11/07/2025
বাংলাদেশে জনসাধারণের জায়গায় (যেমন: রাস্তা, পার্ক, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, সরকারি বা বেসরকারি অফিস, সিঁড়ি, লিফট, রেল/বাস টার্মিনাল, রেস্টুরেন্ট ছাড়া খোলা জায়গা বা যে কোনো সরকারি ঘোষিত ধূমপান-নিষেধিত এলাকা) সিগারেট ধূমপান সম্পূর্ণভাবে অপরাধ ও দণ্ডনীয়। এটি Smoking and To***co Products Usage (Control) Act, 2005 ও এর ২০১৩ ও ২০১৫ সালের সংশোধনী দ্বারা নির্ধারিত। নিম্নে বিস্তারিত দেয়া হলো:
📝 আইন ও শাস্তি
ধারা ৪: জনসাধারণের স্থান ও পরিবহনে (সার্বজনীন যানবাহন) ধূমপান নিষিদ্ধ, প্রথমবারের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা জরিমানা। পরবর্তীতে অপরাধের সাথে জরিমানাও দ্বিগুণ হবে ।
অধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা, পুলিশ (SI বা তার উপরের), জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, ফায়ার ব্রিগেড ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর করতে পারে ।
রেস্তোরাঁ ও অফিস: সিল করা স্থাপনায় (চার দেয়াল ঘেরা) ধূমপানও একই আইন দ্বারা বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ এবং জরিমানা ধার্য, সেই সাথে মালিক/ব্যবস্থাপক ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বহন করবেন ।
📌 “জনসাধারণের জায়গা” বলতে ঠিক কী বোঝানো?
আইনে বলা হয়েছে—
সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, আদালত, লাইব্রেরি, হাসপাতাল, লিফট, ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর ভবন, মেট্রো, সিনেমা, রেস্তোরাঁ—অনেক জায়গা অন্তর্ভুক্ত ।
এ ছাড়া শিশু পার্ক, মেলা, ক্লোজড রেস্তোরাঁ, গণপরিবহনে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জায়গা, বা যা সরকার বা স্থানীয় সরকার ধূমপান-নিষেধিত ঘোষণা করে ।
❓ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আরোপিত নিয়ম
Smoking Zone: প্রয়োজন হলে মালিক বা পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিরাপদভাবে ডিমারকেটেড “ধূমপান এলাকা” নির্ধারণ করতে পারেন, তবে এটি এমনভাবে হতে হবে যাতে ধোঁয়া অন্যদের কাছে ছড়ায় না ।
যদিও আইন আছে, কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ খুবই সীমিত, সাধারণ জনগণ ও প্রতিষ্ঠান মাঝে দেশে সচেতনতা কম থাকায় জরিমানাও কম আদায় হয় ।
✅ সারাংশ
হ্যাঁ, বাংলাদেশে জনসাধারণের ক্রমাঙ্কিত জায়গায় ধূমপান করা অপরাধ, এবং প্রথম দণ্ডনীয় অপরাধের জরিমানা ৩০০ টাকা।
দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার অপরাধ করা হলে জরিমানাও অবশ্যই দ্বিগুণ হয়।
রেস্টুরেন্ট, অফিস ও পরিবহনে মূলত একই নিয়ম এবং মালিক/ব্যবস্থাপকদেরও ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
যেসব জায়গায় সরকার লঙ্ঘনযোগ্য ঘোষিত করেছে বা নির্দিষ্ট করে—ওগুলোতেও একই আইন প্রযোজ্য।
⚠️ বাস্তবতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
আইনের এই স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে সৌজন্য পরিস্থিতি, নাগরিক আচরণ, এবং নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় লোকজন প্রায়শই অপরাধ করে। কখনো কখনো কেবল একটি টং দোকানে বা ফুটপাতে সিগারেট ফুঁকতে গিয়ে কেউ আইনের আওতাতে পড়ে না (প্রয়োগ কম) ।
প্রত্যাশিত পদক্ষেপ
যারা হচ্ছে—জনসাধারণের স্থানে ধূমপান না করা;
মালিক/ব্যবস্থাপকরা—‘Smoking is punishable’ সাইনবোর্ড দিতে হবে, লাইটার বা অ্যাশট্রে সরাতে হবে, জরিমানা নেওয়ার মতো প্রস্তুতি নিতে হবে;
কর্তৃপক্ষদের—আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিতে হবে কার্যকরী ব্যবস্থা।
সাধারণ নাগরিকদের—ধূমপানকারীদের আইন ও স্বাস্থ্যগত বাস্তবতা জানিয়ে পরিস্থিতি নিরপেক্ষে ও ভদ্রভাবে শান্তভাবে পরিচালনা করতে হবে।
> উপসংহার: জনসমক্ষে ধূমপান করা বাংলাদেশের আইনে অপরাধ, এবং জরিমানা রয়েছে, তবে এর প্রয়োগ অপ্রতুল হওয়ায় অনেক সময় শাস্তিও হয় না।