02/03/2026
#চেক_ডিজঅনার_মামলায়_মূল_চেক_হারিয়ে_গেলে_অনেকে_জানতে_চান_কি_করবো।
তাদের জন্য করনীয়=মামলা চলাকালীন মূল চেক হারিয়ে গেলে কী করবেনঃ সাক্ষ্য আইন ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্লেষণ!
চেক ডিসঅনারের মামলায় চেক হারিয়ে গেলে ফটোকপি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে কি-না অথবা আদালতে মামলা করার পর তর্কিত চেকটি হারিয়ে গেলে কী করবেন? এ বিষয়ে নানাজনের নানা মত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের উচ্চ আদালত এবং সাক্ষ্য আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
১। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী, মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তার পরিবর্তে গৌণ সাক্ষ্য বা ফটোকপি ব্যবহার করা যায়। তবে এর জন্য আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হয় যে মূল চেকটি প্রকৃতপক্ষেই হারিয়ে গেছে বা ধ্বংস হয়েছে। মূল চেকটি খুঁজে বের করার জন্য যথাযথ চেষ্টা চালানো হয়েছে। ফটোকপিটি মূল চেক থেকেই হুবহু তৈরি করা হয়েছে।
২. বাংলাদেশের উচ্চ আদালত বিভিন্ন মামলায় এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-মোহাম্মদ মহসীন বনাম রাষ্ট্র মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যদি মূল চেকটি কোনোভাবে হারিয়ে যায় এবং তার সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ যেমন: থানায় জিডি বা হলফনামা থাকে, তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ফটোকপিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই। ৬৪ ডিএলআর (এডি) ৩৬
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অভিমত দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র যান্ত্রিক কারণে বা মূল দলিল হারিয়ে যাওয়ার কারণে কোনো ন্যায়বিচার যেন ব্যাহত না হয়। যদি ফটোকপির সত্যতা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক প্রমাণ যেমন: ব্যাংকের রিটার্ন মেমো বা সাক্ষীর জবানবন্দি দ্বারা নিশ্চিত করা যায়, তবে তা গ্রহণযোগ্য।
৩. মামলা করার বা পরিচালনার প্রক্রিয়া যদি মূল চেক হারিয়ে যায়, তবে মামলা টিকিয়ে রাখতে আপনাকে সর্বপ্রথম থানায় জিডি করতে হবে। তবে চেকটি যেভাবে হারিয়েছে, তা উল্লেখ থাকতে হবে।
৪। আবেদন করা মামলার বিচার চলাকালীন সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারা মোতাবেক ফটোকপিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য আদালতের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
৫। চেকটি যে ডিজঅনার হয়েছে, তার মূল রিটার্ন মেমো বা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য এক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
৬। অন্যান্য প্রমাণ যেমন লিগ্যাল নোটিশের কপি এবং নোটিশ পাঠানোর পোস্টাল রসিদ ইত্যাদি। সংরক্ষিত থাকতে হবে।
কাজেই মামলায় বাদীর দখলে থাকা নালিশী চেকটি হারিয়ে গেলে সে সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারার বিধান অনুসারে গৌণ সাক্ষ্য হিসাবে ঐ চেকের ফটোকপি মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন। স্ক্যান কপি এবং ফটোকপি মূলতঃ একই জিনিস। কোন ব্যক্তি যদি মূল চেকের স্ক্যান কপি রাখে এবং বিচারের সময় যদি লক্ষ্য করা যায় যে, তার মূল চেকটি হারিয়ে গেছে তাহলে সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান অনুসারে গৌন সাক্ষ্য হিসাবে স্ক্যান কপি বা ফটোকপি আদালতে দাখিল করা যাবে। মূল চেক না থাকলেও মামলার কার্যক্রম বন্ধ হবে না।
গ্রামীণ ব্যাংক বনাম রাষ্ট্র ১১ বিএলসি ৪৯২ মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত দেন যে, যদি কোনো দলিল বা চেক ট্রায়াল কোর্টে দাখিলের পর হারিয়ে যায়, তবে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সেই দলিলের ফটোকপি বা সেকেন্ডারি এভিডেন্স দাখিলের অনুমতি দেবেন। তবে শর্ত থাকে যে, মূল দলিলের অস্তিত্ব এবং হারিয়ে যাওয়ার সত্যতা বাদীকে প্রমাণ করতে হবে।