01/05/2020
করোনায় IELTS বা TOEFL ব্যতীত বিদেশে উচ্চ শিক্ষা
বাহিরের দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের শেষ তারিখ ইতিমধ্যে শেষ বা শেষের দিকে। যেমনঃ বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, জাপান ইত্যাদি। কিছু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন সারা বছরে তিনবার করে থাকে যেমন, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ জার্মানির সেশন মাত্র শুরু হয়েছে এপ্রিলের ১৫ থেকে চলবে জুন- জুলাই পর্যন্ত। করোনার কারণে যেহেতু IELTS দেয়া সম্ভব হয়নি তাই বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কন্ডিশনালি এডমিশন দিচ্ছে বা বিকল্প ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
এখন দেখি কি কি উপায়ে এডমিশন নিতে পারেনঃ
১) ডুয়োলিংগো (Duolingo) ইংরেজি পরিক্ষার মধ্যে। এই টেস্টি বাসায় বসে অনলাইনে দেয়া যায় যেটার রেজাল্ট দুই দিনে পাওয়া যায়। আমেরিকা, কানাডা এবং ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর প্রায় ৯৫০ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই টেস্টি ইংরেজি দক্ষতার বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করে। যেটা এই লিংকে দেখতে পারেনঃ https://englishtest.duolingo.com/institutions
২) কন্ডিশন হচ্ছে আপনাকে এখন এডমিশন দিবে কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক হলে IELTS বা অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হবে এবং এডমিশন রিকয়ার্মেন্ট অনুযায়ী পর্যাপ্ত স্কোর পেতে হবে।
৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা। (IELTS or TOEFL থেকে একটু সহজ)।
৪) মিডিয়াম ওফ ইন্সট্রাকশন MOI থাকলে IELTS শিথিল যোগ্য। (আগেও ছিল কিন্তু এডমিশন পেতে বেগ পেতে হইতো যা এখন সহজে পাওয়া যেতে পারে। শুধু মাস্টার্সের জন্য।)
৫) স্পেশাল এডমিশন। কিছু সময়ে এই এডমিশন দিয়ে থাকে কোন শিক্ষার্থীর বিশেষ অবস্থা দেখে। (এই বিষয়টি নিয়ে পরের পর্বে লেখার চেষ্টা করবো।)
Without IELTS এর এডমিশনের তথ্য কোথায় পাবেন?
ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে। নেদারল্যান্ডসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট লিংক দেওয়া হইলোঃ https://www.wittenborg.eu/ielts-launches-online-test-prospective-international-students.htm
তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউজ পোর্টাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ডেস্কে ইমেইল করেও সরাসরি জানতে পারবেন। ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও জানতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে যেমন, লিংকড-ইন, ফেসবুক ইত্যাদি প্লাটফর্মে তথ্য পেতে পারেন।
কোন ফিস কি প্রদান করতে হয়?
এবিষয়টির ভিন্নতা আছে। Duolingo Test এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টেস্টের ফিস নেয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে কোন ফিস নেয়না সেটাও দেখতে পারেন। বিস্তারিত তাদের ওয়েবসাইটে দেখতে পারেন।
এডমিশন হলে কি স্কলারশিপ পাওয়া যাবে?
প্রথমত, স্কলারশিপ পাওয়া নির্ভর করে অনেক গুলো বিষয়ের উপরে। যেমনঃ একাডেমিক রেজাল্ট, মোটিভেশান লেটার, রেফারেন্স লেটার, এ্ক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস, রিসার্চ পেপার ইত্যাদির উপর। ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা শুধু এডমিশনের জন্য নিয়ে থাকে। তবে স্কলারশিপ পেতে হলে আনকন্ডিশনাল অফার লেটার প্রয়োজন হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
ভিসা কি হবে?
আগের থেকে এখন ভিসা হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি। কেন?
১) এপ্লিকেশনের সংখ্যা অনেক কমেছে করোনার কারণে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেহেতু এডমিশন দিচ্ছে তাই ভিসা ও হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
২) ফিস পেয়িং স্টুডেন্টের টাকাটা যে কোন দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক দরকার তাই ইমিগ্রেশন একটু সহজ হতে পারে। (এটা একটা ধারণা মাত্র। আগে দেখেছিলাম যখন কোন দেশের অর্থনীতি খারাপ থাকে তখন স্টুডেন্ট ভিসা একটু সহজে দিয়ে থাকে বিশেষ করে ইংল্যান্ড)।
৩) ফুল ফ্রী শিক্ষার্থীদের ভিসা খুব কমই রিফিউজ হয়। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে স্কলারশিপ পাওয়া অনেকটা প্রতিযোগিতার বিষয় হবে।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে যেন VO এর সাথে ভিসা ইন্টারভিউর সময় প্রত্যয় ঠিক থাকে এবং শুধু পড়াশোনা করার জন্য যাচ্ছেন ও সেই যোগ্যতা আছে তার প্রমাণ দিতে হবে।
পরিশেষে একটি বিষয়।
শুধু ভিসা পাওয়ার জন্য সুযোগটিকে মোটেও মিস ইউজ করা যাবেনা। উপরোক্ত লেখাটি শুধুই প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য, যেন করোনাভাইরাস কারো বিদেশে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নকে প্রতিহত করতে না পারে।
আবু মুসা
শিক্ষার্থীঃ দি হ্যাগ ইউনিভার্সিটি অব এপ্লাইড সাইন্স, নেদারল্যান্ডস।
Affordable and convenient language certification from Duolingo.