11/09/2023
একদম শেষ বিকেলে জানালার পাশে বালিশ চেপে চোখে মেলে ধরা এই গল্পের বই। আশ্চর্য এক জগৎ, “ভয়ংকর সুন্দর” বলতে যে কথাটা আমি প্রায়ই লিখি-পড়ি এ যেন তারই এক অন্য নাম। একটি জগতের বাসিন্দা তারা,কত সুন্দর কিছু গল্প-আমলদারদের গল্প।
বইটা অনেকদিনের, বাসায় একা একা পড়বার মতো সাহস করিনি কখনও। কিন্তু কে জানতো এমন সুন্দর হবে!! আজ ছুটির দিনে বাসায় সবাই উপস্থিত,একবসায় পুরোটা শেষ করে ফেলতে পারবো।
একজন জিন,যিনি হাবিল কাবিলের সময় মানুষকে ঝগড়া ফাসাদের ওয়াসওয়াসা দিতো। এরপর নূহ আ. এর কাছে ঈমান আনে,অযূ করে দুইটি সিজদাহ করে তওবা কবুলের জন্য।তাঁর তওবা রব কবুল করেন এবং আল্লাহর নিকট শুকরিয়া স্বরূপ একবছর সিজদায় পড়ে থাকে। হূদ আ. এর সম্প্রদায়ের সময়ও তিনি ছিলেন। ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সঙ্গে প্রায়ই দেখা করতেন।ইউসুফ আ. যে ঘরে জুলেখার ষড়যন্ত্রে পরীক্ষায় পড়েছিলেন সেখানেও এই জিন উপস্থিত ছিলেন। বনে জঙ্গলে ইলিয়াস আ. এর সঙ্গে দেখা করতেন।মূসা আ. এর সঙ্গে দেখা করেছেন,তাওরাত শিখেছেন এবং ঈসা আ. এর সাথে যখন দেখা হয়েছে তখন তাঁর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন মূসা আ. এর পাঠানো সালাম।
এরপর ঈসা আ. তাকে বলেছিলেন,মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে তোমার দেখা হলে তাঁকে আমার সালাম দিও। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চোখ পানিতে ভরে ওঠে,তিনি কেঁদে ফেলেন।বললেন দুনিয়া যতদিন থাকবে ততদিন ঈসা (আ.)-এর প্রতি সালাম। হামা! তুমি যে সালাম পৌঁছে দিয়েছো সেজন্য তোমার প্রতিও সালাম।
হামা( জিন) আর্জি করেন, আল্লাহর রাসূল! হযরত মুসা আ. আমাকে তাওরাত শিখিয়েছিলেন।আপনিও আমাকে কুরআন শেখান। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সুরা ওয়াকিয়াহ,মুরসালাত,আম্মা ইয়াতাসাআলুন,তাকভীর,ফালাক এবং সূরা নাস শিখিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, হামা! যখনই তোমার কিছু প্রয়োজন হয় আমাকে জানাবে,আর আমার সঙ্গে নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করবে।
কতই না সৌভাগ্যবান ছিলেন হামা!! এমন সুন্দর গল্প কখনো কি ভয়ংকর হতে পারে??!!
#আশফিকানওশিন