11/07/2026
সেচ্ছায় পদত্যাগ করলে পেনশন পাবেন?
আজকে একটি Service law সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা Civil Appeal 77 of 2022 আলোচনা করবো। তিন সদস্য বিশিষ্ট আপীল বিভাগের বেঞ্চে উক্ত মামলাটি শুনানি হয় যাহাতে উপস্থিত ছিলেন Hon'ble Mr Justice Rezaul Haque, Hon'ble Mr Justice SM Emdadul Hoque, Hon' ble Madam Justice Farah Mahbub. এর মামলায় Resignation, pension সংক্রান্ত জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রার্থী Mahboob Morshed একজন হাইকোর্টের Advocate যিনি সাবেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এই মামলায় in person appear করেছেন।
শুনানির তারিখ: ০৪.০৩.২০২৬, ০৫.০৩.২০২৬ ও ১১.০৩.২০২৬ মোট তিনটি তারিখে শুনানি হয়েছে
রায়ের তারিখ অর্থাৎ রায় প্রদান করা হয়েছে। ১১.০৩.২০২৬
রায় প্রদান করেছেন মাননীয় বিচারপতি Madam Justice Farah Mahbub
মামলার ঘটনা সংক্ষেপ:
লিভ (Leave) সাপেক্ষে দায়েরকৃত এই দেওয়ানী আপীলটি হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক রিট পিটিশন নং ৫৩২৩/২০১৬-এ প্রদত্ত ১৮.০৩.২০২১ তারিখের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে, যে রায়ে রুলটি আংশিকভাবে নিরঙ্কুশ (absolute) করা হয়েছিল।
Respondent- Writ Petitioner একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, যিনি ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর মাসে সহকারী জজ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং অতিরিক্ত জেলা জজ পদে কর্মরত অবস্থায় ১৯ (উনিশ) বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর ৩১.০১.২০১১ তারিখে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তদনুসারে তিনি অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ০৪.১১.১৯৮৯ তারিখের স্মারক নং Ag(wewa-1) Zwc-28/85/106 অনুসারে পেনশনের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। তাঁর আবেদন উক্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০২.০৩.২০১৫ তারিখের স্মারক নং ১০.০০.০০০০.১২৮.০১৩.০১.২০১৫-৩৬৫ (রিট পিটিশনের সংযুক্তি-ক) মূলে অনুমোদিত হয়, যাতে তিনি ১৯ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ করার প্রেক্ষিতে ৬১% পেনশন প্রাপ্তির অধিকারী বলে গণ্য হন।
মামলার কারণ (cause of action) উদ্ভূত হয় যখন রিট বিবাদী নং ৫, নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ২৫.০৩.২০১৫ তারিখের তর্কিত স্মারক মূলে (রিট পিটিশনের সংযুক্তি-খ) Respondent -রিট আবেদনকারীর পেনশন প্রস্তাবটি ফেরত পাঠান, অর্থাৎ নাকচ করেন।
২৫.০৩.২০১৫ তারিখের তর্কিত স্মারকটি বলা হয়েছে যে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হবে অর্থাৎ পেনশনের জন্য যোগ্য হবেন না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০, সেকশন-৩); উপরন্তু পেনশনারের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি এবং তিনি ২৫ বছর চাকরি পূর্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি বিধায় পেনশন প্রাপ্য নন (গণকর্মচারী অবসর আইন ১৯৭৪-এর ধারা-৯); এবং পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ কোন বিধি-বিধান অনুযায়ী পেনশন মঞ্জুর করেছেন তা মঞ্জুরিপত্রে উল্লেখ নেই।
এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৫৩২৩/২০১৬ দায়ের করে বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০-এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং রিট রেসপন্ডেন্ট নং ৫ কর্তৃক জারিকৃত ২৫.০৩.২০১৫ তারিখের স্মারককে চ্যালেঞ্জ করেন, সেই সাথে ০২.০৩.২০১৫ তারিখের স্মারক অনুসারে তাঁকে সকল পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা প্রার্থনা করেন, যার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল নিশি জারি করে।
উক্ত রিট পিটিশনে Core question ছিল, একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা পদত্যাগের ফলে তাঁর চাকরির অবসান ঘটলে, তিনি ১৯ বছর চাকরি সম্পন্ন করার ভিত্তিতে পেনশন দাবি করতে পারেন কিনা। আরেকটি প্রশ্ন উথ্থাপিত হয়েছিল ছিল বিধি-৩০০(ক) অনুযায়ী পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধানটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১-এর লঙ্ঘন কিনা। রিট আবেদনকারীর মূল যুক্তি ছিল, বিধি-৩০০(ক)-তে unblemished সার্ভিস রেকর্ডধারী ব্যক্তির পদত্যাগকে অসদাচরণ, দেউলিয়াত্ব বা অদক্ষতার কারণে বরখাস্ত বা অপসারিত ব্যক্তির সমান বিবেচনা করা হয়েছে; ফলে এটি অনুচ্ছেদ ২৭-এর সাম্যের নীতি লঙ্ঘন করে এবং যুক্তিসঙ্গততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় না, যা অনুচ্ছেদ ৩১-এর অধীনে আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিধি-৩০০(ক) সংবিধান-বহির্ভূত (ultra vires) ঘোষিত হওয়া উচিত।
