25/08/2026
সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি শ্রী সূর্যকান্ত, বিচারপতি শ্রী জয়মাল্য বাগচী এবং মাননীয় বিচারপতি শ্রীমতী ভি. মোহনার বেঞ্চ আজকে নির্বাচন কমিশনকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে বিচারাধীন আপিলগুলির সংখ্যা এবং প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী শ্রী গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড শ্রীমতী নেহা রাঠী বেঞ্চের কাছে সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী-র দায়ের করা একটি RTI আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO, West Bengal) দপ্তর থেকে দেওয়া উত্তর পেশ করেন।
ওই উত্তরে, অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ পেয়েছে:
০৭.০৮.২০২৬ পর্যন্ত
- পশ্চিমবঙ্গের SIR আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে দাখিল হওয়া মোট আপিল: ৩৮,১০,৬২০
- SIR আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে নিষ্পত্তি হওয়া মোট কেস: ৮২,৭৮২
- যাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: ৭৫,৪৪৩ জন (৯১%)
- যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে: ৭,৩৩৯ জন (৯%)
আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় যে, এই ভোটাররা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারিয়েছেন। একইভাবে, সুপ্রিম কোর্ট যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ না দিলে, এমন লক্ষ লক্ষ ভোটার আসন্ন পুরসভা নির্বাচনেও তাঁদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—অ্যাডজুডিকেশনের পর বাদ পড়া মোট ২৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭ লক্ষ ব্যক্তি আপিল করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি আপিলগুলি দায়ের করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন অথবা অন্যান্য আপত্তিকারীরা।
আরও বলা হয় যে, ১০ মার্চ ২০২৬-এর আদেশে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে অ্যাডজুডিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশন বা অন্যান্য আপত্তিকারীদের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যায় নাম বাদ দেওয়ার আবেদন দাখিলের একটি প্রক্রিয়া তৈরি করা ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্য ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে, যেসব ভোটার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আপিল করেছেন, সেই আপিলগুলির শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে নির্দেশ জারির আবেদন জানানো হয়।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতকে আরও অবহিত করেন যে, কলকাতা পুরনিগম এবং হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই কারণে, এই দুই পুরনিগমের আওতাভুক্ত এলাকার ভোটারদের দায়ের করা আপিলগুলির নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়।
স্বাক্ষরিত/-
প্রসেনজিৎ বসু
চেয়ারপার্সন, এসআইআর কমিটি,
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি
২৫.০৮.২০২৬
Subhankar Sarkar ✊✊
Indian National Congress - West Bengal