Legal Aid Chittagong

Legal Aid Chittagong We are providing all kinds of legal services.

মানবাধিকার দিবস বনাম  মানবাধিকার।আজ ১০ ডিসেম্বর ৭৫তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে মানুষের অধিকার প্রত...
10/12/2023

মানবাধিকার দিবস বনাম মানবাধিকার।

আজ ১০ ডিসেম্বর ৭৫তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি সার্বজনিন ঘোষনাপত্র স্বাক্ষরিত হয় এবং জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র তাহা মেনে চলার অঙ্গিকার পূর্বক সাক্ষর করে। এই ঘোষনাপত্রে স্বাক্ষর করা রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘের সহযোগীতায় মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমূহের প্রতি সার্বজনিন সম্মান বৃদ্ধি এবং এগুলোর যথাযথ পালন নিশ্চিত করনের লক্ষ্য অর্জনে অঙ্গিকারবদ্ধ। কিন্ত নিতান্ত হতাশার কথা হচ্ছে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনাপত্র স্বাক্ষরের ৭৫ বছর পরেও মানবাধিকারের সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। আজও শক্তিধর দেশ ও সম্পদায় সমূহের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে দূর্বল দেশ ও মানব সম্পদায় সমূহ, এখনও নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নারী ও শিশুদেরকে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে অসংখ্য বনি আদমকে অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনাপত্রের আর্টিকেল ৩ এ বলা হয়েছে “Everyone has the right to life, liberty and security of person (জীবন, স্বাধীনতা এবং দৈহিক নিরাপত্তার অধিকার প্রত্যেক মানুষের আছে)” এই অধিকার হরনের হিসাবের খাতায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুরা যদিও বিগত ৭০ বছরের অধীক কাল হতে তাদের উপর যায়নিষ্ট আগ্রাসন চলে আসছে। গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ইং হতে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক আত্মরক্ষার অধীকারের নামে ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের উপর যে বর্বর গনহত্যা চালিয়ে আসছে তা দেখলে মনে হয় পৃথিবী আজও সেই বর্বর অন্ধকার যুগেই আছে, মুখে যতই মানবাধিকারের বুলি আওডাকনা কেন! ফিলিস্তিনে ইসরাইল যা করছে তা আর্ন্তজাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ, ইরাইলকে যারা নিলজ্জ সহযোগীতা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তারাও যুদ্ধাপরাধ করছে, কিন্তু তিক্ত সত্য কথা হচ্ছে তারাই আজ মানবতার ফেরিওয়ালা! তারাই বিশ্বব্যাপি মানবাধিকারের সবক দিয়ে বেড়ায়। নিতান্ত পরিতাপের বিষয় এই মানবতার ফেরিওয়ালাদের প্রত্যক্ষ মদদে গত ৭ অক্টোবর হতে অদ্য পর্যন্ত ইসরাইল নির্বিচারে বোমা হামলা করে ফিলিস্তিনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ হত্য করেছে যার অর্ধেকেরও বেশি নারী , শিশূ ও বৃদ্ধ। স্কুল, হাসপাতাল ও সরনার্থী শিবিরে বোমা হামলা করে বেসামরিক জনসাধারনের খাদ্য, ঔষধ, পানি, বিদ্যুৎসহ অতি প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ বন্ধ করে দিয়ে ইসরাইল যে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে তার বিচার করবে কে? আর্ন্তজাতিক অপরাধ দমন আদালত? সেতো আর এক ধোঁয়াশার নাম! ইসরাইল ও তার মিত্ররা এই নিষ্ঠর নির্যাতন ও গনহত্যার মাধ্যমে জানন দিলেন যে, তারা মুখে মানবতা ও মানবাধীকারের কথা বললেও তারা আসলে মানবাধিকারের নামে দানবাধিকারে বিশ্বাসী। যদি তাই না হলো গত ৭অক্টোবর হতে অদ্য পর্যন্ত আমরা ফিলিস্তিনে কি দেখছি, ইসরাইল ও তার পশ্চিরা মিত্রদের ক্ষেত্রে কি জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনাপত্রের ৩ ধারায় প্রযোজ্য নয়? ইসরাইলিদের চাইতে ফিলিস্তিনিদের রক্তের দাম কি কম? তা না হলে জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত ইসরাইলকে এমন বর্বর যুদ্ধাপরাধ থেকে নিবৃত করতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলো না কেন? পারবেইবা কি করে আমেরিকার মত শক্তিধর দেশগুলো জাতিসংঘকে পেলেপুষে রাখছে তাদের সকল অপকর্ম, দ্বিমুখী নীতি ও মানবতার নামে ভন্ডমীর বৈধতা দেওয়ার জন্য। নিজ ভূমিতে স্বাধীন ও নিরাপত্তার সহিত বসবাস করা জাতিসংঘের ঘোষিত মানবাধীকার সনদের মৌলিক অধীকার সে অধীকার হতে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ ৭৫ বছর যাবত বঞ্চিত করে রেখেছে ইসরাইল যা মানবাধীকারের সুস্পষ্ট লঙ্গন। আজ আর্ন্তজাতিক মানবাধীকার দিবসে মানবতাবাদী সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের আওয়াজ তোলা সময়ের দাবী যে, ফিলিস্তিনের জনগনের ন্যায্য দাবী পূরণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মধ্যচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করা সে সাথে বিশ্বর সকল নিপিড়িত মানুষের অধীকার আদায়ে জাতিসংঘকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো তা নাহলে মানবতা, মানবাধিকার দিবস এসব কেবল কাগজের ফ্রেমেই বন্ধি থাকবে আলোর মুখ দেখবে না।
এ.এম. দাউদ দীদার
অ্যাডভোকেট
জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম
০১৭৮২২২২৪২২