হাইকোর্ট বিভাগ রিট আবেদনকারীর এই যুক্তি গ্রহণ করে বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০(ক)-কে সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষণা করে, এই সিদ্ধান্তে যে বাজেয়াপ্তকরণ এক ধরনের শাস্তি যা সম্পত্তির মূল্যবান অধিকার হারানোর কারণ হয়। তবে দুই শ্রেণীর ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধি-৩০০(ক) প্রয়োগ করা প্রসঙ্গে উক্ত বিভাগ পর্যবেক্ষণ করে যে, unblemished সার্ভিস রেকর্ডধারী একজন কর্মচারীকে এমন এক কর্মচারীর সমান মানদণ্ডে বিবেচনা করা হচ্ছে যিনি কোনো অসদাচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন যদিও "পদত্যাগ" ও "বরখাস্ত"-এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
এই সিদ্ধান্তকে জোরদার করতে উক্ত বিভাগ আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, বরখাস্ত বা অপসারণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া যেমন কারণ দর্শানোর নোটিশ, বিভাগীয় তদন্ত, ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ অতিক্রম করতে হয়; কিন্তু পদত্যাগের ক্ষেত্রে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা তদন্ত ছাড়াই একজন ব্যক্তি পেনশনের অধিকার হারান, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১-এর অধীনে আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থী। হাইকোর্ট বিভাগ আরও দেখতে পায় যে পদত্যাগকারী এবং বরখাস্তকৃত এই দুই শ্রেণীর ব্যক্তিকে একই বন্ধনীতে ফেলা কার্যত অপরাধ না করা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদানের সমতুল্য, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এ নিশ্চিতকৃত সাম্যের নীতির লঙ্ঘন। তদনুসারে উক্ত বিভাগ রুলটি আংশিক নিরঙ্কুশ করে বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০(ক)-কে "পদত্যাগের ক্ষেত্রে পেনশন বাজেয়াপ্তকরণ" অংশে সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষণা করে।
ফলস্বরূপ, রিট রেসপন্ডেন্ট নং ৫ কর্তৃক জারিকৃত ২৫.০৩.২০১৫ তারিখের তর্কিত স্মারকটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে বলে ঘোষিত হয় এবং তাই তা আইনগতভাবে অকার্যকর বলে গণ্য হয়, এবং আপীলকারী-রিট বিবাদীগণকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীর চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গণনা করে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে সরকার, অর্থাৎ রিট রেসপন্ডেন্ট নং ১, ২, ৩ ও ৪ এই বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল নং ২৩৭৯/২০২১ দায়ের করেন, যাতে ৪ (চার)টি ভিন্ন গ্রাউন্ডে লিভ মঞ্জুর করা হয়।
আপীলকারীর পক্ষে যুক্তি
আপীলকারীগণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জনাব মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, জনাব অনীক আর হক, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে যৌথভাবে বলেন যে, হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১-এর ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০(ক)-কে সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষণা করে সুস্পষ্ট আইনি ত্রুটি করেছে, যেখানে গণকর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৯(১) ও (২)-এর অধীনে পেনশনযোগ্যতা অর্জনের পূর্বে পদত্যাগকারী একই অবস্থানের গণকর্মচারীদের মধ্যে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ ছিল না। এই ঘোষণা কেবল বিধিবদ্ধ কাঠামোকেই উপেক্ষা করে না, বরং সরকারি চাকরিতে অবসর ও পেনশন সুবিধা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক নীতিমালাকেও ব্যাহত করে।