04/10/2025
আমার বয়স ২৮.৫ বছর। আমার স্ত্রীর বয়স ছিল ২৪ বছর। ১১ মাসের বৈবাহিক জীবনের পর গত ৩ মাস আগে সে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-রা গেছে। আমার জীবনে আমার স্ত্রীই ছিল আমার হৃ-দপিণ্ড, আমার প্রথম ভালোবাসা, প্রথম নারী যাকে আমি নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসতাম, যত্ন নিতাম। স্ত্রীও আমাকে ভালোবাসতো, যদিও আমার থেকে কম। তার চলে যাওয়ার পর আমি অনেক বেশি ভেঙে পড়েছিলাম। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না, সারাদিন আমাদের কাটানো সুন্দর স্মৃতি আর তার ছবি নিয়েই মগ্ন থাকতাম। অফিসের কাজেও ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারছিলাম না,এই ৩ মাস তার জন্য অনেক অনেক দান-সদকা করেছি এবং প্রায় প্রতি নামাজের পর তার জন্য কান্নাকাটি করে দোয়া করতাম। সে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো, আমিই তাকে পড়াতাম। কিন্তু ৪ দিন আগে স্ত্রীর মোবাইলের গ্যালারি ঘেঁটে হঠাৎ কিছু সন্দেহ হওয়ার পর তার মেসেঞ্জার ঘেঁটে জানতে পারি যে তার ডিপার্টমেন্টের এক ছেলে তার প্রাক্তন প্রেমিক ছিল। সেই ছেলের সাথে আমার স্ত্রীর আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিল। ছেলে তার সমবয়সী এবং বেকার হওয়ায় আমার স্ত্রীর পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়নি। এরপর আমার ভালো বেতনের চাকরি দেখে তার পরিবার আমার সাথে তার বিয়ে দেয়। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে আমার স্ত্রী বিয়ের পরেও আবেগের বশে দিনের পর দিন তার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে সম্পর্কে ছিল।
তারা সারাদিন একসাথে ইউনিভার্সিটিতে থাকতো। আমাকে মিথ্যা বলে তারা একসাথে ঘুরতে যেতো, রেস্টুরেন্টে যেতো। আমার কাছে সেমিস্টারের রিটেকের কথা বলে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা নিয়ে সেই ছেলেকে চলাচলের জন্য দিত, কারণ সেই ছেলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে যে তাদের মধ্যে অ-শ্লীল এবং নোং-রা চ্যাটও আমি খুঁজে পেয়েছি স্ত্রীর টেলিগ্রাম নম্বরে লগইন করে। হয়তোবা তাদের মধ্যে শা-রীরিক সম্পর্কও থাকতে পারে, তাদের কথাবার্তা পড়ে আমি এমন কিছু আভাস পেয়েছি। এখন আমি এই ব্যাপারটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। তাকে সারাদিন বদদোয়া দিচ্ছি, তার প্রতি আমার মারাত্মক ঘৃণা আসছে। আমার টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আমাকেই ঠকিয়েছে।
ইচ্ছা করছে থু-থু দিতে। প্রচণ্ড ঘৃণা আর মানসিক কষ্ট আমি আর নিতে পারছি না, তার পরিবারকে কি সব জানাবো?
পাঠিয়েছেন
~নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ভাইয়া