24/10/2023
একটা জটিল জমিজমার মোকদ্দমা আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে কিন্তু এই জটিল বিষয়টি কোনো আইনজীবীই ঠিকমত সমাধান করতে পারছেন না। তাই বাদিপক্ষ ৪০+ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সিভিল প্র্যাক্টিশনার সিনিয়র আইনজীবীর শরণাপন্ন হলেন।
বিজ্ঞ আইনজীবী মোকদ্দমার সকল নথি ও মূল কাগজপত্র পর্যালোচনা করলেন, সকল পর্চা, খতিয়ান, বায়া দলিলসমূহ, নিম্ন আদালতের প্রতিটি আদেশ থেকে শুরু করে সর্বশেষ হাইকোর্টের আদেশ সমূহ পর্যন্ত সব ডিটেইলে স্টাডি করে একটি পিটিশিন লেখতে শুরু করলেন।
১০ মিনিটে পিটিশনটি ড্রাফট করার পর বললেন তাদের নিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে তা কোর্টে দাখিল করতে এবং উক্ত বিষয়ে শুনানি করতে। আপিল বিভাগে উক্ত মোকদ্দমার তারিখে পিটিশনটি দাখিল করে শুনানি করার পর জজ সাহেবরা সন্তুষ্ট হয়ে বাদিপক্ষে পূর্ববর্তী রায় বহাল রাখলেন, যা বাদিপক্ষের জন্য আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে।
কিছুদিন পর বাদিপক্ষ/মক্কেলের কাছে সিনিয়র আইনজীবী তার ড্রাফটের ফিস বাবদ ৬ লাখ টাকা চেয়ে একটি ইনভয়েস পাঠালেন।
মক্কেল তার এই ফিস এর কথা শুনে বললেন 'কি??'
'আপনি তো কিছুই করলেন না, শুধু ১০ মিনিটে এক পাতার একটা পিটিশন লেখে দিলেন! এই ছোট্ট একটা কাজের জন্য এতো টাকা কেমনে চাচ্ছেন?'
বিজ্ঞ আইনজীবী খুব ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিলেনঃ
"হিসাব টা খুব সরল। লেখার চার্জ- ১০০০ টাকা, কিন্তু কি লেখতে হবে আর কতটুকু লেখতে হবে তা জানার চার্জ- পাঁচ লক্ষ নিরানব্বই হাজার টাকা। একজন মানুষের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মর্ম উপলব্ধি করা জরুরি। কারণ সেটা হচ্ছে তার বছরের পর বছরের সংগ্রাম ও গবেষণার ফল। আমি কাজটি ১০ মিনিটে সম্পন্ন করতে পারি কারণ আমি ৪০ বছর পার করেছি এটা শিখতে শিখতে কীভাবে সেই কাজটি ১০ মিনিটে সম্পন্ন করা যায়। আপনি আমার পারিশ্রমিক কত মিনিটে কাজটি সম্পন্ন করেছি তা দিয়ে বিবেচনা না করে আমি কতটা বছর ব্যয় করেছি এই কাজটা কয়েক মিনিটে সম্পন্ন করতে তা দিয়ে বিবেচনা করুন।"
-সংগৃহীত