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে পদত্যাগ একটি স্বেচ্ছাকৃত ও সচেতন কর্মচ্যুতি, যা এর আইনগত পরিণতি পেনশনের জন্য পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হওয়া সহ সম্পূর্ণ জ্ঞাত থেকে গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় ন্যায্য প্রক্রিয়া (due process) অস্বীকারের প্রশ্ন ওঠে না। হাইকোর্ট বিভাগ এমন এক প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রয়োগ করে ভুল করেছে যেখানে পরিণতি সরাসরি কর্মচারীর স্বেচ্ছাকৃত কর্ম থেকে উদ্ভূত। এছাড়াও তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ পেনশনকে গ্র্যাচুইটি বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো অন্যান্য সার্ভিস সুবিধার সাথে সমান বিবেচনা করে গুরুতর ত্রুটি করেছে, পেনশনের স্বতন্ত্র ও শর্তসাপেক্ষ প্রকৃতি উপেক্ষা করে, যা কেবল ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৪ বা ধারা ৯(১) ও (২)-এর অধীনে অবসরের পরই অর্জিত হয়। যেহেতু উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারী উক্ত কোনো বিধানের অধীনে অবসর গ্রহণ করেননি এবং তাদের বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করেননি, তাই তিনি আইনের দৃষ্টিতে পেনশনের অধিকারী নন, বরং এই অধিকার একচেটিয়াভাবে সরকারি চাকরি নিয়ন্ত্রণকারী নির্বাহী নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত, যা কোনোভাবেই সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষিত হতে পারে না। তদনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের রায় ও আদেশে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এবং আপীলটি মঞ্জুর করা উচিত।
Respondent এর পক্ষে যুক্তি:
অন্যদিকে রেসপন্ডেন্ট নং ১-এর পক্ষে স্বয়ং উপস্থিত হয়ে জনাব মোহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ বিধি-৩০০(ক)-এর তর্কিত অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে কোনো আইনি ত্রুটি করেনি, কেননা ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৯ পেনশন অধিকার পরিপক্বতার শর্ত আরোপ করে না, এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণেরও অনুমতি দেয় না। পদত্যাগ যেহেতু স্বেচ্ছাকৃত কর্ম, তাই তা অর্জিত অধিকার হরণকে ন্যায্যতা দিতে পারে না; ফলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া পেনশন সুবিধা অস্বীকার করা বেআইনি হবে। এছাড়াও তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৪ ও ৯ কেবল সুপারঅ্যানুয়েশন বা ঐচ্ছিক অবসর নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেনশন অর্জনের একচেটিয়া শর্ত নির্ধারণ করে না। তাই Respondent এই বিধানগুলো চ্যালেঞ্জ করতে বাধ্য ছিলেন না।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, পদত্যাগকে অসদাচরণ বা অপরাধমূলক কাজের সমান বিবেচনা করে বছরের পর বছর চাকরির মাধ্যমে অর্জিত পেনশন সুবিধা বাজেয়াপ্ত করা যায় না, ফলে স্বেচ্ছা পদত্যাগের জন্য চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণ সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বনাম মেঘনা এন্টারপ্রাইজেস মামলার (৫০ ডিএলআর (এডি) ১৯৪) সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে তিনি বলেন, তর্কিত বিধি-৩০০(ক) মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সাংবিধানিক নিশ্চয়তার কাছে নতি স্বীকার করতে হবে, এবং হাইকোর্ট বিভাগ সঠিকভাবেই তা সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিভাগীয় তদন্তসহ যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা কেবল বরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পদত্যাগ স্বেচ্ছাকৃত হওয়ায় এই প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয় না। ০৪.১১.১৯৮৯ তারিখের পরিপত্র এবং তার পরবর্তী সংশোধনী উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ সঠিকভাবেই ব্যাখ্যা করেছে যে পেনশনের পরিমাণ চাকরিকালের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে, যা সংশ্লিষ্ট পরিপত্রসমূহে স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (ছুটি, পেনশন ও সুযোগ-সুবিধা) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর মতো আইনি দলিলসমূহ পদত্যাগের ক্ষেত্রেও পেনশনের অনুমতি দেয়, যা সরকারি কর্মচারীদের পেনশন অধিকার সুরক্ষার স্পষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক অভিপ্রায় প্রতিফলিত করে। পেনশন সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতিতে, রিট আবেদনকারীর পেনশন সুবিধা তাই এই আইনি ও নীতিগত কাঠামো অনুযায়ী নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বৈধভাবে প্রদান করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন যে গণকর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১০ পেনশন বাজেয়াপ্তকরণের কারণসমূহ সম্পূর্ণরূপে নির্দিষ্ট করেছে, এবং পদত্যাগ তার মধ্যে একটি নয়; সুতরাং মূল আইন দ্বারা প্রত্যাহার করা হয়নি এমন