Smart Tax & Legal Solutions BD

Smart Tax & Legal Solutions BD Tax Problem? VAT Problem? We Solve It.

Income Tax • VAT • Business Legal Support
TIN, VAT Registration & Compliance
Corporate & Individual Tax Solution

📞 01637 803102 | 01795 653071

আয়কর রিটার্নে ১০ ভুল করলেই অডিট! আপনার নামও কি এনবিআরের তালিকায়আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অনেক করদাতাই মনে করেন, দায়িত্ব...
15/05/2026

আয়কর রিটার্নে ১০ ভুল করলেই অডিট! আপনার নামও কি এনবিআরের তালিকায়

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অনেক করদাতাই মনে করেন, দায়িত্ব শেষ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। রিটার্ন জমা দেওয়ার পরই শুরু হতে পারে নতুন ঝামেলা। কারণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নজর এখন রিটার্নের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে। সামান্য অসঙ্গতি, ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র কিংবা আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের গরমিল— যেকোনও কারণেই আপনার রিটার্ন চলে যেতে পারে নিরীক্ষা বা অডিটে।

এ বছর ইতোমধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে এনবিআর। সম্পূর্ণ অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ করবর্ষের রিটার্ন বাছাই করা হয়েছে। ফলে আগের মতো ‘পছন্দমতো’ কাউকে টার্গেট করার সুযোগ কমেছে বলে দাবি করছে এনবিআর। তবে করদাতাদের উদ্বেগ কমেনি। কারণ, একবার অডিটে পড়লে কর অফিসে বারবার যাওয়া, নথিপত্র জমা দেওয়া, শুনানিতে হাজিরা এবং দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক রিটার্নের মধ্য থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বা সন্দেহজনক রিটার্নগুলো শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করছে এনবিআর।

কোন ভুলে অডিটে পড়তে পারেন: কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রিটার্নের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব আর্থিক লেনদেনের মিল আছে কিনা।

বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব, উৎসে কর কর্তনের তথ্য, ব্যবসায়িক লেনদেন, সম্পদ ও বিনিয়োগের হিসাবের সঙ্গে রিটার্নের তথ্য না মিললে করদাতা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

কর কর্মকর্তারা যেসব বিষয় বেশি খতিয়ে দেখছেন:

আয়-ব্যয়ে অসঙ্গতি

রিটার্নে কম আয় দেখিয়ে বেশি ব্যয় বা সম্পদ দেখানো হলে তা সহজেই সন্দেহের তালিকায় চলে আসে। ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ব্যয়, গাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার তথ্য এখন সহজেই যাচাই করা যায়।

হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধি

আগের বছরের তুলনায় হঠাৎ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে গেলে তার উৎস জানতে চাওয়া হয়। বৈধ উৎস দেখাতে না পারলে কর জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ব্যবসায় অতিরিক্ত খরচ দেখানো:

অনেক ব্যবসায়ী কর কমাতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে লাভ কম দেখান। এমন অস্বাভাবিক খরচ এখন অডিটের অন্যতম কারণ।

উৎসে করের গরমিল:

চাকরি, ব্যাংক সুদ, ঠিকাদারি বিল বা অন্যান্য খাতে উৎসে কর কাটা হলেও রিটার্নে ভুল তথ্য দিলে তা ধরা পড়ে যায়।

অসম্পূর্ণ কাগজপত্র:

রিটার্নের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল, আয়-ব্যয়ের প্রমাণ, সম্পদের কাগজপত্র বা বিনিয়োগের তথ্য না থাকলে কর কর্মকর্তারা আপত্তি তুলতে পারেন।

হাতে অস্বাভাবিক নগদ টাকা:

অনেকেই রিটার্নে বিপুল পরিমাণ ‘ক্যাশ ইন হ্যান্ড’ দেখান। কিন্তু এর উৎস ব্যাখ্যা করতে না পারলে তা সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অস্বাভাবিক ঋণ বা দায়:

রিটার্নে বড় অঙ্কের ঋণ বা দায় দেখানো হলেও তার বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। না থাকলে প্রশ্ন উঠতে পারে।

সম্পদ গোপন করা:

জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি কিংবা অন্য কোনও সম্পদ রিটার্নে উল্লেখ না করলে পরে তা ধরা পড়লে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ভুল বিনিয়োগ তথ্য:

কর রেয়াত পেতে অনেকে অতিরিক্ত বা ভুল বিনিয়োগ দেখান। এসব তথ্যও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার রিটার্ন অডিটে পড়েছে কিনা জানবেন যেভাবে:

অনেক করদাতা বুঝতেই পারেন না তাদের রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে কিনা। এখন বিষয়টি জানা অনেক সহজ।

এনবিআরের ওয়েবসাইটে নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করদাতাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এক্সেল শিটে দেওয়া ওই তালিকায় নিজের টিআইএন নম্বর দিয়ে সহজেই খুঁজে দেখা যাবে নাম আছে কিনা।

প্রথম দফায় গত জুলাইয়ে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আরও ৭২ হাজার ৩৪১ করদাতার রিটার্ন বাছাই করা হয়েছে।

কর অফিস থেকে নোটিশ এলে কী করবেন:

সম্প্রতি করদাতাদের কাছে নোটিশ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। অনেককে রিটার্ন না দেওয়া, কর কম দেওয়া বা তথ্যের অসংগতির কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোটিশ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নোটিশ অবহেলা করবেন না:

কর অফিসের নোটিশকে হালকাভাবে নিলে একতরফা সিদ্ধান্ত হতে পারে। পরে বড় অঙ্কের কর, জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

পুরো নোটিশ বুঝে পড়ুন

কোন বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, কী তথ্য চাওয়া হয়েছে, কোন ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এসব আগে বুঝতে হবে।

সময়সীমা খেয়াল করুন

জবাব দেওয়ার শেষ তারিখ বা শুনানির দিন মিস করলে সমস্যা বাড়তে পারে।

প্রয়োজনীয় দলিল প্রস্তুত রাখুন

ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতন সনদ, সম্পদের দলিল, বিনিয়োগের কাগজপত্রসহ সব নথি গুছিয়ে রাখুন।

প্রয়োজনে সময় নিন

প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন হলে কর কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে সময় বাড়ানো যায়।

বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন

কর আইন জটিল মনে হলে অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবী বা ট্যাক্স কনসালট্যান্টের সহায়তা নেওয়া ভালো।

এখনও রিটার্ন দেননি? সুযোগ আছে, তবে বাড়বে খরচ

গত ৩১ মার্চ ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। তবে এখনও যারা রিটার্ন দেননি, তাদের জন্যও সুযোগ রয়েছে।

আগের দুই বছরের বকেয়া রিটার্ন এখনও জমা দেওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ গুনতে হবে। পাশাপাশি বেশ কিছু কর সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন করদাতারা।

কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিলম্বে রিটার্ন দিলে নির্ধারিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত এই সুদ আরোপ হতে পারে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়া যাবে না। সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে যে করছাড় দেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে সেই সুবিধা হারাতে হবে।

তবে যেসব করদাতা নির্ধারিত সময়ের আগে আবেদন করে সময় বাড়িয়েছেন, তাদের জরিমানা দিতে হবে না। তারা নিয়মিত করদাতার মতোই সুবিধা পাবেন।

কেন বাড়ছে নজরদারি

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত রিটার্ন দেন না। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নিতে বাধ্য হয়ে অনেকে টিআইএন নিলেও পরে রিটার্ন দাখিল করেন না।

এ কারণে করজাল বাড়াতে এবং কর ফাঁকি কমাতে এখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংক, ভূমি নিবন্ধন, গাড়ি নিবন্ধন, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন খাতের তথ্য ধীরে ধীরে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে। ফলে আয় গোপন করা বা সম্পদ লুকানো আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো সঠিক তথ্য দিয়ে নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়া এবং সব আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা। কারণ, ডিজিটাল নজরদারির এই যুগে আয়কর রিটার্নে ছোট ভুলও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নতুন মোড়কে ফিরছে সেই প্যাকেজ ভ্যাট২০২৬-২৭ অর্থবছরএক সময় প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখার জন্য রাস্তায় আন্দোলনে নামেন ব্যবসায়ীরা।...
15/05/2026

