Your Honor Law Academy

Your Honor Law Academy A centre of excellence in legal education and legal awareness.

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় জাতি
17/10/2025

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় জাতি

26/10/2024

চাকরিতে প্রবেশে কেবল যোগ্যতার বাঁধা থাকতে পারে, বয়সের নয়। মানে চাকরি হওয়া নির্ভর করবে যোগ্যতা থাকা না থাকার উপর; বয়স কমবেশি হওয়ার উপর নয়!

23/06/2024
১০০% ঠিক
27/05/2024

১০০% ঠিক

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে...
02/05/2024

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে...

শিক্ষাছুটিতে গিয়ে না ফেরায় চাকরি হারাচ্ছেন যুগ্ন জেলা জজ কানিজ ফাতেমা
18/06/2023

শিক্ষাছুটিতে গিয়ে না ফেরায় চাকরি হারাচ্ছেন যুগ্ন জেলা জজ কানিজ ফাতেমা

শিক্ষা ছুটি নিয়ে তিন বছর একমাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন যুগ্ম জেলা জজ কানিজ ফাতেমা। ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ার....

৯ মাসের শিশুর রীটে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়--কর্মস্থল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল সহ সকল জনবহুল স্থান...
27/04/2023

৯ মাসের শিশুর রীটে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়--
কর্মস্থল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল সহ সকল জনবহুল স্থানে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর নিরাপদ পরিবেশ সম্বলিত ব্রেস্ট ফিডিং রুম ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদী ও তার মায়ের এর দায়ের করা রীটের শুনানী শেষে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসাইন এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের রীট বেঞ্চ আজ রবিবার এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে বিগত ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নিরাপদে মায়ের বুকের দুধ পানের পরিবেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে ৯ মাস বয়সের ছোট্ট শিশু উমাইর বিন সাদী। সাথে ছিল তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
জনস্বার্থে করা এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৭ অক্টোবর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার মো. দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। উক্ত রুলে দেশের সব শপিংমল, কর্মক্ষেত্র, এয়ারপোর্ট, বাসস্টপ, রেলওয়ে স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে জনপরিসরে (পাবলিক প্লেসে) ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে নীতিমালা তৈরি করতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। মন্ত্রী পরিষদ সচিব, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিবসহ ১৭ জন বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিগত ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রাহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ সারা দেশের কলকারখানা ও মিলগুলোতে ২ মাসের মধ্যে ব্রেস্টফিডিং রুম স্থাপনের নির্দেশ দেয়।

রিট আবেদনে কর্মক্ষেত্র, শপিংমল, এয়ারপোর্ট, বাসস্টপ, রেলওয়ে স্টেশনসহ জনপরিসরে (পাবলিক প্লেসে) ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, এমন পরিবেশে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করতে হবে যেখানে কোন মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে কোনো অস্বস্তি বোধ করবে না বা যৌন হয়রানির শিকার হবে না। সেটা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে নয় মাস বয়সী কোনো শিশু এই প্রথম পিটিশনার হয়েছে। ছোট্ট শিশুর রিট পিটিশনার হতে আদালতের অনুমতিও নিতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর রিটের পূর্ণাঙ্গ শুনানী শেষে আজ রবিবার হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। এই রিটে শিশুটির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শিশুটির মা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ও শিশুটির নানা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী রাশিদুল হাসানসহ সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য আইনজীবীবৃন্দ।

এই রীটের ফলশ্রতিতে দেশের সবগুলো বিমান বন্দর, রেল স্টেশনসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ব্রেস্টফিডিং রুম স্থাপিত হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, উমাইর মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল কক্সবাজারে। সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো শেষে ঢাকায় ফেরার পথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়। সেখানে অনিবার্য কারণে ফ্লাইট কয়েক ঘন্টার বিলম্ব হয়। কিন্তু সেখানেই বিপদে পড়ে সে। প্রচুর ক্ষুধায় কান্না জুড়ে দেয়। শিশুটির কান্না থামাতে মা বুকের দুধ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু তার মা এই শিশুটিকে দুধ খাওয়ানোর কোনো পরিবেশই পাচ্ছিলেন না। পরে ঢাকায় এসে, শিশু উমাইরকে নিয়ে তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন।
রায়ের পর প্রতক্রিয়ায় মা আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন,“মা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্ট এ রীট পিটিশন দাখিলের প্রেক্ষিতে রুল, নির্দেশনাসমূহ এবং চূড়ান্ত শুনানীর পরে আজকে মহামান্য হাইকোর্ট এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করলেন। আমাদের সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অন্যতম মৌলিক অধিকার জীবনের অধিকার বিষয়ে এই রায় নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রায়। একাধিক ব্রেস্টফিডিং রুম ইতোমধ্যেই স্থাপিত হয়েছে। এই যুগান্তকারী রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে, কর্মজীবী নারীরা শিশুদের কর্মক্ষেত্রে রেখেই স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারবেন। আমি মনে করি, কর্মস্থল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল সহ সকল জনবহুল স্থানে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর নিরাপদ পরিবেশ সম্বলিত ব্রেস্ট ফিডিং রুম ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের জন্য একটা উদাহরণ সৃষ্টি করবে যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণীয় হবে।

০২.০৪.২০২৩

11/04/2023

জেনে নিন বিদেশ থেকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদনের পদ্ধতি

বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ ভাগ্য পরিবর্তন কিংবা পেশাগত কারণে অথবা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে অনেকেই আবার দীর্ঘস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বিদেশে। বিদেশে থাকায় যখন তখন চাইলেই দেশে আসতে পারেন না। নানা জটিলতার কারণে প্রয়োজনের সময় দেশে আসতে পারছেন না বলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেমে থাকে। যেমন আপনার কিছু সম্পত্তি রয়েছে দেশে কিন্তু আপনি এই জমি বিদেশে বসে দেখাশুনা বা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না, আবার ধরুন আপনি বেশ কিছু টাকা পান কারো নিকট, আপনি এমতাবস্থায় একটি মামলা দায়ের করতে চান কিন্তু বিদেশে থেকে কি সম্ভব? উত্তর হচ্ছে সম্ভব। দেশে আসতে না পারলেও প্রয়োজনীয় এসব কাজ সম্পাদনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন করা যেতে পারে। যে কোন কাজ আপনার অনুপস্থিতিতে সম্পাদনের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদনের মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন অ্যাডভোকেট রিনা পারভীন মিমি।

আসুন প্রথমে জেনে নিই পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কি?

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন ২০১২ এর ধারা ২ অনুযায়ী পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অর্থ এমন কোন দলিল যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি তার পক্ষে উক্ত দলিল বর্ণিত কার্য সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ক্ষমতা অর্পণ করেন। বাংলায় পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কে বলা হয় “মোক্তারনামা” এর শব্দের অর্থ “প্রতিনিধি” “মোক্তারনামা” শব্দের অভিধানিক অর্থ হচ্ছে, “মোক্তার নিয়োগপত্র” বা প্রতিনিধি নিয়োগপত্র। মোক্তারনামা দুই প্রকারের যথা (১) আম-মোক্তারনামা, (২) খাস-মোক্তারনামা। আম-মোক্তার নামার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং খাস মোক্তারনামার মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অবশ্যই লিখিত হতে হবে যেহেতু এটি একটি আইনগত দলিল। বিদেশে থাকাবস্থায় কোন ব্যক্তি কাউকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দিতে চাইলে প্রথমেই তাকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সর্ম্পকে জানতে হবে। এই ক্ষেত্রে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে যিনি পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সর্ম্পকে ভাল জানেন বা এমন কাউকে দিয়ে সঠিকভাবে লিখে দূতাবাসের মাধ্যমে দলিলটি সম্পাদন ও প্রত্যায়ন করে পাঠাতে হবে। যে দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের কনসলারের সম্মুখে দাতা স্বাক্ষর করবেন এবং উক্ত কনসলার কর্তৃক তা সত্যায়িত হবার পর পাওয়ার দাতা পাওয়ারটি গ্রহীতা বা আম-মোক্তার বরাবরে পাঠিয়ে দিবেন। উক্ত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি পাওয়ার পর বাংলাদেশের ফরেন মিনিষ্ট্রি (পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়) সহকারী সচিব, কনসলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে।

পরবর্তীতে তা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিদেশে সম্পাদিত আম-মোক্তার নামা দলিলে প্রদত্ত বর্নিত সম্পত্তিতে সরকারী স্বার্থ জড়িত আছে কিনা তার তথ্যসহ সকল দাগের তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর চিঠি প্রেরণ করবেন এবং আরেকটি চিঠি প্রেরণ করবেন সহকারী সচিব (কনস্যুলার) পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বরাবর। সকল তথ্যসমগ্র জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে আসার পর ২,০০০/- টাকার চালান প্রদানের পর নিদিষ্ট একটি সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ইহা ৫০০ এর অপর পাতায় ৫০০ টাকার দুটি স্ট্যাম্প লাগাবে। তখন অত্র পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল নম্বর এবং এই নম্বর দিয়েই পাওয়ার অব এ্যাটর্নির সঠিকভাবে হয়েছে কিনা যাচাই বাছাই করা থাকে।

এখন কথা হলো ফরেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কি রেজিস্ট্রেশন করতে হয়?

অনেকেই এটা ভেবে থাকেন বা ভূল করেন যে, ফরেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশন করতে হয় না কারণ এটি অনেকগুলো সরকারি অফিস হতে নানাভাবে যাচাই বাছাই হয়ে আসে। তবে এ ধারনাটা একেবারেই ভুল। ফরেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পাওয়ার অব এ্যাটর্নিটি স্ট্যাম্পযুক্ত হওয়ার পর এটি রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার ১নং বহিতে নথিভূক্ত করে সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকেই মনে করেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি একবার দিয়ে দিলে তা আর বাতিল করা যায় না বা সরল মনে এটা বিশ্বাস করেন এটি বাতিল অযোগ্য বা এটার অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। তবে এটি একটি ভুল ধারনা। পাওয়ার দাতা বা পাওয়ার গ্রহীতা চাইলেই এটার অবসান করতে পারবেন। পাওয়ার দাতা এটার অবসান ঘটাতে চাইলে উক্ত পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে পাওয়ার গ্রহীতাকে রেজিস্ট্রার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবেন। আবার পাওয়ার গ্রহীতাও পাওয়ার দাতাকে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক পাওয়ার অব এ্যাটর্নির দায়িত্ব পরিত্যাগ করতে পারবেন।

লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সহযোগী সম্পাদক, ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।

11/04/2023

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব এটর্নি দেবার সরকারী গেজেট
৫৯৭২ বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ২৩, ২০১৫

তফসিল ক
ফরম-৩
বাংলাদেশের বাহিরে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রমাণীকরণ
[বিধি ১০(১) দ্রষ্টব্য]

[ দ্রষ্টব্য : (১) নিম্নবর্ণিত ২ ও ৩ নং অনুচ্ছেদে লিপিবদ্ধ বিবরণের পার্শ্বে যথাক্রমে-পাওয়ারদাতা ও গ্রহীতার পাসপোর্ট আকারের সাদা পট-ভূমিতে সম্প্রতি তোলা রঙিন ছবি সংযুক্তক্রমে উভয় ছবি পাওয়ারদাতা কর্তৃক শনাক্তপূর্বক তাহাকে ছবির উপর আড়া-আড়িভাবে নিজ দস্তখত ও টিপসহি প্রদান করিতে হইবে, যদি তিনি নাম স্বাক্ষর করিতে অক্ষম হন, তাহা হইলে তাহার পরিচিত কোন ব্যক্তি দ্বারা তাহার নাম বকলমে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে;

(২) যে সকল অনুচ্ছেদের প্রয়োজন হইবে না উহার/উহাদের পার্শ্বে ‘প্রযোজ্য নয়’ উল্লেখ করিতে হইবে;

(৩) দলিলে স্থাবর সম্পত্তির বর্ণনা থাকিলে উহা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতার পক্ষে পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক হলফনামা প্রদান করিতে হইবে;

(৪) “পরিচিতি” অর্থ রেজিস্ট্রেশন আইনের section 2 sub-section (1) এ প্রদত্ত “addition” এর সংজ্ঞা অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচিতি। ]

ক্রমিক নম্বর ………………………. তারিখ ……………………..
সংশ্লিষ্ট নোটারি পাবলিক, বা কোন কোর্ট, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশের কনসাল বা ভাইস কনসাল বা সরকারের প্রতিনিধির নাম ও ঠিকানা :
ক্রমিক নম্বর …………………… বহি নম্বর ………………… দলিল নম্বর …………….. সন …………… তারিখ …………..…

সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার এর কার্যালয়ের নাম ও ঠিকানা :
দলিলের প্রকৃতি মৌজা থানা/উপজেলা জেলা পণমূল্য (যদি থাকে)

১। সম্পাদনের তারিখ :

২। পাওয়ারদাতা/দাতাগণের নাম ও পরিচিতি :

৩। পাওয়ার গ্রহীতা/গ্রহীতাগণের নাম ও পরিচিতি :

৪। পাওয়ারদাতা/দাতাগণের পাসপোর্টের বিবরণ :

৫। পাওয়ারদাতা কর্তৃক প্রদেয় বিশেষ, সাধারণ বা অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতা প্রদানের উদ্দেশ্য ও প্রদেয়
ক্ষমতার বিবরণ এবং পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক সম্পাদিতব্য দায়িত্ব ও কার্যাবলীর বিস্তারিত বিবরণ :

৬। এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলটি বিধি মোতাবেক পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক বাংলাদেশের কোন উপযুক্ত
সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট রেজিস্ট্রির নিমিত্ত দাখিল করিবার ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত বিবরণ :

৭। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিক্রয়ের চুক্তি বা ঋণ গ্রহণের বিনিময়ে বন্ধক প্রদান সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রদত্ত
হইলে উহার বিবরণসহ সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা; অথবা ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন ক্ষমতা প্রদত্ত
হইলে, উহার বিবরণ ও উহাতে সৃজিতব্য প্লটের বা নির্মিতব্য ভবনের বিস্তারিত বিবরণসহ সম্পত্তির
তফসিল বর্ণনা; অথবা ভূমি উন্নয়ন ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন ক্ষমতা প্রদত্ত
হইলে উহার বিবরণসহ সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা; (প্রত্যেক ক্ষেত্রেই রেজিস্ট্রেশন আইনের section
52A তে বিধৃত বিষয়াদি সন্নিবেশ করিতে হইবে); অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা :

৮। ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন ক্ষমতা প্রদত্ত হইলে, প্রস্তাবিত ভূমি উন্নয়ন কার্য সম্পন্নের পর উহা হইতে অর্জিত যে অংশ পাওয়ারগ্রহীতা প্লট, ইমারত বা স্পেস আকারে বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবেন উহার বিবরণ :

৯। আইনের ধারা ২(২) অনুসারে সম্পত্তির পণমূল্য;

১০। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতা কর্তৃক গৃহীত কোন অর্থ, যদি থাকে, বা কোন আর্থিক লেনদেন, যদি হয়, তবে উহার বিবরণ;

১১। আর্থিক দায় ও দায়িত্ব, যদি থাকে, উহার বিবরণ :

১২। প্রদেয় ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দিষ্ট মেয়াদ, যদি থাকে :

১৩। পাওয়ারদাতা একাধিক হইলে তাহারা যৌথভাবে, বা পৃথকভাবে ক্ষমতা প্রদান করিয়াছেন কিনা
উহার বিবরণ; এবং নিযুক্ত অ্যাটর্নি একাধিক হইলে তাহারা যৌথভাবে, বা পৃথকভাবে অথবা যৌথ ও
পৃথক উভয়ভাবেই কার্য সম্পাদনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়াছেন কিনা উহার বিবরণ:

১৪। পক্ষগণের অভিপ্রায় প্রতিফলনের নিমিত্ত অন্য কোন তথ্য বা বিশেষ শর্ত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে :

১৫। পাওয়ারদাতা/দাতাগণের নাম ও স্বাক্ষর :

১৬। এডভোকেট বা সলিসিটর বা দলিল মুসাবিদাকারীর নাম, পরিচিতি ও স্বাক্ষর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) :

১৭। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতার পক্ষে প্রদত্ত হলফনামা :

১৮। উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবিযুক্ত সিল ও তারিখসহ স্বাক্ষর :

বি:দ্র: বিদেশ হতে সম্পাদিত পাওয়ার অব এটর্নি বা আম-মোক্তারনামা দলিলের দাতার পরিবর্তে গ্রহীতা কর্তৃক হলফনামা প্রদান করতে হয়। ডিসি অফিস থেকে স্ট্যম্প ফি প্রদানের পর সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট দলিল ‍উপস্থাপনের সময় ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামা সংযুক্ত করে দাখিল করতে হবে।

11/04/2023

যেভাবে করবেন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি

বিদেশে অবস্থানের কারণে যারা বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে যেতে পারছে না, তাদের অনেকেরই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে পাওয়ার অব অ্যাাটর্নি দলিল সম্পাদন করতে হয়। ধরা যাক আপনার কিছু সম্পত্তি রয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু আপনি এই জমি দেখাশোনা কিংবা বিক্রির জন্য নিজে বাংলাদেশ যেতে পারছেন না। সেই ক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছা করলে যে কাউকে জায়গাজমি দেখাশোনার দায়িত্ব দিতে পারেন। শুধু জমিজমা-সংক্রান্ত নয়, যেকোনো কাজ আপনার অনুপস্থিতিতে সম্পাদনের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। কিন্তু কীভাবে এই ক্ষমতা দেবেন।

আইনগত ভিত্তি

বাংলাদেশে ১৮৮২ সালের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অ্যাক্ট রহিত করে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২’ নামে নতুন আইন প্রবর্তন হয়েছে। এই আইন এসআরও নং ১৯৭-আইন/২০১৩, ২৬ জুন, ২০১৩ দ্বারা ১ জুলাই, ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর হয়। এই আইনে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সংজ্ঞায় বলা হয়, ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অর্থ এমন কোনো দলিল, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তার পক্ষে উক্ত দলিলে বর্ণিত কার্য-সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা অর্পণ করেন।’ প্রায় অধিকাংশ বিষয়ের ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা অর্পণ করা গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি করা যায় না। যেমন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ৪ অনুযায়ী উইল সম্পাদন বা দাতা কর্তৃক সম্পাদিত উইল নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দাখিলকরণ, দত্তক গ্রহণের ক্ষমতাপত্র সম্পাদন, দান ও হেবা সম্পর্কিত ঘোষণা সম্পাদন, ট্রাস্ট দলিল সম্পাদন এবং সরকার কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা ঘোষিত অন্য প্রকার দলিল সম্পাদন।

যা করণীয়

কোনো দায়িত্ব বা ক্ষমতা অর্পণের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা করতে হলে, তা হতে হবে লিখিত। এটি একটি আইনগত দলিল। এই দলিলের মাধ্যমে যাকে মোক্তার নিয়োগ করা হলো, তিনি মূল মালিকের পক্ষে কোনো সম্পত্তির দান, বিক্রি, হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ, বন্ধক রাখা, খাজনা আদায় ইত্যাদি কাজ করে থাকেন। এতে মোক্তারনামা দলিলে এসব বিষয়ে শর্ত স্পষ্ট করে লেখা থাকতে হবে যে, তাঁকে কী কী ক্ষমতা দেওয়া হলো; অর্থাৎ তিনি কী কী করতে পারবেন কিংবা পারবেন না।
সাধারণত মোক্তারনামা দুই প্রকার। একটি হচ্ছে সাধারণ মোক্তারনামা, যাকে আমমোক্তারনামা বলা হয়। আরেকটি হচ্ছে খাস মোক্তারনামা, যা বিশেষ ধরনের। সাধারণত মোক্তারনামা মোক্তারদাতার পক্ষে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়। কিন্তু বিশেষ মোক্তারনামা সম্পাদন করতে হয় নির্দিষ্ট কাজের জন্য। সাধারণত যেসব আমমোক্তারনামা জমিজমা হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত নয়, সেগুলো নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নোটারি করে নিতে হয়। কিন্তু জমিজমা-সংক্রান্ত মোক্তারনামা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করাতে হবে। না হলে এর আইনগত ভিত্তি থাকে না। এই রেজিস্ট্রেশন মোক্তারনামা দলিলটি সম্পাদনের তিন মাসের মধ্যে করতে হবে। কোনো মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার ক্ষেত্রেও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়োগ করা যায়। এ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি লাগবে। দলিলের ধরন বুঝে নির্দিষ্ট টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তা সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন দলিল কত টাকার স্ট্যাম্পে করতে হবে, তা জেনে নিতে হবে। বর্তমানে যেকোনো দলিল হস্তান্তর, ক্রয়-বিক্রয়, উন্নয়ন ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিদেশে অবস্থান করলে

বিদেশে বসবাস বা অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে চাইলে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’-সংক্রান্ত বাংলাদেশের আইন-কানুন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। এই ক্ষেত্রে আইনটি সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানেন এমন কাউকে দিয়ে সঠিকভাবে লিখে দূতাবাসের মাধ্যমে দলিলটি সম্পাদন ও প্রত্যয়ন করে পাঠাতে হবে। এর পর পাওয়ার অব অ্যাটর্নিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব কর্তৃক সত্যায়ন বা প্রমাণীকরণ করাতে হবে। এর পর তা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে জমা দিয়ে নির্দিষ্ট মূল্যের স্ট্যাম্প লাগাতে হবে। এই পর্যায়ে ওই দলিলের একটি ক্রমিক নম্বর ও তারিখ নির্দিষ্ট হবে। এই নম্বরটিই ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের নম্বর।

সতর্কতা

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে ব্যক্তিকে মোক্তার করা হচ্ছে, তিনি কতটা বিশ্বস্ত, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। অনেক সময় দেখা যায়, মোক্তার নিজের নামে কিংবা প্রতারণামূলকভাবে জায়গাজমি হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন। তখন মূল মালিক বিপদে পড়েন। এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও কম হয় না। তাই দলিলের শর্তগুলো স্পষ্ট করে লেখা থাকতে হবে। যাকে ক্ষমতা দেওয়া হলো, তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখাও মালিকের দায়িত্ব।

