12/07/2026
Narcissistic আচরণ কীভাবে গড়ে ওঠে — একটা মনস্তাত্ত্বিক ও ইসলামিক বিশ্লেষণ
একজন মানুষ কীভাবে narcissistic আচরণে পরিণত হন, সেটা বোঝা মানে তাকে excuse করা না, বরং প্যাটার্নটা বোঝা। মনস্তত্ত্ব আর ইসলাম, দুইটা দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টা দেখার চেষ্টা করলাম।
কেউ জন্ম থেকেই এমন হয় না।
একজন মানুষ narcissistic আচরণে পরিণত হন —
একটা দীর্ঘ, প্রায়ই অদৃশ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।
এটা বোঝা মানে তার আচরণকে justify করা না।
এটা বোঝা মানে — প্যাটার্নটা কোথা থেকে আসে, সেটা জানা।
শুরুটা প্রায়ই হয় শৈশবে
Attachment theory অনুযায়ী (মনোবিজ্ঞানী John Bowlby-র তত্ত্ব), শিশুর প্রাথমিক সম্পর্কগুলোই ঠিক করে দেয় সে নিজেকে আর অন্যদের কীভাবে দেখবে। আর psychoanalyst Heinz Kohut-এর কাজে দেখা যায়, narcissistic traits গড়ে ওঠার পেছনে প্রায়ই দুটো সম্পূর্ণ বিপরীত ধরনের শৈশব অভিজ্ঞতা থাকতে পারে।
একদিকে —
কিছু শিশু বড় হয় অতিরিক্ত প্রশংসা আর idealization-এর মধ্যে।
তাকে বলা হয় সে "বিশেষ", তার কোনো ভুল নেই,
তার সমালোচনা করা যাবে না।
অন্যদিকে —
কিছু শিশু বড় হয় ঠিক তার উল্টো পরিবেশে —
যেখানে ভালোবাসা শর্তসাপেক্ষ ছিল,
যেখানে emotional neglect বা criticism ছিল নিয়মিত ঘটনা,
যেখানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাটাই নিরাপদ ছিল না।
দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ,
কিন্তু ফলাফল কাছাকাছি জায়গায় গিয়ে মেলে —
একটা ভঙ্গুর, অনিরাপদ আত্মপরিচয়,
যাকে ঢেকে রাখার জন্য বাইরে একটা শক্ত, নিখুঁত ভাবমূর্তি তৈরি করতে হয়।
দুই ধরনের রূপ — grandiose আর vulnerable
সবার narcissism একরকম দেখতে হয় না।
একদল মানুষের মধ্যে এটা প্রকাশ পায় grandiose রূপে — আত্মবিশ্বাসী, আধিপত্যশীল, নিজেকে সবসময় সবচেয়ে যোগ্য মনে করা।
আরেকদলের মধ্যে এটা প্রকাশ পায় vulnerable রূপে — বাইরে থেকে দেখতে insecure, easily hurt, কিন্তু ভেতরে একই রকম self-centeredness আর অন্যের অনুভূতি বুঝতে না পারার সমস্যা।
এই দ্বিতীয় ধরনটা প্রায়ই চেনা কঠিন হয়ে যায়, কারণ এটা দেখতে victim-এর মতো লাগে।
ভেতরের শূন্যতা, বাইরের আত্মবিশ্বাস
এখানেই সবচেয়ে ভুল বোঝাবুঝিটা হয়।
মানুষ ভাবে narcissism মানে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।
কিন্তু মনোবিজ্ঞানে দেখা যায় —
এই আচরণের নিচে প্রায়ই থাকে
নিজেকে যথেষ্ট মনে না করার একটা গভীর ভয়।
তাই ভুল স্বীকার করা কঠিন হয়ে যায় —
কারণ ভুল স্বীকার করা মানে
সেই ভঙ্গুর জায়গাটা আবার উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া।
তাই সমালোচনা আসলে আক্রমণ মনে হয়।
তাই অন্যকে ছোট দেখানো
নিজেকে বড় মনে করার একটা উপায় হয়ে দাঁড়ায়।
সম্পর্ক যেভাবে এই প্যাটার্নকে টিকিয়ে রাখে
সময়ের সাথে সাথে,
যখন এই আচরণের প্রতিক্রিয়ায় মানুষ সরে যায়, মেনে নেয়, বা ক্ষমা করতে থাকে —
তখন এই প্যাটার্নটা আরও শক্ত হতে থাকে।
এটা হতে পারে বার বার conflict এড়িয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত প্রশংসা করে যাওয়া, অথবা "ও তো এমনই" বলে মেনে নেওয়া।
কারণ প্রতিবার এই আচরণ কাজ করে যায়,
সেই মানুষটার কাছে এটাই শিখে যাওয়া হয় —
সম্পর্কে টিকে থাকার উপায় হলো নিয়ন্ত্রণ রাখা,
দুর্বলতা লুকানো, আর নিজেকে সবসময় সঠিক প্রমাণ করা।
ইসলাম এই বিষয়ে কী শেখায়?
ইসলাম অহংকার আর আত্মপ্রেমকে
অন্তরের একটা বিপজ্জনক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন —
"নিশ্চয় আল্লাহ কোনো অহংকারী, আত্মশ্লাঘাসম্পন্ন ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।"
(সূরা লুকমান, আয়াত ১৮)
রাসূল ﷺ বলেছেন —
"যার অন্তরে বিন্দুমাত্র অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
(সহিহ মুসলিম)
মনস্তত্ত্ব যেটাকে বলে fragile self-image, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সেটার সাথে সম্পর্কিত একটা concept হলো — নিজেকে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে না দেখে, নিজের যোগ্যতা-অযোগ্যতার মাপকাঠিতে বিচার করা। এই ভুল ফ্রেমটাই অন্তরে অস্থিরতা তৈরি করে।
কিন্তু ইসলাম এটাও শেখায় যে —
মানুষের অন্তর পরিবর্তনযোগ্য।
মুহাসাবা (আত্মজিজ্ঞাসা) — প্রতিদিন নিজের কাজ, নিয়ত আর আচরণকে ফিরে দেখার অভ্যাস — ইসলামে একটা গুরুত্বপূর্ণ concept। কেউ যদি নিয়মিত নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখে, নিজের ভুল স্বীকার করতে শেখে, আল্লাহর কাছে বিনয়ী হতে শেখে — তাহলে বাইরের সেই কঠিন খোলসটাও একদিন গলে যেতে পারে।
তবে এই পরিবর্তনের প্রথম শর্ত —
নিজেকে দেখতে পারা, নিজেকে অস্বীকার না করা।
যদি আপনি এমন কারো সাথে সম্পর্কে থাকেন
নিজের অনুভূতিকে ছোট করে দেখবেন না — অস্বস্তি লাগলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট boundary রাখুন, এবং সেটা বার বার explain করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেবেন না। অন্যের পরিবর্তন আপনার হাতে নেই — নিজের wellbeing-এর দায়িত্ব আপনার হাতে। প্রয়োজনে একজন therapist বা trusted মানুষের সাথে কথা বলুন।
একজন মানুষের অতীতে যত কষ্টই থাকুক,
তার আচরণে অন্য একজন মানুষ আঘাত পাচ্ছে —
এই সত্যটা কখনো ছোট হয়ে যায় না।
Understanding দেয় ব্যাখ্যা।
কিন্তু ব্যাখ্যা কখনো excuse হয়ে ওঠে না।
মানুষ যেভাবে গড়ে ওঠে,
তার একটা প্রভাব থাকে তার আচরণে।
কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পর,
নিজের আচরণ বদলানোর দায়িত্বও তার নিজের।
আর এই দায়িত্ব নেওয়াটাই —
সত্যিকারের পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ।
-মিশকাতুল জান্নাত এলিন
কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট |