Jannatul Firdous Jesa

  • Home
  • Jannatul Firdous Jesa

Jannatul Firdous Jesa Advocate (Apprentice)
District & Session judge court
Kishoreganj

15/04/2026

“বাচ্চা তো আর আমার কাছে থাকে না, আমি তার জন্য টাকা দিতে পারবো না। যদি বাচ্চার জন্য খরচ পেতে চাও, তবে আমার বাসায় দিয়ে যাও।”- কথাগুলো ছায়া বেগমকে বলছিলেন তার প্রাক্তন স্বামী। যদিও ইতিমধ্যে তার স্বামী নতুন করে বিয়েশাদি করে সংসার পেতে ভালোই আছেন! তিনি জানেন, তাদের আর তার বাড়িতে যাবার কোন পথই খোলা নেই।

বিচ্ছেদের পর তিন বছরের ছোট্ট শিশুটি মায়ের কাছেই বড় হচ্ছে। পিতা-মাতাহীন ছায়া বেগম টিউশনি আর কাছের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ধারকর্জ করে বাচ্চার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে তার প্রাক্তন স্বামী আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এই অজুহাতে এক টাকাও দিচ্ছেন না যে, সন্তান তো তার কাছে নেই। ছায়া বেগমও দ্বিধায় পড়ে গেছেন, আইন কি আসলেই বাবার এই একতরফা শর্তকে সমর্থন করে?

আইন কী বলে?

একজন আইনজীবী হিসেবে বহুবার আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, সন্তান মায়ের কাছে থাকা মানেই বাবার আর্থিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং আইন এখানে অত্যন্ত কঠোর:

১. জিম্মাদারি বনাম ভরণপোষণ: সন্তান কার কাছে থাকবে (Custody) এবং সন্তানের খরচ কে দেবে (Maintenance) -এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। সন্তান মায়ের কাছে থাকাটা মায়ের অধিকার (জিম্মাদারি), কিন্তু সন্তানের খরচ বহন করা বাবার একক এবং বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। সন্তান বাবার কাছে নেই, এই অজুহাতে ভরণপোষণ বন্ধ করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

২. মায়ের সামর্থ্য কি ধর্তব্য? অনেক সময় বাবা দাবি করেন যে, মা তো চাকরি করেন বা বড়লোক, তাই তার টাকা দেওয়া লাগবে না। এটি ভুল ধারণা। মুসলিম আইন অনুযায়ী, মা যদি কোটিপতিও হন, তবুও সন্তানের ভরণপোষণের প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব বাবারই।

৩. কতটা খরচ দিতে হবে? খরচ কেবল 'ডাল-ভাতের' মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাবার আর্থিক সামর্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী সন্তানের খাবার, পোশাক, শিক্ষা এবং চিকিৎসার সুব্যবস্থা বাবাকেই করতে হবে। এমনকি বাচ্চা যদি প্রতিবন্ধি হয় তবে তার জীবদ্দশায় অথবা মেয়ে সন্তান যদি বিবাহের পর তালাকও হয়ে ফিরে আসে, তবে তখনও বাবাকেই তার ভরণপোষণ বহন করতে হবে।

৪. বাংলাদেশের প্রচলিত পারিবারিক ও মুসলিম আইন অনুযায়ী সন্তানের জিম্মাদার এবং অভিভাবকত্ব-এর মধ্যে মৌলিক ও আইনগত পার্থক্য রয়েছে।

জিম্মাদার: এটি মূলত সন্তানের দৈনন্দিন দেখাশোনা, লালন-পালন এবং শারীরিক রক্ষণাবেক্ষণের অধিকারকে বোঝায়। মুসলিম আইন অনুযায়ী, মা সন্তানের জিম্মাদার বা রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে স্বীকৃত। ছেলে সন্তান ৭ বছর এবং মেয়ে সন্তান বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকতে পারে।