মোক্তারনামা বাতিল

যেকোনো সময় সাধারণ মোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল বা প্রত্যাহার করা যায়। বাতিল করতে চাইলে যে অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল, সেই জেলার রেজিস্ট্রার বরাবর মোক্তারনামা বাতিলের আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া নোটারির মাধ্যমে করা মোক্তারনামা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমেই বাতিল করতে হবে। সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অবসানের ক্ষেত্রে দাতা ক্ষমতা গ্রহীতাকে রেজিস্টার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবে। তা ছাড়া ক্ষমতা গ্রহীতাও একইভাবে মালিককে ৩০ দিনের নোটিশ সাপেক্ষে অ্যাটর্নির দায়িত্ব ত্যাগ করতে পারে।
এ ছাড়া মোক্তারনামা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হলে মেয়াদ শেষে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। একইভাবে নির্দিষ্ট কাজের জন্য করা মোক্তারনামা ওই কাজের সমাপ্তিতে বাতিল বলে গণ্য হবে। যৌথ ক্ষমতার মোক্তারনামার পক্ষদের একজনের মৃত্যুতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। মোক্তারনামা দাতা কোনো মোক্তারনামা বাতিল করতে ইচ্ছুক হলে যে রেজিস্ট্রি অফিসে মোক্তারনামাটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল, সে স্থানের জেলা রেজিস্ট্রারের বরাবরে মোক্তারনামা রদের জন্য আবেদন করতে হবে। মোক্তারনামার ওপর তিনি ‘রদ করা’ কথাটি লিখে দেবেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই রেজিস্ট্রার তা সংশোধন করবেন। রেজিস্ট্রি অফিসার মোক্তারনামা বাতিলের আবেদন পাওয়ার পর, তার জেলার সব রেজিস্ট্রার অফিসে বা অন্য কোনো জেলার সদর অফিসকে বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। নোটিশ জারির ডাক টিকিটের খরচ আবেদনকারীকেই বহন করতে হবে।

বিরোধ নিষ্পত্তি

রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থেকে উদ্ভূত যেকোনো বিরোধের ক্ষেত্রে পক্ষগণ প্রথমে নিজেদের মধ্যে আপসে মীমাংসার চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হলে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তৎপরতা চালাবেন। এখানেও ব্যর্থ হলে পক্ষদ্বয় আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। কোনো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অবসান বা বাতিলের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধি ১২ ও ১৩ অনুযায়ী পাওয়ারদাতা বা গ্রহীতা বা তাদের বৈধ প্রতিনিধি বা অন্য কোনো স্বার্থযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক বিধিমালায় উল্লিখিত তফসিল ‘খ’-তে নির্ধারিত ফরম মোতাবেক একটি নোটিশ, সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের ১ নম্বর বইয়ে নথিভূক্ত করার জন্য উপযুক্ত কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে দাখিল করবেন।

লেখক:
আফতাব আহমেদ
ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, নিউইয়র্ক প্রবাসী

11/04/2023

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কিভাবে করবেন
by Counsels Law Partners

কোন ব্যাক্তি কে আইনগত ভাবে যে ক্ষমতা প্রদান করা হয় তাকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বলে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অর্থ এমন দলিল যাহার মাধ্যমে কোন ব্যাক্তি তাহার পক্ষে উক্ত দলিলে বর্ণিত কার্য-সম্পাদনের জন্য আইনানুগভেবে অন্য কোন ব্যাক্তির নিকট অর্পণ করেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামার মাধ্যমে কোন ব্যাক্তিকে ক্ষমতা প্রদান করা যার মাধ্যমে কোন কাজ সম্পাদন করে দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে ক্ষমতা প্রদান করা। বিভিন্ন কারনে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন করতে হয়। আপনার কিছু সম্পত্তি রয়েছে বাংলাদেশে । আপনার এই সম্পত্তি বিক্রয় করা প্রয়োজন কিন্তু আপনি বাংলাদেশে আসতে পারছেন না । এমন ক্ষেত্রে আপনি চাইলে যে কোন ব্যাক্তিকে আপনার সম্পত্তি বিক্রয় বা দেখা-শুনার দায়িত্ব দিতে পারেন। শুধুমাত্র জমিজমার ক্ষেত্রে নয় যে কোন বিষয় আপনার অনুপস্থিতে কাজ সম্পাদন ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করা কখন প্রয়োজন

বাংলাদেশের অনেক মানুষ বিভিন্ন পেশায় ও কর্মের প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকেন। কিন্তু তাদের অনেক সম্পত্তি, ভূমি,ফ্ল্যাট,বাড়ী-ঘর বাংলাদেশে রয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা,ভূমির উন্নয়ন,হস্তান্তর,বিক্রয়,বন্ধক দান ,ভূমির উপর ফ্ল্যাটবাড়ী কিংবা আবাসিক বা বাণিকজ্যিক ভবন নির্মাণে বা নির্মানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার এর সাথে চুক্তি , জমিজমা নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনা সহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে আসার প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।

তখন চাইলে আপনি অন্য কোন ব্যাক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে আপনার অনুপস্থিতে কাজ সম্পাদন ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন। এক্ষত্রে আপনি বাংলাদেশে না এসে আপনার প্রয়োজনী কাজ সম্পাদন করতে পারছেন এবং বিদেশে অবস্থান করে আপনি অন্য কোন ব্যাক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ক্ষমাতা অর্পন করতে পারছেন।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রকারভেদ:

ব্যাবহারিক দিক থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা মোক্তারনামাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথা-

খাস মোক্তারনামা ( Special Power of Attorey)
যে মোক্তারনাম দ্বারা বিষেশভাবে নিদ্দিষ্ট কোন কার্য করিবার ক্ষ্মতা অর্পণ করা হয় উহাকে খাস মোক্তারনামা বলা হয়। খাস মোক্তারনামা দিয়ে একটি মাত্র লেনদে সংক্রান্ত এক বা একাধিক দলিলের নিবন্ধন লাভের জন্য ক্ষমতা প্রদান করা হয়। খাস মোক্তারনামায় একটি মাত্র ক্ষমঅতা প্রদান করা হয় । অর্থাৎ একটি খাস মোক্তারনামার বলে একটি দলিল রেজিস্ট্রী করতে পারবে তবে একটি মাত্র বিষয় সম্পর্ন করতে গিয়ে যদি একাধিক দলিল রেজিস্ট্রী করার প্রয়োজন হয় তাহলে ,ঐ খাস মোক্তারনামা দ্বারাই সম্পর্ন করা যাবে।

সাধারন মোক্তারনামা বা আমমোক্তারনামা (General Power of Attorey)
আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয় এবং খাসমোক্তারনামার মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়। স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী, যে দলিল দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে হাজির হয়ে কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয় তাকে ‘আমমোক্তারনামা দলিল’ বলে।

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি:

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অর্থ স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন বা ঋন গ্রহনের বিপরীতে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক গ্রহনের জন্য কোন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অথবা স্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে পণ মূ্ল্য গ্রহণের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন সহ উক্ত দলিল সম্পাদনের ক্ষমতা প্রদান সম্পর্কি কোন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কিভাবে করবেন

আপনি যে দায়িত্ব বা ক্ষমাতা অর্পন করবেন তা হতে হবে লিখিত। কাকে মোক্তার নিয়োগ করা হলো সে যে সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা,ভূমির উন্নয়ন,হস্তান্তর,বিক্রয়, খাজনা,বন্ধক দান করবেন তা লিখতে হবে। মোক্তার কি করতে পারবে এবং কি করতে পারবে না স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। পাওয়ার দাতা ও গ্রহিতার ছবি সংযুক্ত করা ,তার ক্ষমতার মেয়াদ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ক্ষমতার মেয়াদ বৃদ্ধি উল্লেখ লিখতে হবে ।

ভূমি ব্যবস্থাপনা,ভূমির উন্নয়ন,হস্তান্তর,বিক্রয়,বন্ধকদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ক্ষমতা অর্পন ক্ষত্রে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন আইন,১৯০৮ এর আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন,২০১২ এর ৬( ১) ধারায় বলা হয়েছে রেজিস্ট্রেশন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন ,এই আইনের অধীন সম্পাদিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির জন্য যে সকল বিবরণ অন্তভূর্ক্ত করতে হবে-

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা অর্পনের ক্ষেত্রে ইহাতে নিম্নবর্ণিত সকল বিষয় বা প্রয়োজনীয় বিষয়ের বিবরণ অন্তভূর্ক্ত করতে হবে যথা-

১। পাওয়ারদাতার উদ্দেশ্য ।

২। পাওয়ার গ্রহীতার দায়িত্ব,ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা ।

৩। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির নিদ্দিষ্ট মেয়াদ।

৪। প্রদিয় ক্ষমতা শর্তাধীন হলে সেই শর্তের সুস্পষ্ট বিবরণ ।

৫। ক্ষমতা প্রদানের বা নির্বাহের বিবরণ, যদি ইহা একাধিক ব্যাক্তি কর্তৃক যৌথভাবে বা পৃথক ভাবে সম্পাদিত হয় ।

৬। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ের বিবরণ।

৭। স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ

৮। রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ৫২ (ক) তে বিধৃত বিষয়ের বিবরণ , প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

পাওয়ার দাতা বিদেশে অবস্থান করলে

বিদেশে বসবাস বা অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে চাইলে দূতাবাসের মাধ্যমে দলিল সম্পন্ন ও প্রত্যয়ন করে পাঠাতে হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা সত্যায়িত করাতে হবে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন,২০১২ এর ৬(৬) ধারায় বলা হয়েছে বিদেশে সম্পাদিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল বাংলাদেশে প্রথম প্রবেশের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রমাণীকরণ অন্তে উহা কালেক্টর কর্তৃক প্রয়োজনীয়রুপে স্ট্যাম্পযুক্ত করিতে হইবে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি স্ট্যাম্পযুক্ত হওয়ার পর উহার একটি কপি কালেক্টর কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করবেন। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার ১নং বহিতে নথিভুক্ত করিয়া সংরক্ষের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

যে সকল ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া যায় না

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা,২০১৫ এর বিধি ৪ অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত বিষয়ে ক্ষমতা অর্পণ করা যায় না যথা-

১। উইল সম্পাদন বা দাতা কর্তৃক সম্পাদিত উইল নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দাখিলকরণ

২। দত্তক গ্রহণের ক্ষমতাপত্র বা দাতা কর্তৃক সম্পাদিত দত্তক গ্রহণের ক্ষমতাপত্র নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দাখিল করন

৩। দান ও হেবা সম্পর্কিত ঘোষনা

৪। ট্রাস্ট দলিল সম্পাদন এবং

৫। সরকার কর্তৃক, সাধারন বা বিশেষ আদেশ দ্বারা ,ঘোষিত অন্য প্রকার দলিল বা কার্য সম্পাদন।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করণ

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল বাতিল করা যায়। যে কোন সময় সাধারন মোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া নোটারির মাধ্যমে করা মোক্তারনামা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমেই বাতিল করতে হবে। সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অবসানের ক্ষেত্রে দাতা ক্ষমতা গ্রহীতাকে রেজিস্টার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবে। তা ছাড়া ক্ষমতা গ্রহীতাও একইভাবে মালিককে ৩০ দিনের নোটিশ সাপেক্ষে অ্যাটর্নির দায়িত্ব ত্যাগ করতে পারে।

