P. M. Serajul Islam

Website Contact the business

P. M. Serajul Islam এ্যাডভোকেট পি. এম. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ প্রামাণিক)

এজাহারে অনেক ধারা থাকলেই কি জামিন হবে না?এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃঅনেকেই মনে করেন, মামলার এজাহারে যত বেশি ধারা, জামিন পাও...
26/09/2026

এজাহারে অনেক ধারা থাকলেই কি জামিন হবে না?
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
অনেকেই মনে করেন, মামলার এজাহারে যত বেশি ধারা, জামিন পাওয়া তত কঠিন। আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি এত সরল নয়। জামিনের আবেদন শোনার সময় আদালত শুধু ধারার সংখ্যা বা ধারাগুলো কতটা গুরুতর তা দেখেন না। আদালত দেখেন, এজাহারে আসলে কী ঘটনার কথা বলা হয়েছে এবং সেই ঘটনা বাস্তবে কোন অপরাধের সঙ্গে মেলে।
জামিনের পর্যায়ে সাক্ষ্য নেওয়া হয় না, কাগজপত্রের চূড়ান্ত যাচাই হয় না, অভিযোগ প্রমাণিত হলো কি না তাও ঠিক হয় না। এখানে মূল প্রশ্ন একটাই: বিচার চলাকালে অভিযুক্তকে আটক রাখা সত্যিই দরকার কি না।
ধরুন, কোনো এজাহারে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬, ৫০৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারা একসঙ্গে দেওয়া হলো। শুধু এতগুলো ধারা দেখে "জামিন হবে না" বলে দেওয়া ঠিক নয়। দেখতে হবে:
সেই ঘটনায় জালিয়াতি বা গুরুতর প্রতারণার উপাদান সত্যিই আছে কি?
নাকি অভিযোগটি বড়জোর তুলনামূলক কম গুরুতর কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে?
মনে রাখা দরকার, এজাহারে লেখা সব ধারা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় না। আবার কোনো ধারা বাদ পড়লেই মামলা শেষ হয়ে যায় না।
মো. মাসুদ রানা বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ২৭২৫৮/২০১৬) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ০৭.০৮.২০১৬ তারিখের আদেশে এই নীতির প্রয়োগ দেখিয়েছেন। বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ দেখেন, এজাহারে একাধিক গুরুতর ধারা থাকলেও ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী অভিযোগ সর্বোচ্চ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার (প্রতারণা) দিকে যেতে পারে। এই বিবেচনায় নিম্ন আদালতের নথি তলব না করেই আদালত রুল জারি করেন এবং অভিযুক্তকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
জামিনের ক্ষেত্রে ধারার সংখ্যা নয়, অভিযোগের আসল চেহারাই গুরুত্বপূর্ণ। কেন ধারাটি দেওয়া হলো, ঘটনার ভিত্তি কী, ধারার অপরাধের উপাদান প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে কি না, আর মামলাটি কোন পর্যায়ে আছে, এসব মিলিয়েই জামিনের বিষয়টি বিচার করা উচিত।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

ঋণখেলাপি মানেই পলাতক আসামি নন: দেওয়ানি আটকাদেশেও আইন মানতে হবে!এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃঅর্থ ঋণ আদালতে মামলা, তারপর ডিক্...
25/09/2026

ঋণখেলাপি মানেই পলাতক আসামি নন: দেওয়ানি আটকাদেশেও আইন মানতে হবে!
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
অর্থ ঋণ আদালতে মামলা, তারপর ডিক্রি, তারপর একদিন খবর আসে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। অনেকে তখন ভাবেন আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কিন্তু আইন এমন কথা বলে না।
ডিক্রির অধীনে যিনি টাকা পরিশোধে বাধ্য, আইনের ভাষায় তিনি "দায়িক" (রায়-দেনাদার)। অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী দায়িককে দেওয়ানি আটকে রাখা যায়। তবে এই আটকের উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, ডিক্রির টাকা পরিশোধে বাধ্য করা। তাই পরোয়ানা জারি হলেও শুধু সেই কারণে দায়িককে "পলাতক আসামি" বলা যায় না, এবং ফৌজদারি মামলার মতো আগে আত্মসমর্পণ করে প্রতিকার চাওয়ার নিয়মও এখানে খাটে না।
📌 আব্দুর রশিদ বনাম বিচারক, অর্থ ঋণ আদালত নং ১, চট্টগ্রাম (VII ADC (2010) 611)
📌 মো. এ. বি. মান্নাফ শেখ বনাম অর্থ ঋণ আদালত, ফরিদপুর ও অন্যান্য (3 LNJ (2014) 695)
📌 মো. আজিজুর রহমান বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য (41 CLC (HCD) 2012)
এর মানে ঋণের দায় মাফ নয়। ধারা ৬(৫) অনুযায়ী মূল ঋণগ্রহীতা, তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা ও জামিনদারের বিরুদ্ধে ডিক্রি হলে জারি মামলা একসঙ্গে চলতে পারে এবং তাঁরা যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী। তবে সম্পত্তি বিক্রিতে আগে মূল ঋণগ্রহীতার, পরে বন্ধকদাতা ও জামিনদারের সম্পত্তি বিবেচনা করতে হবে।
দেওয়ানি আটক একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত। তাই ডিক্রিদারের (সাধারণত ব্যাংক) আটকের আবেদন দেওয়ানি বিধি ও আদেশাবলির অধ্যায় ১, বিধি ১৯ এবং দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৫ অনুযায়ী হলফনামা দ্বারা সমর্থিত বা যথাযথভাবে সত্যপাঠকৃত হতে হবে। শুধু ব্যাংক প্রতিনিধির সই যথেষ্ট নয়।
📌 মো. জহিরুল হক বনাম বিচারক, অর্থ ঋণ আদালত, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য (17 SCOB [2023] HCD 20) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ বলেন:
১. ধারা ৩৪-এর আটকাদেশের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ ছাড়াই রিট করা যাবে।
২. হলফনামা বা যথাযথ সত্যপাঠ ছাড়া আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া আটকাদেশ আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অকার্যকর।
৩. তবে ব্যাংক আইন মেনে নতুন করে আবেদন করতে পারবে।
পরোয়ানার খবর পেলে ঘাবড়ে না গিয়ে যাচাই করুন ডিক্রি ও জারি মামলা কীভাবে চলছে, আটকের আবেদনে হলফনামা বা সত্যপাঠ আছে কি না, আর আদালতের আদেশ নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে হয়েছে কি না। এসব পদ্ধতিগত বিষয় অনেক সময় মামলার ফল বদলে দেয়।
ডিক্রি থাকলেই প্রতিটি আটকাদেশ আপনা-আপনি বৈধ হয় না। দায় যেমন আইন ঠিক করে, দায় আদায়ের পথও আইনই ঠিক করে দেয়।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

কোম্পানির চেক ডিজঅনার হলে মামলা করবেন কে? ভুল ব্যক্তি মামলা করলে টিকবে না পুরো বিচারএডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃচেক ফেরত এসে...
24/09/2026

কোম্পানির চেক ডিজঅনার হলে মামলা করবেন কে? ভুল ব্যক্তি মামলা করলে টিকবে না পুরো বিচার
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
চেক ফেরত এসেছে, টাকা পাওনা আছে, প্রমাণও হাতে আছে। তবু মামলা বাতিল হয়ে যেতে পারে। কারণটা খুব সাধারণ: মামলাটি ভুল ব্যক্তি করেছেন।
চেক যার নামে, মামলার অধিকার তার
কোনো কোম্পানির নামে চেক ইস্যু হলে সেই কোম্পানিই চেকের প্রাপক বা যথাযথ ধারক। কোম্পানির ম্যানেজার বা সহকারী ম্যানেজার কেবল পদের জোরে নিজে চেকের ধারক হয়ে যান না।
কোম্পানি একটি আইনগত সত্তা, তাই তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজ করতে পারেন। কিন্তু শুধু কাজ করার ক্ষমতা থাকলেই তিনি হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী নিজে যথাযথ ধারক হয়ে যান না।
একটি উদাহরণ
ধরুন, ক একটি কোম্পানির নামে ১০ লাখ টাকার চেক দিলেন। চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হলো। এরপর কোম্পানির একজন কর্মকর্তা নিজের নামে মামলা করলেন। তখন আদালতের প্রশ্ন হবে:
• চেকটি কি তাঁর নামে ইস্যু হয়েছিল?
• তিনি কি মূল্যের বিনিময়ে চেকটির ধারক হয়েছেন?
• নাকি তিনি শুধু কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে অভিযোগ দিয়েছেন?
আইনের ১৪১(ক) ধারা বলে, প্রাপক বা যথাযথ ধারকের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আদালত মামলা আমলে নিতে পারেন না। এই শর্ত পূরণ না হলে, মামলা শুরু হয়ে গেছে বা সাক্ষ্য নেওয়া হয়ে গেছে, শুধু এই যুক্তিতে ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগ বৈধ হয়ে যায় না।
সব মামলার ফল এক হবে না। আদালত চেক, অভিযোগপত্র, ক্ষমতাপত্র বা আমমোক্তারনামা, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করেন। অভিযোগকারী যদি প্রকৃত প্রাপক না হয়ে একজন বহিরাগত হিসেবে মামলা করেন, তাহলে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং আদালত মামলা বাতিল করে দিতে পারেন।
মো. মোশাররফ হোসেন বনাম রাষ্ট্র ও অন্য (ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ৩৭১২২/২০২২, রায়ের তারিখ ১০.০১.২০২৪) মামলায় দেখা যায়, চেক দুটি ইস্যু হয়েছিল মেসার্স হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর নামে। কিন্তু মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ম্যানেজার মো. ইসমাইল হোসেন, এবং তাঁর পক্ষে কোনো বৈধ আমমোক্তারনামা বা কোম্পানির সিদ্ধান্ত দাখিল করা হয়নি। আদালত তাঁকে যথাযথ ধারক নয়, বরং বহিরাগত হিসেবে গণ্য করেন। ১৩৮ ও ১৪১ ধারার শর্ত পূরণ না হওয়ায় মামলাটিকে আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বলে বাতিল করা হয়।
চেক ডিজঅনার হলে মামলা করার আগে নিশ্চিত হোন:
ক) চেকটি কার নামে ইস্যু হয়েছে
খ) আইনের চোখে বৈধ অভিযোগকারী কে
গ) চেকটি অভিযোগকারীর হাতে কীভাবে এসেছে
ঘ) কর্মকর্তা মামলা করলে তাঁর পক্ষে কোম্পানির লিখিত সিদ্ধান্ত ও আমমোক্তারনামা আছে কি না
চেকের মামলায় শুধু টাকা পাওনা থাকাই যথেষ্ট নয়। সবার আগে দেখতে হবে, কে মামলা করছেন এবং আইন অনুযায়ী তাঁর সে অধিকার আছে কি না। শুরুতেই এই ভুল হলে বছরের পর বছরের মামলা এক আদেশে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইনগবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