অভিভাবক: এটি সন্তানের শরীর ও সম্পত্তির ওপর পূর্ণ আইনগত কর্তৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে বোঝায়। মুসলিম আইন এবং ১৮৯০ সালের 'অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন' অনুযায়ী, পিতাই সন্তানের স্বাভাবিক এবং আইনগত অভিভাবক। মায়ের জিম্মাদারির সময়কালেও পিতা সন্তানের অভিভাবক হিসেবে বহাল থাকেন।

সুতরাং
• সন্তান যেখানেই থাকুক, খরচ দেওয়া বাবার আইনগত বাধ্যবাধকতা।
• বাবার সান্নিধ্য পাওয়া আর ভরণপোষণ পাওয়া- দুটি ভিন্ন বিষয়।
• মায়ের আয় থাকলেও সন্তানের খরচ দেওয়ার মূল দায়িত্ব বাবার।
• অনাদায়ে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে বকেয়াসহ টাকা আদায়ের সুযোগ আছে।

প্রতিকার কী?
যদি কোনো বাবা তার সন্তানের খরচ দিতে গড়িমসি করেন, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি আপনার নিকটস্থ পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণের মামলা করতে পারেন। আদালত বাবার আয় ও সামর্থ্য বিচার করে একটি মাসিক খরচের অংক নির্ধারণ করে দেবেন। এই আদেশ অমান্য করলে আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এমনকি সম্পত্তি ক্রোক বা কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

তবে, সর্বপ্রথমে যেতে হবে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে। পারিবারিক আইনগুলো সংক্রান্ত সমস্যার প্রথম ধাপ হলো, জেলা লিগ্যাল এইড।

আপনার জন্য পরামর্শ:
প্রতিটি মামলার প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আইনকানুনগুলো একই হলেও উপস্থাপনের ধরনে ফলের ভিন্নতা আসে। তাই যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন দক্ষ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। উপরোক্ত আলোচনায় কেবল সাধারণ প্রতিকারগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

★ স্ত্রী বা স্বামী তালাক দেওয়ার পর ৯০ দিন পর্যন্ত তালাক প্রত্যাহারের সুযোগ থাকে।পুনরায় একসাথে সংসার করার জন্য।  ★ তালাক ...
30/03/2026

★ স্ত্রী বা স্বামী তালাক দেওয়ার পর ৯০ দিন পর্যন্ত তালাক প্রত্যাহারের সুযোগ থাকে।পুনরায় একসাথে সংসার করার জন্য।
★ তালাক প্রত্যাহার করলে পুনরায় বিয়ে করার আবশ্যকতা নাই।
★ তালাক পরবর্তী ৯০দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।
★ চেয়ারম্যান বা সালিসি কর্মকর্তা যে তারিখে তালাকের নোটিশ প্রাপ্ত হবেন সেদিন থেকে তালাক কার্যকর এর দিন গননা শুরু হবে।

07/03/2026

স্ত্রী কখন ভরনপোষণ পাবে না:

১) স্ত্রী স্বামীর নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও যেখানে স্বামী অবস্থান করে সেখানে ভিন্ন অন্যত্র বসবাস করলে।
২) স্ত্রী বন্দিদশায় থাকলে। তবে স্বামী বন্দিদশায় থাকলে স্ত্রী ভরনপোষণ থেকে বঞ্চিত হবে না।
৩) স্ত্রী অন্যায়ভাবে অবাধ্য হয়ে স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত অসংত কারনে স্বামীর গৃহত্যাগ করলে।
৪) স্ত্রী ধর্মত্যাগ করলে।
৫) স্ত্রীর অবাধ্যচারনে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে।

07/03/2026

স্ত্রীকে কখন দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে না:

১। স্ত্রী তার স্বামীর নিকট খোলা তালাক চাইলে স্বামীকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে না।
২। স্ত্রী দেনমোহরের টাকা মাফ করে দিলে স্বামীকে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে না।
৩। তাৎঙ্খনিক দেনমোহর তালাক পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে আদায় করতে হয়। তিন বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে আর সুযোগ থাকে না।

