24/02/2026
কিশোর একটা ছেলে, শুটিং দেখছিল দাঁড়িয়ে। তাকে চেক করা হলো। কাগজে মুড়ানো টাকা। আমি জানি না ওর বয়স কত।
ইন্টার অবধি আমি মানিব্যাগ ইউজ করি নাই, আমরা অনেকেই করি নাই হয়তো। তখন আমিও এভাবে টাকা রেখেছি। ছেলেটা দুই হাত তুলে দিলো চেকিংয়ের জন্য।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওর পকেট হাতড়ে কিছুই পাওয়া গেল না। কিচ্ছু না। কিন্তু যাবার সময় অন ক্যামেরা তাঁর কান, মুখ বরাবর সপাটে চড় মারা হলো।
আমি শুধু এরপর তার অসহায় চাহনিটা দেখছি। কেমন ক্ষোভ, অসহায়ত্ব নিয়ে চেয়ে থাকা! এই অসহায়ত্ব এই কিশোর বুকে পুষবে।
তাঁর ইচ্ছে হবে, এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে। যদি পারে সে যাবেও। ঘৃণাটা যেমন পুলিশের প্রতি থাকবে, তেমনি রাষ্ট্রযন্ত্র আর এই সরকারের প্রতিও থাকবে।
এই চড়টা শিক্ষামন্ত্রীর সংবিধানের তোয়াক্কা না করে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশের চড়। নয়া সরকারের উপহার।
সে আমলার পুত্র না, তাঁর বাবা বড়ো সরকারি চাকরি করে না, ক্ষমতাসীন কোনও নেতার পুত্রও না, ধনীর দুলালও বোধ করি সে নয়।
ফলে তাকে রাষ্ট্রের তরফে চড় দেওয়া কিম্বা পেটানোতেও কিছু আসে যায় না।
নাগরিকের কোনও চলাফেরার অধিকার থাকবে না। শুধু দয়ায় বাঁচতে হবে, এই রাষ্ট্রকল্পের দিকেই এগুচ্ছি আমরা?
এই চড়টা আমিও অনুভব করি। এটা আমার গালেও রাষ্ট্রের দেওয়া সিলমোহর।
নয়া সরকারের মন্ত্রীদের এই সুশাসনের অনুশাসন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। 🙂