Your Honor Law Academy

Your Honor Law Academy A centre of excellence in legal education and legal awareness.

05/06/2026

আইনজীবীগণ পেশাগত বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন কিনা এই নিয়ে বাংলাদেশে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে। ভারতেও আইনজীবীদের বিজ্ঞাপন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু আপনাদের মনে থাকবে শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহনের মামলা হয় ৩/৪ বছর আগে । এক পর্যায়ে আরিয়ান খান জামিন পেলে তার আইনজীবী শাহরুখ খান এবং পুরো এসোসিয়েটসদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করলেন। আমার তখন সেটি দেখে মনে হয়েছে " This is the biggest advertisement for any Lawyer"....

তো ভাবলাম যে একটু ঘেটে দেখি অন্যান্য দেশে কি অবস্থা।

বাংলাদেশের আইনটি আমরা প্রায় সবাই জানি। তবুও উল্লেখ করছিঃ-

"বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ক্যাননস অফ প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট (অধ্যায় ২) অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন দেওয়া এবং কাজ চাওয়া (soliciting) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একজন আইনজীবী সার্কুলার, বিজ্ঞাপন, দালাল (tout), ব্যক্তিগত যোগাযোগ, বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে কোনো সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন না" ।

মূল আইন: "The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972" (১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির ৪৬ নম্বর আদেশ)। এই আইনের ক্ষমতাবলে আইনজীবীদের জন্য যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে, তার নাম "Canons of Professional Conduct and Etiquette" (পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধি)।

অন্যান্য দেশে কি অবস্থাঃ

ভারতঃ

ভারতের আইনি কাঠামোও প্রায় একই রকম। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) রুলস এর ৩৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী, আইনজীবীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করা নিষিদ্ধ। ২০০৮ সালের একটি সংশোধনীর পর BCI নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করে, যার ফলে আইনজীবীদের একটি সাধারণ ওয়েবসাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে, এই ওয়েবসাইটে কেবল বস্তুনিষ্ঠ তথ্য থাকতে পারে: আইনজীবীর নাম, যোগাযোগের বিবরণ, পেশাগত যোগ্যতা এবং অনুশীলনের ক্ষেত্র। মক্কেলদের প্রশংসাপত্র (testimonials) এবং দক্ষতার ব্যক্তিগত দাবির প্রচার এখনও নিষিদ্ধ।

২. উদারপন্থী নিয়ন্ত্রণ (যুক্তরাষ্ট্র)

আইন পেশায় বিজ্ঞাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে উদার বাজার, যেখানে একে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়।

যুগান্তকারী পরিবর্তন: ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবীদের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ ছিল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী মামলা বেটস বনাম স্টেট বার অফ অ্যারিজোনা (Bates v. State Bar of Arizona) এর মাধ্যমে এই দৃশ্যপট বদলে যায়, যেখানে আদালত রায় দেয় যে আইনজীবীদের বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা প্রথম সংশোধনীর (First Amendment) বাণিজ্যিক বাকস্বাধীনতার সুরক্ষার লঙ্ঘন।

বর্তমান নিয়ম: আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন (ABA) মডেল রুলস অফ প্রফেশনাল কন্ডাক্ট (বিধি ৭.১ থেকে ৭.৩) এর অধীনে, আইনজীবীরা বিলবোর্ড, টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডাকযোগের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

বিধিনিষেধ: প্রাথমিক বিধিনিষেধ হলো বিজ্ঞাপনটি কোনোভাবেই "মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর" হতে পারবে না। এছাড়া, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে বিপন্ন বা দুর্বল ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি, তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে কাজ চাওয়া (যাকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে "অ্যাম্বুলেন্স চেজিং" বলা হয়) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

মধ্যম পন্থা (যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন)

এই বিচারব্যবস্থাগুলো কঠোর নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে একটি নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পেশার মর্যাদার সাথে ভোক্তাদের তথ্য পাওয়ার অধিকারের ভারসাম্য বজায় রাখা।

যুক্তরাজ্যঃ

যুক্তরাজ্যে সলিসিটর এবং ব্যারিস্টার উভয়কেই বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি (SRA) এবং বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (BSB) এর শর্ত হলো যে, যেকোনো ধরনের প্রচার হতে হবে নির্ভুল, বিভ্রান্তিকর নয় এবং অনধিকারপ্রবেশমূলক নয়। আইনজীবীরা সরাসরি বা টেলিফোনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে অযাচিতভাবে নিজেদের সেবা প্রদানের প্রস্তাব দিতে পারেন না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নঃ

ঐতিহাসিকভাবে, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো সিভিল ল (Civil Law) দেশগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার মতোই কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে, একক বাজার তৈরি এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইইউ (EU) নির্দেশনার কারণে এই দেশগুলো তাদের নীতি শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইনজীবীরা সাধারণত বিজ্ঞাপন দিতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে সেই বিজ্ঞাপন হবে মর্যাদাপূর্ণ, সত্যনিষ্ঠ এবং তা মক্কেলের গোপনীয়তা ও পেশাগত গোপনীয়তাকে সম্মান করবে।

আমার একটি পর্যবেক্ষণ হল বাংলাদেশের আইনটি ১৯৭২ সালের। তখন যোগযোগ মাধ্যম ছিল অত্যন্ত সীমিত । আবার আজকের দিনের মত সোশ্যাল মিডিয়া কারো কল্পনাতেও ছিলনা। ফলে আইনটি নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিৎ। বাংলাদেশের মত দেশে নিয়ন্ত্রণ মুখী আইনই হবে কারণ এখানে জনসাধারণের শিক্ষা সচেতনতা একেবারেই কম। ভারতেও একারনে কঠোর নিয়ন্ত্রন রাখা হয়েছে । নিয়ন্ত্রণ তুলে নিলে অনেক মানুষ বিভ্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু একই সাথে এই সময়ের বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে একটি Progressive Regulation আনা যায়। কারণ Artificial Intelligence এবং Social Media এ আইনটিকে অনেকক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করছে। যেমন শাহরুখ খানের আইনজীবীর পোস্ট করা ছবিটি।
©Asaduzzaman Asad

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় জাতি
17/10/2025

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় জাতি

26/10/2024

চাকরিতে প্রবেশে কেবল যোগ্যতার বাঁধা থাকতে পারে, বয়সের নয়। মানে চাকরি হওয়া নির্ভর করবে যোগ্যতা থাকা না থাকার উপর; বয়স কমবেশি হওয়ার উপর নয়!

23/06/2024
১০০% ঠিক
27/05/2024

১০০% ঠিক

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে...
02/05/2024

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে...

শিক্ষাছুটিতে গিয়ে না ফেরায় চাকরি হারাচ্ছেন যুগ্ন জেলা জজ কানিজ ফাতেমা
18/06/2023

শিক্ষাছুটিতে গিয়ে না ফেরায় চাকরি হারাচ্ছেন যুগ্ন জেলা জজ কানিজ ফাতেমা

শিক্ষা ছুটি নিয়ে তিন বছর একমাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন যুগ্ম জেলা জজ কানিজ ফাতেমা। ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ার....

৯ মাসের শিশুর রীটে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়--কর্মস্থল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল সহ সকল জনবহুল স্থান...
27/04/2023