23/09/2026

⚖️ দেনার বোঝা আর বইতে পারছেন না? আইন আপনাকে একটি পথ দিয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যক্তি ও একক মালিকানার ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর অধীনে আদালতে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করতে পারেন।
✅ মোট দেনা কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা হলে আবেদন করা যায়
✅ আইনের ১০ ধারায় দেউলিয়া আদালতে আরজি দাখিল করতে হয়
✅ সব পাওনাদারকে মামলায় বিবাদী করতে হয়
✅ সম্পত্তি চলে যায় আদালত-নিযুক্ত রিসিভারের হাতে
⚠️ কিন্তু দেউলিয়া ঘোষণা মানেই দেনা মাফ নয়। সৎভাবে সহযোগিতা করলে তবেই আদালত অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দেন।
📽️ পুরো প্রক্রিয়া বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন।
🔁 শেয়ার করুন | 💾 সেভ করুন | 👍 ফলো করুন আইনি পরামর্শের জন্য #দেউলিয়া #দেউলিয়া_আইন #দেউলিয়া_আইন১৯৯৭ #ঋণ #দেনা #ঋণমুক্তি #আইনি_পরামর্শ ানুন #আইনি_সচেতনতা #ব্যবসায়ী #ব্যাংক_ঋণ #আদালত #নওগাঁ #বাংলাদেশ

চেকের মামলায় আসামীর খালাস: আপিল বিভাগের একটি যুগান্তকারী রায়এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃপ্রতিদান না থাকলে বা প্রতিদান ব্যর...
22/09/2026