আবার যে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে সেই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল বাতিল করার আবেদন করতে হবে। আবার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নিদ্দিষ্ট সময় এর জন্য করা হলে সেই নিদ্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ার পর তা বাতিল বলে গন্য হবে। যদি কোন নিদ্দিষ্ট কাজ সম্প্রাদনের জন্য ক্ষমতা অর্পণ করা হয় সেই নিদ্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের পর তা বাতিল বলে গন্য হবে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইনে বিরোধ নিষ্পত্তি

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন,২০১২ এর ১৩(১) ধারায় বলা হয়েছে

১। রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অধিনে কোন বিরোধ দেখা দিলে পক্ষগণ প্রথমে নিজেদের মাঝে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবেন।

২। পক্ষগণ তাদের নিজেদের মাঝে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে না পারলে একপক্ষ বিবাদমান বিষয়টি একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থাকারীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য অপরপক্ষকে নোটিশ প্রদান করবেন।

৩। নোটিশ প্রাপক উক্ত নোটিশ পাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ প্রেরকের সাথে যৌথভাবে মধ্যস্থাকারীর নিয়োগ করবেন

৪। পক্ষগণ কর্তৃক নিয়োগকৃত মধ্যস্থাকারীর সিদ্ধান্ত পক্ষগণসহ তাহাদের মাধ্যমে বা দাবীদার যে কোন ব্যাক্তির উপর বাধ্যকর হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোণ পক্ষের আপত্তি উত্থাপনের অধিকার থাকবে না ।

মধ্যস্থাকারীর করণীয়
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা,২০১৫ এর বিধি ১৬ বলা হয়েছে “পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন,২০১২” এর ১৩(৩) ধারার অধিনে নিযুক্ত মধ্যস্থাকারী-

১। নিয়োগপ্রাপ্তির ২ (দুই) সপ্তাহের মধ্যে সকল বিবদমান পক্ষের উপস্থিতে কোন নিরপেক্ষ স্থানে একটি মীমাংসা বৈঠকের উদ্যেগ গ্রহন করবেন এবং বিরোধের বিষয়বস্ত সম্পর্কে অনুসন্ধান করবেন ।

২। উপরোক্ত বৈঠক অনুষ্ঠানের পর পরবর্তী ৪(চার) সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগনের সহিত যৌথভাবে বা প্রয়োজনে পৃথকভাবে যোগাযোগ করে মৌখিক শুনানী এবং দালিলিক প্রমানাদির ভিত্তিতে বিরোধ মীমাংসার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

৩। উল্লেখিত কার্যক্রম সফল হয়ার পর পর্বরতী ২ (দুই) সপ্তাহের মধ্যে বিরোধের প্রকৃতি অনুসারে মীমাংসা সম্পর্কিত একটি লিখিত খসড়া প্রস্তুত করবেন,যাহাতে বিরোধ মীমাংসার নিয়ম ও শর্তসমূহ উল্লেখ থাক।

৪। প্রস্তুতকৃ্ত মীমাংসা চুক্তি অবিলম্বে বিবদ্মান পক্ষগণকে প্রদান করবেন এবং মীমাংসার চুক্তি বা দলিলে বর্ণিত শর্তসমূহ পক্ষগণ চূরান্ত করবেন।

৫। মীমাংসার চুক্তিপত্র দলিল বা দলিল আইনের স্ট্যাম্প অনুসারে স্ট্যাম্পযুক্ত করিয়া উহাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ অ সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণপূর্বক নিজ স্বাক্ষর প্রদান করবেন এবং রেজিস্ট্রেষন আইনের অধীনে নির্ধারিত সময়ের মাঝে নিবন্ধনের উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের অফিসে দাখিল করবেন।

৬। এই বিধির অধীন পরিচালিত মীমাংসা কার্যক্রমের ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট যে কোন পক্ষ বিবদমান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে ।

৭। এই বিধি মোতাবেক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহন ব্যতীত উপযুক্ত কোন আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তির মামলা দায়ের করতে পারবেন না।

11/04/2023

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করার বিধান:

বিদেশে বসবাস বা অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি দেশে বসবাসরত কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা দিতে চাইলে তাকে বিদেশি নোটারী পাবলিক, আদালতের বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যদূত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন করতে হবে এবং তার দ্বারা মোক্তারনামাটি প্রত্যয়ন করে পাঠাতে হবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা সত্যায়িত করাতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে

রহিম মিয়ার দুই ছেলে দেশের বাইরে থাকে। বছরখানেক আগে তাকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গেছে ছেলেরা। কিন্তু দেশে রয়েছে বেশকিছু সহায়-সম্পত্তি। সেগুলো দেখাশোনার তেমন কেউ নেই। তাই ঠিক করলেন দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়কে জায়গা-জমি দেখাশোনার দায়িত্ব দেবেন। কিন্তু রহিম মিয়া বিদেশ থেকে কীভাবে এসব সহায়-সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব দেবেন? রহিম মিয়ার এখন যা করতে হবে তা হচ্ছে তার আত্মীয় বরাবর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা সম্পাদন করতে হবে।

আমমোক্তারনামা একটি আইনগত দলিল। স্ট্যাম্প অ্যাক্ট ১৮৯৯-এর ২(২১) উপ-ধারা অনুসারে যে দলিল দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে হাজির হয়ে যেসব কার্যাবলি সম্পাদন করার ক্ষমতা দেয়া হয় তাকে আমমোক্তারনামা দলিল বলে। যাকে আমমোক্তার নিয়োগ করা হলো তিনি মূল মালিকের পক্ষে সম্পত্তির দান, বিক্রি, হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ, বন্ধক রাখা, খাজনা প্রদান ইত্যাদি করে থাকেন। তবে আমমোক্তারনামা দলিলে স্পষ্ট করে লেখা থাকতে হবে যাকে পাওয়ার বা ক্ষমতা দেয়া হলো তিনি কী কী করতে পারবেন, কিংবা কি কি করতে পারবেন না।

