28/08/2026
আইনি নীতি: সন্দেহের সুবিধা আসামির অধিকার, দয়া নয়
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার একটি কথাই বলে এসেছে — যতক্ষণ না দোষ প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ আসামিকে নির্দোষ ধরে নিতে হবে (৪২ ডিএলআর ৩১, আপিল বিভাগ)। ফৌজদারি বিচারে আবেগ বা অনুভূতির কোনো স্থান নেই; আদালতকে চলতে হয় শুধু প্রমাণ ও আইনের আলোকে (১০ বিএলটি ৫২)।
যখন কোনো মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে এত বেশি অসঙ্গতি, গরমিল ও ঘাটতি থাকে যে গোটা মামলাটিই সন্দেহজনক হয়ে ওঠে, তখন সেই সন্দেহের সুবিধা আসামির প্রাপ্য অধিকার — এটি কোনো দয়া বা করুণা নয় (৫৬ ডিএলআর ৩৫; ৭ বিএলটি ৩; ৪৩ ডিএলআর ৬, আপিল বিভাগ)। আসামিপক্ষের বক্তব্য পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত না হলেও, তা যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে এবং রাষ্ট্রপক্ষের মামলাকে দুর্বল করে দেয়, তাহলেও আসামি খালাস পাওয়ার অধিকারী।
শুধু "মাদক উদ্ধার হয়েছে" " শুধু ৩২৬/৩০৭ এর এজাহার আছে" " ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত " বলাটাই যথেষ্ট নয়। নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকা, আলামতের হেফাজতে সন্দেহ, তদন্তে ত্রুটি, পাবলিক সাক্ষীদের অসমর্থন এবং সাক্ষ্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা — এই সবকিছু মিলিয়ে একটি মামলা যখন সন্দেহের ঊর্ধ্বে ওঠে না, তখন আইন অনুযায়ী তার সুবিধা পাওয়ার অধিকার আসামির। এটাই ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি — প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করাই আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।