চেকের মামলায় আসামীর খালাস: আপিল বিভাগের একটি যুগান্তকারী রায়
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
প্রতিদান না থাকলে বা প্রতিদান ব্যর্থ হলে চেক ডিজঅনার মামলায় আসামী খালাস পাবেন— সর্বোচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
চেকের মামলায় সাজা হওয়া মানেই যে আসামীর নিস্তার নেই, এমন ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। দলিল প্রাপ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারার মামলায় প্রতিদান (অর্থাৎ যে কারণে চেক দেওয়া হয়েছিল, তার বিনিময়) না থাকলে বা তা ব্যর্থ হলে আসামী খালাস পাবেন বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। নিচে রায়টি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
মামলার নাম: মোঃ আবুল কাহের শাহীন বনাম ইমরান রশীদ ও অন্যান্য
আদালত: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ
রায়ের তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সাল
বিচারকমণ্ডলী: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জীনাত আরা এবং বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান।
আইনজীবীগণ: আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, প্রথম বিবাদীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমদ এবং দ্বিতীয় বিবাদীর পক্ষে আইনজীবী শিরিন আফরোজ।
২০১২ সালের ১৩ মার্চ তারিখে গুলশান উপ-নিবন্ধন কার্যালয়ে একটি নিবন্ধিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বিবাদী ইমরান রশীদ বাদী আবুল কাহের শাহীনকে মোট চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চারটি চেক প্রদান করেন। চেকগুলোর মূল্যমান ছিল যথাক্রমে এক কোটি, এক কোটি, এক কোটি এবং দেড় কোটি টাকা।
বাদী চেকগুলো ব্যাংকে জমা দিলে "গ্রাহক কর্তৃক পরিশোধ স্থগিত" মন্তব্য দিয়ে ব্যাংক চেকগুলো ফেরত দেয়। এরপর আইনি নোটিশ পাঠিয়েও টাকা না পেয়ে বাদী সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতে দলিল প্রাপ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারায় চারটি পৃথক নালিশি মামলা দায়ের করেন।
বিচারিক আদালত আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটি মামলায় এক বছর করে সাধারণ কারাদণ্ড এবং সর্বমোট নয় কোটি টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামী উচ্চ আদালতে আপিল করলে উচ্চ আদালত বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে আসামীকে খালাস দেন। এরপর বাদী উচ্চ আদালতের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন।
এই মামলায় আদালতের সামনে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—
১. চেকের মামলা বিচারের সময় আদালত কি কেবল চেকের গঠনগত সঠিকতা দেখবেন, নাকি আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বাদীর দাবির সত্যতাও পরীক্ষা করতে পারবেন?
২. ২০০২ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ১৩৮ ধারা থেকে "ঋণ বা দায় পরিশোধের জন্য" শব্দগুচ্ছ বাদ দেওয়ার পর এই ধারা কি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি বিধান, নাকি আইনের অন্যান্য ধারার সঙ্গে সংযুক্তভাবে পড়তে হবে?
৩. প্রতিদানের পক্ষে আইনি অনুমান আসামী কীভাবে খণ্ডন করতে পারেন এবং এর জন্য তাকে কতটুকু প্রমাণ দিতে হবে?
বাদীপক্ষের বক্তব্য ছিল, ২০০২ সালের সংশোধনীর পর আদালতের কেবল চেকের লিখিত বিষয়বস্তু দেখার এখতিয়ার আছে; চেকটি বৈধ কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে দেওয়া হয়েছিল কি না—তা পরীক্ষার সুযোগ নেই। তাদের মতে, উচ্চ আদালত চুক্তিপত্রের পরিধির বাইরে গিয়ে আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থন বিবেচনা করে ভুল করেছেন।
অন্যদিকে আসামীপক্ষের যুক্তি ছিল, ১৩৮ ধারা কোনো বিচ্ছিন্ন বা স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধান নয়, কারণ ধারাটিতেই স্পষ্ট লেখা আছে যে এটি আইনের অন্যান্য বিধানের প্রতি পক্ষপাতমূলক নয়। আইনপ্রণেতাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট একাধিক ধারা একসাথে পড়া প্রয়োজন। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী চেকগুলো ছিল বাদীর মাধ্যমে জমি বিক্রির কমিশন বাবদ, কিন্তু বাদী সেই শর্ত পূরণে কোনো ভূমিকা রাখেননি বলে প্রতিদান ব্যর্থ হয়েছে।
চুক্তিপত্র এবং বাদীর নিজের সাক্ষ্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, চেকগুলো আসামীর একটি সম্পত্তি নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার শর্তে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, বাদী সেই সম্পত্তি বিক্রিতে কোনো পদক্ষেপ নেননি; বরং আসামী ও তার ভাই-বোনেরা নিজেরাই একটি বিদেশী দূতাবাসের কাছে জমিটি বিক্রি করে দেন।
আইন অনুযায়ী, প্রতিদান ছাড়া বা প্রতিদান ব্যর্থ হওয়ার পরও কোনো দলিল স্বাক্ষরিত হলে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না।
আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে উচ্চ আদালতের খালাসের রায় বহাল রাখেন এবং বাদীর দায়ের করা সবগুলো আপিল খারিজ করে দেন। ফলে আসামী ইমরান রশীদ ১৩৮ ধারার সমস্ত অভিযোগ থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস পান।
আদালত ব্যাখ্যা করেন, ১৩৮ ধারায় ব্যবহৃত "আইনের অন্যান্য বিধানের প্রতি পক্ষপাতহীনভাবে" কথাটির অর্থ হলো—এই ধারা প্রয়োগের সময় আইনের অন্যান্য ধারা প্রয়োগে কোনো বাধা নেই।
আইনে প্রতিদানের পক্ষে একটি অনুমান আছে ঠিকই, তবে সেটি খণ্ডনযোগ্য অনুমান, অর্থাৎ প্রমাণের মাধ্যমে তা ভুল প্রমাণ করা যায়। ফৌজদারি বিচারে আসামীকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ দিতে হয় না; সম্ভাবনার প্রাধান্য বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতেই আসামী দেখাতে পারেন যে প্রতিদান ছিল না বা তা ব্যর্থ হয়েছে।
আসামী যখন এভাবে প্রতিদানের ব্যর্থতা তুলে ধরেন, তখন প্রমাণের দায়িত্ব আবার বাদীর ওপর বর্তায়। যেহেতু বাদী চুক্তির শর্ত পূরণ করেননি, তাই প্রতিদান ব্যর্থ হয়েছে বলে গণ্য হয় এবং আসামী ব্যাংক থেকে পরিশোধ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়ে আইনগতভাবে সঠিক কাজই করেছেন বলে আদালত মত দেন।
এই রায়ের মূল বার্তা দুটি—
প্রথমত, চেকের মামলায় আদালত কেবল চেকের কারিগরি সঠিকতা যাচাই করবেন না; বরং আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থন এবং চেকের বিপরীতে প্রতিদানের উপস্থিতি বা বৈধতাও পরীক্ষা করতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিদানের পক্ষে আইনি অনুমান একটি খণ্ডনযোগ্য অনুমান মাত্র। আসামী সম্ভাবনার প্রাধান্যের ভিত্তিতে প্রতিদানের অনুপস্থিতি বা ব্যর্থতা প্রমাণ করতে পারলে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি দায় সৃষ্টি হয় না এবং তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য।
রায়ের গুরুত্ব
বাংলাদেশের বিচার অঙ্গনে চেক-সংক্রান্ত মামলায় এটি অন্যতম একটি দিকনির্দেশক রায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চেক ফেরতের মামলা কেবল যান্ত্রিকভাবে চেকের প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না; প্রকৃত দেনা-পাওনা বা প্রতিদান না থাকলে কাউকে সাজা দেওয়া অনুচিত।
এই রায় মিথ্যা, বানোয়াট বা শর্তভঙ্গকারী চেক-দাবির বিরুদ্ধে আসামীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা তৈরি করেছে এবং নিম্ন আদালতগুলোকে সম্পূর্ণ আইনটি সমন্বিতভাবে প্রয়োগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।
রায়ের প্রতিবেদন: ২৫ বিএলসি (আপিল বিভাগ) ১১৫
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

