে, লেনদেনের সময়ই আসামির আচরণ সন্দেহজনক ছিল।

 #ফ্ল্যাট কেনার আগে যে আইনি ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই যাচাই করতে হবে১️⃣ জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র • RS, SA, CS, Khatian...
25/04/2026

#ফ্ল্যাট কেনার আগে যে আইনি ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই যাচাই করতে হবে

১️⃣ জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র
• RS, SA, CS, Khatian (যা প্রযোজ্য)
• #হালনাগাদ নামজারি (Mutation) খতিয়ান
• #সর্বশেষ পর্চা ও খাজনা পরিশোধের রসিদ
• #মৌজা ম্যাপ ও জমির নকশা

🔍 নিশ্চিত করতে হবে জমিটি নিরবচ্ছিন্ন ও বৈধ মালিকানাধীন কিনা।

২️⃣ #ডেভেলপার ও জমির মালিকের মধ্যে চুক্তিপত্র
• Development Agreement
• Power of Attorney (POA) – নিবন্ধিত ও কার্যকর কিনা
• POA বাতিল হয়নি কি না তা যাচাই

৩️⃣ #অনুমোদন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত ডকুমেন্ট
• রাজউক/সিডিএ/কেডিএ অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান
• ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (Land Use Clearance)
• সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভার অনুমোদন

৪️⃣ #ফ্ল্যাট বিক্রয় সংক্রান্ত ডকুমেন্ট
• Agreement for Sale (রেজিস্ট্রেশনযোগ্য)
• Payment Schedule ও রশিদ
• ফ্ল্যাটের সাইজ, অবস্থান ও শেয়ার উল্লেখ আছে কিনা
• হ্যান্ডওভার তারিখ ও দেরি হলে ক্ষতিপূরণ ধারা

৫️⃣ #মামলাজনিত বিষয় যাচাই
• জমি বা বিল্ডিং নিয়ে কোনো
• সিভিল মামলা
• ফৌজদারি মামলা
• ইনজাংশন অর্ডার আছে কি না

🔎 প্রয়োজনে কোর্ট সার্চ করানো উচিত।

৬️⃣ #ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
• রেজিস্ট্রেশনকৃত কবলা দলিল
• ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেওয়ার ডকুমেন্ট
• ইউটিলিটি সংযোগ (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি)
• অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

❌ ফ্ল্যাট কেনার সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই বর্জনীয়

🚫 ফেসবুক বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করা
🚫 মৌখিক আশ্বাসে টাকা প্রদান
🚫 রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ
🚫 অনুমোদনহীন বা আংশিক অনুমোদিত ভবনে ফ্ল্যাট ক্রয়
🚫 আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর

⚖️ গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরামর্শ

✔️ ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবি দিয়ে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করান
✔️ সব অর্থ লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করুন
✔️ চুক্তিপত্রে আপনার অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কিনা নিশ্চিত করুন

📌 সঠিক যাচাই আপনাকে ভবিষ্যতের বড় আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করতে পারে।
ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধৈর্য্য ও আইনগত সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

23/04/2026

আমাদের সমাজে জমিজমা নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো— "টানা ১২ বছর কারো জমি দখলে রাখতে পারলে সেই জমির মালিকানা পাওয়া যায়।" আইনে একে বলা হয় ‘Adverse Possession’ বা বিরুদ্ধ দখল। কিন্তু ২০২৩ সালে নতুন ভূমি আইন পাসের পর এই নিয়মের কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
আসুন তামাদি আইন, ১৯০৮ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর আলোকে বর্তমান আইনি অবস্থানটি বিশ্লেষণ করি:

১. তামাদি আইনের ২৮ ধারা (বিরুদ্ধ দখল বা Adverse Possession):
তামাদি আইনের ২৮ ধারা এবং অনুচ্ছেদ ১৪২ ও ১৪৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারও সম্পত্তিতে প্রকাশ্য, নিরবচ্ছিন্ন এবং মূল মালিকের স্বার্থের বিরুদ্ধে (Hostile intent) টানা ১২ বছর দখল বজায় রাখেন, এবং মূল মালিক যদি এই সময়ের মধ্যে দখল উদ্ধারের কোনো মামলা না করেন, তবে মূল মালিকের উক্ত জমির উপর অধিকার বিলুপ্ত হয়। ফলস্বরূপ, দখলদার ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা লাভ করতে পারেন।

২. ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৭ ধারা:
সাম্প্রতিক এই যুগান্তকারী আইনে অবৈধ দখলকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি পেশিশক্তি, জবরদখল, বা অবৈধ পন্থায় অন্যের জমি দখল করেন বা দখলে রাখেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমান আইনি অবস্থান ও দুই আইনের সমন্বয়:

অনেকেই প্রশ্ন করেন, নতুন আইন আসার পর কি তামাদি আইনের ২৮ ধারা বাতিল হয়ে গেছে?