৯ মাসের শিশুর রীটে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়--
কর্মস্থল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল সহ সকল জনবহুল স্থানে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর নিরাপদ পরিবেশ সম্বলিত ব্রেস্ট ফিডিং রুম ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদী ও তার মায়ের এর দায়ের করা রীটের শুনানী শেষে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসাইন এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের রীট বেঞ্চ আজ রবিবার এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে বিগত ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নিরাপদে মায়ের বুকের দুধ পানের পরিবেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে ৯ মাস বয়সের ছোট্ট শিশু উমাইর বিন সাদী। সাথে ছিল তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
জনস্বার্থে করা এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৭ অক্টোবর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার মো. দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। উক্ত রুলে দেশের সব শপিংমল, কর্মক্ষেত্র, এয়ারপোর্ট, বাসস্টপ, রেলওয়ে স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে জনপরিসরে (পাবলিক প্লেসে) ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে নীতিমালা তৈরি করতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। মন্ত্রী পরিষদ সচিব, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিবসহ ১৭ জন বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিগত ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রাহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ সারা দেশের কলকারখানা ও মিলগুলোতে ২ মাসের মধ্যে ব্রেস্টফিডিং রুম স্থাপনের নির্দেশ দেয়।

রিট আবেদনে কর্মক্ষেত্র, শপিংমল, এয়ারপোর্ট, বাসস্টপ, রেলওয়ে স্টেশনসহ জনপরিসরে (পাবলিক প্লেসে) ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, এমন পরিবেশে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করতে হবে যেখানে কোন মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে কোনো অস্বস্তি বোধ করবে না বা যৌন হয়রানির শিকার হবে না। সেটা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে নয় মাস বয়সী কোনো শিশু এই প্রথম পিটিশনার হয়েছে। ছোট্ট শিশুর রিট পিটিশনার হতে আদালতের অনুমতিও নিতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর রিটের পূর্ণাঙ্গ শুনানী শেষে আজ রবিবার হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। এই রিটে শিশুটির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শিশুটির মা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ও শিশুটির নানা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী রাশিদুল হাসানসহ সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য আইনজীবীবৃন্দ।

এই রীটের ফলশ্রতিতে দেশের সবগুলো বিমান বন্দর, রেল স্টেশনসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ব্রেস্টফিডিং রুম স্থাপিত হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, উমাইর মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল কক্সবাজারে। সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো শেষে ঢাকায় ফেরার পথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়। সেখানে অনিবার্য কারণে ফ্লাইট কয়েক ঘন্টার বিলম্ব হয়। কিন্তু সেখানেই বিপদে পড়ে সে। প্রচুর ক্ষুধায় কান্না জুড়ে দেয়। শিশুটির কান্না থামাতে মা বুকের দুধ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু তার মা এই শিশুটিকে দুধ খাওয়ানোর কোনো পরিবেশই পাচ্ছিলেন না। পরে ঢাকায় এসে, শিশু উমাইরকে নিয়ে তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন।
রায়ের পর প্রতক্রিয়ায় মা আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন,“মা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্ট এ রীট পিটিশন দাখিলের প্রেক্ষিতে রুল, নির্দেশনাসমূহ এবং চূড়ান্ত শুনানীর পরে আজকে মহামান্য হাইকোর্ট এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করলেন। আমাদের সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অন্যতম মৌলিক অধিকার জীবনের অধিকার বিষয়ে এই রায় নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রায়। একাধিক ব্রেস্টফিডিং রুম ইতোমধ্যেই স্থাপিত হয়েছে। এই যুগান্তকারী রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে, কর্মজীবী নারীরা শিশুদের কর্মক্ষেত্রে রেখেই স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারবেন। আমি মনে করি, কর্মস্থল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শপিংমল সহ সকল জনবহুল স্থানে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর নিরাপদ পরিবেশ সম্বলিত ব্রেস্ট ফিডিং রুম ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের জন্য একটা উদাহরণ সৃষ্টি করবে যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণীয় হবে।

০২.০৪.২০২৩

11/04/2023

জেনে নিন বিদেশ থেকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদনের পদ্ধতি

বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ ভাগ্য পরিবর্তন কিংবা পেশাগত কারণে অথবা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে অনেকেই আবার দীর্ঘস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বিদেশে। বিদেশে থাকায় যখন তখন চাইলেই দেশে আসতে পারেন না। নানা জটিলতার কারণে প্রয়োজনের সময় দেশে আসতে পারছেন না বলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেমে থাকে। যেমন আপনার কিছু সম্পত্তি রয়েছে দেশে কিন্তু আপনি এই জমি বিদেশে বসে দেখাশুনা বা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না, আবার ধরুন আপনি বেশ কিছু টাকা পান কারো নিকট, আপনি এমতাবস্থায় একটি মামলা দায়ের করতে চান কিন্তু বিদেশে থেকে কি সম্ভব? উত্তর হচ্ছে সম্ভব। দেশে আসতে না পারলেও প্রয়োজনীয় এসব কাজ সম্পাদনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন করা যেতে পারে। যে কোন কাজ আপনার অনুপস্থিতিতে সম্পাদনের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সম্পাদনের মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন অ্যাডভোকেট রিনা পারভীন মিমি।

আসুন প্রথমে জেনে নিই পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কি?

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি আইন ২০১২ এর ধারা ২ অনুযায়ী পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অর্থ এমন কোন দলিল যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি তার পক্ষে উক্ত দলিল বর্ণিত কার্য সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ক্ষমতা অর্পণ করেন। বাংলায় পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কে বলা হয় “মোক্তারনামা” এর শব্দের অর্থ “প্রতিনিধি” “মোক্তারনামা” শব্দের অভিধানিক অর্থ হচ্ছে, “মোক্তার নিয়োগপত্র” বা প্রতিনিধি নিয়োগপত্র। মোক্তারনামা দুই প্রকারের যথা (১) আম-মোক্তারনামা, (২) খাস-মোক্তারনামা। আম-মোক্তার নামার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং খাস মোক্তারনামার মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অবশ্যই লিখিত হতে হবে যেহেতু এটি একটি আইনগত দলিল। বিদেশে থাকাবস্থায় কোন ব্যক্তি কাউকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দিতে চাইলে প্রথমেই তাকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সর্ম্পকে জানতে হবে। এই ক্ষেত্রে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে যিনি পাওয়ার অব এ্যাটর্নি সর্ম্পকে ভাল জানেন বা এমন কাউকে দিয়ে সঠিকভাবে লিখে দূতাবাসের মাধ্যমে দলিলটি সম্পাদন ও প্রত্যায়ন করে পাঠাতে হবে। যে দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের কনসলারের সম্মুখে দাতা স্বাক্ষর করবেন এবং উক্ত কনসলার কর্তৃক তা সত্যায়িত হবার পর পাওয়ার দাতা পাওয়ারটি গ্রহীতা বা আম-মোক্তার বরাবরে পাঠিয়ে দিবেন। উক্ত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি পাওয়ার পর বাংলাদেশের ফরেন মিনিষ্ট্রি (পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়) সহকারী সচিব, কনসলার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে।

পরবর্তীতে তা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিদেশে সম্পাদিত আম-মোক্তার নামা দলিলে প্রদত্ত বর্নিত সম্পত্তিতে সরকারী স্বার্থ জড়িত আছে কিনা তার তথ্যসহ সকল দাগের তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর চিঠি প্রেরণ করবেন এবং আরেকটি চিঠি প্রেরণ করবেন সহকারী সচিব (কনস্যুলার) পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বরাবর। সকল তথ্যসমগ্র জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে আসার পর ২,০০০/- টাকার চালান প্রদানের পর নিদিষ্ট একটি সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ইহা ৫০০ এর অপর পাতায় ৫০০ টাকার দুটি স্ট্যাম্প লাগাবে। তখন অত্র পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল নম্বর এবং এই নম্বর দিয়েই পাওয়ার অব এ্যাটর্নির সঠিকভাবে হয়েছে কিনা যাচাই বাছাই করা থাকে।

এখন কথা হলো ফরেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি কি রেজিস্ট্রেশন করতে হয়?

অনেকেই এটা ভেবে থাকেন বা ভূল করেন যে, ফরেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশন করতে হয় না কারণ এটি অনেকগুলো সরকারি অফিস হতে নানাভাবে যাচাই বাছাই হয়ে আসে। তবে এ ধারনাটা একেবারেই ভুল। ফরেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পাওয়ার অব এ্যাটর্নিটি স্ট্যাম্পযুক্ত হওয়ার পর এটি রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার ১নং বহিতে নথিভূক্ত করে সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পাওয়ার অব এ্যাটর্নি নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকেই মনে করেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি একবার দিয়ে দিলে তা আর বাতিল করা যায় না বা সরল মনে এটা বিশ্বাস করেন এটি বাতিল অযোগ্য বা এটার অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। তবে এটি একটি ভুল ধারনা। পাওয়ার দাতা বা পাওয়ার গ্রহীতা চাইলেই এটার অবসান করতে পারবেন। পাওয়ার দাতা এটার অবসান ঘটাতে চাইলে উক্ত পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে পাওয়ার গ্রহীতাকে রেজিস্ট্রার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবেন। আবার পাওয়ার গ্রহীতাও পাওয়ার দাতাকে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক পাওয়ার অব এ্যাটর্নির দায়িত্ব পরিত্যাগ করতে পারবেন।

লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সহযোগী সম্পাদক, ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।

11/04/2023

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব এটর্নি দেবার সরকারী গেজেট
৫৯৭২ বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ২৩, ২০১৫

তফসিল ক
ফরম-৩
বাংলাদেশের বাহিরে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রমাণীকরণ
[বিধি ১০(১) দ্রষ্টব্য]

[ দ্রষ্টব্য : (১) নিম্নবর্ণিত ২ ও ৩ নং অনুচ্ছেদে লিপিবদ্ধ বিবরণের পার্শ্বে যথাক্রমে-পাওয়ারদাতা ও গ্রহীতার পাসপোর্ট আকারের সাদা পট-ভূমিতে সম্প্রতি তোলা রঙিন ছবি সংযুক্তক্রমে উভয় ছবি পাওয়ারদাতা কর্তৃক শনাক্তপূর্বক তাহাকে ছবির উপর আড়া-আড়িভাবে নিজ দস্তখত ও টিপসহি প্রদান করিতে হইবে, যদি তিনি নাম স্বাক্ষর করিতে অক্ষম হন, তাহা হইলে তাহার পরিচিত কোন ব্যক্তি দ্বারা তাহার নাম বকলমে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে;

(২) যে সকল অনুচ্ছেদের প্রয়োজন হইবে না উহার/উহাদের পার্শ্বে ‘প্রযোজ্য নয়’ উল্লেখ করিতে হইবে;

(৩) দলিলে স্থাবর সম্পত্তির বর্ণনা থাকিলে উহা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতার পক্ষে পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক হলফনামা প্রদান করিতে হইবে;

(৪) “পরিচিতি” অর্থ রেজিস্ট্রেশন আইনের section 2 sub-section (1) এ প্রদত্ত “addition” এর সংজ্ঞা অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচিতি। ]

ক্রমিক নম্বর ………………………. তারিখ ……………………..
সংশ্লিষ্ট নোটারি পাবলিক, বা কোন কোর্ট, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশের কনসাল বা ভাইস কনসাল বা সরকারের প্রতিনিধির নাম ও ঠিকানা :
ক্রমিক নম্বর …………………… বহি নম্বর ………………… দলিল নম্বর …………….. সন …………… তারিখ …………..…

সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার এর কার্যালয়ের নাম ও ঠিকানা :
দলিলের প্রকৃতি মৌজা থানা/উপজেলা জেলা পণমূল্য (যদি থাকে)

১। সম্পাদনের তারিখ :

২। পাওয়ারদাতা/দাতাগণের নাম ও পরিচিতি :

৩। পাওয়ার গ্রহীতা/গ্রহীতাগণের নাম ও পরিচিতি :

৪। পাওয়ারদাতা/দাতাগণের পাসপোর্টের বিবরণ :