যৌতুক মামলায় কেন বেশিরভাগ আসামী খালাস পান: আইনি বাস্তবতাএডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃবাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইনের অধীনে দায়ে...
20/09/2026

যৌতুক মামলায় কেন বেশিরভাগ আসামী খালাস পান: আইনি বাস্তবতা
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ

বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইনের অধীনে দায়ের হওয়া অসংখ্য মামলায় দেখা যায়, বছরের পর বছর বিচার চলার পরও আসামী শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়ে যান। এতে অনেকেই মনে করেন, আইন বুঝি দুর্বল বা আদালত নারীর পক্ষে নয়। বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন — সমস্যাটা আইনে নয়, মামলা প্রমাণের প্রক্রিয়ায়।

ফৌজদারি আইনের মূল নীতি হলো — সন্দেহাতীতভাবে (beyond reasonable doubt) অপরাধ প্রমাণ করতে হবে। সামান্যতম যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলেও তার সুবিধা আসামী পাবেন, এটি করুণা নয়, বরং আসামীর আইনি অধিকার।

বেশিরভাগ যৌতুক মামলায় সাক্ষী হন বাদীর ভাই, মামা, প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয়। আদালতের দীর্ঘদিনের অনুসৃত নীতি হলো — নিকটাত্মীয় বা স্বার্থযুক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হলেও তার জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ সমর্থনকারী (corroborative) সাক্ষ্য প্রয়োজন। প্রতিবেশী, ব্যবসায়ী বা এলাকার নিরপেক্ষ কাউকে সাক্ষী না করলে মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে।
জেরায় প্রায়ই দেখা যায়, সাক্ষীরা কে কখন কোথায় যৌতুক দাবি করা হয়েছিল তার তারিখ-সময় মনে করতে পারেন না, একে অপরের বক্তব্যের সাথে মিলে না, এমনকি এজাহারের মূল বক্তব্য থেকেও সরে যান। এমন পারস্পরিক অসঙ্গতি মামলার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।

ঘটনার পর যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা ছাড়া দীর্ঘ বিলম্বে মামলা করা হলে আদালত সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখেন — কারণ বিলম্বে বাদীপক্ষের বক্তব্য সাজানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়।

অনেক মামলায় দেখা যায়, অভিযোগ করা ঘটনার আগেই স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন এবং যথাযথভাবে (রেজিস্ট্রি ডাকযোগে, সঠিক ঠিকানায়) নোটিশ পাঠিয়েছেন। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের অধীনে সঠিক প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো চিঠি প্রাপকের কাছে যথাসময়ে জারি হয়েছে বলে গণ্য হয় — প্রাপক গ্রহণ না করলেও। এমন পরিস্থিতিতে তালাকের পরবর্তী সময়ে "স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে যৌতুকের জন্য নির্যাতন"-এর অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত হয় না।

আসামীপক্ষকে তার বক্তব্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয় না — এটি যুক্তিসংগতভাবে সত্য হতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখাতে পারলেই পুরো প্রসিকিউশন কেসে সন্দেহ তৈরি হয়ে যায়, এবং তার সুফল আসামী পান।