28/02/2026

বাংলাদেশে নতুন ভূমি জরিপ বা BDS (Bangladesh Digital Survey) শুরু হওয়ার আগে জমির মালিকদের কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই জরিপটি আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়ায় পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল হবে, তবে আপনার নথিপত্রে ভুল থাকলে মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জরিপ শুরুর আগে আপনার করণীয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংগ্রহ ও যাচাই
জরিপ চলাকালীন আমিন বা সেটেলমেন্ট অফিসারকে দেখানোর জন্য নিচের কাগজগুলো হাতের কাছে রাখুন:
* মূল দলিল: জমি ক্রয়ের মূল দলিল বা ভায়া দলিল।
* খতিয়ান (পর্চা): সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) এবং সর্বশেষ সিটি জরিপ বা বিএস (BS) খতিয়ানের কপি।
* নামজারি (Mutation): জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকলে নিজের নামে করা নামজারি খতিয়ান এবং ডিসিআর (DCR)।
* উত্তরাধিকার সনদ: যদি জমিটি পৈতৃক হয়, তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যু করা ওয়ারিশ কায়েম সনদ।
২. খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর হালনাগাদ করা
জরিপ শুরুর আগেই আপনার জমির খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা (রশিদ) সংগ্রহ করে রাখুন। হালনাগাদ খাজনা পরিশোধ করা থাকলে মালিকানা প্রমাণ করা সহজ হয়।
৩. জমির সীমানা নির্ধারণ ও দখল নিশ্চিত করা
ডিজিটাল জরিপে ড্রোন বা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ম্যাপ তৈরি করা হয়। তাই:
* জমির চারদিকের আইল বা সীমানা সুনির্দিষ্ট করে রাখুন।
* জমিতে আপনার দখল আছে কি না তা নিশ্চিত করুন (যেমন: গাছ লাগানো, ঘর তোলা বা চাষাবাদ)।
* সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীর সাথে বিরোধ থাকলে জরিপ শুরুর আগেই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে ফেলার চেষ্টা করুন।
৪. মাঠ পর্চা ও খসড়া ম্যাপ পরীক্ষা
জরিপ দল যখন আপনার এলাকায় আসবে, তখন তারা একটি মাঠ পর্চা তৈরি করবে।
* তফসিল (দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর) এবং জমির পরিমাণ ঠিকমতো লেখা হয়েছে কি না তা যাচাই করুন।
* মালিকের নাম ও পিতার নাম ঠিক বানানে আছে কি না খেয়াল করুন।
৫. আপত্তি ও আপিল (যদি প্রয়োজন হয়)
যদি জরিপে আপনার জমির পরিমাণ কম আসে বা অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে যায়, তবে ভয় পাবেন না। জরিপের বিভিন্ন স্তরে (যেমন: ৩০ ধারা বা ৩১ ধারা) আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে আপত্তি দাখিল করতে হবে।
সতর্কতা: ডিজিটাল জরিপে যেহেতু ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই আপনার কাগজপত্র যদি সঠিক থাকে, তবে ভূমির মালিকানা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

#জরিপ #জমি

28/02/2026

১) কাউকে ব্ল্যান্ক চেক দেবেন না।
২) নিজের জমিতে কাওকে থাকতে দিবেন না।
৩) ডকুমেন্ট ছাড়া টাকা ধার দিবেন না।
৪) নাবালকের সম্পত্তি কিনবেন না।
৫) স্ত্রী নিজে তালাক দিলেও দেনমোহর পাবে।
৬) সন্তান পিতামাতার ভরনপোষণ দিতে বাধ্য।
৭) এতিম তার পিতামহের সম্পত্তি পাবে।
৮) বিয়ে করেই স্ত্রী কে ফেলে প্রবাসে জাবেন না।
৯) নিজের অন্ত:রন্ঙ মূহুর্তের ছবি ক্যামেরা বন্দি করবেন না।
১০) কাওকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করবেন না।

Address

গাইটাল, কিশোরগঞ্জ

২৩০০

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jannatul Firdous Jesa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Law Practice?

Share