06/04/2026
বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে আমরা সত্যিই বিব্রত বোধ করছি,তারা গণভোট ও জুলাই অধ্যাদেশ,এর গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করে দিতে চাচ্ছে,যার ফলে আমি মনে করি এই যুদ্ধ কালীন সময়ে বিএনপি চরম বিপদে পড়বে।
একে ত অর্থনৈতিক সমস্যা বাড়ছে তার উপর বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়বে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশ এর মধ্যে ৯৮টি অবিকল গ্রহণ করেছে।
কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ,
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি করা হয়েছিল, কমিটি কী যুক্তিতে সেগুলো রহিত করল? সেটা কি এ কারণে যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে এত দিন যে সরকারের একক ক্ষমতা ছিল, সেটাই বিএনপি সরকার বহাল রাখতে চায়? এত দিন নিম্ন আদালতের নিয়োগ ও পদায়নে যে নির্বাহী বিভাগের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ চলে আসছিল, তারাও সেটা অনুসরণ করতে আগ্রহী?
এ ছাড়া বিশেষ কমিটি গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে উপস্থাপন না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে এগুলো আর কার্যকর থাকছে না
হয়তো পরে সরকার তাদের মতো করে আইন করতে চাইছে। তবে বিএনপি সরকার যদি সত্যি সত্যি দুর্নীতি কমাতে চায়, তাহলে নখদন্তহীন দুদক দিয়ে কাজ হবে না। গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা হলো সংস্থাটি সব সময় ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি তদন্তে ভয় পায়। বরং তাদের ইচ্ছা পূরণের দুর্নীতি ধরার নামে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করে। বিএনপি এর ভুক্তভোগী হলেও পুরোনো আইনটিতে হাত দিতে না চাওয়া রহস্যজনক মনে হয়।
তাছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের পক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে যে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুম হিসেবে না দেখানোরও যে যুক্তি বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা দেখাচ্ছেন, তাঁরাই একসময় তার শিকার হয়েছেন,হয়তো তারাও আওয়ামী লীগ এর মত ভাবছে আসলে আমাদের দেশে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞাও বদলে যায়।
সরকার যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল গ্রহণ করেছে, এ জন্য তারা ধন্যবাদ পেতে পারে। কিন্তু তারা যেগুলো বাদ দিয়েছে এবং যাচাই–বাছাই করার জন্য স্থগিত করেছে, দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে তার পক্ষে জোরালো যুক্তি আছে বলে মনে হয় না।
সুতরাং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশের সব কটিই যে জনকল্যাণের কথা ভেবে করা হয়েছে, তা নয়। কিন্তু যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সরকারকে অধিকতর জবাবদিহির আওতায় আনতে, সেগুলো রহিত বা স্থগিত করার কোনো যুক্তি নেই।
সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যে কোনো আইন পাস করতে পারে। কিন্তু সেই আইন গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী না করে যদি আরও দুর্বল করে, তাহলে নিকট অতীতে গণ-অভ্যুত্থানে এতগুলো মানুষ কেন জীবন দিল?
হতে পারে মানুষ আবার রাস্তায় নেমে যাবে
আশা করবো সরকারের শুভ বুদ্ধি উদয় হবে।