ভুক্তভোগীর জন্য: সত্যিকারের যৌতুক নির্যাতনের শিকার হলে ঘটনার সাথে সাথে (বিলম্ব না করে) মামলা করা, সম্ভব হলে অন্তত একজন নিরপেক্ষ-স্বতন্ত্র সাক্ষী রাখা এবং ঘটনার তারিখ-সময়-স্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া মামলাকে অনেক শক্তিশালী করে।

অভিযুক্তের জন্য: নিরপরাধ হলে বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর পরিশোধ, নোটিশ প্রেরণ ইত্যাদির যাবতীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ ও যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন করাই আত্মপক্ষ সমর্থনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আইন নারীর সুরক্ষার জন্যই তৈরি — কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় শক্তিশালী, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগ বা অভিযোগের তীব্রতার ভিত্তিতে নয়।

লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২

একথালা ভাত আর একটা জীবনের দাম!এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃআজমল হোসেন। খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছা...
20/09/2026

একথালা ভাত আর একটা জীবনের দাম!
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
আজমল হোসেন। খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র। বয়স কত হবে? বাইশ, তেইশ? এক মায়ের বুকের ধন, এক বাবার স্বপ্ন।
সেদিন হয়তো পকেটে টাকা ছিল না তার। মেসে মিল বন্ধ। পেটে ক্ষিধে। তাই বাবাকে ফোন করে বলেছিল, "কিছু টাকা পাঠাও তো।"
একটা ছেলে ক্ষুধার্ত থাকলে যা করে, সে তাই করেছিল—না বলে একথালা ভাত খেয়ে ফেলেছিল।
এই "অপরাধের" শাস্তি কী হলো জানেন? তাকে মারতে মারতে ছাদে তোলা হলো। মাথার চুল কেটে অপমান করা হলো। তারপর পাঁচতলা থেকে ফেলে দেওয়া হলো। নিচে যখন তার শরীরটা আছড়ে পড়ল, তখন হয়তো তার নিঃশ্বাস তখনো ছিল। আর মেসের ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল যারা—তারাও তো ইউনিভার্সিটির ছাত্র। যাদের আমরা "মেধাবী" বলে ডাকি।
থানার খাতায় লেখা হবে "হত্যা"। আদালতে চলবে ৩০২ ধারার বিচার। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে লেখা থাকবে শরীরের কোথায় কোথায় আঘাতের চিহ্ন। কিন্তু কোনো নথিতেই লেখা থাকবে না—একথালা ভাতের কথা। যে ভাতের দাম হয়ে গেল একটা তাজা জীবন।
দুই বছর আগেও এমনই একটা দিন এসেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের "মেধাবী" ছাত্ররা মিলে ভাত খাইয়ে, তারপর পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল তোফাজ্জল নামের এক অসহায়, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে। সেদিনও আমরা কেঁদেছিলাম কয়েকদিন। তারপর ভুলে গিয়েছিলাম।
আমরা ভাবি, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তারাই মেধাবী, তারাই ভবিষ্যতের কর্ণধার। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো—যারা ঘুষ খায়, যারা দুর্নীতি করে দেশটাকে ফাঁপা করে দিচ্ছে, তাদের অধিকাংশই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটধারী। কেউ কেউ তো ছিল নিজের বিভাগের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র!
যারা হলে সিট দখল করতে অন্যকে কুপিয়ে ফেলে, যারা শাটল ট্রেনের বগি দখলের জন্য হকিস্টিক নিয়ে দৌড়ায়, যারা একথালা ভাতের জন্য কাউকে পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে—তারাও তো এই একই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র।
তাহলে "মেধা" শব্দটার মানে আসলে কী? সার্টিফিকেট, নাকি মানুষ হয়ে ওঠা?
অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। লিখি না, কারণ জানি—লিখলেই "মেধাবীরা" একজোট হয়ে আক্রমণ করবে। চিৎকার করবে। হয়তো আমারও "ভাত" বন্ধ হয়ে যাবে।
তাই ভাতের ভয়ে চুপ করে থাকি আমরা। ঠিক যেভাবে একথালা ভাতের অপরাধে একটা প্রাণ থেমে গেল, সেভাবেই সত্য বলার সাহসও থেমে যায় আমাদের।
আজমল হোসেনের মৃত্যুটা শুধু একটা "নিউজ" না। এটা আমাদের সবার বিবেকের কাছে একটা প্রশ্ন। আমরা কোন সমাজ গড়ছি, যেখানে ক্ষুধার্ত একটা ছেলের একথালা ভাত খাওয়াটা "অপরাধ" হয়ে যায়, কিন্তু তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলাটা "মেধাবীদের" অধিকার হয়ে দাঁড়ায়?
বিচার হোক। কিন্তু শুধু বিচার নয়—আমাদের নিজেদের ভেতরের মনুষ্যত্বটাও যেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।
আজমল হোসেনের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইনগ্রন্থ প্রণেতা। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