উত্তর হলো— না, তামাদি আইনের ২৮ ধারা সরাসরি বাতিল হয়নি। তবে নতুন আইনের ফলে জবরদখলকারীদের জন্য এটি আর আগের মতো ঢাল হিসেবে কাজ করবে না।

* জোরপূর্বক দখল অপরাধ: কেউ যদি এখন জোরপূর্বক বা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি দখল করে ১২ বছর পার করার পরিকল্পনা করেন, তবে মূল মালিক যেকোনো সময় ২০২৩-এর আইনের অধীনে ক্রিমিনাল অ্যাকশন বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারবেন।

* ফৌজদারি বনাম দেওয়ানি: তামাদি আইনের ২৮ ধারা একটি দেওয়ানি অধিকার (Civil Right) নিয়ে কথা বলে, অন্যদিকে ২০২৩ সালের আইনটি অবৈধ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Offence) বানিয়েছে। কোনো অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে দেওয়ানি অধিকার অর্জন করা যায় না (No one can benefit from his own wrong)।

* অতীতের দখল: তবে ২০২৩ সালের আইনটি ভূতাপেক্ষ (Retrospective) নয়। অর্থাৎ, এই আইন পাসের আগেই যদি কেউ তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী ১২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিরুদ্ধ দখলের মাধ্যমে আইনগতভাবে মালিকানা অর্জন করে থাকেন এবং আদালত কর্তৃক তা ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করে ১২ বছর পার করে মালিক হওয়ার দিন শেষ! নতুন ভূমি আইন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, যা সাধারণ ভূমি মালিকদের জন্য এক বিশাল সুরক্ষাকবচ।

🚨 হাম সম্পর্কে সচেতনতা 🚨হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ইদানিং এর প্রকোপ বাড়ছে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।🔸 লক্ষণ: জ্বর, কাশি, ...
29/03/2026

🚨 হাম সম্পর্কে সচেতনতা 🚨

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ইদানিং এর প্রকোপ বাড়ছে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
🔸 লক্ষণ: জ্বর, কাশি, চোখ লাল, শরীরে লাল ফুসকুড়ি
🔸 ঝুঁকিতে: ছোট শিশু ও টিকা না নেওয়া ব্যক্তি
🔸 প্রতিরোধ: সময়মতো MR টিকা নিন
👉 জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
👉 আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
✔️ সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।

22/02/2026

বিদেশে অবস্থান করা অবস্থায় কি তালাক প্রদান করা সম্ভব???

➡️হ্যা সম্ভব!!!

বিদেশ থেকে মুসলিম ধর্মে তা'লা'ক দেওয়ার বৈধ উপায় বাংলাদেশ আইনের আলোকে স্পষ্টভাবে, ধাপে ধাপে ও আইনসহ আলোচনা করা হলো ⬇️⬇️

➡️ প্রযোজ্য আইন
Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (MFLO)
👉 ধারা ৭ (Section 7)

➡️ নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে (MFLO S- 7)
POA ছাড়া দূতাবাসের মাধ্যমে বৈধ পদ্ধতি (মুসলিম)

★ ধাপ–১: বিদেশে বসে তালাক প্রদান
স্বামী নিজে তালাক ঘোষণা করবেন (লিখিত আকারে উত্তম)।

★ ধাপ–২: দূতাবাসে তালাকনামা সত্যায়ন (Attestation)
স্বামী নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনে গিয়ে করবেন:
লিখিত তালাকনামা প্রস্তুত
দূতাবাস কর্তৃক স্বাক্ষর ও পরিচয় সত্যায়ন (Attestation)
📌 এখানে POA লাগে না, কারণ স্বামী নিজে উপস্থিত।
⚠️ মনে রাখবেন:
👉 দূতাবাস তালাক দেয় না, শুধু দলিল সত্যায়ন করে।

★ ধাপ–৩: দূতাবাসের মাধ্যমে নোটিশ প্রেরণ
সত্যায়িত তালাকনামা দিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে (বা নিজে ডাকযোগে) পাঠাতে হবে:
স্ত্রীর বর্তমান ঠিকানায়
স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান / সিটি কর্পোরেশন মেয়রের কাছে
📮 মাধ্যম:
Diplomatic Mail / Registered Post / Courier

➡️ 📂 প্রমাণ:
প্রেরণের রসিদ ও কপি সংরক্ষণ করুন।

★ ধাপ–৪: ৯০ দিনের সালিশি সময় (আইনগত বাধ্যবাধকতা)
চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে
৯০ দিনের সালিশি (Arbitration Council) সময় শুরু
পুনর্মিলন না হলে—

★ ধাপ–৫: তালাক কার্যকর
নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর
চেয়ারম্যান চাইলে তালাক সনদ ইস্যু করবেন

➡️ যে সব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে,
১. কাবিননামা
২. জাতীয় পরিচয় পত্র
৩. পাসপোর্ট
৪. পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৫. বর্তমান ঠিকানার প্রমান পত্র
➡️ আইনের স্পষ্ট ভিত্তি (MFLO, Section 7)
Section 7(1):
তালাক দিলে স্বামীকে তা লিখিতভাবে চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে।
Section 7(2):
চেয়ারম্যান সালিশি পরিষদ গঠন করবেন।
Section 7(3):
নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিন পর তা লাক কার্যকর হবে, যদি পুনর্মিলন না হয়।
⚠️ চেয়ারম্যানকে নোটিশ না দিলে তা লা ক আইনত অ বৈ ধ ও দণ্ডনীয় অ প রা ধ।

➡️ গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা—এগুলো নয়
❌ শুধু দূতাবাসে তালাকনামা করলে তালাক বৈধ হয় না
❌ শুধু বিদেশি নোটারি করলেও বৈধ হয় না
✔️ চেয়ারম্যানকে নোটিশ = বৈধতার মূল চাবিকাঠি

➡️ মূল কথা (সংক্ষেপে)
✔️ দূতাবাস তালাক কার্যকর করার কর্তৃপক্ষ নয়
✔️ তবে দূতাবাস তালাকনামা সত্যায়ন (attestation) ও নোটিশ প্রেরণে সহায়ক মাধ্যম
✔️ চূড়ান্ত বৈধতা আসে বাংলাদেশের স্থানীয় চেয়ারম্যানকে

➡️ ব্যবহারিক পরামর্শ
তা লা ক নামায় তারিখ, পূর্ণ ঠিকানা, স্বাক্ষর স্পষ্ট রাখুন
স্ত্রীর এলাকার সঠিক চেয়ারম্যান নির্ধারণ করুন
ডাকের রসিদ ও কপি সংরক্ষণ করুন।

21/02/2026

চেক ডিসঅনার মামলায় খালাস পাওয়ার আইনি ফাঁকফোকরসমূহ;

চেক ডিসঅনার মামলায় খালাস পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো “বৈধ দায়-দেনা”। চেকটি অবশ্যই কোনো বৈধ ঋণ বা দায় পরিশোধের উদ্দেশ্যে ইস্যু হতে হবে। আসামী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কোনো টাকা ধার নেননি; বরং চেকটি চুরি হয়েছিল, জোর করে নেওয়া হয়েছিল বা কেবল সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং বাস্তবে কোনো পাওনা নেই—তাহলে খালাস পাওয়ার সুযোগ থাকে। এ বিষয়ে ইমরান রশিদ বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির।

A) বৈধ দায়-দেনা প্রমাণে ব্যর্থতা:
১। চেকটি যদি বৈধ ঋণ/দায়ের বিপরীতে ইস্যু না হয়ে থাকে
২। চেক চুরি, জোরপূর্বক নেওয়া বা কেবল সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া হলে
৩। বাস্তবে কোনো পাওনা না থাকলে

😎 আদালত ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি
১। সঠিক আদালতে মামলা দায়ের না হলে
২। চেক ডিসঅনার হওয়ার আগেই মামলা দায়ের হলে
৩। নালিশী দরখাস্তে মামলা উদ্ভবের কারণ উল্লেখ না থাকলে
৪। আইন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না হলে

C) নোটিশ সংক্রান্ত ত্রুটি (ধারা ১৩৮)
১। আসামীকে ১৩৮ ধারার নোটিশ না দিলে
২। টাকা পরিশোধের জন্য ৩০ দিন সময় না দিলে
৩। নোটিশে চেকে উল্লিখিত টাকার চেয়ে বেশি দাবি করলে
৪। নোটিশটি আসামীর সঠিক ঠিকানায় না পাঠানো হলে এবং আসামী প্রমাণ করতে পারলে যে তিনি নোটিশ পাননি

D) চেকের বৈধতা ও কারিগরি ত্রুটি
১। ৪৩ ধারা মতে চেকের কোনো কলাম অপূর্ণ থাকলে
২। ৫৮ ধারা মতে প্রতারণামূলকভাবে বা চুরি করে মামলা দায়ের হলে
৩। চেকে ওভাররাইটিং বা টেম্পারিং করে টাকার অংক পরিবর্তন করলে
৪। আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক ও পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে (এন.আই অ্যাক্টের ৩(ই) ধারা অনুযায়ী ইস্যুয়েন্স প্রমাণিত নাও হতে পারে)

▶️ উল্লেখযোগ্য নজির:
ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট, ২০১০, ডি.সি.আর ১ নং ভলিউম, পৃষ্ঠা ১০৮
৫৬ ডি.এল.আর পৃষ্ঠা ৬৩৬

E) সময়সীমা ও উপস্থাপন সংক্রান্ত ত্রুটি
১। চেক ৬ মাসের মধ্যে নগদায়নের জন্য জমা না হলে
২। ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ডিসঅনার হলে
৩। ধারা ১৩৮-এর শর্তাবলী পূরণ না হলে

F) পূর্বে টাকা পরিশোধের প্রমাণ
১। মামলা দায়েরের আগেই বাদীর দাবীকৃত টাকা আসামী নগদে পরিশোধ করলে

G) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত ত্রুটি
১। পাওনাদার নিজে মামলা না করে অন্যকে দিয়ে করলে যথাযথ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থাকতে হবে
২। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এ্যাক্ট, ২০১২ এর ২(৭) ধারা অনুযায়ী সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন অনুযায়ী সম্পাদিত না হলে ত্রুটি হবে
৩। দ্যা স্ট্যাম্প এ্যাক্ট, ১৮৯৯ এর প্রথম তফসিলের ৪৮(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৫০০/- টাকার স্ট্যাম্পড পেপারে ড্র না হলে ক্ষমতাপত্র আইনানুগভাবে সম্পাদিত হয়নি বলে ধরা হতে পারে
৪। ফলে ক্ষমতাপত্রে ত্রুটি থাকলে নালিশী মামলা আইনগতভাবে অচল ও বেআইনি হতে পারে

H) কোম্পানির চেক হলে পক্ষভুক্তির ত্রুটি
১। চেক যদি কোনো কোম্পানির হয়, তবে কোম্পানিকে আসামী করা বাধ্যতামূলক
২। শুধু এমডি বা ম্যানেজারকে আসামী করে কোম্পানিকে আসামী না করলে মামলা টেকনিক্যাল কারণে খারিজ হতে পারে

পরিশেষে:
• চেক ডিসঅনার মামলায় খালাস পাওয়ার পথ মূলত নির্ভর করে বৈধ দায়-দেনার অস্তিত্ব, ধারা ১৩৮-এর বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ, নোটিশ ও সময়সীমার যথাযথ অনুসরণ, চেকের কারিগরি বৈধতা এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত শুদ্ধতার ওপর।
• প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের কার্যকর জেরা এবং প্রয়োজনীয় সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আসামী তার নির্দোষিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
• আইনের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ না হলে মামলাটি টেকনিক্যাল কারণে দুর্বল হয়ে খালাসের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

*(বিজ্ঞ আইনজীবী সিরাজ প্রামাণিক লেখা অবলম্বনে)

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026এখন থেকে ৫,০০ ০০০/- টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপ...
16/02/2026

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026

এখন থেকে ৫,০০ ০০০/- টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ (সিআরপিসি) দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী...
12/08/2025

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ (সিআরপিসি) দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে এ সংশোধন করা হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর অধিকতর সংশোধনীর গেজেট জারি করা হয়েছে।

সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানার ক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির রক্ষাকবচ নির্ধারণ, বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারে সতর্কতা অবলম্বন, আসামিদের ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির বিধান, সাক্ষীদের সুরক্ষার বিধানসহ বেশ কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এসব বিধান যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

‘ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানার ক্ষমতা বৃদ্ধি’

বর্তমানে গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা ৩ লাখ টাকা। অথচ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানার এখতিয়ার ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। এ-সংক্রান্ত ৩২ ধারা সংশোধনী করে ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানার এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানার ক্ষমতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

‘গ্রেপ্তার ব্যক্তির রক্ষাকবচ’:

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণগুলোকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ৪৬-এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করার সময় গ্রেপ্তারকারীর নেমপ্লেট থাকতে হবে, নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। যেক্ষেত্রে আসামিকে তার বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর অবিলম্বে (যা কোনোভাবেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না) আসামির পরিবার বা নিকটজনকে জানাতে হবে। গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা আসামি অসুস্থ হলে অবশ্যই তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঘাত বা অসুস্থতা সম্পর্কে চিকিৎসকের প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে। আসামি যদি আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় এবারের সংশোধনীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধান হলো ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ এর প্রবর্তন। আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই বিধান এবং এ সম্পর্কিত একটি ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। যে কোনো গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেই পুলিশকে এখন থেকে ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির আইনি সুরক্ষাগুলোর একটি চেকলিস্ট রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে উপস্থাপনের সময় এই ফর্মটিও দাখিল করতে হবে। রক্ষাকবচ সম্পর্কিত বিধানগুলো কতটা প্রতিপালিত হয়েছে, এই ফর্ম দেখে ম্যাজিস্ট্রেট সেটি তদারকি করতে পারবেন।

‘গ্রেপ্তারের তথ্য সরবরাহে বিশেষ বিধান’

গ্রেপ্তারকৃতের তথ্য পেতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ভয়ানক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নতুন বিধান যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। আবার ৪৬বি এবং ৪৬সি ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রেপ্তারের তথ্য গ্রেপ্তারকারীর অফিসের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যে থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই থানার সাধারণ ডায়েরিতেও এন্ট্রি করতে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পক্ষে কেউ থানায় যোগাযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি থানা, জেলা ও মহানগর পুলিশ অফিসে প্রতিদিন গ্রেপ্তারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

‘গ্রেপ্তারকৃতের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা’

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে অনেক সময় টাকা-পয়সা, অলংকার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী থাকে। এসব দ্রব্য যদি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে মামলার জব্দ তালিকায় সেগুলো উল্লেখ করা হয়; কিন্তু অনেক সময় এসব মূল্যবান বস্তুর সঙ্গে অপরাধের সংযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে এসব সামগ্রী নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ-সংক্রান্ত ৫১ ধারার সংশোধন করে এখন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে এমন মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে তার জন্য পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং সম্ভব হলে সেই তালিকায় একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। ওই তালিকার একটি কপি গ্রেপ্তারকৃতের নিকটজনকে দিতে হবে।

‘৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারে সতর্কতা’

বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত ৫৪ ধারায় সংশোধনীর মাধ্যমে পুলিশের গ্রেপ্তারের এই ক্ষমতা আরও সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দেখাতে হবে, পুলিশের সামনে ওই ব্যক্তি অপরাধটি ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, আমলযোগ্য অপরাধ-সংক্রান্ত কোনো এজাহার বা নালিশি মামলা পুলিশের কাছে তদন্তাধীন থাকলে এবং পুলিশ ওই মামলা-সংক্রান্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে পুলিশকে দেখাতে হবে, অপরাধটি ওই ব্যক্তি করেছেন মর্মে পুলিশের সন্দেহ করার যুক্তিসংগত কারণ আছে। যেখানে আমলযোগ্য অপরাধটির সাজা সাত বছর বা তার কম, সেক্ষেত্রে পুলিশকে আরও দেখাতে হবে যে, আসামি অধিকতর অপরাধ জড়ানো থেকে প্রতিহত করতে, তার পালিয়ে যাওয়ার ঠেকাতে বা সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করা থেকে তাকে বিরত রাখতে এই গ্রেপ্তার জরুরি। এ ছাড়া আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে গ্রেপ্তার করা কিংবা না করা উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে নিবারণমূলক (কোনো কিছু ঘটা থেকে প্রতিরোধমূলক) আটক করার প্রয়োজনে ৫৪ ধারার বিধান প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানের প্রতিপালনে আদালতের দায়িত্ব’

৬৭-এ ধারায় বলা হয়েছে, যে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাজির করা হবে, তার দায়িত্ব হবে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানাবলি প্রতিপালন হয়েছে কি না দেখা। কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আদালত অবহেলাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারবে।

‘পুলিশ রিমান্ড ও শ্যোন অ্যারেস্ট’

