16/10/2026
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩৮টি সংস্থাকে যুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিনা খরচে যাওয়ার ঘোষণা মানেই এখনই সবার আবেদন শুরু হয়ে গেছে, এমন নয়। নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা, কর্মী নির্বাচন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
চলুন, পুরো বিষয়টি সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।
১. কারা বিনা খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন?
সরকারের ঘোষণায় প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই কর্মীদের নির্বাচন কীভাবে হবে, কোন কোন পেশায় নিয়োগ দেওয়া হবে এবং আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা কী হবে? এসব তথ্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
আপনি যদি মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী হন, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন।
- নিজের কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য প্রস্তুত রাখুন।
- পাসপোর্ট না থাকলে বৈধভাবে পাসপোর্ট করার প্রস্তুতি নিন।
- নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতার সনদ গুছিয়ে রাখুন।
- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে পেশা ও যোগ্যতা চাওয়া হবে, তার সঙ্গে নিজের যোগ্যতা মিলিয়ে দেখুন।
"মনে রাখবেন:" শুধু পাসপোর্ট থাকলেই চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হয় না। নিয়োগকর্তার চাহিদা, কাজের ধরন, যোগ্যতা ও সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন হবে।
২. কোন সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া হবে?
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩৩৮টি সংস্থার কথা বলা হয়েছে।
- বোয়েসেল (BOESL): বাংলাদেশের সরকারি জনশক্তি প্রেরণকারী সংস্থা।
- ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি: ভিসা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
- ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি: মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা খোঁজা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং কর্মী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারবে।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার: ৩৩৮টি সংস্থার তালিকায় থাকা মানেই প্রতিটি সংস্থার কাছে বিনা খরচে পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক চাকরি রয়েছে এমন নয়। চাকরির প্রকৃত চাহিদাপত্র, নিয়োগের শর্ত এবং কোন সংস্থা কোন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে, তা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগের জন্য বোয়েসেল বা সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট নিয়োগপদ্ধতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৩. আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি কী হবে?
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনাই চূড়ান্ত।
ধাপ ১: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজুন
বোয়েসেলের সরকারি ওয়েবসাইট এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
বোয়েসেল: (https://boesl.gov.bd)
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: (https://probashi.gov.bd)
ধাপ ২: চাকরি ও নিয়োগকর্তার তথ্য যাচাই করুন
কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, কী কাজ করবেন, বেতন কত, কাজের সময় কত এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কে করবে, এসব তথ্য লিখিতভাবে জানুন।
ধাপ ৩: আবেদন ও কর্মী নির্বাচন
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদ্ধতিতে আবেদন করুন। নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করে কর্মী নির্বাচন করা হতে পারে।
ধাপ ৪: মেডিকেল পরীক্ষা
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। তবে ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া তখনো চলমান ছিল। তাই নতুন আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও অনুমোদিত তালিকা যাচাই না করে কোনো সেন্টারে পরীক্ষা করাবেন না।
ধাপ ৫: ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া
চাকরির চাহিদাপত্র, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং বাংলাদেশের প্রযোজ্য সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া যাত্রার পরিকল্পনা করবেন না।
৪. বিনা খরচে যাওয়ার কথা বলা হলেও কি টাকা লাগতে পারে?
এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সরকার ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার আওতায় ধরা যাবে না। কারা এই সুযোগ পাবেন এবং কোন কোন ব্যয় এর আওতায় থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগের আনুষ্ঠানিক শর্তে নিশ্চিত করতে হবে।
কেউ যদি বলেন—
- “১০ হাজার ফ্রি ভিসার তালিকায় আপনার নাম আছে, আগে টাকা দিন।”
- “চাকরি নিশ্চিত, এখনই মেডিকেল করাতে হবে।”
- “সরকারি তালিকায় নাম তুলতে আলাদা টাকা লাগবে।”
- “আজ টাকা না দিলে আপনার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।”
তাহলে যাচাই না করে টাকা দেবেন না। বিনা খরচের সুযোগ পেতে কোনো দালালকে অগ্রিম টাকা দেওয়ার প্রয়োজন আছে - এমন দাবি বিশ্বাস করবেন না। নিয়োগের লিখিত প্রমাণ, সরকারি নির্দেশনা ও খরচের বিবরণ যাচাই করুন।
৫. পাসপোর্ট, মেডিকেল ও কাগজপত্র নিয়ে কী করবেন?
এই মুহূর্তে নিজের প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখুন। তবে নতুন নিয়োগের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল পরীক্ষা, পাসপোর্ট জমা বা অন্য কোনো অর্থ প্রদান করবেন না।
প্রস্তুত রাখতে পারেন:
- বৈধ পাসপোর্ট
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র
- শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের সনদ, যদি চাওয়া হয়
- কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, যদি প্রযোজ্য হয়
- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র
নিজের মূল কাগজপত্র কাউকে দিলে লিখিত রসিদ নিন এবং কেন নেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিত করুন।
৬. কোনো এজেন্সি টাকা চাইলে কী করবেন?
প্রথমে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স ও অনুমোদন যাচাই করুন। এরপর চাকরির চাহিদাপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয়, লিখিত চুক্তি এবং প্রতিটি খরচের বিবরণ চান। কোনো অর্থ দিতে হলে বৈধ রসিদ নিন। প্রতারণার আশঙ্কা হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
সরকারি তথ্যের জন্য বিএমইটির ওয়েবসাইট: (https://bmet.gov.bd)
৭. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগ অনেক কর্মপ্রত্যাশীর জন্য আশার খবর। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে হলে সঠিক তথ্য, বৈধ নিয়োগপদ্ধতি এবং প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।
এখনই লাখ লাখ টাকা ঋণ করে কাউকে দেবেন না। আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখুন, নিজের যোগ্যতা প্রস্তুত করুন এবং বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগের চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত হলে সেই অনুযায়ী আবেদন করুন।
🔔 বিদেশে পড়াশোনা, স্কলারশিপ, চাকরি, ওয়ার্ক ভিসা, ইমিগ্রেশন এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ খবর ও নির্ভরযোগ্য আপডেট নিয়মিত পেতে আমাদের "InfoBangla" page এবং YouTube Channel ফলো করুন।