উল্লাসের রক্ত, আমাদের নীরবতা!এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিককুমারখালীর একটি রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর নিতে গিয়ে...
19/09/2026

উল্লাসের রক্ত, আমাদের নীরবতা!
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক
কুমারখালীর একটি রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর নিতে গিয়েছিলেন এম এ উল্লাস। হাতে ছিল শুধু একটি কলম আর একটি ফোন—কোনো অস্ত্র নয়, কোনো লাঠি নয়। বিনিময়ে তিনি পেলেন লাথি, ঘুষি, রক্তাক্ত মুখ—পুলিশের চোখের সামনে। একজন সাংবাদিকের একমাত্র "অপরাধ" ছিল সত্য খোঁজা। "অপরাধ" ছিল—তিনি বিক্রি হয়ে যাননি, তিনি সত্যের সন্ধান করেছিলেন।
যে হাত আজ কাঁপছে ব্যথায়, সেই হাতই কাল লিখেছিল অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যে মুখ আজ ফুলে গেছে আঘাতে, সেই মুখেই ছিল মানুষের কথা বলার সাহস। উল্লাস একা পড়ে ছিলেন রাস্তায়—আর প্রশ্ন থেকে যায়, তখন কোথায় ছিলেন তাঁর সহকর্মীরা, তাঁর নেতারা, তাঁর "সাংবাদিক সমাজ"?
আজ যাঁদের কণ্ঠ সবচেয়ে জোরে শোনানোর কথা ছিল, তাঁরা ব্যস্ত হাট-বাজার, বালুমহাল আর নিজেদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে। কেউ কেউ সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বুকে ঝুলিয়ে বেড়ান, অথচ ভেতরে পুষে রাখেন অন্য ব্যবসা, অন্য আপস। ক্ষমতার কাছে মাথা নত করে যাঁরা টিকে থাকেন, তাঁদের কাছে একজন আহত সহকর্মীর জন্য একটি প্রেস রিলিজ লেখার সময়ও নেই।
এই নীরবতা শুধু উল্লাসের প্রতি অবিচার নয়—এই নীরবতা প্রতিটি সাংবাদিকের প্রতি অবিচার, যিনি আজও সত্য লেখার সাহস রাখেন। আজ উল্লাস, কাল হয়তো অন্য কেউ। আর যদি আমরা আজ চুপ থাকি, তবে আগামীকাল কণ্ঠরোধ হবে আমাদেরই।
রক্ত ঝরেছে রাজপথে, কিন্তু কলম থামেনি। উল্লাস প্রমাণ করেছেন, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য কখনো কখনো রক্ত দিয়ে দিতে হয়। আমরা যদি এই মুহূর্তে পাশে না দাঁড়াই, তবে আমাদের সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা থেকে যাবে—দায়িত্ব নয়, সাহস নয়, মানুষের কণ্ঠ নয়।
রাজপথে লাল রক্ত জমাট বেঁধেছে, কিন্তু উল্লাসের কলমের কালি শুকিয়ে যায়নি। তিনি বুকের রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন—সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য কত নির্মম হতে পারে, আবার কত মহান হতে পারে। আজ আমরা যদি এই সহযোদ্ধার পাশে এসে না দাঁড়াতে পারি, তবে আসুন নিজেদের পরিচয়পত্রগুলো ছিঁড়ে ফেলি। আমাদের এই সাংবাদিকতা তখন আর কোনো সম্মান বা সাহসের প্রতীক থাকবে না, তা পরিণত হবে কেবলই এক টুকরো বেঁচে থাকার দালালি আর চরম ভীরুতায়।
উল্লাসের মুখের এই রক্তাক্ত ক্ষত আজ কোনো একক ব্যক্তির আঘাত নয়, এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের মেরুদণ্ডে লেগে থাকা চিরস্থায়ী এক কলঙ্ক। উল্লাসের শরীর থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব আমাদের দিতেই হবে।
উল্লাসের ক্ষত আজ আমাদের সবার লজ্জা। তাঁর পাশে দাঁড়ান, তাঁর জন্য কথা বলুন—কারণ আজ যদি আমরা নীরব থাকি, কাল সত্য বলার মতো কেউ থাকবে না।
লেখকঃ সম্পাদক-প্রকাশ ‘দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল’ ও কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ‘দি ডেইলী অবজারভার’। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

দেনার দায়ে দিশেহারা? জেনে নিন দেউলিয়া ঘোষণার আইনি পথ!এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃনওগাঁর রাইসমিল ব্যবসায়ী ওসমান গনির নাম শ...
19/09/2026