৫। পাওয়ারদাতা কর্তৃক প্রদেয় বিশেষ, সাধারণ বা অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতা প্রদানের উদ্দেশ্য ও প্রদেয়
ক্ষমতার বিবরণ এবং পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক সম্পাদিতব্য দায়িত্ব ও কার্যাবলীর বিস্তারিত বিবরণ :

৬। এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলটি বিধি মোতাবেক পাওয়ারগ্রহীতা কর্তৃক বাংলাদেশের কোন উপযুক্ত
সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট রেজিস্ট্রির নিমিত্ত দাখিল করিবার ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত বিবরণ :

৭। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিক্রয়ের চুক্তি বা ঋণ গ্রহণের বিনিময়ে বন্ধক প্রদান সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রদত্ত
হইলে উহার বিবরণসহ সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা; অথবা ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন ক্ষমতা প্রদত্ত
হইলে, উহার বিবরণ ও উহাতে সৃজিতব্য প্লটের বা নির্মিতব্য ভবনের বিস্তারিত বিবরণসহ সম্পত্তির
তফসিল বর্ণনা; অথবা ভূমি উন্নয়ন ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন ক্ষমতা প্রদত্ত
হইলে উহার বিবরণসহ সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা; (প্রত্যেক ক্ষেত্রেই রেজিস্ট্রেশন আইনের section
52A তে বিধৃত বিষয়াদি সন্নিবেশ করিতে হইবে); অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা :

৮। ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন ক্ষমতা প্রদত্ত হইলে, প্রস্তাবিত ভূমি উন্নয়ন কার্য সম্পন্নের পর উহা হইতে অর্জিত যে অংশ পাওয়ারগ্রহীতা প্লট, ইমারত বা স্পেস আকারে বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবেন উহার বিবরণ :

৯। আইনের ধারা ২(২) অনুসারে সম্পত্তির পণমূল্য;

১০। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতা কর্তৃক গৃহীত কোন অর্থ, যদি থাকে, বা কোন আর্থিক লেনদেন, যদি হয়, তবে উহার বিবরণ;

১১। আর্থিক দায় ও দায়িত্ব, যদি থাকে, উহার বিবরণ :

১২। প্রদেয় ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দিষ্ট মেয়াদ, যদি থাকে :

১৩। পাওয়ারদাতা একাধিক হইলে তাহারা যৌথভাবে, বা পৃথকভাবে ক্ষমতা প্রদান করিয়াছেন কিনা
উহার বিবরণ; এবং নিযুক্ত অ্যাটর্নি একাধিক হইলে তাহারা যৌথভাবে, বা পৃথকভাবে অথবা যৌথ ও
পৃথক উভয়ভাবেই কার্য সম্পাদনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়াছেন কিনা উহার বিবরণ:

১৪। পক্ষগণের অভিপ্রায় প্রতিফলনের নিমিত্ত অন্য কোন তথ্য বা বিশেষ শর্ত, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে :

১৫। পাওয়ারদাতা/দাতাগণের নাম ও স্বাক্ষর :

১৬। এডভোকেট বা সলিসিটর বা দলিল মুসাবিদাকারীর নাম, পরিচিতি ও স্বাক্ষর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) :

১৭। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাওয়ারদাতার পক্ষে প্রদত্ত হলফনামা :

১৮। উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবিযুক্ত সিল ও তারিখসহ স্বাক্ষর :

বি:দ্র: বিদেশ হতে সম্পাদিত পাওয়ার অব এটর্নি বা আম-মোক্তারনামা দলিলের দাতার পরিবর্তে গ্রহীতা কর্তৃক হলফনামা প্রদান করতে হয়। ডিসি অফিস থেকে স্ট্যম্প ফি প্রদানের পর সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট দলিল ‍উপস্থাপনের সময় ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামা সংযুক্ত করে দাখিল করতে হবে।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Your Honor Law Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Your Honor Law Academy:

Share

Category