12/10/2024
আওয়ামীলীগের পুনর্বাসন কোন পথে হবে, ঐটা কিছুটা ক্লিয়ার হইতেছে।
আওয়ামী লীগের দুইজন প্রভাবশালী নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী এবং এম এ মান্নান জামিন পেয়েছেন।
খুব দ্রুতই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এদের কথা বলতে দেখবো বলেই আমার বিশ্বাস।
সোহেল তাজও নিয়মিত শেখ হাসিনাকে গালিগালাজ করতেছেন। বাট আবার তিনি যে আওয়ামীলীগ করেন, এটাও বলতে ভুলতেছেন না।
সব মিলিয়ে, আওয়ামীলীগ ভালো বাট শেখ হাসিনা খারাপ টাইপের একটা ভাইব তৈরি করা হবে।
শেখ পরিবারকে বাইরে রেখে নতুন আওয়ামীলীগ গঠন করা হবে। বিএনপি জামাতের খোয়াব হলো, এতে আওয়ামীলীগ ছোট একটা দল হয়ে থেকে যাবে। বড় কোন দল এরা আর হতে পারবে না।
এইটা বিএনপি জামাতের সম্মতিতেই হচ্ছে। জামাত আমির আজকেও আওয়ামীলীগকে নির্বাচন চাওয়ার প্রমাণ দিতে বলেছেন।
সমস্যা হলো, আপাত দৃষ্টিতে ভালো আওয়ামীলীগ কখনোই ভালো থাকে নাই।
তাজউদ্দীন ফ্যামিলি বারবারই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় শেখ পরিবারের পূর্ণ আনুগত্য করে গেছে।
৭১ এ তাজউদ্দীন একটা কথাও না বলে মুজিবের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। ৮১ তে তাজউদ্দীনের স্ত্রীও আওয়ামীলীগকে তুলে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার হাতে।
ভবিষ্যতে সোহেল তাজও যে আওয়ামীলীগকে সজীব ওয়াজেদ জয় বা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে তুলে দেবেন না, সেটার কোন নিশ্চয়তা নাই।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দেওয়া আর রাজনীতির সুযোগ দেওয়াটা ছিলো জিয়াউর রহমানের উদার রাজনৈতিক ভুল।
এই ভুলের কাফফারা জিয়াউর রহমানকে জীবন দিয়ে দিতে হয়েছিলো ।
এবারও আওয়ামীলীগকে রাজনীতির সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আরো একটা ঐতিহাসিক ভুল করে বসলো।
জিয়াউর রহমান যদি ১০ বছর দেশ চালাতে পারতেন, এই দেশ সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া বানানো লাগতো না। বরং এতোদিনে ওরাই আমাদের মতো হতে চাইতো।
আওয়ামীলীগ আর ভারত সেইটা হতে দেয় নাই। জিয়ার মতো দুর্নীতি মুক্ত, সৎ একজন স্টেটসম্যানকে এরা তিন বছরের বেশি বাঁচতে দেয় নাই।
আবারও এই দুইটা গর্তই খোলা রাখা হলো।
মানুষের এতোটা সমর্থন থাকলেও রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করা হলো না।
এই ভুলের খেসারত যে ভবিষ্যতে কত বড় হবে, আমি জানি না।
শুধু এটুকু মনে রাখতে হবে, ৭৫ এ ক্যু করার অপরাধে হাসিনা কর্ণেল হুদাকে ৩৫ বছর পর, কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজের হাতে গলা কেটে খুন করেন বলে একটা কথা প্রচলিত আছে।
কর্ণেল হুদার ভাই অভিযোগ করেছিলেন, কর্ণেল হুদা ফাঁসিতে মারা যাননি। তার গলায় সেলাই ছিলো।
যুদ্ধ শেষ মনে করে আওয়ামীলীগকে আপনারা ক্ষমা করে দিলেন।
অথচ মনে রাইখেন, আওয়ামীলীগ এখনও যুদ্ধ শেষ করে নাই।
তারা এইটার প্রতিশোধ নেবে, এমনকি ৩৫ বছর পরে হলেও।
আপনার প্রতিপক্ষ যখন যুদ্ধ শেষ করবে না,আর আপনি যুদ্ধ শেষ মনে করে ক্ষমা করে দিয়ে চলে যেতে নিবেন, তখন পিঠে ছুরি খাওয়াটাই আপনার একমাত্র নিয়তি।