26/08/2026
যে কারণে বিচারক হওয়ার বয়সসীমা ৩৪ হওয়া জরুরি
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) নিয়োগব্যবস্থা দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও কঠিন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর একটি। প্রিলিমিনারি, এক হাজার নম্বরের লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার মতো একাধিক ধাপ পেরিয়ে একজন প্রার্থীকে সিভিল জজ হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। অর্থাৎ এখানে মেধা, আইনজ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও বিচারিক সক্ষমতার কঠিন পরীক্ষা রয়েছে।
তবু এই কঠিন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দরজায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে—৩২ বছর বয়স পেরিয়ে গেলে কি একজন আইন গ্র্যাজুয়েট হঠাৎ বিচারক হওয়ার অযোগ্য হয়ে যান?
সম্প্রতি ১৯তম বিজেএস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে আইন গ্র্যাজুয়েট ও প্রার্থীদের মধ্যে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা তাই কেবল একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি নিয়োগে ন্যায্য সুযোগ, রাষ্ট্রের মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ মান।
দেশের মেধার অপচয় রোধের স্বার্থে, হেলথ ক্যাডারের মতো টেকনিক্যাল ক্যাডার সার্ভিস হওয়ায় বিজেএসের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা ও বিসিএসের আদলে বিজেএসে নন–ক্যাডার ব্যবস্থা চালু করা—এ দুটি বিষয় এখন নীতিগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অবশ্যই বয়স বাড়লেই কেউ ভালো বিচারক হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ৩২ বছর পার হলেই কেউ বিচারক হওয়ার অযোগ্য হয়ে যাবেন, এটিও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়। বিচার বিভাগের নিয়োগনীতির মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে সবচেয়ে যোগ্য, শুধু কে সবচেয়ে কম বয়সী নয়।
আইনজীবী Shams Ark আরও বলেন-
৩২ বছর কি যোগ্যতার কোনো জাদুকরি সীমারেখা?
একজন প্রার্থী ৩১ বছর ১১ মাস বয়সে বিচারক হওয়ার যোগ্য, কিন্তু ৩২ বছর ১ দিন বয়সে তিনি সেই যোগ্যতা হারাবেন—এমন ধারণার পেছনে যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইন পেশার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
একজন আইনের শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর বার কাউন্সিলের পরীক্ষা, পেশাগত নিবন্ধন ও আদালতে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভিড–১৯ মহামারি, পরীক্ষা ও নিয়োগে বিলম্ব, দীর্ঘ সেশনজট ও অন্যান্য অনিবার্য বাস্তবতা।
ফলে একজন মেধাবী আইন গ্র্যাজুয়েটের বয়স ৩০ বা ৩১ পেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন হলো, যে সময়ের একটি বড় অংশ প্রার্থীর নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিল না, সেই সময়ের মূল্যও কি তাঁকেই পুরোপুরি দিতে হবে? রাষ্ট্র যদি সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে থাকে, তাহলে বিচার বিভাগীয় নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।
বিচারিক সক্ষমতা কমে যাবে—এমন কোনো স্বতঃসিদ্ধ যুক্তি নেই; বরং আইন পেশার ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতাও যোগ হতে পারে। আদালতে কাজ করা একজন আইনজীবী মামলা পরিচালনা, সাক্ষ্য–প্রমাণ, যুক্তিতর্ক, আদালতের কার্যক্রম ও বিচারপ্রার্থীর বাস্তব সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
অবশ্যই বয়স বাড়লেই কেউ ভালো বিচারক হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ৩২ বছর পার হলেই কেউ বিচারক হওয়ার অযোগ্য হয়ে যাবেন, এটিও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়। বিচার বিভাগের নিয়োগনীতির মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে সবচেয়ে যোগ্য, শুধু কে সবচেয়ে কম বয়সী নয়।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) নিয়োগব্যবস্থা দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও কঠিন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগ....