23/03/2022
কমিশনে ও ভিজিটে দলিল রেজিস্ট্রি পদ্ধতি
কমিশনে দলিল রেজিস্ট্রি পদ্ধতিঃ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ৩৮ (১) ধারায় উল্লিখিত কারণে দলিলের দাতা বা পক্ষগণ কর্তৃক সম্পাদিত দলিল গ্রহীতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করে দাতার সম্পাদন স্বীকৃতি গ্রহনের জন্য উক্ত দলিলের গ্রহীতা কর্তৃক আবেদন গ্রহনের পর সাব-রেজিস্ট্রার নিজে অথবা তাঁর অফিসের অফিস সহকারী বা মোহরার কর্তৃক আবেদনে বর্ণিত ঠিকানায় গিয়ে দলিল দাতার স্বীকৃতি আদায় ও রেজিস্ট্রির জন্য দলিল গ্রহণ করাকে কমিশনে দলিল রেজিস্ট্রি বলা হয়। উক্ত আইনের ৩৮(২) ধারায় সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক আবেদনকৃত ঠিকানায় গমণ অথবা তাঁর কর্মচারী বরাবর কমিশন ইস্যু করার কথা বলা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৩৮(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণকে রেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে উপস্থিত হইতে হইবে না, যথা-
(ক) যিনি শারীরিক অক্ষমতা জনিত কারণে ঝুঁকি বা মারাত্মক অসুবিধা ব্যতীত রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হইতে অসমর্থ; বা
(খ) যিনি দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কারাগারে আটক; এবং
(গ) যিনি আইন দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হইতে অব্যাহতি পাইয়াছেন, এবং যাহাকে অতঃপর অন্তর্ভুক্ত পরবর্তী বিধান না থাকিলে ব্যক্তিগতভাবে রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হইতে হইত।
এই ধারার টীকায় বলা হয়েছে,
(১) আদালতে উপস্থিত হইতে আইন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ হইলেনঃ
(ক) পর্দানশীল স্ত্রীলোক, এবং
(খ) আদালতে উপস্থিতি হইতে সরকার কর্তৃক অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ। (দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১৩২, ১৩৩ দ্রষ্টব্য)
(২) সরকারি কর্মকর্তাগণও উপস্থিতি হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। (রেজিস্ট্রেশন আইনের ৮৮ ধারা দ্রষ্টব্য)
কমিশনের ফিসঃ রেজিস্ট্রেশন বিধিমালার ৩২ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে যে, রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩৩ ঈর উপ-ধারা (৩), বা ৩৮ এর উপধারা (২) এর অধীন, কমিশন ইস্যুর সকল আবেদনের সহিত ধার্য ফি বা ফিসাদিসহ নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা বা কমিশনার কর্তৃক দাবিযোগ্য ভ্রমনভাতার অর্থ জমা করিতে হইবে, এবং বিধি ৭ দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে (পরিশিষ্ট ১, ফরম নং ৯) লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। আবেদনকারী কর্তৃক উক্ত ফি বা ফিসাদি এবং ভ্রমনভাতা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কোন কমিশন ইস্যু করা যাইবে না।
২ ডিসেম্বর, ২০১৪ খিস্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন এস .আর. ও. নং ২৭৭-আইন/২০১৪ এর মাধ্যমে কমিশনের ফি পূনঃনির্ধারিত হয়, যা ১৬ নভেম্বর, ২০১৪ খিস্টাব্দ তারিখে কার্যকর করা হয়।
উক্ত প্রজ্ঞাপনের ‘ট’ নং ক্রমিকে বলা হয়েছে যে-
(১) রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ধারা ৩৩ এর উপধারা (৩) এর বিধান অনুযায়ী কোন কমিশন ইস্যু করিবার পূর্বে অথবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সম্পাদন স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কি না তদবিষয়ে সাক্ষ্যাদি গ্রহণের নিমিত্ত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যক্তির আবাসস্থলে বা জেলখানায় গমনের পূর্বে, এবং ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী কোন কমিশন ইস্যু করিবার পূর্বে, অথবা কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করিবার জন্য নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যক্তির আবাসস্থলে বা জেলখানায় গমনের পূর্বে, উপস্থিতি হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের বাবদ নিম্নবর্ণিত ফি প্রদেয়ঃ-
(ক) শারীরিক দৌর্বল্যের কারণে রেহাইপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, জেলখানায় আবদ্ধ প্রত্যেক ব্যক্তি এবং আইনানুগভাবে আদালতে উপস্থিত হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রত্যেক পর্দানশীল মহিলার জন্য- ২০০ (দুইশত) টাকা;
(খ) পর্দানশীল মহিলা ব্যতীত আইনানুগভাবে আদালতে উপস্থিত হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য- ১০০ (একশত) টাকা পরিশোধ করিতে হইবে।
(২) উক্ত ফিসের অতিরিক্ত হিসেবে রেজিস্ট্রি অফিস হইতে কমিশন স্থলের দূরত্ব এক কিলোমিটারের অধিক হইলে ভ্রমণভাতা বাবদ নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাকে ভ্রমণের প্রকৃত দূরত্বের হিসাবে কিলোমিটার প্রতি ১০ (দশ) টাকা হারে, তবে সর্বনিম্ন ১০০ (একশত) টাকা এবং সঙ্গীয় পিয়নকে ৬ (ছয়) টাকা হারে, তবে সর্বনিম্ন ৬০ (ষাট) টাকা প্রদান করিতে হইবে। এখানে উল্লেখ্য যে, ‘ট(১)’ এবং ‘ট(২)’ দফার ফি যথাক্রমে k(1), k(2) নামেও পরিচিত।
তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল পৌর শহরে গাড়ি বা যানবাহন ভাড়ায় পাওয়া যায়, সেই সকল স্থানে ভ্রমণকৃত দূরত্ব এক কিলোমিটারের কম বা বেশি হউক না কেন, নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাকে ভ্রমণ ভাতার পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ভাড়ার হারে যাতায়াত ভাতা প্রদান করিতে হইবে। সরকারের অনুমোদনক্রমে মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধন ভাড়ার হার নির্ধারণ করিবেন।
দ্রষ্টব্যঃ (১) কমিশনে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বাবদ ‘ট(২)’ দফায় উল্লিখিত ভ্রমণভাতা সমবায় সমিতিসমূহ, উহাদের কর্মকর্তা বা সদস্যগণের নিকট হইতে আদায়যোগ্য। (মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র নং ১০ তারিখঃ ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ।)
(২) যানবাহন ভাড়ার সাময়িক হার নিম্নরূপঃ-
(অ) মেট্রোপলিটন শহরে ৫০০ (পাঁচশত) টাকা।
(আ) বিভাগীয় শহরে ৪০০ (চারশত) টাকা।
(ই) জেলা শহরে ৩০০ টাকা এবং
(ঈ) দেশের অন্যান্য পৌর এলাকায় ২০০ (দুইশত) টাকা।
‘ট’ দফার ফিস সংক্রান্ত টীকাঃ
(১) যদি একই পক্ষ কর্তৃক সম্পাদিত একই দলিলের দুই বা ততোধিক প্রতিলিপি একই সময়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করা হয়, তবে প্রতিটি প্রতিলিপির বাবদ একটি সাধারণ ফিস প্রদেয়, কিন্তু ঐ একই দলিলের যতগুলি প্রতিলিপিই রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করা হউক না কেন ‘ট’ দফার অধীন পরিশোধযোগ্য বাড়তি বা অতিরিক্ত ফিস শুধুমাত্র একটি দলিলের ক্ষেত্রেই ধার্য হইবে।
(২) যেক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই লেনদেন সম্পর্কিত একই প্রকারের এক বা একাধিক দলিল সম্পাদনপূর্বক উহা বা উহাদের প্রতিলিপি নিবন্ধনের জন্য একই সময়ে দাখিল করেন এবং যেক্ষেত্রে নিবন্ধন কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৩৩ বা ধারা ৩৮ এর অধীন উল্লিখিত দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে একই সময়ে পরীক্ষা করেন বা ক্ষেত্রমত, পরীক্ষা করিবার জন্য কমিশন ইস্যু করেন, সেইক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার উপস্থিতির জন্য উক্ত ব্যক্তিগণের বাবদ ‘ট’ দফায় নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বা, ক্