26/09/2026
এজাহারে অনেক ধারা থাকলেই কি জামিন হবে না?
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
অনেকেই মনে করেন, মামলার এজাহারে যত বেশি ধারা, জামিন পাওয়া তত কঠিন। আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি এত সরল নয়। জামিনের আবেদন শোনার সময় আদালত শুধু ধারার সংখ্যা বা ধারাগুলো কতটা গুরুতর তা দেখেন না। আদালত দেখেন, এজাহারে আসলে কী ঘটনার কথা বলা হয়েছে এবং সেই ঘটনা বাস্তবে কোন অপরাধের সঙ্গে মেলে।
জামিনের পর্যায়ে সাক্ষ্য নেওয়া হয় না, কাগজপত্রের চূড়ান্ত যাচাই হয় না, অভিযোগ প্রমাণিত হলো কি না তাও ঠিক হয় না। এখানে মূল প্রশ্ন একটাই: বিচার চলাকালে অভিযুক্তকে আটক রাখা সত্যিই দরকার কি না।
ধরুন, কোনো এজাহারে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬, ৫০৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারা একসঙ্গে দেওয়া হলো। শুধু এতগুলো ধারা দেখে "জামিন হবে না" বলে দেওয়া ঠিক নয়। দেখতে হবে:
সেই ঘটনায় জালিয়াতি বা গুরুতর প্রতারণার উপাদান সত্যিই আছে কি?
নাকি অভিযোগটি বড়জোর তুলনামূলক কম গুরুতর কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে?
মনে রাখা দরকার, এজাহারে লেখা সব ধারা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় না। আবার কোনো ধারা বাদ পড়লেই মামলা শেষ হয়ে যায় না।
মো. মাসুদ রানা বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ২৭২৫৮/২০১৬) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ০৭.০৮.২০১৬ তারিখের আদেশে এই নীতির প্রয়োগ দেখিয়েছেন। বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ দেখেন, এজাহারে একাধিক গুরুতর ধারা থাকলেও ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী অভিযোগ সর্বোচ্চ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার (প্রতারণা) দিকে যেতে পারে। এই বিবেচনায় নিম্ন আদালতের নথি তলব না করেই আদালত রুল জারি করেন এবং অভিযুক্তকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
জামিনের ক্ষেত্রে ধারার সংখ্যা নয়, অভিযোগের আসল চেহারাই গুরুত্বপূর্ণ। কেন ধারাটি দেওয়া হলো, ঘটনার ভিত্তি কী, ধারার অপরাধের উপাদান প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে কি না, আর মামলাটি কোন পর্যায়ে আছে, এসব মিলিয়েই জামিনের বিষয়টি বিচার করা উচিত।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