24/01/2024
একজন ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার আইনগত অধিকার জানেন কি?
বাসা ভাড়া করতে গিয়ে আমরা প্রায়সময়ই বাড়িওয়ালার অনেক ধরনের ঘামখেয়ালির স্বীকার হয়ে থাকি। বাড়িওয়ালারা আইনের তোয়াক্কা না করেই নিজেদের ইচ্ছেমতো এমন অনেক কিছুই করে থাকে যা আইন সিদ্ধ নয়। এমন কাজের জন্য ভাড়াটিয়ারা আইনগতভাবে প্রতিকার পেতে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
ভাড়াটিয়াদের অধিকার সংরক্ষনের জন্য সরকার "বাড়ি ভাড়া আইন ১৯৯১" নামে একটি বিশেষ আইন প্রনয়ন করে। এই আইন অনুযায়ী ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালা দুজনেরই আইনগত কতগুলো দায়িত্ব, অধিকার ও প্রতিকার রয়েছে।
আইনগত সুরক্ষা পেতে মালিক ও ভারাটিয়ার মধ্যে একটি চুক্তিনামা তৈরি করতে হবে, তবেই পরবর্তীতে আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। সেই চুক্তিনামায় মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিস্তারিত সুযোগ-সুবিধা, করণীয় এবং বর্জনীয় সকল বিষয়ের বিবরণাদি থাকা প্রয়োজন। উক্ত চুক্তিনামাটি ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত হতে হবে। দরকার হলে চুক্তিনামাটি রেজিস্ট্রি করা যেতে পারে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৭ ধারা মোতাবেক যদি রেজিস্ট্রি করা না হয় তবে সেটি এক বছরের জন্য করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে একজন ভাড়াটিয়া তার বাড়িওয়ালার কাছে কখনই জিম্মি নন। তার কতগুলো আইনগত অধিকার রয়েছে। বাড়িওয়ালা ইচ্ছে করলেই ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মাসিক ভাড়া ব্যতিত অন্য কোনো প্রিমিয়াম, সালামি, অগ্রিম জামানত গ্রহণ করতে পারবেন না। মাসিক ভাড়া ছাড়া যদি কোনো অগ্রিম জামানত গ্রহণ করেন তাহলে বাড়ি ভাড়া আইন- ১৯৯১এর ১৪ (২) উপ-ধারা অনুযায়ী সহাকারী জজ আদালতে ভাড়াটিয়া মামলা দায়ের করতে পারেন। এক্ষেত্রে বাড়ির মালিক ইচ্ছে করলেই ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদের মামলা করতে পারেন না। মালিক যদি বাড়ি ভাড়ার টাকা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে ভাড়াটিয়া মালিককে ডাক মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন।
আইনানুযায়ী দুই বছরের আগে বাড়ির ভাড়া বাড়ানো যাবে না। কোনো বিরোধ দেখা দিলে বাড়ির মালিক বা ভাড়াটের দরখাস্তের ভিত্তিতে দুই বছর পর পর নিয়ন্ত্রক মানসম্মত ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে পারবেন।
বাড়িওয়ালা যদি মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া ভাড়াটের কাছ থেকে আদায় করেন, তাহলে প্রথমবার অপরাধের জন্য মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধের জন্য ওই অতিরিক্ত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়া কোনো কারণে ভাড়াটিয়ার ভাড়া নেওয়া অংশ মেরামত করার প্রয়োজন হলে বাড়িওয়ালাকে তা মেরামতের নির্দেশ দিতে পারেন এবং মেরামতের খরচ বাড়িওয়ালাকেই বহন করতে হবে। জরুরি মেরামতের ক্ষেত্রে নোটিশ পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাড়াটিয়া তার নিজ উদ্যোগে মেরামত করতে পারবেন এবং যাবতীয় খরচ ভাড়া থেকে কেটে রাখতে পারবেন।