02/07/2025
বন্টননামা দলিলের প্রয়োজনীয়তা....
একজন রেকর্ডীয় মালিকের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের মাঝে সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা করাকে বন্টননামা দলিল বলে। সাধারণত ওয়ারিশদের মাঝে দুই একজনের অনীহা থাকার কারনে আপস বন্টননামা দলিল সম্পাদন করা হয়ে উঠেনা যা অন্যান্য সকল ওয়ারিশদের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কখনো এমন হয় উত্তরাধিকার সূত্রে একজন ওয়ারিশ তার সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে দেয়। এতে বাকি ওয়ারিশরা তাকে ছাড়া বন্টননামা দলিল করতে পারেনা। বর্তমানে বন্টননামা দলিল ছাড়াও খতিয়ানের মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার সকল ওয়ারিশ ভূমি অফিসে এজমালিতে একসাথে সব ওয়ারিশের নামে একটি খারিজ খতিয়ান সৃজন করা যাবে মর্মে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি হয়েছে। এতে বন্টননামা দলিল ছাড়াই ওয়ারিশদের নিজ নামে খারিজ হচ্ছে কিন্তু জমি কে কোন পজিশনে মালিক হলো তার কোনো সমাধান হলোনা। এর একমাত্র সমাধান বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করে প্রত্যেক ওয়ারিশের নামে পৃথক জমা খারিজ খতিয়ান বা নামজারী করে নেয়া।
একসময় এজমালি সম্পত্তি বিক্রিতে বন্টননামা দলিল বাধ্যতামূলক ছিলো। পরে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। কারণ একজন সম্পত্তির মালিকের মৃত্যুর পর ১০/১২ জন ওয়ারিশের মধ্যে ১/২ জনের ত্যাড়ামীর কারনে বন্টননামা দলিল করা সম্ভব হতো না। ফলে চিকিৎসা, মেয়ে বিয়ে দেয়া, সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষা ইত্যাদি জরুরি প্রয়োজনে অন্যান্য ওয়ারিশরা জমি বিক্রি করতে পারতেন না যা একটি অমানবিক বিষয়। এজন্য সরকার জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বন্টননামা দলিলের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়।
বন্টননামা দলিলের বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক দুষ্টু ওয়ারিশরা তার ভাগের অংশটুকু গোপনে জমির মূল্যবান পজিশন যেমন রাস্তার ধার থেকে বিক্রি করে দেয়। এতে অন্যান্য ওয়ারিশদের অংশটুকু মূল্যহীন বা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। যা অন্যের হক নষ্ট করার শামিল।
জমিসংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে আমরা প্রায় ই সাধারণ জনগণের এমন নানা সমস্যা দেখতে পাই। এমন হয় যে এখনো দাদার বাপের নামে খতিয়ান। দাদার বাপ মারা গিয়েছে ১২ জন ওয়ারিশ রেখে, বন্টননামা হয়নি, দাদারা বাপ চাচা সহ ৪০ জন ওয়ারিশ রেখে মারা গেছে, বন্টননামা হয়নি, নিজেরা চাচাতো জেঠাতো ভাইবোন মিলে ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। এখনো বন্টননামা হয়নি। জমির মালিক এখনো সেই দাদার বাপ ই আছে। তার নামেই খাজনা চালু আছে। এখন এই জমি নিয়ে ১০০ জন ওয়ারিশের মধ্যে প্রতিদিন দা কাস্তে লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া হয়, দুই চারজন জীবনও দেয়। অথচ দাদার বাপ মারা যাওয়ার পর দাদারা বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করে পৃথক খারিজ খতিয়ান করে নিলে এবং পরবর্তীতে একইভাবে খতিয়ানের মালিক মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশরা বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করে পৃথক পৃথক খতিয়ান তৈরি করলে এই সমস্যা সৃষ্টিই হতো না। আত্মীয়তার সম্পর্কও কত সুন্দর থাকতো!
তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার। পরবর্তী প্রজন্মকে জমিসংক্রান্ত জটিলতা থেকে রক্ষা করতে এজমালি সম্পত্তি যত দ্রুত সম্ভব বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করে সকল ওয়ারিশদের নামে পৃথক নামজারি খতিয়ান তৈরি করতে হবে। যেন যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে গেলে কোনো বাধা না আসে। কারণ মানুষ খুব বিপদে না পড়লে বা তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন না হলে কেউ জমি বিক্রি করেনা। জরুরি প্রয়োজনে যেন ঝামেলাহীনভাবে জমি বিক্রি করা যায় তাই বন্টননামা দলিল নিয়ে আর কোনো অনীহা নয়, গাফিলতি নয়। পরবর্তী প্রজন্মকে জমিসংক্রান্ত কোনো ঝামেলায় রেখে যাবোনা এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
Cltd.