সুবিধা অধস্তন আইন দ্বারা সীমিত করা যায় না। এই অবস্থানকে ২০১৮ সালের আইনের ধারা ৫০ ও ৫৩ দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা পদত্যাগের ক্ষেত্রেও পেনশন সুবিধার অধিকার স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেয়। মাসদার হোসেন মামলায় (৫২ ডিএলআর (এডি) ৮২) এই বিভাগের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা সত্ত্বেও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য পেনশন বিধান প্রণয়নে অব্যাহত নির্বাহী নিষ্ক্রিয়তা সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ও ন্যায্যতার নীতি সমুন্নত রাখতে এই ধরনের অধিকারের স্বীকৃতি আরও প্রয়োজনীয় করে তোলে।
তিনি আরও যুক্তি প্রদর্শন করেন যে বিধি-৩০০(ক) কেবল পদত্যাগের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণের কথা বলে এবং স্পষ্টভাবে পেনশন বাজেয়াপ্তকরণের কথা বলে না; তাই "গোল্ডেন রুল অফ ইন্টারপ্রিটেশন" অনুযায়ী, বিধানটিকে তার সরল ও সাধারণ অর্থে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, আইনসভা কর্তৃক অভিপ্রেত নয় এমন শব্দ বা পরিণতি আমদানি না করে। সুস্পষ্ট বর্জনের অনুপস্থিতিতে, বিধি-৩০০(ক)-কে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না যাতে প্রার্থীর অর্জিত পেনশন সুবিধার অধিকার নাকচ হয়ে যায়।
তদনুসারে তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের ঘোষণা যে বিধি-৩০০(ক) পদত্যাগের ক্ষেত্রে চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণের অংশে অসাংবিধানিক — তা আইনগতভাবে যথাযথ, সাংবিধানিকভাবে সঙ্গতিপূর্ণ এবং আইনি অভিপ্রায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীলটি সম্পূর্ণরূপে গুণাগুণহীন এবং খরচসহ খারিজ হওয়া উচিত।
বিধি-৩০০(ক) পর্যালোচনা
উভয় পক্ষের যুক্তি যথাযথভাবে অনুধাবনের জন্য প্রথমে বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০(ক)-এর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন, যা হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সংবিধান-বহির্ভূত হিসেবে বাতিল করা হয়েছে।
বিধি-৩০০(ক) মূলত বলে: সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ, অথবা অসদাচরণ, দেউলিয়াত্ব, বয়সজনিত নয় এমন অদক্ষতা, বা নির্ধারিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে বরখাস্ত বা অপসারন উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয়।
সুতরাং উক্ত বিধি অনুসারে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সমগ্র পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং ফলস্বরূপ তিনি পেনশন সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন না, যেমনটি আপীলকারী-রিট রেসপন্ডেন্ট নং ৫ কর্তৃক ২৫.০৩.২০১৫ তারিখের তর্কিত স্মারক জারির সময় মত প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্ল্যাকস ল ডিকশনারি, ১১তম সংস্করণ অনুযায়ী "পেনশন" হলো সরকার বা নিয়োগকর্তা কর্তৃক অবসর সুবিধা হিসেবে কোনো ব্যক্তি বা তাঁর প্রতিনিধি/সুবিধাভোগীদের পূর্ববর্তী সেবা বা কোনো প্রকার গুণগত কাজের বিনিময়ে প্রদত্ত ধারাবাহিক অর্থপ্রদান।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ, প্রতিনিধিত্বকারী সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মামলায় (৫১ ডিএলআর (এডি) ১২১, অনুচ্ছেদ-৬), এই বিভাগ "পেনশন"-এর ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রদত্ত পেনশন রাষ্ট্রের কোনো দয়া নয়, বরং চাকরির একটি অপরিহার্য শর্ত, এবং এটি রাষ্ট্রের এই দায়বদ্ধতা থেকে প্রদত্ত হয় যে কর্মজীবনের উপযোগী সময়ে সেবা প্রদানকারী নাগরিকদের বৃদ্ধ বয়সে দারিদ্র্যে ছেড়ে দেওয়া যাবে না — পেনশনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের অভাবমুক্ত, মর্যাদাপূর্ণ, স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপন এবং অবসর-পূর্ববর্তী মানের সমতুল্য জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা।
তবে পেনশন কোনো দান নয়, বরং সন্তোষজনকভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল সম্পন্ন করার ভিত্তিতে অর্জিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য কোনোভাবে অযোগ্য না হওয়া সাপেক্ষে: ইউওআই বনাম পিডি যাদব, (২০০২) ১ এসসিসি ৪০৫।
আপীল বিভাগের বিশ্লেষণ
মূল প্রশ্ন হলো, "পদত্যাগ"-এর জন্য সমগ্র পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণকে "শাস্তি" হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কিনা, যেহেতু এটি অসদাচরণ, দেউলিয়াত্ব বা অদক্ষতার কারণে বরখাস্ত বা অপসারিত ব্যক্তির সাথে সমান স্তরে রাখা হয়েছে।
