Stamford law Department Forum.

Stamford law Department  Forum. Welcome to Stamford University Bangladesh

Our heartiest welcome to you for your decision to be a student of Stamford's LL.B. Program. Stamford Univers.

Law Education is a free, secular and non-political page for spreading and sharing legal knowledge. This page is helpful for general conscious people, lawyer, judge, law student, law teacher, researcher, columnist and people participating in advocateship, judicial service and other contesting exams. We mainly focus on existing Bangladeshi laws. We also highlight on contemporary international laws.

You are cordially invited to join and share this page. We are asking for your constructive and positive views, comments, opinions and suggestions regarding legal issues. Please, don’t post or tag or share any advertise. You are also requested not to post or tag or share any political and porn article, comment, opinion, view, picture, link and item. Otherwise, we will take necessary legal steps. We are at your service and we need your cooperation.

21/05/2025
Lest trila er din class
04/02/2015

Lest trila er din class

27/11/2013

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা
০৭ : ২৩ অপরাহ্ন No Comments

garments_lawবিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য নিরূপণ করে আইনি প্রতিকার দেয়া। কিন্তু আদালতে প্রতিকার পাওয়া একটা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ব্যাপার। তাই সমাজে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো অনেক অপরাধের প্রতিকার পেতে অনেক সময় আদালতে যাওয়া বাস্তবসম্মত হয় না। যেমন কারো একটা ছাগল হারানো গেলে তার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া কোনো যুক্তিসঙ্গত কাজ হবে না। কারণ আদালতের ফি ও আইনজীবীর খরচ গুনতে গুনতে তার দশটা ছাগলের পয়সা ফুরাবে। কিন্তু এসব অপরাধকে আবার বিনা বিচারে যেতে দেয়াও ঠিক হবে না। পৃথিবীর বয়স যতদিন, মানুষে মানুষে বিরোধের বয়সও ততদিন। মানব সভ্যতার শুরু থেকেই বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পন্থা মানুষ আবিষ্কার করেছে। এর মধ্যে পক্ষগণ কর্তৃক আদালতের বাইরে বা আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, এ প্রক্রিয়াকে এডিআর (ADR ev Alternative Dispute Resolution) বলা হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা প্রধানতঃ ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত বিচার ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। সেসময়ের প্রবর্তিত আইনসমূহু হুবুহু বা কতিপয় পরিবর্তণ সাপেক্ষে এখনও আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। আমাদের আইন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারেনি। সে কারন প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে অনেক পিছিয়ে রেখেছে।

বিরোধ নিষ্পত্তিঃ
বিরোধী বিষয় বলতে এমন একটি ঘটনাকে বুঝায় যা এক পক্ষ কর্তৃক দাবী করা হয় এবং অপর পক্ষ তা অস্বীকার করে ও উভয় পক্ষই তাদের দাবীর সমর্থণে কতিপয় যুক্তি উপস্থাপন করে। অন্যভাবে বলা যায়, A dispute is a problem to be solved, together, rather than a combate to be won.
তবে বিরোধ নিষ্পত্তি বলতে এমন একটি বিষয় বুঝানো হয় যা পক্ষগণ একত্রে সমাধা করে এবং যা আদালতে মোকদ্দমা দায়েরের মাধ্যমে জয় লাভের প্রত্যাশায় করা হয় না। এটা শান্তিপূর্ণভাবে পক্ষগণ কর্তৃক মীমাংসিত হয়ে থাকে।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি একটি লাভভিত্তিক, ভবিষ্যৎ দৃষ্টি, পারষ্পরিক সম্পর্ক পুণঃপ্রতিষ্ঠা, শত্র“তার অবসান, ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগা সহ উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়।
আপোষ নিস্পত্তির বিষয়ে পবিত্র কোরআন শরীফে বলা হয়েছে, “মন্দের প্রতিফলন মন্দ, আর যে ক্ষমা করে দেয় ও আপোষ নিষ্পত্তি করে তার পুরুস্কার আল্লাহর কাছে। আল্লাহ সীমা লংঘনকারীদের পছন্দ করে না।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯এ, ৮৯বি, ৮৯সি ধারায়, অর্থঋণ আদালত আইনের পঞ্চম অধ্যায়, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশসহ কিছু আইনে বর্ণিত হয়েছে।
আবার দেওয়ানি মামলায় একটি পর্যায়ই হলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, যা প্রতিটি পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত অনুরূপ বিধান চালু হয়নি। তবে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় সীমিত আকারে অনুরূপ আপস-মীমাংসার বিধান রাখা হয়েছে। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় কিছু অপরাধের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর কিছু অংশকে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এবং কিছু অংশ আদালতের অনুমতি ছাড়াই আপস নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। ওই অপরাধগুলো খুব ছোটখাটো প্রকৃতির। মারামারি, বাসগৃহে চুরি, মানহানি ইত্যাদি।
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় বর্ণিত বিধান ছাড়া অন্য কোথাও আপস-মীমাংসার বিধান খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। তবে কিছু বিশেষ আইনে (Special Law) আপস-মীমাংসার সুযোগ আছে। যেমন- যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০। এ আইনের ৮ ধারায় বলা আছে, এই আইনের অধীন প্রতিটি অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং মীমাংসাযোগ্য হইবে।

একটি জ্বলন্ত উদাহরণঃ
সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী। যৌতুকের একটি মামলার সাক্ষ্যপর্ব চলছে। মেয়েটি তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন। মেয়েটির অভিযোগ, স্বামী তার সন্তানকে অস্বীকার করেছে। অপবাদ দিচ্ছে এ সন্তান তার না। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের কারণে নানাভাবে অত্যাচার করছে। নিরুপায় হয়ে যৌতুকের ও সন্তানের ভরণপোষণ চেয়ে মামলা করেছে আদালতে। মেয়েটির নাম রহিমা (ছদ্মনাম)। মাঝারি গড়নের, চিকন ও ফরসা। ডাগর ডাগর দুটি চোখ জুড়ে যেন সরলতার প্রতিচ্ছবি। ওই দুটি চোখই বলে দেয়, তার হৃদয়ের গহীনে জমে থাকা যন্ত্রণার ঢেউ।
২০০৮ সালে। পারিবারিকভাবেই রহিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সে রহিমাকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যায়নি। প্রথমে শুধু কাবিন করলেও পরে আর তুলে নেয়নি। এরই মাঝে রহিমার কোল জুড়ে আসে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। ছেলেটিকে সম্বল করেই বেঁচে থাকা রহিমার।
২০১০ সালে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে রহিমা। মামলার পরই স্বামী তালাক দেয় রহিমাকে। আসলে রহিমাও তালাক চাচ্ছিল। কারন বিয়ের পর তার প্রয়োজন মেটাতেই আসত। আর বাচ্চা হওয়ার পর তো একদমই খোঁজ নিত না। রহিমার বিয়ের দেনমোহর পাঁচ লাখ টাকা। দেনমোহর ও সন্তানের খোরপোষ, অভিভাবকত্ব চেয়েও পারিবারিক আদালতে মামলা করেছে। রহিমার কোলে তার ছেলের চেহারাটা কত মায়াবী, চোখ দুটি ছলছল করছে, বাবার আদর-যতœ থেকে বঞ্চিত চেহারাটা। ছেলেটি বোবা হয়ে আছে যেন বাবা ডাকার জন্য।

যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০ এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি যৌতুক দাবি করে তাহলে দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত যা কোনোভাবেই এক বছরের নিচে নয় জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবি করে পারিবারিক আদালতে প্রতিকার চাইতে হয়। দেনমোহরের টাকা অবশ্যই স্ত্রীকে দিতে হবে। তালাক কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত এবং ইদ্দতকাল পর্যন্ত অবশ্যই স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে হবে। তালাক হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে দেনমোহরের জন্য মামলা করতে হয়। সহকারী জজ আদালতগুলো পারিবারিক আদালত হিসেবে বিচারকাজ করে থাকেন। উপরোক্ত মামলাটি অবশেষে পক্ষগণ কর্তৃক আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন শরীফের সুরা নিসার ১২৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর কাছ থেকে থেকে দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষিত হওয়ার আশংকা করে, তবে তারা আপোষ নিষ্পত্তি করতে চাইলে তাতে কোন দোষ নেই। আপোষ করা তো ভাল।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া। আর এর মাধ্যমে রাষ্ট্র দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করতে চায়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ভুয়া মামলা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক মামলা করার অনেক নজির আছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বাদী অনুরূপ মামলা করে থাকে। পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনুরূপ দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। তা ছাড়া পুলিশ প্রতিবেদনও সব সময় সঠিকভাবে দাখিল করা হয় না। পুলিশ বিভাগে আলাদা তদন্ত সেল না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ অফিসারকে তাড়াহুড়া করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। এতে ত্রুটি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
সব দেওয়ানি মামলায় যেমন এডিআর সম্ভব নয়, তেমনি সব ফৌজদারি মামলায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে না। কারণ এতে অপরাধীদের মনে ভয়ভীতি থাকবে না, বরং অপরাধ করে মীমাংসার সুযোগ থাকায় অপরাধ প্রবণতা আরো বেড়ে যেতে পারে। তবে এমন কিছু মামলা আছে, যা আসলেই মীমাংসা হওয়া দরকার। যেমন যৌতুক মামলা, পারিবারিক মামলা ইত্যাদি। তাহলে আদালতে মামলার চাপ কমবে।

লক্ষ্য করা যায়, আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবীরাও অনেক ক্ষেত্রে মামলা মীমাংসার পক্ষপাতী থাকেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাক্ষীর কাঠগড়ায় স্বামী, আসামির কাঠগড়ায় স্ত্রী বা সাক্ষীর কাঠগড়ায় বাবা, আসামির কাঠগড়ায় ছেলে। এরূপ ক্ষেত্রে পক্ষদ্বয় যদি আসলেই সমঝোতা চায়, আদালত অনেক বিষয় চিন্তা ও বিবেচনা করে বিকল্পভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে থাকেন। যৌতুক মামলার ক্ষেত্রে ফরিয়াদির অনেক সময় এ রকম উদ্দেশ্য থাকতে পারে আসামিকে জেলের ভাত খাওয়াব। আবার কিছুদিন পরে সেই মামলাটিতেই পক্ষদ্বয় আপস করতে চায়। আসল কথা হলো, কোন কোন মামলায় আপস নিষ্পত্তি হওয়া দরকার, এর একটা স্পষ্ট নীতিমালা থাকলে বিচারকাজ সহজ হয়। এডিআর বিষয়ে ভবিষ্যতে আইন প্রণয়নের সময় এ বিষয়টি চিন্তা করা উচিত।

27/11/2013

দেওয়ানী মামলা পরিচালনার পর্যায়ক্রমিক স্তর ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

Violation Case
ভূমি ও দেওয়ানী মামলা একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখন কোন ব্যক্তির সম্পত্তির বা ভূমির বৈধ অধিকারের উপর আঘাত আসে তখন সে তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেওয়ানী মামলা করে। ব্যক্তির বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়ানী আদালতের। আমাদের দেশের ৮০ ভাগ মামলাই হয় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে। জমির স্বত্ব, দখল, অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দেওয়ানী মামলার সূত্রপাত ঘটে। সময়মত রেজিস্ট্রেশন, মিউটেশন, খাজনা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, বেনামী লেনদেন এবং সিলিং অতিক্রান্ত জমি নিজের দখলে রাখার কারণেও মামলা-মোকদ্দমার উদ্ভব হয়। আমরা একটু সচেতন হলেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ কমে আসতে পারে।

দেওয়ানী মামলা বলতে আমরা যা বুঝি:
সম্পত্তির উপর স্বত্ব এবং দখলের অধিকার নিয়ে অংশীদার বা অন্য কোন ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সেই বিরোধের বিষয়ে যে মামলা হয়, তাকে দেওয়ানী মামলা বলা হয়। এই বিরোধ নিরসনের দায়িত্ব দেওয়ানী আদালতের উপর ন্যস্ত থাকে।
সম্পত্তি বলতে ঐ সকল জিনিসকে বুঝায়, যা কোন ব্যক্তি মালিকানা সূত্রে পেতে পারে। সম্পত্তি স্থাবর, অস্থাবর, দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান, যৌথ ও একক হতে পারে। যে কোন প্রকার সম্পত্তি নিয়ে যে মামালা হয় তাকে দেওয়ানী মামলা বলে। কোন পদের অধিকার বা মর্যাদার অধিকারকেও দেওয়ানী বিষয় বলে। পিতা-পুত্রের সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা হতে পারে। পূজা বা প্রার্থনার অধিকার, মসজিদে নামায পড়ার অধিকার, রাস্তা দিয়ে ধর্মীয় মিছিল পরিচালনা করার অধিকার নিয়ে দেওয়ানী মামলা করা যেতে পারে। সাধারণভাবে সকল প্রকার স্বত্ব, অধিকার, দাবী প্রভৃতি মামলার বিচার দেওয়ানী আদালত করতে পারে।

ফৌজদারী আদালতে যেসব বিষয় নিয়ে মামলা হয় সেইসব বিষয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা চলে না। ফৌজদারী আদালতের সম্পত্তির স্বত্ব সম্পর্কে বিচার করার কোন অধিকার নেই, সেই অধিকার কেবলমাত্র দেওয়ানী আদালতের। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ধানকাটা নিয়ে আমাদের দেশে প্রচুর মামলা হয়। বাদী অভিযোগ করে যে, বিরোধীয় জমিতে তিনি ধান লাগিয়েছিলেন এবং আসামী ঐ ধান চুরি করে কেটে নিয়ে গেছে। অপরদিকে আসামী এসে বলে যে, বিরোধীয় জমিটি তার, তিনি ধান লাগিয়েছিলেন এবং কেটে নিয়ে গেছেন। এই ফৌজদারী মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট শুধু কে লাগিয়েছিলেন তা দেখবেন, জমির স্বত্বের প্রশ্নের দিকে তিনি তাকাবেন না। স্বত্বের মীমাংসা করতে হলে দেওয়ানী আদালতে যেতে হবে। রাজস্ব আদালত ফৌজদারী আদালত বা বিশেষ আদালতে যে সমস্ত মামলার বিচার হবে বলে আইনে নির্দেশ রয়েছে, সেই সমস্ত মামলা দেওয়ানী আদালতে বিচার করা যাবে না।

মামলার কারণঃ
মামলার কারণ বলতে ঐ সকল অভিযোগ এবং দাবিকে বুঝায়, যে সকল অভিযোগ এবং দাবীর উপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের করা হয় এবং যা বাদীর আদালতে শরণাপন্ন হওয়ার দাবীকে প্রতিষ্ঠিত করে। মামলায় ডিক্রী লাভ করার জন্য বাদীকে এরূপ প্রমাণ করতে হয় যে, উক্ত মামলা দায়ের করার ব্যাপারে তার বৈধ অধিকার রয়েছে। বাদী তার অধিকার প্রমাণ করে ডিক্রী লাভের যে সকল অবস্থা ও তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করে, তাকেই দেওয়ানী আইনে কজ অব একশন বা মামলার কারণ বলা হয়ে থাকে।

মামলার পক্ষঃ
দেওয়ানী আদালতে যে পক্ষ মামলা দায়ের করে, তাকে মামলার বাদী বলা হয় এবং যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে বিবাদী বলা হয়। দেওয়ানী মামলায় এক ব্যক্তি বাদী হতে পারে বা একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে বাদীরূপে মামলা পরিচালনা করতে পারে। একইভাবে এক বা একাধিক ব্যক্তি কোন মামলার বিবাদী হতে পারে।

মামলা দায়ের ও আরজি গ্রহণঃ
দেওয়ানি মামলা শুরু হয় আরজি গ্রহণের মাধ্যমে। বাদী তার মোকদ্দমার বর্ণনা ও প্রতিকার আরজিতে উল্লেখপূর্বক প্রয়োজনীয় কোর্ট ফিসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে মোকদ্দমাটি দায়ের করবেন। দেওয়ানি আদালতের সেরেস্তাদার বা তাঁর অনুপস্থিতিতে সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত কর্মকর্তা মামলার আরজি গ্রহণ করে আরজির গায়ে বা এর সঙ্গে যুক্ত অর্ডারশিটে বা স্লিপে মামলার ফাইলিং নম্বর লিখবেন। যেমন দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৩৫/২০১১ ইং (এর অর্থ হলো ওই আদালতের ২০১১ সালে ১৩৫ নম্বর দেওয়ানি মামলা)।

এরপর সেরেস্তাদার অর্ডারশিটটি আলাদা করে, সিলমোহর লাগিয়ে যিনি আরজি উপস্থাপন করবেন তাঁর কাছে ফেরত দেবেন। এরপর আরজির সঙ্গে দাখিল হতে পারে, এমন সব কাগজপত্রে মামলার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। সেরেস্তাদার আর-১২ নামক ফাইলিং রেজিস্টারে (যাকে স্যুট রেজিস্টারও বলা হয়) আরজির বিষয়বস্তু ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করবেন। সাধারণত যেদিন আরজি গ্রহণ করা হয়, সেদিনই তা নিবন্ধন করা হয়।
সেরেস্তাদার আরজি পরীক্ষা করে আরজির প্রথম পৃষ্ঠার বাঁ প্রান্তের উপরিভাগে স্ট্যাম্প পর্যাপ্ত হয়েছে কি না তা লিখবেন। অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প থাকলে তাও উল্লেখ করবেন এবং বাকি স্ট্যাম্প আদায়ের পর দ্বিতীয়বার তা উল্লেখ করে প্রত্যয়ন করবেন। ২১ দিনের মধ্যে বাকি স্ট্যাম্প দিতে হবে। এভাবে একটি দেওয়ানি মামলা করা হয়।

আরজি ফেরত বা প্রত্যাখান
আরজি ফেরত বা প্রত্যাখ্যান হওয়া উচিত মনে করলে সেরেস্তাদার তা বিচারকের কাছে উপস্থাপন করবেন। বিচারক আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কোনো কারণে আরজি সঠিকভাবে মূল্যায়িত না হলে তা সংশোধনের জন্য পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যার সময়সীমা ২১ দিন।
\

সমন জারি
একটি মামলা দায়েরের পরের ধাপ সমন জারি। সমন দু’ভাবে জারি করা হয়। আদালতে জারিকারকের (পদাতিক) মাধ্যমে এবং আদালতের সেরেস্তা কর্তৃক ডাকযোগে। সমনের সঙ্গে মামলার আরজি, বাদীর ফিরিস্তিযুক্ত কাগজের কপি (আরজির বিষয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কাগজপত্র, যা আরজির দাবিকে সমর্থন করে), ওকালতনামা, তলবনামা (বিবাদীর নামীয় সমন জারির ক্ষেত্রে সরকারকে দেওয়া কোর্ট ফি) দাখিল করতে হয়। মামলার সমন বিবাদী সরাসরি গ্রহণ করলে তা সরাসরি জারি হিসেবে গণ্য হবে। আদালতের জারিকারক যখন বিবাদীর ওপর সমন জারির জন্য যাবেন, তখন সমন নোটিশের অপর পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দুজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির স্বাক্ষর বা টিপসই নেবেন। সাধারণত সমন বিবাদীর ওপর ব্যক্তিগতভাবে জারি হতে হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির ওপর সমন জারি হতে হবে। যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি পাওয়া না যায়, তবে পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ-সদস্যের ওপর জারি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভৃত্য পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য হবে না (দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-৫, নিয়ম-১২ ও ১৫)। বিবাদী বা তাঁর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি বা তাঁর পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাওয়া না গেলে বা সমন গ্রহণ না করলে বিবাদীর বাসগৃহের বহির্দ্বারে বা অন্য কোনো প্রকাশ্য স্থানে লটকে সমন জারি করতে হবে (দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-০৫, নিয়ম-১৭)। এ ক্ষেত্রেও জারিকারক সমন নোটিশের অপর পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দুজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির স্বাক্ষর বা টিপসই নেবেন। সাময়িক অনুপস্থিতিতে বিবাদীর বাসগৃহের বহির্দ্বারের সামনে সমন লটকিয়ে জারি করা যুক্তিসংগত নয়। যদি ওই বিবাদীকে তাঁর বাসগৃহে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পুনরায় তাঁর বাড়িতে সমন জারি করতে হয়। জারিকারক সমন জারি ফেরত দিলে নাজির যথাসম্ভব দ্রুত ও কমপক্ষে মামলার ধার্য তারিখের দুই দিন আগে সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত দেবেন। অপরদিকে ডাকযোগে পাঠানোর পর ডাক রসিদ (অ্যাকনলেজমেন্ট ডিউ) থাকলে এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এডি (ডাক-সমন) জারি হিসেবে গণ্য হবে। বিবাদী একের অধিক হলে প্রত্যেকের প্রতি সমন জারি হতে হবে। এ ছাড়া সমন সংশ্লিষ্ট জেলার নেজারত বিভাগের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

জবাব দাখিল
সমন জারি অন্তে ফেরত আসলে এই পর্যায়ে বিবাদী পক্ষের জন্য জবাব দাখিলের জন্য তারিখ ধার্য্য হয়ে থাকে। বিবাদী মামলা প্রথম শুনানির তারিখে বা এর আগে বা আদালতের অনুমোদিত সময় দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবেন (দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-০৮, নিয়ম-০১)। তা না হলে মামলাটি একতরফাভাবে শুনানির জন্য নির্ধারিত হবে। তবে দেওয়ানি কার্যবিধি ৮০ ধারার নোটিশ জারি না হলে সরকার জবাব দাখিলের জন্য তিন মাস সময় পাবে। বিবাদী যদি তাঁর দাবির সমর্থনে কোনো দলিলের ওপর নির্ভর করেন, তবে তা ফিরিস্তিসহ দাখিল করবেন।

প্রতিদ্বন্ধিতাবহির্ভূত শুনানি:
প্রথম শুনানির তারিখে যদি দেখা যায়, মামলার পক্ষদের মধ্যে কোনো বিরোধীয় বিষয় নেই, তবে তা অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মামলা মুলতবি করার কোনো সুযোগ নেই।

ইস্যু গঠন
মামলার প্রথম শুনানির তারিখ বা জবাব দাখিলের তারিখের মধ্যে যেটি পড়ে, তা থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ইস্যু গঠন করতে হবে (দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ-১৪, নিয়ম-০১)। যেসব বিরোধীয় বিষয়ের ওপর মামলা নিষ্পত্তি হবে, সেসব বিষয়বস্তু নিয়ে ইস্যু গঠন করা হবে।

৩০ ধারার তদবির
এই পর্যায়ে মোকদ্দমার কোন কাগজপত্র বা দলিলাদী দাখিল করতে চাইলে সেগুলো দাখিলের জন্য তারিখ ধার্য্য হয়। সাধারণত ইস্যু গঠনের পর কোনো তদবির আছে কি না, এর জন্য এ পর্যায়টি রাখা হয়। ইস্যু গঠনের ১০ দিনের মধ্যে বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে অন্য পক্ষকে লিখিত প্রশ্ন দাখিল করতে পারবে। তবে একটি পক্ষ একবারই প্রশ্ন দাখিল করতে পারবে (আদেশ-১১, বিধি-০১)। অন্য পক্ষকে এফিডেভিটের মাধ্যমে ১০ দিনের মধ্যে প্রশ্নোত্তর দাখিল করতে হবে (আদেশ-১১, বিধি-০৮)।

চূড়ান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারণ
ইস্যু গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত শুনানির তারিখ ধার্য (এডি) করতে হয় (আদেশ-১৪, নিয়ম-০৮, দেওয়ানি কার্যবিধি)

চূড়ান্ত শুনানি
চূড়ান্ত শুনানির (পিএইচ) তারিখ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ করতে হয় (আদেশ-১৮, নিয়ম-১৯, দেওয়ানি কার্যবিধি) চূড়ান্ত শুনানি (পিএইচ) ও পরবর্তী চূড়ান্ত শুনানি (এফপিএইচ) পর্যায়ে বিচারক জবানবন্দি, জেরা, দলিলাদি গ্রহণ করবেন এবং যুক্তিতর্ক শুনবেন।

রায় ঘোষণা
মামলা শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর অনধিক সাত দিনের মধ্যে আদালত রায় ঘোষণা করবেন (আদেশ-২০, বিধি-১১, দেওয়ানি কার্যবিধি)।

ডিক্রি প্রদান
রায় ঘোষণার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ণ করতে হবে (আদেশ-২০, নিয়ম-০৫, দে.কা.বি.)।
এ ছাড়া মামলার যে কোনো পর্যায়ে দুই পক্ষই আরজি, জবাব সংশোধন, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, স্থানীয় পরিদর্শন ও স্থানীয় তদন্তের জন্য আদালতে দরখাস্ত দিতে পারবে। মামলার জবাব দাখিলের পর প্রতিদ্ধন্ধীতাকারী পক্ষরা যে কোনো সময় আপস-নিষ্পত্তির জন্য আদালতের মধ্যস্থতায় বা আদালতের বাইরে বসতে পারেন। দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯(ক) ধারা মোতাবেক আপস-নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে, যা এডিআর নামে পরিচিত।

আপীলঃ
আদালতের রায়ে কোন পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপীল করতে পারে।

দেওয়ানী মামলা কোন আদালতে দায়ের করতে হয়?
আইনসংগতভাবে বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য আদালতের সৃষ্টি। কোন আদালতে কোন মামলার বিচার হবে তা তিন ভাবে ঠিক করা হয়। যথা- আর্থিক এখতিয়ার, আঞ্চলিক এখতিয়ার এবং বিষয়বস্তুভিত্তিক এখতিয়ার।

১) আর্থিক এখতিয়ার
যেই বিষয় বা সম্পত্তি নিয়ে মামলা, সেই বিষয় বা সম্পত্তির মূল্য অনুসারে আদালতের বিচারের অধিকার নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের দেওয়ানী আদালতে সকল জেলায় কয়েকটি স্তর আছে। সর্বনিম্নে সহকারী জজ, তার উপর সিনিয়র সহকারী জজ, এর উপর যুগ্ম জেলা জজ এবং সবচেয়ে উপরে জেলা জজ। এই আদালতগুলো বিচারের ক্ষমতা টাকার অংক দ্বারা নির্দিষ্ট করা আছে।

সূতরাং নিয়ম হলো-বিচার করার আর্থিক ক্ষমতা সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

২) আঞ্চলিক এখতিয়ার
সম্পত্তি যে এলাকার সীমারেখার মধ্যে অবস্থিত, সম্পত্তি বিষয়ক মামলা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে। স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, বাটোয়ারা, রেহেন পরিশাধ, স্বত্ব নির্ণয় এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা সাধারণত ঐ সম্পত্তিটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার আদালতে করতে হবে। ক্রোকাবদ্ধ বা আটক অস্থাবর সম্পত্তির মামলা একইভাবে যে এলাকার আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে সম্পত্তিটি ক্রোকাবদ্ধ বা আটক অবস্থায় অবস্থিত সেই আদালতে দায়ের করতে হবে। বিভিন্ন আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তির মামলা উক্ত স্থাবর সম্পত্তির অংশবিশেষ যে আদালতের এলাকায় অবস্থিত সেই আদালতে দায়ের করা যেতে পারে।

৩) বিষয়বস্তুভিত্তিক এখতিয়ার
অনেক সময় মামলার বিষয়বস্তু অনুযায়ী আদালতের এখতিয়ার নির্ধারিত হয়ে থাকে। যেমন-মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য যাই হোক না কেন পরিবার বিষয়ক সব মামলা পারিবারিক আদালতের দায়ের করতে হয়।

27/11/2013

মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় এনজিও

বিডিলনিউজঃ

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) বা অলাভজনক সংস্থার (এনপিও) লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্টদের তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানাতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সব সদস্য বা গ্রাহক, তাদের সঙ্গে লেনদেনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। বিএফআইইউয়ের প্রয়োজনে এসব তথ্য দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। তা না হলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নিতে পারবে বিএফআইইউ। এর আগে এ দুটি আইনে এসব প্রতিষ্ঠানকে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

27/11/2013

ইউকে ভিসা নিয়ম-কানুন

UK visaবাংলাদেশ থেকে প্রতিদিনই ইউকে যাওয়ার জন্য অসংখ্য আবেদন পত্র জমা পড়ে। অনেকে ভিসা প্রাপ্তিতে সফল হন, অনেকে হন না। তো কিছু কৌশল দেখে নিন। এগুলো অনুসরণ করলে ভিসা পাওয়া যায়, অন্যথায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। মূলত তিনটি আইন দ্বারা ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

1) UK Immigration Act

2) UK Migration & Refugee Protection Act

3) UK Data Protection Act

ইউকে ভিসা কানুন সমূহঃ

যে ঘোষণা অনুসমর্থন করে ইউকে ভিসার জন্য আবেদন পত্র দাখিল করতে হয়-

১/ যে ছবিখানা সংযুক্ত করা আছে, তা প্রকৃত অর্থে প্রার্থীর।

২/ আবেদন করা কালীন যে কোন কার্যকর তথ্য পরিবর্তন ঘটলে তা ইউকে কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত করতে হবে।

৩/ ইউকে অভিবাসন আইন, ১৯৭১ অনুসারে- ভিসা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা সত্য গোপন করা গুরু অপরাধ।