দেনার দায়ে দিশেহারা? জেনে নিন দেউলিয়া ঘোষণার আইনি পথ!
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিকঃ
নওগাঁর রাইসমিল ব্যবসায়ী ওসমান গনির নাম শুনেছেন? প্রায় ২৫২ কোটি টাকার দেনায় জর্জরিত হয়ে নিজেই আদালতে গিয়ে আবেদন করেছিলেন—"আমি আর দেনা শোধ করতে পারছি না, আমাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হোক।" প্রায় দেড় বছর পর আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে আইনগতভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে।
আপনিও যদি কখনো দেনার এমন কঠিন জালে আটকে যান, তাহলে জেনে রাখা ভালো—বাংলাদেশে এর জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি পথ আছে। চলুন সহজ ভাষায় বুঝে নিই।
দেউলিয়া হলো একটি আইনি অবস্থা। এখানে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি আদালতের নিয়োগ করা একজন "রিসিভার"-এর হাতে চলে যায়। রিসিভার সেই সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের মধ্যে ন্যায্য অনুপাতে ভাগ করে দেন। বাংলাদেশে এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭।
এই আইন মূলত ব্যক্তি এবং একক মালিকানাধীন ব্যবসার (যেমন প্রোপ্রাইটরশিপ) জন্য প্রযোজ্য। তবে লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া ভিন্ন—সেটি হয় কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে "উইন্ডিং আপ"-এর মাধ্যমে। মামলাগুলো পরিচালনা করে দেউলিয়া বিষয়ক আদালত, যা মূলত জেলা জজ আদালতের মর্যাদায় কাজ করে।
আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিকে "দেউলিয়া হওয়ার কাজ" হিসেবে গণ্য করা হয়—যেমন প্রকাশ্যে দেনা শোধে অক্ষমতা স্বীকার করা, পাওনাদারদের ফাঁকি দিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা, বা দেনার কারণে আদালতের ডিক্রিতে গ্রেপ্তার-কারাবরণ। এসবের যেকোনো একটি ঘটলে দেউলিয়া মামলা শুরু করা যায়।
নিজে থেকে আবেদন করতে চাইলে (ওসমান গনির মতো "সেলফ-পিটিশন") নিচের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
মোট দেনা কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা হতে হবে, অথবা
দেনার কারণে আদালতের ডিক্রি অনুসারে গ্রেপ্তার বা কারাবরণ হয়ে থাকতে হবে, অথবা
সম্পত্তির বিরুদ্ধে দেনা আদায়ে জারি বা অ্যাটাচমেন্ট আদেশ হয়ে থাকতে হবে।
আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী দেনাদার বা পাওনাদার আদালতে একটি "আরজি" দাখিল করেন। যাদের কাছ থেকে ঋণ বা বিনিয়োগ নেওয়া হয়েছে—ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যক্তি পাওনাদার পর্যন্ত—সবাইকে মামলায় বিবাদী করতে হয়। ওসমান গনির মামলায় এমন ২৬৭ জন পাওনাদারকে বিবাদী করা হয়েছিল।
এরপর আদালত সব প্রমাণ ও যুক্তি বিবেচনা করে দেউলিয়া ঘোষণার আদেশ দেন, অথবা আবেদন না-মঞ্জুর করেন।
দেউলিয়া ঘোষিত হলে দেনাদারের সম্পত্তি একজন রিসিভারের হাতে চলে যায়। রিসিভার সম্পত্তি মূল্যায়ন করেন, প্রয়োজনে বিক্রি করেন এবং পাওনাদারদের মধ্যে অনুপাতে বণ্টন করেন। তবে পাওনাদাররা চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন।
দেউলিয়া ঘোষণা হলো প্রক্রিয়ার শুরু, শেষ নয়। রিসিভার যখন দেনাদারের আচরণ ও সম্পত্তি সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দেন, তখন দেনাদার "অব্যাহতি" বা ডিসচার্জের জন্য আবেদন করতে পারেন। আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে দেনাদার সততার সঙ্গে, সম্পত্তি গোপন না করে প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছেন—তবেই তাঁকে অবশিষ্ট দেনার দায় থেকে আইনগতভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
দেনার বোঝা যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন পালিয়ে বেড়ানো বা লুকিয়ে থাকা কোনো সমাধান নয়। বাংলাদেশের আইনে সততার সঙ্গে আদালতের মুখোমুখি হয়ে দেউলিয়া ঘোষণার একটি বৈধ পথ আছে, যা সঠিকভাবে অনুসরণ করলে একজন মানুষ আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন এবং নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পেতে পারেন।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইনগবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

Address

কুষ্টিয়া আদালত চত্ত্বর, খুলনা, বাংলাদেশ।
Kushtia
7000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when P. M. Serajul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to P. M. Serajul Islam:

Shortcuts

Share