প্রতিটি চাকরির শর্তে একটি সমাপ্তিবিন্দু থাকে যেখানে চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। রিট আবেদনকারীর চাকরি তাঁর পদত্যাগের মাধ্যমে শেষ হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল। প্রাসঙ্গিক সময়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৩-এর অধীনে প্রণীত "বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, ২০০৭ কার্যকর ছিল।
তবে উক্ত বিধিমালার বিধি-৯ অনুসারে, সার্ভিসের সদস্যদের চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণে পৃথক বিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত অবসর গ্রহণ, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলীর ক্ষেত্রে সরকারের প্রথম শ্রেণীর (গেজেটেড) কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধান সার্ভিসের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তবে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার হানি ঘটিয়ে বা রদ করে কোনো বিধান প্রণয়ন করা যাবে না।
যেহেতু বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণের জন্য পৃথক কোনো বিধিমালা ছিল না, তাই ২০০৭ সালের বিধিমালার বিধি-৯ মূলে গণকর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪ এবং বিএসআর প্রথম খণ্ডসহ অন্যান্য সহায়ক বিধি-প্রবিধানের শর্তাবলী উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীসহ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়।
১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী প্রত্যেক গণকর্মচারী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ, ৫৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে অবসর গ্রহণ করবেন [বর্তমানে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ধারা ৪৩(১)(ম) অনুসারে ৫৯ বছর, যা ১৪.১১.২০১৮ তারিখে কার্যকর হয়]।
১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৯(১) অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর একজন কর্মচারী তাঁর অভিপ্রেত অবসর তারিখের কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে লিখিত নোটিশ প্রদান করে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অন্যদিকে সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই ২৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারী কোনো গণকর্মচারীকে নির্ধারিত অবসর তারিখের পূর্বেই অবসরে পাঠাতে পারে। মূলত ধারা ৯-এর অধীনে কর্মচারী নির্ধারিত অবসর বয়সে পৌঁছানোর পূর্বেই নিয়োগকর্তা-কর্মচারী সম্পর্কের অকাল সমাপ্তি ঘটে।
সুতরাং অবসর তিন ধরনের হতে পারে — প্রথমত, ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী অবসর; দ্বিতীয়ত, ধারা ৯(১) অনুযায়ী ঐচ্ছিক অবসর; এবং তৃতীয়ত, ধারা ৯(২) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসর। এই দুটি বিধানের কোনোটিতেই "পদত্যাগ"-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা চাকরির মেয়াদ শেষ করার আরেকটি রূপ, যাতে কোনো কলঙ্ক (stigma) থাকে না।
আইনশাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, পেনশন একটি অবসরকালীন সুবিধা যা একজন গণকর্মচারীকে নিয়মিত অর্থপ্রদানের বৈশিষ্ট্য বহন করে, যিনি অবসরের বয়সে পৌঁছানোর সময় বা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সময় আইনগতভাবে তা পাওয়ার অধিকারী।
ইউকো ব্যাংক ও অন্যান্য বনাম সানওয়ার মাল, (২০০৪) ৪ এসসিসি ৪২ মামলায় "পদত্যাগ" ও "অবসর" শব্দদ্বয়ের মধ্যে যথাযথ পার্থক্য আলোচিত হয়েছে — সেখানে বলা হয়েছে যে একজন কর্মচারী নিয়োগের দ্বিতীয় দিনেও পদত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু অবসরের ক্ষেত্রে তিনি কেবল সুপারঅ্যানুয়েশনের বয়সে পৌঁছানোর পর বা ঐচ্ছিক অবসরের ক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল সম্পন্ন করার পরই অবসর নেন। পদত্যাগ ও অবসর উভয়ই চাকরির অবসান ঘটায়, তবে আইনশাস্ত্রে দুটি ভিন্নভাবে বোঝা হয়। পদত্যাগ নিয়োগকর্তা-কর্মচারী সম্পর্কের সম্পূর্ণ সমাপ্তি ঘটায়, অথচ ঐচ্ছিক অবসর পূর্ববর্তী চাকরিকালের ভিত্তিতে অবসরকালীন সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে সম্পর্ক বজায় রাখে।