নতুন মোড়কে ফিরছে সেই প্যাকেজ ভ্যাট
২০২৬-২৭ অর্থবছর

এক সময় প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখার জন্য রাস্তায় আন্দোলনে নামেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মোড়কে ফিরে আসছে সেই প্যাকেজ ভ্যাট। নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা পাবে। এছাড়া আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আবেদন ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধন নিতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার কিছুটা বাড়ানো হলেও বিশেষ করে হার্টের রিং এবং ডায়ালাইসিসের টিউবে নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। এ ছাড়া যারা গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসায়ীদের জন্য বাজেটে মিলবে নতুন সুখবর। তবে বাড়ি নির্মাণ থেকে ছবি তোলায় বাড়তে পারে খরচ। আর এসব প্রস্তাবনা সামনের বাজেটে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ফলে প্যাকেজ ভ্যাট সিস্টেম বিলীন হয়ে যায়। আন্দোলন করে এক বছর পেছালেও পরে নতুন হারে ভ্যাট দিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন করে প্যাকেজ ভ্যাট সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে এনবিআর। এক্ষেত্রে ভ্যাট কমিশনারেটের প্রতিটি ডিভিশনের সার্কেলগুলোতে নতুন করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হবে, তাদের থেকে প্যাকেজ ভ্যাট আদায় করবেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। যদিও এনবিআর কর্মকর্তারা এই সিস্টেমকে প্যাকেজ ভ্যাট বলতে নারাজ। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে আগামী বাজেটে। বর্তমানে যে কেউ চাইলেই তৎক্ষণাৎ আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে পারেন। তবে ভ্যাটের নিবন্ধন নিতে হলে আবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই জটিলতা আর থাকছে না। যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) নিতে আর আবেদন করতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে বিআইএন নিতে পারবেন। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে বিআইএন নম্বর।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালবেলাকে বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট বা কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট বাড়ানো বা কমানো কোনো সমাধান না। এটা এক্সাইজ ডিউটির মতো হয়ে গেল বিষয়টা। ভ্যাটে বড় ধরনের রিফর্ম প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ভ্যাটের একটা স্ট্যান্ডার্ড রেটের দিকে যাওয়া এবং সংস্কার করা বেশি প্রয়োজন। এ ছাড়া ভ্যাটের বর্তমান বাস্তবতায় ক্রেডিট বা যে রিফান্ড ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। তাই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণ করতে ভ্যাটের রিফর্ম প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

সূত্র আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আপত্তির মধ্যেও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে কিছু ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম মেডিকেল সরঞ্জাম। আগামী অর্থবছরের বাজেটে হার্টের রিং এবং ডায়ালাইসিসের টিউবে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সহজলভ্য হতে পারে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সরঞ্জাম। একই সঙ্গে কমতে পারে দামও। তবে এই ক্ষেত্রে ভ্যাটে ছাড় দিলেও বাড়ি নির্মাণের অন্যতমও সামগ্রী রডের ক্ষেত্রে ভ্যাট কিছুটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে বাড়ি নির্মাণের খরচ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ছবি তোলার খরচও বাড়তে পারে। কারণ ফটোস্টুডিওর ভ্যাটের হার আগামী অর্থবছরে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে তৈরি পোশাক খাতের ঝুট ব্যবসায়ীদের জন্য বাজেটে আসতে পারে সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে জোগানদার হিসেবে ঝুট ব্যবসায়ীদের ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী বাজেটে এক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতির পরিকল্পনা করছে এনবিআর। আগামী বাজেটে তামাকে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে ব্যবসার ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সেই হিসেবে আগামী অর্থবছর থেকে ব্যাংকে ব্যবসায়িক হিসাব খুলতে লাগবে বিআইএন নম্বর। আর এ কারণে আগামী অর্থবছর থেকে বিআইএন সহজ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী চাইলেই অনলাইনের মাধ্যমে বিআইএন নম্বর নিতে পারবেন। আর নতুন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সহজ করতে প্যাকেজ ভ্যাট সিস্টেম চালু হচ্ছে। শুধু নতুন নিবন্ধনধারীরা এই সুবিধা পাবেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, ভ্যাটের নতুন নিবন্ধন থেকে শুরু করে ভ্যাট অব্যাহতি, ভ্যাটের সহজীকরণসহ প্রায় দশ ধরনের বিষয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করবেন এনবিআরের ভ্যাট অনুবিভাগের কর্মকর্তারা। আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার বাড়ানোসহ ভ্যাটের সার্বিক বিষয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। আর অর্থমন্ত্রীর অনুমতিসাপেক্ষে বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে বলেও জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না যেসব সেবা: - দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিন বা টিআইএনধারী আছেন। তাদের মধ্যে এ বছর ...
04/05/2026

টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না যেসব সেবা: - দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিন বা টিআইএনধারী আছেন। তাদের মধ্যে এ বছর সাড়ে ৪২ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দিয়েছেন। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া অনেক কাজ করা সম্ভব না। তাই টিআইএন নেওয়া জরুরি।
অনেকে কেবল সেবা নেওয়ার জন্য টিআইএন নিতে বাধ্য হন। তবে অনেক বছর শেষে রিটার্নও দেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন নেওয়া যায়।
টিএন সার্টিফিকেট কী?
উত্তর: টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) হলো একটি ইউনিক নম্বর, যা বাংলাদেশে করদাতাদের শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি করদাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হিসাবে কাজ করে এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতার আয়, কর পরিশোধ ও আর্থিক তথ্য সহজে বিশ্লেষণ করতে পারে।
টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন কাজ বা সেবা নেওয়া যাবে না। প্রায় ৪০ ধরনের কাজে টিআইএন প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হলো-
সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা পুনর্নিবন্ধন নিতে হলে টিআইএন লাগবে।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে টিআইএন থাকতে হবে। কারণ, টিআইএন ছাড়া এসব সম্পদ নিবন্ধন নেওয়া যাবে না।
গাড়ির মালিকদের টিআইএন লাগবে।
টিআইএন ছাড়া গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন- এসব হবে না।
ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনবিআরের নিবন্ধনভুক্ত যেকোনো পেশাজীবীর সনদ নিতে টিআইএন লাগবে।
যারা ঋণপত্র (এলসি) খোলেন বা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, তাদের টিআইএন লাগবে।
সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা দিতে টিআইএন লাগে।
টিআইএন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডধারীদের টিআইএন থাকতে হবে।
ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতেও টিআইএন দরকার হবে। আবার ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলে অভিভাবকের টিআইএন লাগবে।
ছোট-বড় ব্যবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন- মুঠোফোনের রিচার্জের ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস।
বেশ কিছু সেবা নিতে আপনার টিআইএন লাগবে। যেমন ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেওয়া, বীমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, কেম্পানির পরিচালক ও স্পনসর শেয়ারহোল্ডার, বিবাহ নিবন্ধনকারী বা কাজি, ড্রাগ লাইসেন্সধারী।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলেও টিআইএন থাকতে হবে।
জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকতে হবে।

29/04/2026

শতবর্ষ পেরিয়ে আয়কর: সহজ বাংলায় নতুন দিগন্ত
লেখকঃ
দ্বীন মহম্মাদ খাঁন
কর আইনজীবি
এলএল.বি, এমবিএ, বিবিএ

উপমহাদেশে কর ব্যবস্থার শিকড় প্রোথিত বহু প্রাচীনকালে। রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এ কর আদায়ের ধারণা পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে—রাজস্ব সংগ্রহ কোনো আধুনিক উদ্ভাবন নয়, বরং সুপ্রাচীন প্রশাসনিক বাস্তবতা। তবে আধুনিক কাঠামোর আয়কর ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয় ঔপনিবেশিক আমলে।

ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট ও আয়করের সূচনাঃ ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে উপমহাদেশে প্রথম আয়কর আইন প্রবর্তিত হয়। সিপাহী বিদ্রোহ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত প্রশাসন রাজস্ব বৃদ্ধির পথ খুঁজতে বাধ্য হয়। সেই প্রয়োজন থেকেই স্যার জেমস উইলসনের হাত ধরে আয়কর ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সূচনা।