সাধারণত আমমোক্তারনামা দুই প্রকার।

ক) জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা সাধারণ আমমোক্তারনামা

খ) স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা খাস আমমোক্তারনামা

যে মোক্তারনামা মোক্তার দাতার পক্ষে জমি-জমা ক্রয়, বিক্রয় রক্ষণা-বেক্ষণ, চুক্তিপত্র করা, মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করাসহ যাবতীয় কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দেয়া হয় তাকে জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বলে।

অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট বা কোনো বিশেষ কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দিয়ে তৈরি মোক্তার নামাকে স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বলে। কিন্তু জমি-জমা বিক্রিসংক্রান্ত মোক্তারনামা অবশ্যই রেজিস্ট্রি করাতে হবে, নইলে এর আইনগত ভিত্তি থাকে না। তবে মোক্তারনামা দাতার সম্পত্তি যেখানে থাকুক দাতা যেখানে বসবাস করেন সে জেলার রেজিস্ট্রি বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করতে হবে। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩২ ও ৩৩ ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট বলা আছে।

২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করা হয়েছে। যে কোনো দলিল হস্তান্তর, ক্রয়, বিক্রয়, উন্নয়ন এবং ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের ছবি দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু যেগুলো জমি-জমা হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত নয়, শুধু দেখাশোনা, খাজনা প্রদান করা কিংবা মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করা সেগুলো নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নোটারি করে নিলেই হয়।

তবে ২০১২ সালের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন অনুসারে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দুই প্রকার। (১) প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং (২) অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে, বিক্রয়চুক্তি সম্পাদনের বা ঋণ নেয়ার বিপরীতে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক প্রদানের জন্য প্রদত্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নিকে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বলে। এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে মোক্তারের ক্ষমতা মূল মালিকের মতোই থাকে। অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে মোক্তারের মৃতু্য হলে বা আইনগতভাবে দলিল সম্পাদনে অক্ষম হলে ওই মৃত বা অক্ষম মোক্তারের বৈধ ওয়ারিশ বা স্থলবর্তীর ওপর দলিল থেকে সৃষ্ট দায় বা অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্পিত হবে। উলেস্নখ্য, অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বিদেশে বসবাস বা অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি দেশে বসবাসরত কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা দিতে চাইলে তাকে বিদেশি নোটারী পাবলিক, আদালতের বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যদূত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির সম্মুখে মোক্তারনামা সম্পাদন করতে হবে এবং তার দ্বারা মোক্তারনামাটি প্রত্যয়ন করে পাঠাতে হবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা সত্যায়িত করাতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে।

সহজ করে বলতে গেলে মোক্তারনামা বিদেশ থেকে মুসাবিদা করে দেশে পাঠানো যায় আবার দেশে কোনো আইনজীবী দিয়েও ইংরেজিতে মুসাবিদা করিয়ে বিদেশে আমমোক্তারদাতার কাছে পাঠানো যায়। সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র দেশে থাকে বলে দেশ থেকে ড্রাফটিং করে বিদেশে পাঠানো ভালো। দ্বিতীয়ত, যে দেশে ফরেন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদিত হবে সে দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসু্যলারের সামনে দাতা স্বাক্ষর করবেন এবং কনসু্যলার কর্তৃক তা সত্যায়িত হওয়ার পর আমমোক্তারদাতা তার ক্ষমতা আমমোক্তার গ্রহীতা বা অ্যাটর্নির বরাবরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবেন। তৃতীয়ত, আমমোক্তার সাহেব ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাওয়ার পর তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সহকারী সচিব বা কনসু্যলার থেকে সত্যায়িত করে নেবেন। চতুর্থত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমমোক্তারনামাটি সত্যায়িত হওয়ার পর তা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে জমা দিয়ে ২০০ টাকার স্ট্যাম্প লাগাতে হবে এবং সেখানে আমমোক্তারনামা দলিলের ওপর একটি নাম্বার ও তারিখ পড়বে। এরকম বিদেশি আমমোক্তারনামার সঠিকতা যাচাই করতে হলে জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কার্যালয়ে গিয়ে ওই নাম্বার দিয়ে যাচাই করে নেয়া যায়।

তবে মোক্তারনামা যে কোনো সময় বাতিল করা যায়। যে রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল সে জেলায় রেজিস্ট্রারের বরাবর মোক্তারনামা বাতিলের জন্য আবেদন করতে হবে। রেজিস্ট্রার এটি রদ করবেন নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং তার জেলার রেজিস্ট্রি অফিসে নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। যদি রেজিস্ট্রি করা না হয়ে থাকে তাহলে আমমোক্তার বাতিল ঘোষণা করে নির্ধারিত স্ট্যাম্পে দলিল সম্পন্ন করা যেতে পারে। তবে স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত মোক্তারনামা স্বার্থপূর্ণ বা পরিত্যক্ত না হওয়া পর্যন্ত বাতিল করা যায় না। এ ছাড়া মোক্তারনামা বাতিলের পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ-

ক) মোক্তারনামা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হলে মেয়াদ শেষে আপনা-আপনিই বাতিল বলে গণ্য হবে;

খ) মোক্তারনামা নির্দিষ্ট কোনো কার্যের জন্য করা হলে ওই কাজ সমাপ্তিতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে;

গ) যৌথ ক্ষমতার মোক্তারনামার পক্ষদের একজনের মৃতু্যতে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

লেখক :
অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Your Honor Law Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Your Honor Law Academy:

Share

Category