৪/ যে কোন কাগজপত্র মিথ্যা প্রমাণিত হলে ইউকে গমন ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারে, কিংবা ভিসা প্রার্থীর নাম কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে।

৫/ ইউকে অভিবাসন আইন ভঙ্গ করলে একই মাত্রার শাস্তি হতে পারে।

৬/ আবেদনপত্রের সাথে জমাকৃত কাগজপত্রের সততা নিরূপণে ইউকে কূটনৈতিক মিশন যে কোন যাচাই বাছাই এর ক্ষমতা রাখে।

৭/ ভিসা প্রসেস বাবদ প্রদত্ত অর্থ (১০,০০০ টাকা) আগেই কেটে নেওয়া হয়, কখনই তা ভিসা পাবার নিশ্চয়ক নয়।

৮/ আবেদনপত্রে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, প্রার্থীর ইউকে থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ রয়েছে। এবং তিনি ভ্রমণ শেষে যথাসময়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

৯/ ভিসা পাওয়ার আরেকটি পূর্বশর্ত হল, গমনকারী ইউকে অবস্থানকালে কোন অবস্থায় পাবলিক ফান্ড থেকে আর্থিক সাহায্য নিবে না, তা প্রমাণ করা।

১০/ ইউকে তথ্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৮ অনুসারে আবেদনকারীর সমস্ত প্রদত্ত তথ্য ইউকে বর্ডার এজেন্সী সংরক্ষণ করে রাখে। কোন কোন ক্ষেত্রে আইন অনুসারে সে তথ্যাবলী অন্য দেশের কূটনৈতিক মিশনেও তাদের চাহিদা মোতাবেক প্রদান করা হয়। সুতরাং, বুদ্ধিমত্তা হল, আবেদনপত্রে যে তথ্য দেওয়া হয়, পুরোটুকু নিজের কাছেও রেখে দেওয়া। নচেৎ, তথ্যের গরমিল হলে ভিসা প্রাপ্তি অনিশ্চিত। উল্লেখ্য, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া কম্পিউটারেও রাখা যায়, আবার ফরম ফটোকপি করেও রাখা যায়।

সাধারণত ভিসা প্রাপ্তি/ অপ্রাপ্তির সাথে টাকা ফেরত পাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। তবে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ৩ মাস ৭ দিনের মধ্যে লিখিত স্থগিত- অনুরোধ করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, স্থগিত অনুরোধ অবশ্যই বায়োমেট্রিক তথ্য (Biometric Data) প্রদানের পূর্বে এবং ভিসা প্রসেসিং শুরু হওয়ার আগে হতে হবে।

উল্লেখ্য, আবেদনকারীর সকল কাগজপত্র যে কোন স্থানে পরিহবহন বা হস্তান্তরের যাবতীয় ঝুঁকি বা দায়িত্ব ইউকে বর্ডার এজেন্সি বহন করে।

19/03/2013

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
আইন ও আমাদের পুলিশ!

আমরা সবাই জানি, জনগণের অর্থেই লালিত-পালিত হয় পুলিশ এবং পুলিশের সব ব্যয় জনগণের অর্থেই মেটানো হয়। ফলে মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও পুলিশের ওপরই বর্তায়। তাই, পুলিশ জনগণের বন্ধু, শত্রু নয়।

কিন্তু পুলিশ অনেক সময়েই সম্পূর্ণ বিপরীতমূখী ভূমিকা পালন করে থাকে, ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর পক্ষেই অবস্থান নিশ্চিত করে থাকে, জনগণের পক্ষে নয়। যারা সমাজে আইনের প্রয়োগ ঘটাবে, তারা নিজেরাই যদি আইন না মানে তবে সমাজে আইনের শাসন নয় বরং বেআইনি শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে বাধ্য।

সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় রোগ নিরাময়ের পূর্বশর্ত। তেমনি পুলিশের এই বেপরোয়া আচরণের যৌক্তিক কারণ খুঁজে বের করাও এ থেকে উত্তরণের প্রধান উপায়। ক্ষমতায় থাকাকালে প্রত্যেক সরকারই মনে করে পুলিশ দিয়ে বিরোধী দল পেটানোর জন্য পুলিশকে অখুশি করা যাবে না। কিন্তু তারাই যখন বিরোধী দলে যায়, তখন উল্টো পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়। এভাবে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে পুলিশের ব্যাবহার আদতে এ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষতিই করেছে। সবাই তাদের দলীয় স্বার্থে ব্যাবহার করে, কিন্তু তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি থাকে উপেক্ষিত।

পুলিশ কর্তৃক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ফলে জনগণের জানমালের ক্ষতি হলে পিআরবির ১৫৭নং রেগুলেশন অনুযায়ী এতদিন নিরপেক্ষ তদন্তের বিধান ছিল।

৫ জুন ২০০৬ তারিখে জারিকৃত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (সভা, সমাবেশ, মিছিল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ওই বিধিমালার ১০নং বিধিতে পুলিশ কর্তৃক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার তথা গুলিবর্ষণ করা হলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত নয় বরং পুলিশি তদন্তের বিধান করা হয়েছে।

ওই বিধিমালা পুলিশকে মানুষ মারার যে লাইসেন্স দিয়েছে, তা বাতিল করা না হলে পুলিশ শুধু মানুষ মারবেই না, তা আইনসিদ্ধ বলেও অবলীলায় চালিয়ে দিতে থাকবে।

মেধাবী ছাত্র রুবেলকে পুলিশ নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে। হত্যাকারী পুলিশের কী হয়েছে, তা সবাই জানে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল। ওই তদন্ত কমিশন বিস্তারিত তদন্ত শেষে পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধকল্পে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম হল জেলা পর্যায়ে পুলিশের ওপর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ বাহিনীর ওপর অনুরূপ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ওই সুপারিশ আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

১৭৫৭ সালে বাংলার ক্ষমতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আসীন হয়ে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন করে জমিদারি প্রথা প্রচলন করে।

জমিদাররা প্রকারান্তরে খাজনা আদায় ও তার অংশ কোম্পানিকে প্রদানের দায়িত্ব ছাড়া তার জমিদারির হর্তাকর্তা শাসক হিসেবে উদ্ভূত হন।

১৮৫৭ সালে সিপাহী যুদ্ধের পর খোদ ব্রিটিশরাজ ভারত উপমহাদেশের ক্ষমতাভার গ্রহণ করেন। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ১৮৬২ সালে পুলিশ বাহিনী সৃষ্টি করে পুলিশের বিধি ও কার্যপ্রণালী ধারা প্রণয়ন করা হয়। ফলে জমিদারদের ক্ষমতায় কিছুটা ভাটা পড়লেও পুলিশের সহায়তায় তাদের আধিপত্য পূর্ণ মাত্রায়ই বজায় রাখতে সক্ষম হন।

প্রজাদের স্বার্থ কিছুটা সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় ব্রিটিশরাজ ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল টেন্যান্সী অ্যাক্ট পাস করেন।

ফলে জমিদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ও ব্রিটিশরাজের কাছে তাদের অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। খাজনা আদায়ের এবং প্রদেয় তদাংশ ব্রিটিশরাজকে পরিশোধ করার দায়িত্ব জমিদারদের থাকলেও খাজনা অনাদায়ের কারণে কাউকে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা জমিদারদের নেই।

এধরনের নানা অসুবিধার কথা ভেবে এবং ঔপনিবেশিক শাসন পাকাপোক্ত ও চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশরাজ ১৮৯৮ সালে ফৌজদারি আইন (অ্যাক্ট নং ৫, যা সিআরপিসি নামে পরিচিত), যা মূলত একটি কালো আইন পাস করেন।

উক্ত আইনের ৫৪ সেকশনে পুলিশকে ঢালাওভাবে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া বা কোনো ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত সন্দেহবশে কাউকে আদালতগ্রাহ্য অপরাধের জন্য গ্রেফতার করতে পারে সে ক্ষমতা দেয়া হয়।

বলা বাহুল্য যে, সিআরপিসি ১৮৯৮-এর শতবর্ষ আগে জন্ম হয়েছিল জনকল্যাণে নয়, বরং নির্দয় একটি আইন হিসেবে ঔপনিবেশিকতার স্বার্থসিদ্ধির প্রেক্ষাপটে।

শতবর্ষের বেশী হলেও এই নির্দয় একটি আইনের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আমাদের পবিত্র সংবিধানের বিধান প্রতিনিয়ত লংঘন হচ্ছে অথচ আমার সুশাসনের কথা বলছি। হাইকোর্ট বিভাগের গাইডলাইন সম্পর্কে অধিকাংশ জনগোষ্ঠী এখনও অজ্ঞ।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বা ৫৪ ধারায় যে কাউকে আটক, ১৬৭ ধারায় তথাকথিত স্বীকারোক্তি আদায়; অতঃপর অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়া, কল্পিত ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া এবং কর্তব্যরত অবস্থায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালানো এটা বাংলাদেশের প্রশাসনের নিত্ত-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হলে, আইনই হবে তার হেফাজতকারী।

তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও সম্পূর্ণই আইনের। এটাই মানবাধিকারের কথা।

কিন্তু আইন রক্ষাকারী বাহিনী তা করছে না। ৫৪ ধারায় ধৃত ব্যক্তিকে আইন বা আইন রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দেয়নি বা দিচ্ছে না।

Section 167: Injured accused: Where the police report states that the accused had injuries on his body it is the duty of the Magistrate to inquire as to how the accused received those injuries before remanding him back into police custody. If he does not do so and passes an order of demand automatically his conduct is lightly improper. [1982 PSC (SC-India)]

ধারা ১৬৭‍ঃ আহত আঘাতপ্রাপ্ত আসামীঃ পুলিশ অফিসারের প্রতিবেদনে যদি উল্লেখ থাকে যে, আসামীর শরীরে আঘাত রয়েছে সেক্ষেত্রে পুনরায় আসামীকে রিমান্ডে দেয়ার পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব হবে উক্ত আঘাত সম্পর্কে খোঁজ নেয়া উক্ত আঘাতসমূহ কীভাবে পেয়েছে সে সম্পর্কে তদন্ত করা। এক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি যান্ত্রিকভাবে এসব নিয়মাবলী অনুসরণ না করে রিমান্ড আদেশ দেন, তবে তার এরূপ আচরণ কিছুটা হলেও বেআইনী হবে।

Section 167: Detention of accused by the police beyond 24 hours without authority amounts to illegal detention. Court however to see the effect of such detention on any confession made by the accused and recorded. [16 DLR (HCD) 558]

ধারা ১৬৭‍ঃ যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া ২৪ ঘন্টার বেশি সময়কাল পুলিশ হেফাজতে আটক বেআইনী আটক বলে গণ্য হবে। এরূপ বেআইনী আটক থাকাকালীন সময়ে যদি কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকারোক্তি করেন এবং তা লিপিবদ্ধ হয় ঐ দোষ স্বীকারোক্তির প্রভাব সম্পর্কে আদালত তার সুতীক্ষ্ম দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন। [১৬ ডিএলআর (এইচসিডি) ২৬৫]

Under the provisions of section 167 CrPC it is imperative upon the police to forward the accused in person before the Magistrate and the Magistrate shall in exercise of his judicial discretion, pass the order of remand in presence of the accused so as to enable the accused know of the offences, to get assistance if necessary from his lawyers or friends and make objection against the order, place and period of Remand. [133 BKD (HC) 548]

ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারা বিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বশরীরে ম্যাজিস্ট্রেটরে সম্মুখে হাজির করানো পুলিশের উপর আবশ্যকীয় আদেশ রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে রিমান্ড আদেশ প্রদান করবেন। যাতে আসামী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পারেন। তার পক্ষে আইনজীবি কিংবা বন্ধু বান্ধবের সাহায্যের প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ করতে পারেন। রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। এছাড়া রিমান্ডের স্থান কিংবা সময়কাল সম্পর্কেও আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। [১৩ বিএলডি (এইচ সি) ৫৪৮]

১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এ দেশে সুশৃংখল পুলিশ বাহিনীর গোড়াপত্তন করে। এর আগে এ ধরনের কোন সুনির্দিষ্ট আইন ছিল না। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, পুলিশের বড়কর্তাদের এ আইনের ব্যাপারে বড়ই গাত্রদাহ।

কারণ হিসেবে তারা দেখিয়ে থাকেন এটি ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত। সন্দেহ নেই, এটি ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি। কিন্তু শুধু এ অজুহাতই কি ওটা বাতিলের জন্য যথেষ্ট? যদি তাই হয়, তাহলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অদ্যাবধি বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় মৌলিক আইন।

পুলিশের বড় কর্তাদের দাবি অনুযায়ী ওই আইনগুলোও বাতিল হওয়া দরকার, যেহেতু সেগুলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত। কিন্তু মুল কারণ ওই আইনের ৪ ধারা, যেখানে উল্লেখ রয়েছে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থেকে জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার ও অধীনস্থ অন্য অফিসাররা দায়িত্ব পালন করবেন।

১৯৭৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তৎকালীন সামরিক শাসক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সার্কুলারের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক জেলা পর্যায়ে পুলিশের এসপি ও অন্যান্য অফিসারের এসিআর অর্থাৎ বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন লেখার বিধান স্থগিত করেন। পুলিশ রেগুলেশন (পিআরবি) ১৯৪৩-এর ৭৫ক নং রেগুলেশন বলে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ওই এসিআর লিখতেন।

১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ৪ ধারার বিধানকে বাস্তবে কার্যকর করার জন্য পিআরবিতে এরকম বিধান করা হয়েছিল। পিআরবি একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আইনগত রূপ, যার দ্বারা পুলিশ বাহিনী তার সব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এটি ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ভিত্তিতে সৃষ্ট। সত্যিকার অর্থে পিআরবির সামান্য দু-একটি বিষয় ছাড়া অধিকাংশ বিষয় বাস্তবসম্মত এবং তা দেশ ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পিআরবি’র ৭৫ক নং রেগুলেশনের মাধ্যমে ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ৪ ধারার যে বাস্তবায়ন করা হতো, তা ১৯৭৫ সালের ১০ ডিসেম্বরে তৎকালীন সামরিক শাসকের হটকারী সিদ্ধান্তে অকার্যকর হয়ে যায়।

ফলে আইন থাকলেও এখন তার বাস্তবায়ন নেই। যারা সমাজে আইনের প্রয়োগ ঘটাবে, তারা নিজেরাই যদি আইন না মানে তবে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

20/02/2013
20/02/2013

মানবাধিকার কি?
সহজ ভাষায় মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের সহজাত অধিকার যা যে কোন মানব সন্তান জন্মলাভের সাথে সাথে অর্জন করে। মূলত যে অধিকার মানুষের জীবন ধারনের জন্য,মানুষের যাবতীয় বিকাশের জন্য ও সর্বপরি মানুষের অন্তরনিহিত প্রতিভা বিকাশের জন্য আবশ্যক তাকে সাধারনভাবে মানবাধিকার বলা হয়। জীবনধারণ ও বেঁচে থাকার অধিকার এবং মতামত প্রকাশের অধিকার,অন্ন বস্ত্র ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার,ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশগ্রহণের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে মানবাধিকার বলতে পারি।

20/02/2013

দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন 1882এর 122 ধারায় বলা হয়েছে কোন সম্পত্তি দাতা কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এর কোন পণ গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর করলে এবং গ্রহীতা বা তার পক্ষে কোন ব্যক্তি সেটি গ্রহণ করলে তাকে দান বা হেবা বলে।

দান বৈধ হওয়ার শর্তবলী:
1. দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
2. গ্রহীতা বা তার পক্ষ হতে দান গ্রহন (কবৃল) করা
3. দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান। দান গ্রহণের পূবেই গ্রহীতা মারা গেলে দান বাতিল হয়ে যাবে।

দানের উপাদানসমূহ
ক) দাতার জীবনকালের মধ্যে দান কার্য সম্পন্ন হতে হবে।
খ) দান গ্রহণের পূবে দাতার মৃত্য হলে দান বাতিল বলে গণ্য হবে।
গ) দানের সময় সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা ও দখল থাকতে হবে।
ঘ) দান স্বেচ্ছায় এবং পণবিহীন হতে হবে।
ঙ)দাতাকে সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন ও সাবালক হতে হবে।
চ) দান গ্রহীতা মানসিক ভারসাম্যহীন বা নাবালক হলে তার পক্ষে অভিভাবক দান গ্রহন করতে পারবেন।
ছ) মুসলিম আইন অনুযায়ী দাতা তার সমুদয় সম্পত্তি যে কাউকে দান করতে পারেন। তবে দায়ভাগ মতে একজন হিন্দু যাদের ভরণপোষণে আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত বব্যস্থা রাখার পর বাকী সম্পত্তি দান করতে পারেন।
জ) দখল হস্তান্তরের পুর্বে দান প্রত্যাহার করা যায়। দখল হস্তান্তরের পরে দান প্রত্যাহারের জন্য আদালতের ডিগ্রী লাগবে।

20/02/2013

কেউ যদি কোন শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে তাহলে কোন আইনের কোন ধারায় মামলা করা যায়?

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্য ‘‘শিশু আইন ১৯৭৪’’এর ৩৪ ধারায় মামলা করা যায়। সেখানে বলা হয়েছে যে,যার হেফাজতে কোন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে শারীরিক ক্ষতি,মানসিক বিকৃতির সম্মুখীন হয়,সে ব্যক্তি দুই বছরের কারাদন্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত- ২০০৩ এ বলা আছে,“যদি কোন ব্যক্তি মুক্তিপন আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে আটক করেন,তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন”।

Address

Dinajpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Stamford law Department Forum. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share