পরবর্তী সময়ে ১৮৬৯, ১৮৮৬, ১৯১৮ এবং ১৯২২ সালে ধারাবাহিকভাবে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। এর মধ্যে ১৯২২ সালের আইনটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তা বহাল থাকে—যা এক অর্থে একটি ঔপনিবেশিক আইনের দীর্ঘস্থায়ীত্বের উদাহরণ।

স্বাধীনতা-পরবর্তী ধারাবাহিকতা ও সীমাবদ্ধতাঃ ১৯৮৪ সালে ‘আয়কর অধ্যাদেশ’ জারির মাধ্যমে ১৯২২ সালের আইন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলেও এর কাঠামোগত ধারাবাহিকতা রয়ে যায়। ফলে বাস্তবতায় কর ব্যবস্থার অনেক দিকই থেকে যায় প্রায় শতবর্ষ পুরোনো ধ্যান-ধারণার উপর নির্ভরশীল।

সময়ের সাথে সাথে অর্থনীতি যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, তেমনি কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হয়েছে স্বচ্ছতা, সরলতা এবং আধুনিকতার। বিশেষ করে আইনের ভাষা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা করদাতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন যুগের সূচনা, আয়কর আইন ২০২৩ঃ এই বাস্তবতা থেকেই প্রণীত হয় ‘আয়কর আইন, ২০২৩’, যা ২২ জুন সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী আইন বিলুপ্ত হয়ে একটি নতুন, আধুনিক কাঠামোর সূচনা ঘটে।

নতুন আইনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সম্পূর্ণ বাংলায় রচিত এবং সহজবোধ্যভাবে বিন্যস্ত। বিষয়ভিত্তিক ধারাগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে, ফলে করদাতা, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আইনটি বোঝা অনেক সহজ হয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণঃ একটি কার্যকর কর ব্যবস্থা শুধু রাজস্ব আহরণের মাধ্যম নয়, বরং এটি নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে। যখন আইন জটিল হয়, তখন করদাতারা নিরুৎসাহিত হন; আর যখন আইন সহজ ও স্বচ্ছ হয়, তখন স্বেচ্ছায় কর প্রদান করার প্রবণতা বাড়ে।

আয়কর আইন ২০২৩ সেই দিক থেকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এটি শুধু ভাষাগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি মানসিকতার পরিবর্তন—যেখানে করদাতাকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়।

উপসংহারঃ শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন একটি নতুন কর ব্যবস্থার পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ, স্বচ্ছতা এবং করদাতার আস্থার উপর। তবে শুরুটা যে আশাব্যঞ্জক—তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিটের জন্য ৭২,৩৪১টি আয়কর রিটার্ন নির্বাচন করেছে এনবিআর
28/04/2026

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিটের জন্য ৭২,৩৪১টি আয়কর রিটার্ন নির্বাচন করেছে এনবিআর

27/04/2026
সতর্কবার্তা : প্রতারক হতে সাবধান।
16/04/2026

সতর্কবার্তা : প্রতারক হতে সাবধান।

দৃষ্টি আকর্ষণ বিষয়ঃ ভ্যাট রিটার্ন বা মূসক ৯.১ মার্চ মাসের কর ধার্য, আদায় এবং দাখিল এর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে চলতি মাসের ২৩...
15/04/2026

দৃষ্টি আকর্ষণ
বিষয়ঃ ভ্যাট রিটার্ন বা মূসক ৯.১
মার্চ মাসের কর ধার্য, আদায় এবং দাখিল এর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত তাই যারা এখনও রিটার্ন জমাদান করেননি তারা নিধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিন।

স্বাভাবিক ব্যক্তি ও অবিভক্ত হিন্দু পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সকল করদাতার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ  ১৫...
13/04/2026

স্বাভাবিক ব্যক্তি ও অবিভক্ত হিন্দু পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সকল করদাতার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ ১৫/০৫/২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Address

51, Bashisaron Poddar Street, English Road, Tatibazar
Dhaka
1100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Smart Tax & Legal Solutions BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share