সুতরাং "পদত্যাগ" একটি একতরফা কাজ, যেখানে গণকর্মচারী/কর্মচারী তাঁর নিয়োগকর্তার সাথে চাকরি চালিয়ে যেতে অনিচ্ছুক হন এবং নিয়োগকর্তা তা গ্রহণ করেন, নোটিশ পিরিয়ডসহ বা ছাড়াই। অন্য কথায়, তিনি সংশ্লিষ্ট তারিখে বিদ্যমান শর্তাবলীর ভিত্তিতে নিয়োগকর্তার চাকরি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
স্পষ্টত ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৯-এ সুস্পষ্টভাবে "চাকরি থেকে পদত্যাগ"-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করে চাকরির মেয়াদ শেষ করার আরেকটি পদ্ধতি।
তর্কিত বিধি-৩০০(ক) বলে যে একজন গণকর্মচারী পদত্যাগ করলে চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হবে। তবে বিধি-৩০০(ক)-তে "পদত্যাগ", "বরখাস্ত", "অপসারণ" শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে চ্যাপ্টার XIX, সেকশন-১ "স্পেশাল অ্যাডিশনস"-এর প্রেক্ষাপটে "চাকরিকাল গণনা" (reckoning service) সংক্রান্ত বিষয়ে, যেখানে "পেনশন" শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। যেহেতু একজন সরকারি কর্মচারী সন্তোষজনকভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল সম্পন্ন করার ভিত্তিতে পেনশন সুবিধা অর্জন করেন, তাই বিধি-৩০০(ক) অনুযায়ী পদত্যাগকারী ব্যক্তির সমগ্র পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হওয়ায় পেনশন দাবির জন্য কোনো যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল অবশিষ্ট থাকে না।
এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,রিট আবেদনকারী পদত্যাগ করেছিলেন। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তিনি সকল শর্তাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন এবং সম্মত হয়ে যথাযথভাবে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। এখন তিনি এই যুক্তিতে পেনশন সুবিধা দাবি করছেন যে কোনো কলঙ্ক ছাড়া পদত্যাগ করার কারণে তাঁকে বরখাস্ত বা অপসারিতদের সমান বিবেচনা করা যায় না, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
আইনে "শাস্তি"-র একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে — সংক্ষেপে, তদন্ত শেষে অসদাচরণের জন্য একজন গণকর্মচারীর বিরুদ্ধে গৃহীত দণ্ডমূলক পদক্ষেপ (বরখাস্ত, অপসারণ, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিতকরণ ইত্যাদি)। শাস্তি সাধারণত কিছু অর্জিত সুবিধা বাজেয়াপ্তকরণের সাথে জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর উপর অনিবার্যভাবে কলঙ্ক আরোপ করে।
অন্যদিকে, "পদত্যাগ" শাস্তি নয়, নিম্নলিখিত কারণে:
প্রতিটি চাকরির অবসান শাস্তি নয়, কেবল অসদাচরণের জন্য তদন্তের পর "অপসারণ" বা "বরখাস্তের" মাধ্যমে সংঘটিত অবসান ব্যতীত;
পদত্যাগের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ বা দোষারোপের উপাদান নেই;
পদত্যাগে কোনো কলঙ্ক বা দেউলিয়াত্ব/অদক্ষতার ইঙ্গিত নেই — এটি প্রতিটি কর্মচারীর একতরফা বা বিশেষাধিকার (privilege)।
অন্য কথায়, বিধি-৩০০(ক) যতটুকু "পদত্যাগের কারণে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণ"-এর সাথে সম্পর্কিত, তা দণ্ড (penalty) নয়, বরং পদত্যাগের ফলে সৃষ্ট একটি অনধিকারিতা (disentitlement)।
এক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ "পদত্যাগের জন্য পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণ"-কে "শাস্তি" হিসেবে অভিহিত করে ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, এবং তদনুসারে একে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১-এ নিশ্চিতকৃত আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘন ও অনুচ্ছেদ ২৭-এ নিশ্চিতকৃত সাম্যের নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বৈষম্যমূলক বলে চিহ্নিত করেছে।
বৈষম্যের প্রশ্ন তখনই উদ্ভূত হয় যখন আইন বা নির্বাহী পদক্ষেপ দ্বারা একটি শ্রেণীর মধ্যে শ্রেণীবিন্যাস করা হয় এবং সেই শ্রেণীবিন্যাস থেকে উদ্ভূত দুই বা ততোধিক শ্রেণীকে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই অসম আচরণ করা হয়।
এটি ব্যাখ্যার একটি নিয়ম যে যখন একই বিধিতে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হয়, তখন সেগুলোকে একই অর্থ দেওয়া যায় না: মেম্বার, বোর্ড অফ রেভিনিউ বনাম আর্থার পল বেনলটল (১৯৫৫) ২ এসসিআর ৮৪২।