একজন আসামিকে কতদিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে রাখা যায়, সে ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধির বিদ্যমান বিধান অস্পষ্ট। এবার ১৬৭ ধারায় সংশোধন করে বলা হয়েছে, এক মামলায় কোনোভাবেই ১৫ দিনের বেশি পুলিশি রিমান্ড নয়। একই সঙ্গে রিমান্ডে পাঠানোর আগে-পরেও আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতন করলে এবং আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সম্পর্কিত ১৬৭-এ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এক মামলার আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে চাইলে পুলিশকে আদালতে আসামি ও পুলিশ ডায়েরি উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

‘তদন্তের সময়সীমা’

ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রথমবারের মতো তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭৩-বি ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যে কোনো মামলার তদন্ত সাধারণভাবে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হলে বিস্তারিত কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে তদন্তকারী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সময়সীমা বর্ধিত করতে পারবেন। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হলে তদন্তকারী পুনরায় তার কারণ ব্যাখ্যা করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবেন। তদন্তকারীর গাফিলতি প্রতীয়মান হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তদন্তকারী পরিবর্তন বা তদন্তকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবেন।

‘সংক্ষিপ্ত বিচারে বিশেষ বিধান’

সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। আগে চুরি, আত্মসাৎ প্রভৃতি মামলার বিষয়বস্তুর মূল্যমান অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা হলে তার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এই মূল্যমান বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিচার-সংক্রান্ত বিশেষ বিধান ২৬৪এ যুক্ত করে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে একই বৈঠকে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে এবং যে কোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা যাবে।

‘আপসযোগ্য মামলা’

বেআইনি সমাবেশ সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা এতদিন আপস অযোগ্য ছিল। এবার এই অপরাধকে আপসযোগ্য করা হয়েছে। এতদিন অনেক মামলা আপসে নিষ্পত্তি করার পথে এই ধারাটির বাধা ছিল। আপসের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সংশোধনী হলো—এখন থেকে আদালত নিজে আপস কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারবে এবং পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আপসের জন্য মামলা প্রেরণ করতে পারবে।

‘জামিনে শর্তযুক্ত’

আসামির জামিন-সংক্রান্ত ৪৯৮ ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছে, জামিন প্রদানের সময় আদালত যুক্তিসংগত ও ন্যায্য যে কোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে। ফলে মামলা চলাকালে আসামিদের ডোপটেস্ট বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের শর্ত আরোপ করতে পারবে আদালত।

‘ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি’

ফৌজদারি মামলায় ভোগান্তির জন্য আসামি চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। মামলা হওয়ার পর থেকেই এই হয়রানি শুরু হয় মূলত তারিখে তারিখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে। এবারের সংশোধনীতে তদন্ত চলাকালে আসামির হাজিরা শিথিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪০এ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে তদন্ত রিপোর্ট শুনানি পর্যন্ত জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। এ সময় আসামি তার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। নতুন আইনে স্পষ্ট বিধান যুক্ত হওয়ায় সারা দেশের লাখ লাখ জামিনপ্রাপ্ত আসামি ব্যক্তিগত হাজিরার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

‘সাক্ষীর খরচ ও সুরক্ষা’

আদালতে আসা সাক্ষীদের অনেকেই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। সাক্ষ্যদানের পর তারা যাতায়াত ও খোরাকি ভাতা প্রত্যাশা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীর খরচ প্রদানের জন্য বিধান থাকলেও সেটি কার্যকর করার জন্য পৃথক বিধি প্রণয়ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিষয়টি সহজ করার উদ্দেশ্যে এবার ‘বিধি’-এর পরিবর্তে ‘সরকারি আদেশ’ দ্বারা প্রয়োজনীয় বিধান করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সাক্ষী সুরক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ আইনে বিধান থাকলেও ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোনো বিধান ছিল না। এবারের সংশোধনীতে সাক্ষী ও ভিকটিমদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যে কোনো আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

‘মিথ্যা মামলার সাজা বৃদ্ধি’

ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আগে ঐচ্ছিক ছিল। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত ২৫০ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলার সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইটিপি বনাম অ্যাডভোকেট: পেশাগত পরিচয়ে পার্থক্য কতটা গভীর?জেনে নিন আইন বলছে কী!বাংলাদেশে এখন অনেকেই আয়কর পরামর্শদাতা বা ই...
07/08/2025

আইটিপি বনাম অ্যাডভোকেট: পেশাগত পরিচয়ে পার্থক্য কতটা গভীর?
জেনে নিন আইন বলছে কী!

বাংলাদেশে এখন অনেকেই আয়কর পরামর্শদাতা বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার (ITP) হয়ে কাজ করছেন। করদাতাদের সহায়তা করছেন রিটার্ন দাখিলে, আপিল শুনানিতে বা ট্যাক্স রেকর্ড হালনাগাদ করতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এঁরা কি নিজেদের "আইনজীবী" হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন?

উত্তর: না, পারেন না—যদি না তাঁরা বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী হন।

চলুন বিষয়টি আইনের আলোকে একটু বিশ্লেষণ করি।

কে হতে পারেন 'আইনজীবী'?
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ (The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972) অনুযায়ী, “Advocate” বলতে সেই ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়েছে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২

✓ ধারা ২(এ) – “Advocate” অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত ও এনরোল্ড।
অর্থাৎ, বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত না হলে কাউকে “Advocate” বলা যাবে না।

যিনি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত এবং বার কাউন্সিল থেকে অনুমোদিত।
এ সংজ্ঞা অনুযায়ী, আইনজীবী হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হয়:

1. স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি বা সমমানের ডিগ্রি।
2. বার কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (MCQ, Written ও Viva) উত্তীর্ণ হতে হবে।
3. বার কাউন্সিলের রেজিস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করে আইনজীবী সনদ (Enrollment Certificate) সংগ্রহ করতে হবে।

এই সনদ ছাড়া কাউকে আইনজীবী পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরার অধিকার নেই। এমনকি বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, নিজের নামের পাশে 'Advocate' ব্যবহার করাও অপরাধ।

তাহলে ITP কারা?
ইনকাম ট্যাক্স অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও পরীক্ষার মাধ্যমে যারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অনুমোদন নিয়ে কর-সংক্রান্ত কাজ করতে পারেন, তাঁরা ITP হিসেবে বিবেচিত হন। তাদের কাজের সীমা:

√ আয়কর রিটার্ন তৈরি ও দাখিল
√ করদাতার পক্ষে ট্যাক্স অফিসে তথ্য উপস্থাপন
√ কর আপিল বা পুনর্মূল্যায়ন আবেদন প্রস্তুত

তবে তারা কোর্টে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না এবং “আইনজীবী” পরিচয় দিতে পারেন না।

তাহলে কি ITP আইনজীবী হতে পারেন?
হ্যাঁ, ITP যদি চান, তবে তিনি নিজ উদ্যোগে আইনের শিক্ষাগ্রহণ করে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন এবং বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে এনরোল হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে তিনি ITP ও আইনজীবী—দুই পরিচয়ই বহন করতে পারবেন। কিন্তু শুধুমাত্র ITP হওয়ার কারণে আইনজীবী হওয়া যায় না।

আইন লঙ্ঘনের পরিণাম কী?
আইনজীবী না হয়েও “Advocate” পরিচয় দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ এর ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী–
কোনো ব্যক্তি যদি অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত না হয়েও আইন পেশা পরিচালনা/ পরিচয় প্রদান করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। কেউ যদি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত না হয়েও নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দেয়, বা এ ধরনের আচরণ বা কার্যকলাপ করে—তাহলে সে দণ্ডনীয় অপরাধ করছে।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, আইনজীবী সনদ ছাড়া কেউ যদি নিজেকে “Advocate” পরিচয় দেন বা বিজ্ঞাপনে তা উল্লেখ করেন, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার রয়েছে বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

শেষ কথা: "আইটিপি আর আইনজীবী—দুই পেশা, দুই পরিচয়। একটিতে কর পরামর্শ, অন্যটিতে বিচার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব।"
জনগণের সচেতনতা ও পেশাগত মর্যাদার সুরক্ষায় প্রতিটি পরিচয় যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটাই এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র:
•বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২
•ইনকাম ট্যাক্স অধ্যাদেশ, ১৯৮৪
•জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশিকা
•বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল নোটিশ ও আদেশসমূহ

ওকালতনামা হলো: একটি আইনি দলিল যা একজন ব্যক্তিকে অন্য কারও পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা দেয়।একটি উকিল নিয়োগে...
19/07/2025

ওকালতনামা হলো:
একটি আইনি দলিল যা একজন ব্যক্তিকে অন্য কারও পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা দেয়।
একটি উকিল নিয়োগের প্রমাণপত্র।

কিন্ত সেই ওকালতনামা হাতে পেতেই যদি লেগে যায় ১২ দিন,তাহলে ক্লায়েন্টকে কি জবাব দিব!!! আর সেই ওকালতনামা প্রসেস করতে কেন জেলাপ্রশাসকে কাছে আবেদন করতে হবে,এটা একজন আইনজীবী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাবে ক্লায়েন্ট সাইন করে দিবে,শেষ,কিন্ত না আপিলবিভাগে শুনানি করার জন্য জেলাপ্রশাসকের কাছে আবেদন কর, ঢাকা হলে হবে না,যেহেতু মহিলা আসামি তাই তাকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর কারাগারে,এরজন্য ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে হবে না,আবেদন করতে হবে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে, এ জেনো মামা বাড়ির আবদার, একটি বেসরকারি কাজ কেন এত নিয়ম মানতে হবে, ৩০ জুন আবেদন করেছি জেলা প্রশাসকের লোকেরা তা ৮ই জুলাই কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়েছিল,আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন এত লেট তারা বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দায়িত্বে প্রাপ্ত মহাদয়রা নাকি সময় পায় না সাইন করতে, অতিরিক্ত মহাদয় সে আসে ১২টার দিকে চলে যায় ৫টার দিকে, কি আর করার অপেক্ষা করা ছাড়া,আমার জুনিয়র মাহমুদুল হাসান সে ১ম থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করল,কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না, অবশেষে ১০ই জুলাই কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসল, কিন্ত সেই দিন আর গাজীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অফিসে আসে নাই, তার অফিসের স্ট্যাফদের মাধ্যমে ১১ই জুলাই শুক্রবার সাইন করাতে তার বাসায় ফাইল নিয়ে যেতে হল, অবশেষে সব প্রসেস শেষ করে হাতে পেলাম ওকালতনামা, কিন্ত এর মাঝে ১১দিন শেষ হল, ক্লায়েন্টের পরিবারের ফাউ কথা শুনলাম অগণিত,টাকা চলে গেলো ১০০০০ টাকা, কি জন্য টাকা গেলো তা হল:- জেলা প্রশাসকের স্ট্যাফদের কাজ করানো,টাকা না দিলে তারা প্রসেস করবে না,কারাগারা নিয়ে যাবে না,সেখান থেকে আনবে না,শুক্রবার অফ,রবিবার ছাড়া সাইন হবে না,স্যারের বাসা যাওয়া ঠিক হবে না, নানান কথা,নানান নিয়ম, ইহা আমাদের মত আইনজীবীদের প্রতি অত্যাচার ছাড়া কিছুই না,অনেক কথা আরো বাকি ছিল,কি বলব আর কিছুই বলার নাই,

নতুন গেজেট Code of Criminal procedure, 1898 এর সংশোধন। Section 173 এর পর Section 173A সংযোজন, যেখানে বলা আছে -- 1. তদন্ত...
11/07/2025

নতুন গেজেট Code of Criminal procedure, 1898 এর সংশোধন।

Section 173 এর পর Section 173A সংযোজন, যেখানে বলা আছে --

1. তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে প্রয়োজন হলে পুলিশ কমিশনার বা এসপির নির্দেশক্রমে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে Interim Investigation Report বা অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত রিপোর্ট কোর্টে জমা দিতে পারবে।

2. উক্ত তদন্ত রিপোর্টে যদি কোন আসামীর বিরুদ্ধে insufficient evidence বা অপর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল উক্ত আসামিকে Discharge বা অব্যাহতি দিতে পারবে।

3. যেই আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল অব্যাহতি দিলো পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্তে তার বিরুদ্ধে যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণ পায় যে সে উক্ত অপরাধে জড়িত ছিল তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে Code of Criminal procedure এর 173 ধারায় চার্জশিট দিতে পারবে।

এখন থেকে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবেনা:পারিবারিক আদালতের মোকদ্দমা, চেক এর মামলা (৫ লক্ষ টাকার কম), যৌতুকের (৩ ও ৪...
02/07/2025

এখন থেকে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবেনা:

পারিবারিক আদালতের মোকদ্দমা,
চেক এর মামলা (৫ লক্ষ টাকার কম),
যৌতুকের (৩ ও ৪ ধারা),
নারী নির্যাতন মামলা (১১গ),
বন্টন সম্পর্কিত বিরোধ,
অগ্রক্রয় মামলা,এখন থেকে সরাসরি আদালতে দায়ের করা যাবে না।
আগে মধ্যস্থতার জন্য Legal Aid যেতে হবে(দরখাস্ত করতে হবে)।
মধ্যস্থতা না হলে তারপর আদালতে মামলা করতে হবে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Nayem posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share