Adv. Helal Azim

Adv. Helal Azim Advocate, Khulna Judge Court
Intellectual Property & Business Development Officer, TTO Sub-Project, Khulna University

13/08/2026

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট দুটি সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে:

১. মেয়াদ শেষের কারণে পদ শূন্য হলে:

অনুচ্ছেদ ১২৩(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নিয়মিত ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে যদি পদটি খালি হয়, তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

২. মেয়াদ শেষের আগেই পদ শূন্য হলে:

অনুচ্ছেদ ১২৩(২) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই পদত্যাগ করেন, মারা যান বা অপসারিত হন, তবে পদটি খালি হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের (তিন মাস) মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

08/08/2026

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে আসীন থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু বা অব্যাহত রাখা যাবে না এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য কোনো পরোয়ানাও জারি করা যাবে না।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সাংবিধানিক সুরক্ষা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। সংবিধানের ভাষায়ও এ সুরক্ষা during his term of office অর্থাৎ পদে থাকাকালীন সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছিলো এবং বিভিন্ন মামলায় আদালতের রায়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি কোনো স্থায়ী বা চিরস্থায়ী দায়মুক্তি ভোগ করেননি।

তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বা দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। ফলে কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার প্রশ্নে সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে সম্পাদিত কাজ এবং ব্যক্তিগত বা বেআইনি কাজের মধ্যে পার্থক্য টা গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক আইন ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিচারেও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের বিচারের মুখোমুখি করার বহু নজির আছে। আন্তর্জাতিক আইনে মূলত ধরা হয়, সরকারি কাজের (Official Acts) ক্ষেত্রে পদ ছাড়ার পরও কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া গেলেও মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি বা ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো দায়মুক্তি পাওয়া যায় না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Trump v. United States (2024) মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে রাষ্ট্রপতির সরকারি দায়িত্ব পালনের আওতাভুক্ত কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যাপক ফৌজদারি দায়মুক্তি থাকতে পারে তবে ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এমন দায়মুক্তি প্রযোজ্য না।

ফ্রান্সে সাবেক রাষ্ট্রপতিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা ছাড়ার পর তদন্ত ও বিচার হওয়ার একাধিক নজির রয়েছে। দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি জাক শিরাক এবং নিকোলা সারকোজি উভয়েই ক্ষমতা ছাড়ার পর দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন এবং দণ্ডিত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজিরগুলোর একটি হলো অগাস্তো পিনোচে মামলা। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যের House of Lords রায় দেয় যে নির্যাতন (Torture) করা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বৈধ সরকারি দায়িত্বের অংশ হতে পারে না। ফলে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি দায়মুক্তির সুযোগ দাবি করতে পারবেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) Rome Statute-এর ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা অন্য কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হলেও তাঁর সরকারি পদমর্যাদা আদালতের বিচারিক ক্ষমতার পথে বাধা হবে না।

বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিভিন্ন দেশের বিচারিক নজির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বকালীন ফৌজদারি দায়মুক্তি স্থায়ী না। ক্ষমতা ছাড়ার সাথে সাথে সাংবিধানিক দায়মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়, আর এর ফলে যেকোনো সাবেক রাষ্ট্রপতিকে দেশের প্রচলিত বা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনা সম্পূর্ণ আইনসম্মত।

25/07/2026

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে, মৃত্যুবরণ করলে বা অন্য কোনো কারণে তার পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এক্ষেত্রে স্পিকার কেবল রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন কাজগুলোই সম্পাদন করেন না বরং যতক্ষণ না নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নিচ্ছেন ততক্ষণ স্পিকার রাষ্ট্রপতির সকল সাংবিধানিক ক্ষমতা, দায়িত্ব ও মর্যাদা ভোগ করেন।

যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে স্পিকারের পদটিও খালি রয়েছে বা স্পিকার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ তাহলে সংবিধান অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

25/07/2026

বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা-

আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা নতুন কিছু না। আমরা যদি একটু পিছন ফিরে তাকাই তাহলে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাবো।

১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী আন্তর্জাতিক বিশেষ দূতের দায়িত্ব নিতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন।

এরপর আসে ১৯৯০ সাল, তুমুল গণঅভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে জনরোষের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এছাড়া ২০০২ সালে সরকারি দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীও স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন।

ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও আমরা পদত্যাগ করতে দেখলাম।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি যদি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ ছেড়ে দিতে চান তাহলে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তিনি সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগ পত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান বিচারপতির কাছে এটি দেওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের সংবিধানে নেই।

রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগপত্রটি স্পিকারের কার্যালয়ে পৌঁছানো মাত্রই পদত্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়। এর জন্য সংসদে কোনো ভোটাভুটি, দীর্ঘ আলোচনা বা আলাদা করে কারও অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না।

আর যদি কোনো কারণে স্পিকারের পদ খালি থাকে, তাহলে যিনি ওই সময়ে স্পিকারের দায়িত্বে থাকেন তিনি পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনও সংবিধানের এই পথ অনুসরণ করে পদত্যাগ করেছেন।

17/02/2026

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেনো সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করালেন?

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বারের মতো কোনও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করালেন।

সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে প্রকাশ বা গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের।

কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেওয়ায় বর্তমানে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।

তাহলে প্রশ্ন আসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কিভাবে শপথ পাঠ করালেন? এর ভিত্তি কি? এর উত্তর সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

যদি গেজেট প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হন তাহলে তার পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

যেহেতু স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নেই তাই এবার শপথ পড়িয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

16/02/2026

একজন ব্যক্তি কি একাধিক আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন?

একজন প্রার্থী চাইলেই একই সাথে একাধিক আসনে নির্বাচন করতে পারেন, এতে আইনত কোনো বাধা নেই। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই, যখন তিনি একাধিক আসনে জয়ী হন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না।

যদি কোনো প্রার্থী একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হন, তবে তাকে সর্বশেষ আসনটির ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি কোন আসনে এমপি হিসেবে থাকতে চান।
এই সিদ্ধান্ত একটি লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।
তিনি যে একটি আসন বেছে নিবেন, সেটি বাদে বাকি আসনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য বা খালি হয়ে যাবে।

যদি তিনি ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি যে আসনগুলো থেকে জিতেছিলেন, তার সবকটি আসনই খালি হয়ে যাবে। অর্থাৎ, তিনি কোনো আসনেরই এমপি থাকতে পারবেন না।

যেমন আমরা দেখলাম, তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জেতার পর-ও তাঁকে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

আর যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি একটি আসন চূড়ান্ত করে কমিশনকে জানাচ্ছেন, ততক্ষণ তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারবেন না।

11/02/2026

রাত পোহালেই বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বারবার আসে না।
‘হ্যাঁ’ হোক কিংবা ‘না’ আপনি যে সিদ্ধান্তই নিন, আশা করবো সেটি নেবেন জেনে, বুঝে, নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে।
কারণ আপনার একটি ভোটই নির্ধারণ করতে পারে আমাদের সবার আগামী দিনের দিকনির্দেশনা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ ও সং...
09/02/2026

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সর্বমোট ৮৪ টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৭ টি সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত এবং বাকি ৩৭ টি বিভিন্ন আইন ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। চলুন জেনে আসি প্রস্তাবনা গুলো কি কি-

✔️ জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রের মূলনীতি

১. আমাদের নাগরিক পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’।

২. রাষ্ট্রভাষা বাংলা থাকবে, তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাকে সাংবিধানিক সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রদান।

৩. রাষ্ট্রের মূলনীতিতে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’-এর সাথে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ যুক্ত করা।

৪. ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান।

✔️ ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

৫. কোনো ব্যক্তি জীবনে ২ মেয়াদের (সর্বোচ্চ ১০ বছর) বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

৬. প্রধানমন্ত্রী একই সাথে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান বা দলীয় পদে থাকতে পারবেন না।

৭. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা।

৮. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।

৯. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ৪৯) সীমাবদ্ধ করা, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় দণ্ড মওকুফ বন্ধ করা।

১০. প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি যাতে প্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন, সেই ক্ষমতা প্রদান।