02/06/2021

জিডি কি কেন কোথায় করবেন?
জিডি কি?
জিডি আমাদের সমাজে বহুল পরিচিত একটি শব্দ, যদিও অনেকের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই। জিডি হলো জেনারেল ডায়েরি অর্থাৎ আপনি যে বিষয়টি থানায় অবহিত করতে চান বা যে বিষয়ে আইনি সহায়তা পেতে চান, সে বিষয়ের সাধারণ বিবরণ, যা দরখাস্ত আকারে থানায় জমা দেওয়া হয়। জিডি হচ্ছে অপরাধ সংঘটনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহয়তা পাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। এটিকে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও বলা যেতে পারে। কেননা, অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনকারী এ থেকে সতর্ক হয়ে অপরাধ সংঘটন করা থেকে বিরত থাকে। এ ছাড়াও জিডি পরবর্তি মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে কাজে লাগতে পারে।
কেন জিডি করবেন?
কোন মূল্যবান জিনিস পত্র হারানো গেলে যেমন- দলিলাদি, সার্টিফিকেট, লাইসেন্স, পাসপোর্ট, মূল্যবান রশিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট কার্ড, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ইত্যাদি। অথবা কোন প্রকার হুমকি পেলে বা হুমকির আশংকা থাকলে কিংবা কেউ নিখোঁজ হলেও জিডি করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয়না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। জিডি করার কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নতুন করে হারানো কাগজ তুলতে হলেও জিডির কপির প্রয়োজন হয়। নানা কারণেই থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করার প্রয়োজন হতে পারে। অনেকের ধারণা শুধু কেউ ভয়ভীতি বা হুমকি দিলেই জিডি করর প্রয়োজন হয়। আসলে তা সঠিক নয়। যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো ব্যক্তি থানায় জিডি করতে পারেন। কিন্তু জিডি করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন জিডি মানে মামলা আসলে তা ঠিক নয়।
কোথায়,কিভাবে করবেন?
কোথায় কিভাবে জিডি করতে হবে এ নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যান। সাধারনত থানায় জিডি করতে হয় তবে কোর্টেও জিডি করা যায়। থানায় অথবা কোর্টে যেখানেই জিডি করা হোক ঘটনাস্থলকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয় অর্থাৎ যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশংকা রয়েছে সে স্থানের বিস্তারিত লিখতে হবে। আশঙ্কার কারণ, যার জন্য আশঙ্কা করা হচ্ছে বা যে বা যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের নাম, ঠিকানা, হুমকির স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কিছু হারিয়ে গেলে সেটির বিস্তারিত বিবরণ এবং সম্ভব হলে তার নমুনা কপি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবেন। তবে জিডিতে এমন কিছু দেওয়া যাবেনা যা কোনো মামলার ক্ষেত্রে এজাহার হিসেবে গণ্য হতে পারে। সবশেষে জিডিকরীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে দিতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিকার মামলাবাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হারে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেড়ে চলছে যৌন হ...
11/12/2020

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিকার মামলা

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হারে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেড়ে চলছে যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ, অপহরণের ঘটনা। এগুলোর মধ্যে কিছু ঘটনা জনসম্মুখে আসলেও বেশির ভাগ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায় লোকলজ্জার কারণে। এসব ঘটনায় নির্যাতিতদের আইনি সুবিধার্থে ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রনয়ন করে। ২০১৩ সালে সে আইনকে সংশোধন করে আরো কঠোর করা হয়। যারা আইনি প্রতিকার চাইতে কোথায় যেতে হবে, কার কাছে যেতে হবে সে সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না, তারা কিভাবে আইনি সুবিধা পাবেন তাদের জন্য বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো।
নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত অপরাধসমূহঃ
বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০১৩ অনুযায়ী এ আইনের অন্তর্ভুক্ত অপরাধসমূহ হচ্ছে- দহনকারী বা ক্ষয়কারী, নারী পাচার, শিশু পাচার, নারী ও শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌন নিপীড়ন, যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি, ধর্ষণের ফলে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান।
থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াঃ
উপরে বর্ণিত যে কোনো ঘটনার শিকার হলে আপনার সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করুন। আপনার বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাহার হিসেবে গণ্য করলে তিনি ঘটনাটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী ফরমে লিপিবদ্ধ করবেন এবং আসামী গ্রেপ্তার পূর্বক বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে প্রেরণ করবেন। আসামী গ্রেপ্তার না হলে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারাধীন আদালতে আত্মসমর্পন করতে পারে।এখতিয়ারাধীন আদালত মামলা গ্রহণ করলে ঐ মামলার আসামিদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য তারিখ ধার্য করবেন। এবং পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠাবেন। অতপর নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি বিচারের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করে মামলার বাদী ও অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে বলবে এবং ধারাবাহিকভাবে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আদালতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াঃ
যদি কোনো কারণে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি গ্রহণ করতে অসম্মতি প্রকাশ করেন, তাহলে সরাসরি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারী ব্যক্তি প্রথমে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমনে নিযুক্ত নারী ও শিশু পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে প্রত্যয়ন ও সত্যায়নের মাধ্যমে মামলা করতে হবে। আবেদনটি বিচারকের সামনে উপস্থাপনের সময় অভিযোগকারীকে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দী দিতে হবে। আদালত অভিযোগকারীর জবানবন্দি শোনার পর মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন।
আইনজীবী নিয়োগঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলায় বাদীকে নিজস্ব কোনো আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা অনুযায়ী তিনি সরকার পক্ষে আইনজীবী পাওয়ার অধিকারী। যদি বাদী আইনজীবী নিয়োগ দিতে চান তাহলে সেই আইনজীবী সরকারি আইনজীবীর অধীনে কাজ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া আইনজীবীকে কোনো ফিস দেওয়ার বিধান নেই।
বিচার প্রক্রিয়াঃ
এই আইনের বিধান মতে দেশের প্রতিটি জেলায় নূনতম একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থাকবে। এই আইনে ট্রাইব্যুনাল রুদ্ধদ্বার কক্ষেও বিচার পরিচালনা করতে পারেন। কোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বা স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করলে বিচারক শুধু মামলার দুই পক্ষকে এবং তাদের নিয়োজিত আইনজীবীদেরকে নিয়ে বিচার কার্য পরিচালনা করতে পারেন। অন্যথায় বিধান মোতাবেক বিচার কার্য পরিচালিত হবে।
বিচারের মেয়াদকালঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত আইন ২০১৩ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার কার্য শেষ করবেন। যদি ট্রাইব্যুনাল ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কারণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করবেন এবং একটি অনুলিপি সরকারকেও দিবেন। এছাড়া পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট কারণ উল্লখপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করবেন। দাখিলকৃত প্রতিবেদন সমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মূল্যায়িত হওয়ার পর নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপত্তা হেফাজতঃ
এই আইনের অধীনে বিচার চলাকালীন সময়ে ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করেন কোনো নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা প্রয়োজনীয়তা রয়ছে, তাহলে ট্রাইব্যুনাল ঐ নারী বা শিশুকে কারাগারের বাইরেও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা অনুমোদিত স্থানে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারেন। তাছাড়া অভিযুক্তকে সুচিকিৎসার জন্যও নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারে ট্রাইব্যুনাল। তবে কোনো নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐ নারী বা শিশুর মতামত গ্রহণ ও বিবেচনা করার নির্দেশনা রয়েছে।
মামলার তদন্তঃ
অভিযুক্ত আসামী পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করবেন। আসামী গ্রেপ্তার না হলে তদন্তের নির্দেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে তার কারণ ব্যাখ্যা করে সময় শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল ইচ্ছে করলে কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারেন। এই আদেশের দানের সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
আগাম জামিনঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন একটি বিশেষ আইন। এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার বিধান রাখা হয়নি তাই এই বিশেষ আইনে জামিনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না। এই আইনের ১৯(২)(৩) ও (৪) উপধারায় জামিনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির কোনো বিধান ১৯ ধারায় প্রযোজ্য হয়নি যদিও অনেক বাস্তবতার নিরখে বর্তমানে হাইকোর্ট এ ধরনের মামলায় আগাম জামিন দিচ্ছেন।
মামলার শাস্তিঃ
বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ সংশোধিত ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড, এবং অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে ।
লেখক: এম. এ দাউদ দীদার, জর্জ কোর্ট, চট্টগ্রাম। 01816242098

পারিবারিক আদালতে কেন যাবেন?কোন পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ বা অশন্তি দেখা দিয়েছে? আত্মীয় স্বজন বা নিকটজনদের নিয়ে মিমাংসা করার ...
03/09/2020

পারিবারিক আদালতে কেন যাবেন?
কোন পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ বা অশন্তি দেখা দিয়েছে? আত্মীয় স্বজন বা নিকটজনদের নিয়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করুন। যদি এমন হয় যে, কোনোভাবেই বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে পারছেন না, কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তাহলে আপনি পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যই পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এর ধারা ৪ অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসেবে গণ্য হবে। পারিবারিক বিরোধ বলতে সব ধরনের বিরোধকে বোঝায় না। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৫ ধারা অনুযায়ী পারিবারিক আদালত মূলত আইন নির্দেশিত পাঁচটি পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে।
পারিবারিক আদালত যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে
১। বিবাহবিচ্ছেদ:
বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য সর্বদা আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়না। যদি কাবিননামার ১৮ নম্বার কলামে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া না থাকলে তখন স্ত্রীকে আদালতে যেতে হতে পারে।
২। দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার:
স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পক্ষই দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে পারে। কোন বৈধ কারণ ছাড়া বিবাহের কোন পক্ষ যদি নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে অস্বীকার করে অথবা বৈবাহিক দায়িত্ব পালন করতে অবহেলা প্রদর্শন করে তাহলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ পারিবারিক আদালতে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে পারেন।
৩। মোহরানা:
স্বামীর পরিশোধ না করা দেনমোহরের জন্য স্ত্রী মামলা করতে পারেন। তাৎক্ষণিক মোহরানার জন্য যে তারিখে তা দাবি করা হয় এবং অগ্রাহ্য করা হয়, সে তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে এবং বিলম্বে মোহরানার জন্য বিচ্ছেদ ঘটার তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
৪। ভরণপোষণ:
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২(খ) ধারায় বলা হয়েছে স্বামী ২ বছর যাবত স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে অবহেলা করলে অথবা ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবেন। একইভাবে স্বামীকে ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য করতে পারবে। একজন পুরুষ স্ত্রীর পাশাপাশি সন্তানের ভরণপোষণ দিতেও বাধ্য। ছেলে সন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান হলে বিবাহের আগ পর্যন্ত ভরনপোষণ দিতে বাধ্য। তাছাড়া পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩ অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা-মাতার ভরণপোষণ প্রদান করতে ব্যর্থ হলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এর ৫ ধারা অনুসারে অপরাধী বলে গণ্য হবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে। অর্থদন্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত হবে। উল্লেখিত অধীকার সমূহ আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।
৫। সন্তানের অভিভাবকত্ব:
সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং হেফাজত নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরী হলে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারনের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।

পরিশেষে বলা যায় যে, আপোষ মিমাংসা সম্ভব না হলে উল্লখিত দেওয়ানী অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ সমূহ নিষ্পত্তির জন্য অধিকার আদায়ের নিমিত্তে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করুন।

লেখক: এম. এ দাউদ দীদার,
দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর,
নারী ও শিশু কল্যান ফাউন্ডেশন
মোবাইলঃ 01816242098

আইন অনুমোদিত পন্থায় তালাক যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে মুসলিম স্বামী-স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ বা বৈবহিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটাতে ...
22/07/2020

আইন অনুমোদিত পন্থায় তালাক

যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে মুসলিম স্বামী-স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ বা বৈবহিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটাতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই তালাক প্রদানের নিয়ম প্রায় একই। যদি কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া না থাকে তাহলে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযয়ী স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে আদালত থেকে তালাকের আবেদন করতে পারে কিন্তু স্বামীর জন্য এই উপায় কিছুটা সীমিত। তবে বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর করতে হলে আইন অনুমোদিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।
তালাকের নোটিশঃ
তালাকের নোটিশ প্রেরনের ক্ষেত্রে কিছু আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইন অনুমোদিত পন্থায়, যেভাবেই তালাক প্রদান করা হোক না কেন, যে পক্ষ তালাক প্রদান করতে চাইবে, সে পক্ষেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপর পক্ষ অর্থাৎ তালাক গ্রহীতার ঠিকানা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে তালাকের নোটিশ লিখিতভাবে পাঠাতে হবে এবং ঐ নোটিশের একটি কপি অপর পক্ষের নিকটও পাঠাতে হবে। তবে আদালতের মাধ্যমে কোনো তালাকের ডিক্রি হলে সে ডিক্রির সার্টিফাইড কপি চেয়ারম্যান বা মেয়রকে প্রদান করলেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তবে তালাক বা তালাকের নোটিশ প্রদান আইন অনুমোদিত পন্থায় না করলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড কিংবা ১০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান আছে।
চেয়ারম্যান বা মেয়রের দায়িত্বঃ
যে পক্ষই তালাকের নোটিশ প্রদান করুক না কেন, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বা মেয়র নোটিশ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে অবহিত করবেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধি নিয়ে সালিসি পরিষদ গঠন করবেন। সালিসি পরিষদ উভয় পক্ষকে পরপর তিনটি লিখিত নোটিশ পাঠিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করবে।
তালাক কার্যকরের সময়সীমাঃ
নোটিশ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সালিসের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হোক বা নাহোক তালাক কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবেনা।
তালাক প্রত্যাহারঃ
ইসলামী শরিয়াতে তালাক প্রত্যাহারের বিধান না থাকলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তালাক প্রত্যাহারের বিধান রয়েছে। তালাক কার্যকরের সময়সীমা অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে সালিসি পরিষদকে তালাক প্রত্যাহারের নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে তালাক প্রত্যাহার করা যায়।
উল্লেখিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরন করে একটি বৈবাহিক চুক্তির পরিসমাপ্তি করাটাই মূলত তালাক। তালাক কার্যকরের পর তলাকদাতা তালাক রেজিষ্ট্রি করে নিতে পারেন তবে তালাক রেজিষ্ট্রির বাধ্যবাদকতা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে একাধিক মতামত রয়েছে।

