03/06/2024
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ১০০০ নম্বরের। তন্মেধ্যে আইন বিষয়ের উপর লিখিত পরীক্ষায় বরাদ্ধ থাকে ৬০০ নম্বর। একজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় ৫০% নম্বর পেলে তিনি ঐ বিষয়ে কৃতকার্য হন। আবার কোন বিষয়ে যদি তিনি ৩০% এর কম নম্বর পান তাহলে লিখিত পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হবে। এখানে বিষয়টি সকলের বোঝার জন্য এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। ধরুন একজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় মোট ৫০০ নম্বর অর্থ্যাৎ গড়ে ৫০% নম্বর পেল তার অর্থ এই নয় যে, তিনি লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। এখানে তাকে একটি শর্ত পূরণ করতে হবে তা হল কোন বিষয়ে তিনি ৩০% এর কম নম্বর পেতে পারবেন না। মোট ৫০০ নম্বর পেয়েও যদি কোন একটি বিষয়ে তিনি ৩০% এর কম নম্বর পান তাহলে তিনি লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হবেন। অর্থ্যাৎ ১০০০ নম্বরের মধ্যে কোন পরীক্ষার্থী যদি ৯২৯ নম্বরও পায় তাহলে তিনি লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হতে পারেন। যদি তিনি কোন একটি একক বিষয়ে ৩০% এর কম নম্বর ২৯ পান। এখানে যদি বিষয়টি এমনও হয় যে, তিনি ৯ টি বিষয়ে ৯০০ নম্বর পেলেন আবার কোন একটি একক বিষয়ে ২৯ নম্বর পেয়েছেন তাহলে লিখিত পরীক্ষার ২য় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। আবার দেখা গেল, কোন একজন পরীক্ষার্থী একটি বিষয়ে ৩০ পেল এবং অন্য নয়টি বিষয়ে মোট ৪৭০ নম্বর পেল তাহলে ঐ পরীক্ষার্থী মোট ৫০০ নম্বর পাওয়ায় তিনি লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হবে।
জুডিশিয়ারির লিখিত পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থীকে আইন বিষয়ের উপর ৬০০ নম্বরের জন্য মোটামুটি ৪০ টির ও অধিক আইন পড়তে হয়। আমাদের লিখিত পরীক্ষায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এখানেই মূলত বড় ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। কারন যারা বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে জুডিশিয়ারিতে অংশগ্রহণ করে তারা ছাড়া বাকিরা জেনারেল বিষয় গুলোতে মোটামুটি গড় নম্বর পায়। একাডেমিক পড়াশোনায় যেখানে আমরা মাত্র একটি আইনের উপর ১০০ নম্বরের কোর্স সম্পন্ন করি, সেখানে ১০০ নম্বরের জন্য অনেক গুলো আইনকে একত্রিত করে জুডিশিয়ারির মত প্রতিযোগীতাপূর্ণ পরীক্ষায় নিজের চাওয়ার মত করে ভালো নম্বর পাওয়া বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে যে ভুলটা আমরা প্রায়শই করি, বিষয়ভুক্ত সব কয়টি আইনের উপর ভালো প্রস্তুতি নিতে যেয়ে কোন আইনের উপরই সুস্পষ্ট ধারনা ও ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারিনা। এখানে আমার পরামর্শ হলো প্রত্যেকটি আইনের উপর মোটামুটি ধারনা না নিয়ে বিষয় ভিত্তিক ধারনা তৈরি করা। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো আমি আইন পড়ার কথা বলছি না, বিষয় ভিত্তিক বা টপিক ভিত্তিক ধারনার কথা বলছি। যা আপনার লিখিত পরীক্ষায় ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর যে কোন প্রশ্ন বা সমস্যার ভালো উত্তর তৈরি করতে সহযোগিতা করবে।
লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর প্রাপ্তির আর একটা কৌশল হলো বিষয় ভিত্তিক ধারাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা এবং উক্ত বিষয়ের উপর কোন ব্যতিক্রম বা অন্য কোন আইনে একই বিষয়ে কিছু বলা আছে কিনা তা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষার্থীদের প্রায়শই কেস রেফারেন্স নিয়ে বলতে শোনা যায় যে, আমার কেস রেফারেন্স মনে থাকে না বা আমি কেস রেফারেন্স যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করতে পারি না। আমি সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগের ৫টি বিজেএস লিখিত পরীক্ষায় গড়ে যদি ২০ টা কেস রেফারেন্স দিয়ে থাকি ১৫ শ বিজেএস লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নে চাহিত কেস রেফারেন্স ছাড়া একটিও কেস উল্লেখ করি নাই। আসলে কেস রেফারেন্স যথাযথ জায়গায় যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে না পারলে এটা ভালো নম্বর পাওয়ার কোন নিশচয়তা বহন করে না। তাই যারা অসাধারন ভালো করার ইচ্ছা নিয়ে জুডিশিয়ারি দিবে তারা ছাড়া অন্যদের কেস রেফারেন্স নিয়ে অযথা চিন্তা না করাই ভালো। সব থেকে ভালো হবে যদি আপনি নির্দিষ্ট আইনের ধারাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ঐ ধারার উপর সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে তা না হলে ভুল ধারাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করলে আপনার লিখিত পরীক্ষায় ভালো সম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে বুমেরাং হতে পারে।
সব শেষে আর একটি কথা শেয়ার করি, আমার লিথিত পরীক্ষায় ঐচ্ছিক বিষয় ছিল ঐচ্ছিক-১। আমি বরাবরই সবচেয়ে ভালো এবং চিন্তা মুক্ত পরীক্ষা দিতাম এই বিষয়ে। কারন ঐচ্ছিক-১ বিষয়ের আইনের উপর আমার প্রস্তুতি ছিলো একেবারে ধারা কেন্দ্রিক। আমি পরীক্ষার আগের রাত্রে কখনও এই বিষয়ের কোন বই হাতেই করতাম না শুধু ধারা গুলো মনে রাখার চেষ্টা করতাম। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এই বিষয়ে মোট ৫ টি আইন থাকলেও আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের সাথে আরও কয়েকটি সাবসিডিয়ারি আইনসহ মোট ৭/৮ টা আইন পড়তে হয়। এছাড়াও শিশু আইন,২০১৩ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ আইন দুটি বেশ বড় এবং জটিল। এক্ষেত্রে আমি কিছু কৌশল ব্যবহার করতাম। যেমন নারা ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ এ মোট ৩৪ টি ধারা এবং পৃষ্ঠা হিসেবে ৯/১০ পৃষ্ঠা। সেক্ষেত্রে উক্ত আইনের উপরে ভালো দক্ষতা অর্জনে মোটামুটি একটা সময় প্রয়োজন। অথচ উক্ত আইনটি আমি ১০ মিনিটে মুখস্ত বলতে পারবো। কোন ধারা বা বিষয় ছেড়ে দেওয়া ছাড়াই। তার অর্থ এই নয় যে, আইনটি আমার ঠোটস্থ । আসলে এটা হল অনেক বড় আইনকে ছোট করে পড়ার বা মনে রাখার কৌশল মাত্র। এই কৌশলটি জানা থাকলে আপনি কোন আইনের ধারা নম্বর , ধারার মর্মার্থ , সংজ্ঞা, শাস্তি মনে রাখতে পারবেন কোন ভুল ছাড়াই।
বি.দ্র: বিষয়ভিত্তিক ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য আমাদের করনীয় এবং কিভাবে বড় সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায় সে বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক নির্দেশনা থাকবে পরের লেখায়। সাথে থাকুন।
হযরত আলী
সহকারী জজ
ভোলা