✔️ জাতীয় সংসদ ও আইনসভা

১১. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন (উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ)।

১২. নিম্নকক্ষে ৩০০ আসন থাকবে, যা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবে।

১৩. উচ্চকক্ষে ১০০ আসন থাকবে, যা ভোটের আনুপাতিক হারে (PR) মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে গঠিত হবে।

১৪. সংরক্ষিত নারী আসন সরাসরি ভোটে এবং ভোটের আনুপাতিক হারে নির্ধারণ।

১৫. বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা।

১৬. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন- যাতে সংসদ সদস্যরা বাজেট এবং অনাস্থা প্রস্তাব বাদে অন্য সব বিষয়ে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন।
১৭. ‘না’ ভোট বা নেতিবাচক ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা।

১৮. সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর বদলে রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা।

✔️ নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

১৯. সংবিধানে ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন ও স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।

২০. নির্বাচন কমিশন নিয়োগে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘বাছাই কমিটি’ গঠন (স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা)।

২১. নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

✔️ বিচার বিভাগ

২২. বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বাধীন সচিবালয়ের অধীনে আনা।

২৩. একটি ‘স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন’ গঠন করা।

২৪. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা।

২৫. বিচারকদের দলীয় আনুগত্য বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা।

২৬. উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে মেধা ও স্বচ্ছতার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন।

✔️ মৌলিক অধিকার ও জরুরি অবস্থা

২৭. ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতার বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা।

২৮. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে অলঙ্ঘনীয় করা।

২৯. ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

৩০. (অনুচ্ছেদ ২১ সংশোধন): সরকারি কর্মচারীদের দায়বদ্ধতা এবং জনগণের সেবক হিসেবে তাদের ভূমিকা কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত করা।

৩১. (জুলাই বিপ্লব): সংবিধানের প্রস্তাবনায় (Preamble) ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
৩২. (মূলনীতি বাস্তবায়ন): নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করা।

৩৩. (বহুত্ববাদ): বাংলাদেশ একটি বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ—এই মর্মে সাংবিধানিক অঙ্গীকার।

৩৪. (ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকার): সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রের ওপর বিশেষ দায়বদ্ধতা।

৩৫. (জরুরি অবস্থা সংশোধন): কেবল যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্র ব্যতীত জরুরি অবস্থা জারি নিষিদ্ধ করা।

৩৬. (সংসদীয় অনুমোদন): জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংসদের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা।

৩৭. (বিরোধী দলের অংশগ্রহণ): জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতি বা পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

৩৮. (মৌলিক অধিকার রক্ষা): জরুরি অবস্থাতেও জীবনের অধিকার (৩২ অনুচ্ছেদ) এবং বিচারের অধিকার (৩৫ অনুচ্ছেদ) খর্ব না করা।

৩৯. (সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া): সংবিধানের যেকোনো অংশ সংশোধনের জন্য উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট প্রয়োজন হবে।

৪০. (গণভোটের বিধান): গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ (৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২) সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করা।

৪১. (স্থায়ী সাংবিধানিক রক্ষাকবচ): নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ হিসেবে ঘোষণা করা।

৪২. (৭-ক অনুচ্ছেদ বাতিল): সংবিধান স্থগিত করার বিতর্কিত ৭-ক অনুচ্ছেদ বাতিল বা সংস্কার।

৪৩. (৭-খ অনুচ্ছেদ বাতিল): সংবিধানের অনেক অংশকে 'অপরিবর্তনযোগ্য' করে রাখা ৭-খ অনুচ্ছেদ বাতিল করা।

৪৪. (ন্যায়পাল): ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'ন্যায়পাল' নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু ও তাকে স্বাধীন ক্ষমতা প্রদান।

৪৫. (স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ): জেলা ও উপজেলা পরিষদকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান।
৪৬. (প্রশাসনিক জবাবদিহিতা): রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ‘সিটিজেন চার্টার’ এবং নিয়মিত গণ-শুনানি বাধ্যতামূলক করা।

৪৭. (উত্তর-মেয়াদ সীমাবদ্ধতা): প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর কোনো রাষ্ট্রীয় লাভজনক পদে নিয়োগ পাবেন না।

৪৮. (রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা): মানবাধিকার, তথ্য ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা প্রদান।

✔️ আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কার

৪৯. একটি ৯ সদস্যের ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠন করা।

৫০. পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর।

৫১. পুলিশের বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি।

৫২. রাব বা অনুরূপ বাহিনীর গঠনতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা।

৫৩. পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু বা গুমের ঘটনার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

৫৪. দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।

৫৫. সরকারি নিয়োগ ও কেনাকাটা (E-GP) শতভাগ ডিজিটালাইজড করা।

৫৬. মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি বছর ‘সম্পদ বিবরণী’ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।

৫৭. মানিলন্ডারিং ও পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে আইনি কাঠামোর সংস্কার। ৫৮. পিএসসি (PSC)-কে সংস্কার করে বিসিএস নিয়োগে মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন।

৫৯. প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর ‘আচরণবিধি’ প্রণয়ন। ৬০. প্রতিটি সরকারি দপ্তরে ‘ন্যায়পাল’ (Ombudsman) নিয়োগ।

৬১. শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপির ন্যূনতম ৪-৫% বরাদ্দ রাখা।

৬২. বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তি ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের গাইডলাইন।

৬৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

৬৪. (দুদক স্বায়ত্তশাসন): দুদকের নিজস্ব বাজেট ও নিরপেক্ষ জনবল নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা।

৬৫. (স্বচ্ছ প্রকিউরমেন্ট): সরকারি কেনাকাটায় নাগরিক পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ওপেন কন্ট্রাক্টিং’ ডেটা সিস্টেম।

৬৬. (পরিবারসহ সম্পদ প্রকাশ): কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।

৬৭. (টাকা উদ্ধারে ট্রাইব্যুনাল): পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে ‘হাই-পাওয়ারড টাস্কফোর্স’ ও বিশেষ জুডিশিয়াল ট্রাইব্যুনাল।

✔️ ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক সংস্কার

৬৮. একটি স্থায়ী ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠন করা।

৬৯. ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের জন্য কঠোর শাস্তি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা।

৭০. শেয়ার বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও বিগত বছরের কেলেঙ্কারির বিচার।

৭১. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের জন্য স্বাধীন সার্চ কমিটির বিধান।

৭২. বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে ‘প্রতিযোগিতা কমিশন’কে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান।

✔️ স্থানীয় সরকার ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ

৭৩. (আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ): জেলা ও উপজেলা পরিষদকে নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা প্রদান।

৭৪. স্থানীয় রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি স্থানীয় পরিষদের ফান্ডে জমা হওয়ার আইনি গ্যারান্টি।

৭৫. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
সুশাসন ও মানবাধিকার

৭৬. (ন্যায়পাল ও বিচারিক ক্ষমতা): দুর্নীতি দমনে ‘ন্যায়পাল’কে সরাসরি তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা।

৭৭. সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী সকল আইন (যেমন প্রেস কাউন্সিল আইনের বিতর্কিত ধারা) সংস্কার।

৭৮. ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ বাতিল করে নাগরিকের ডেটা সুরক্ষা ও প্রাইভেসি আইন করা।

৭৯. শক্তিশালী ‘জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন’ গঠন।

৮০. মানবাধিকার কমিশনকে (NHRC) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা প্রদান।

✔️ সামাজিক সুরক্ষা ও মনিটরিং

৮১. শ্রমিকদের জন্য ‘লিভিং ওয়েজ’ (সম্মানজনক ন্যূনতম মজুরি) নিশ্চিত করা।

৮২. নদী ও বন রক্ষায় কঠোর পরিবেশ আইন ও পরিবেশ আদালতকে শক্তিশালী করা।

৮৩. সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা বন্ধ ও ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ’ নিশ্চিত করা।

৮৪. ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ (OGP)-এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

08/02/2026

গণভোট কী, বাংলাদেশের গণভোটের ইতিহাস এবং ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের আইনি ভিত্তি

Address

IslamNagar, Gollamari
Khulna
9204

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv. Helal Azim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share