বিধি-৩০০(ক) দুই শ্রেণীর ব্যক্তিকে শ্রেণীভুক্ত করে যাদের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হওয়ার ফলে পেনশন দাবি থেকে বঞ্চিত হন। তবে বিধি-৩০০(ক)-তে "পদত্যাগ", "বরখাস্ত" বা "অপসারণ" শব্দগুলোর ব্যবহার তাদের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে যাচাই করতে হবে। কেবল এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে বলেই তারা একই স্তরে দাঁড়ায় না, কেননা তাদের পৃথক ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সুতরাং উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীর অভিযোগকৃত বৈষম্যের প্রশ্নই ওঠে না। ফলে অনুচ্ছেদ ২৭-এর সাম্যের নীতি এবং অনুচ্ছেদ ৩১-এর অধীনে আইন অনুযায়ী আচরণ না পাওয়ার অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়।
২০১৮ সালের আইন ও ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ১০ সংক্রান্ত যুক্তি
রিট আবেদনকারী ২০১৮ সালের আইনের ধারা ৫৩-এর আশ্রয় নিয়ে যুক্তি দেন যে উক্ত বিধান পদত্যাগের পরও পেনশন সুবিধার অধিকার স্বীকৃতি দেয়। এই প্রস্তাব ভ্রান্ত, কেননা ২০১৮ সালের আইন কার্যকর হয় ১৪.১১.২০১৮ তারিখে, অথচ উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীর মামলার কারণ উদ্ভূত হয় ২৫.০৩.২০১৫ তারিখের প্রশ্নবিদ্ধ স্মারক জারির মাধ্যমে। সুতরাং ২০১৮ সালের আইন তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এবং এর কোনো পূর্ববর্তী প্রভাবও (retrospective effect) নেই। উপরন্তু উক্ত আইন স্পষ্ট ভাষায় পদত্যাগের ক্ষেত্রে পেনশন দাবির নিশ্চয়তা দেয় না।
রিট আবেদনকারীর আরেকটি নির্ভরতা হলো ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ১০। এক্ষেত্রে উত্তরদাতা নং ১-এর যুক্তি হলো, যেহেতু "পদত্যাগ" শব্দটি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাই ১৯৭৪ সালের আইন দ্বারা প্রত্যাহার করা হয়নি এমন সুবিধা বিধি-৩০০(ক), যা একটি অধস্তন আইন, দ্বারা সীমিত করা যায় না।
রিট আবেদনকারীর এই প্রস্তাবও ভ্রান্ত, কেননা আইনসভা ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ১০ প্রণয়নের সময় স্পষ্টভাবে অভিপ্রায় প্রকাশ করেছিল যে একজন গণকর্মচারীর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন — সেই কার্যক্রমের নির্ধারণ ও ফলাফল সাপেক্ষে — তাঁর পেনশন বা অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা থেকে অনধিকারিতা।
ধারা ১০-এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হলে এটি ১৯৭৪ সালের আইনের ধারা ৪ ও ৯-এর সাথে একত্রে পড়তে হবে, বিচ্ছিন্নভাবে নয়। পূর্বেই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে যে ১৯৭৪ সালের আইনের কোথাও আইনসভা "পদত্যাগ"-এর ধারণা প্রবর্তন করেনি যা একজন গণকর্মচারীকে পেনশন দাবির অধিকার দেয়, কেবল ৫৯ বছর বয়সে অবসর [ধারা ৪] বা ঐচ্ছিক অবসর [ধারা ৯(১)] বা যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল অর্থাৎ ২৫ বছর সম্পন্ন করার পর বাধ্যতামূলক অবসর [ধারা ৯(২)] ব্যতীত।
ব্যাখ্যার (golden rule) হলো, শব্দগুলোকে তাদের সাধারণ, সরল ও স্পষ্ট অর্থ দিতে হবে, এবং বিধানের ভাষা স্পষ্ট হলে তাতে অতিরিক্ত শব্দ প্রবর্তনের কোনো কারণ নেই: ফেলিক্স বনাম টমাস, [১৯৬৭] ১ এসি ২৯২। একটি আইনের বিধান ব্যাখ্যায় "expressio unius est exclusio alterius" নীতি প্রযোজ্য — অর্থাৎ কোনো বিষয়ের সুস্পষ্ট উল্লেখ অন্য বিষয়সমূহকে বাদ দেয়। কোনো আইন যদি নির্দিষ্ট কিছু বিষয় গণনা করে যার উপর তা প্রযোজ্য হবে, তাহলে অন্য সবকিছু আবশ্যিকভাবে এবং ইঙ্গিতসূত্রে তার প্রয়োগ ও প্রভাব থেকে বাদ পড়ে যাবে: কুদরত-ই-এলাহি বনাম বাংলাদেশ, (১৯৯২) ৪৪ ডিএলআর (এডি) ৩১৯, ৩৩৩।
সুতরাং ধারা ১০-এ বর্ণিত স্পষ্ট প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই পদত্যাগকারী গণকর্মচারীকে পেনশন প্রদানের মাধ্যমে এই প্রেক্ষাপট প্রসারিত করার কোনো সুযোগ এই আদালতের নেই।
বিচারিক কার্য বাতিলের যুক্তি প্রত্যাখ্যান
উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীর বিধি-৩০০(ক)-কে সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষণার আরেকটি যুক্তি ছিল যে তাঁর চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হলে তা তাঁর সমগ্র চাকরিকালে সম্পাদিত সকল বিচারিক কার্যক্রম বাতিল করার প্রভাব ফেলবে। হাইকোর্ট বিভাগ বিধি-৩০০(ক)-কে সংবিধান-বহির্ভূত ঘোষণা করার সময় এই প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েছিল।
প্রকৃতপক্ষে, রিট আবেদনকারী ৩১.০১.২০১১ তারিখে পদত্যাগ করেন এবং রিট পিটিশন নং ৫৩২৩/২০১৬-এ রুল নিশি পান। উক্ত রুল হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ১৮.০৩.২০২১ তারিখে শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। হাইকোর্ট বিভাগের রায় প্রদানের তারিখ পর্যন্ত, এমনকি আজ এই আপীল নিষ্পত্তির সময়ও, উক্ত উত্তরদাতা তাঁর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা হিসেবে প্রদত্ত সংশ্লিষ্ট রায় ও আদেশসমূহ পদত্যাগের কারণে বাতিল ঘোষিত হওয়ার কোনো দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে উত্তরদাতা নং ১-এর এই বক্তব্য ব্যর্থ হয়।
উপরোক্ত বিবেচনায়, এই বিভাগ সুস্পষ্টভাবে দেখতে পায় যে বিধি-৩০০(ক), যতটুকু "পদত্যাগের কারণে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্তকরণ"-এর সাথে সম্পর্কিত, তা সংবিধান-বহির্ভূত নয়।
পেনশন টেবিল ও "ব্যাখ্যা" সংক্রান্ত যুক্তি
হাইকোর্ট বিভাগ, তবে, ২৫.০৩.২০১৫ তারিখের প্রশ্নবিদ্ধ স্মারককে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি বলে ঘোষণা করার সময় ০৪.১১.১৯৮৯ তারিখের স্মারক এবং ১৪.১০.২০১৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন বিবেচনায় নিয়েছিল, যা পেনশন দাবির জন্য ২৫ বছরের কম যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল (এই মামলায় ১৯ বছর) স্বীকৃতি দেয়। তদনুসারে উক্ত বিভাগ যারা সুপারঅ্যানুয়েশন বয়সে পৌঁছানোর পূর্বে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন, তাদেরও তাদের চাকরিকালের বছর সংখ্যার উপর নির্ভর করে পেনশন দাবির অধিকার প্রদান করে।
এ পর্যায়ে জনাব আরশাদুর রউফ, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, বিএসআর প্রথম খণ্ডের চ্যাপ্টার XX-এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে পেনশনের ৬ (ছয়)টি ভিন্ন শ্রেণী রয়েছে যার মঞ্জুরি নিয়ন্ত্রণকারী শর্তাবলী সংযুক্ত। তবে কোনো শর্তেই "পদত্যাগ" অন্তর্ভুক্ত নেই। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক নির্ভরকৃত ১৪.১০.২০১৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপীলকারী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ০৪.১১.১৯৮৯ তারিখের পূর্ববর্তী স্মারকে বর্ণিত টেবিলটি সংশোধন করার সময় একটি "ব্যাখ্যা" যুক্ত করেছে যা যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল সম্পন্নের পর পেনশন প্রাপ্তির শর্তাবলী প্রদান করে। সেই শর্তাবলীতে পদত্যাগের প্রেক্ষাপট গণনা করা হয়নি। এমতাবস্থায় তিনি যুক্তি দেন যে উক্ত "ব্যাখ্যা" প্রজ্ঞাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য ও কার্যকর অংশ হওয়ায়, তা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র পেনশনযোগ্য চাকরিকালের টেবিলের ভিত্তিতে পদত্যাগকারী কোনো ব্যক্তিকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক পেনশন সুবিধার অধিকার প্রদান স্পষ্টতই ভ্রান্ত এবং আইনের দৃষ্টিতে অসমর্থনযোগ্য। উপরন্তু, পদত্যাগের পূর্বে প্রদত্ত সেবার জন্য উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীর পেনশন দাবি বজায় রাখা যায় না, কেননা পদত্যাগে পেনশনের অধিকার তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনের অধীনে স্বীকৃত নয়।
বিএসআর প্রথম খণ্ডের চ্যাপ্টার XX, সেকশন-১ বিভিন্ন শ্রেণীর পেনশন নিয়ে আলোচনা করে, যেমন — ক্ষতিপূরণ পেনশন (স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে মঞ্জুরিকৃত), অসামর্থ্য পেনশন (শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে অবসরপ্রাপ্তদের মঞ্জুরিকৃত), সুপারঅ্যানুয়েশন পেনশন (সুপারঅ্যানুয়েশন বয়সে পৌঁছানো বা বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মঞ্জুরিকৃত), অবসর পেনশন (২৫ বছরের কম নয় এমন যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিকাল সম্পন্ন করে পদত্যাগ গৃহীত হওয়া কর্মকর্তাকে মঞ্জুরিকৃত), আহত ও অন্যান্য অসাধারণ পেনশন (সামরিক বিভাগে বেসামরিক ক্ষমতায় নিযুক্তদের জন্য), এবং পারিবারিক পেনশন।
তবে বিএসআর প্রথম খণ্ডের চ্যাপ্টার XXI, সেকশন-১-এ সাধারণ নিয়মাবলী রয়েছে, যা বিধি ৩৫১ থেকে ৩৬১-এ বর্ণিত পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণ করে, যা চাকরিকালের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। সেখানে বর্ণিত টেবিলটি বিভিন্ন স্মারক ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে। ০৪.১১.১৯৮৯ তারিখের স্মারকে বর্ণিত টেবিলটি চাকরিকালের দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে পেনশনের শতকরা হার প্রদান করে। উক্ত টেবিলটি ১৪.১০.২০১৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন, বিশেষত ধারা (ক)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনর্নির্ধারিত হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ উত্তরদাতা-রিট আবেদনকারীকে পেন