লেখক: এম. এ দাউদ দীদার, জর্জ কোর্ট, চট্টগ্রাম। 01816242098

11/07/2020

হলফনামা একটি অতি প্রয়োজনীয় আইনি অনুষঙ্গ

হলফনামা কি?
ইংরেজি affidavit শব্দটির বাংলা পারিভাষিক হচ্ছে হলফনামা। হলফনামা হচ্ছে কোন বিষয় সর্ম্পকে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞ্যানে সে বিষয়ের সত্যতা সর্ম্পকে স্বীকার করা এবং কোন বিষয়ের সত্যতা এবং সমথর্নে লিখিত ঘোষনার মাধ্যমে তা সকলের জ্ঞাতার্থে প্রচার করা।
হলফনামা কখন প্রয়োজন?
বিভিন্ন কাজে হলফনামা সম্পাদনের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচা, বিবাহ কিংবা বিচ্ছেদ, ভুল সংশোধন, মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন কাজে এর প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন দলিল তৈরির কাজেও হলফনামার প্রয়োজনিয়তা রয়েছে। যতাযথ আইনি বিধি-বিধান মেনেই তা সম্পাদন করতে হয়। আসুন, জেনে নিই হলফনামা করতে কী কী মানতে বা করতে হবে।
হলফনামা সম্পাদনে যা করতে হবে?
১। হলফনামাতে হলফকারীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, মা-বাবার নাম, বয়স, জাতীয়তা, পেশা ও ধর্ম উল্লেখ করতে হবে। বর্তমানে হলফনামায় জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দেওয়া আবশ্যক। হলফকারী ব্যক্তি কী কারণে, কী বিষয়ে ও কেন হলফ করছেন, তার পরিপূর্ণ বিবরণ দিতে হবে।
২। হলফনামা কোনো জমিজমা সংক্রন্ত বিষয় নিয়ে হলে অবশ্যয় জমির তফসিল উল্লেখ করতে হবে।
৩। হলফনামা বিবাহ অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, য়স ও পেশা উল্লেখ করতে হবে। বিবাহের তারিখ, ধার্য্যকৃত দেনমোহরের পরিমান এবং কি পরিমান উসুল (পরিশোধ) হয়েছে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কী কারণে তালাক দেওয়া হয়েছে, এর স্পষ্ট কারন উল্লেখ থাকতে হবে। বিবের হলফনামায় স্বামী-স্ত্রী দুজনের স্বাক্ষর আবশ্যক। বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহ বিচ্ছেদের হলফনামা দিচ্ছেন শুধু তিনি স্বাক্ষর করবেন।
৪। যেকোনো হলফনামার ক্ষেত্রে হলফনামা সম্পাদনের তারিখটি অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে।
৫। নাম, বয়স বা অন্য কোন বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে পূর্ব নাম, বয়স বা বিষয় কী ছিল এবং বর্তমান নামে, বয়স বা বিষয়ে কী সংশোধন হয়েছে, তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
৬। হলফকারীকে হলফনামার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষরযুক্ত পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি দিতে হবে।
৭। হলফনামার শেষ অংশে একজন আইনজীবীকে শনাক্তকারী হিসাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনজীবীকে উল্লেখ করতে হবে এই হলফনামা তাঁর সামনে সম্পাদন করা হয়েছে।
৮। সকল প্রকার হলফনামা সম্পাদন করতে হয় ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করতে হয় ৫০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। হলফনামা লেখার পর প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়ন করাতে হয়। আইনের বিধান হচ্ছে যিনি হলফনামাটি সম্পাদন করলেন, তিনি প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে তাঁর হলফনামাটি সম্পর্কে সত্যপাঠ করবেন। তখন প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিক হলফনামাটি যাচাই-বাছাই করে এর ওপর স্বাক্ষর দেবেন এবং একটি বিশেষ সরকারি সিলমোহর ব্যবহার করে এতে ক্রমিক নম্বর বসাবেন। হলফনামাটির একটি ছায়লিপি তিনি সংরক্ষন করবেন।
৯। জমি কেনাবেচার দলিলের সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সময় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে হলফনামা দিতে হয় । মামলা-মোকদ্দমায় ক্ষেত্রবিশেষ আদালতে হলফনামা দাখিল করতে হয়। বিশেষ করে দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রতিকার চাইলে অথবা এর জবাব প্রদান কালিন সময়ে বিচারপ্রার্থীকে দরখাস্তের বা জবাবের সঙ্গে হলফনামা প্রদান করতে হয় ।

লেখক: এম. এ দাউদ দীদার, জর্জ কোর্ট, চট্টগ্রাম।

Address

Chittagong
4202

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Legal Aid Chittagong posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category