07/08/2026
শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমীরে জামায়াত ও সচিবালয়ের সামনে ১১ দলের কর্মসূচি: একটি স্পষ্টীকরণ
গতকাল দুপুরের পর থেকে হাজারো ফোন কল ও মেসেজ পাচ্ছি। সবার একটাই প্রশ্ন- "মাসুদ ভাইকে আমীরে জামায়াত মারলেন কেন? আসলে কী ঘটেছিল?" সেই ঘটনার প্রকৃত বিবরণ তুলে ধরতেই আমার এই লেখা।
প্রেক্ষাপট ও পুলিশের বাধা:
মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি শেষে আমীরে জামায়াতের নেতৃত্বে আমরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল- বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিপর্যস্ত জনজীবন লাঘবের দাবিতে সরকারের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করা।
সচিবালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ প্রশাসন আমাদের বাধা দেয়। তখন আমীরে জামায়াত পুলিশকে বলেন, "যেহেতু আপনারা আমাদের যেতে দেবেন না, তাই সচিবালয় থেকে সরকারের দায়িত্বশীল কাউকে এখানে আসতে বলুন, যাতে তিনি আমাদের প্রস্তাবনাগুলো গ্রহণ করতে পারেন।"
আমরা তখন সচিবালয় থেকে মাত্র ৩ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমীরে জামায়াত ১০ মিনিটের সময় বেঁধে দেন।
এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সাথে আলোচনা করছিলেন জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার, হামিদুর রহমান আযাদ, নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বিলম্ব দেখে একপর্যায়ে আমি এবং পরবর্তীতে এনসিপির নাহিদ সেই আলোচনায় যুক্ত হয়।
দীর্ঘসূত্রতা ও নেতাকর্মীদের ক্ষোভ:
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ফোনে সচিবালয়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং আমাদের বারবার আশ্বাস দিচ্ছিলেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কেউ একজন দাবিগুলো গ্রহণ করতে আসছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাত্র ৩ মিনিটের হাঁটা দূরত্ব অতিক্রম করতে তাদের ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় পার হয়ে যায়। অথচ রাস্তায় তখন বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপসহ একাধিক বর্তমান ও সাবেক এমপি অপেক্ষমাণ। এই দীর্ঘসূত্রতায় আমাদের সাথে থাকা সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীরা ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছিলেন।
পুলিশের ‘এই আসছেন, এই আসছেন’ আশ্বাসে বিরক্ত হয়ে একপর্যায়ে আমি ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিই এবং আমীরে জামায়াতের কাছে অনুমতি চাই। কিন্তু অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তিনি বলেন, "আমরা বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।" আমি পুনরায় অনুরোধ করলে তিনি আমাকে বারণ করেন এবং বকা দেন। এরপর লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের হাত থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা দেন, "আমরা আর পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করব। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ না এলে ধিক্কার জানিয়ে আমরা ফিরে যাব।"
মাসুদ ভাইয়ের স্লোগান ও আমীরে জামায়াতের 'আদরের শাসন':
আমীরে জামায়াতের এই বক্তব্য শোনার পর আমি আবার সামনে পুলিশ প্রশাসনের কাছে ফিরে যাই, যেখানে মিয়া গোলাম পরওয়ার, হামিদুর রহমান আযাদ এবং শফিকুল ইসলাম মাসুদ অবস্থান করছিলেন। স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে পেছনে থাকা আমীরে জামায়াতের ছোট হ্যান্ড মাইকের ঘোষণা সামনে থাকা নেতৃবৃন্দের কাছে পৌঁছায়নি।
মাসুদ ভাই একজন বিপ্লবী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী মানুষ। তিনি চাইছিলেন যেকোনো মূল্যে জনগণের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে। আমীরে জামায়াতের ঘোষণা শুনতে না পাওয়ায়, তিনি তখন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্লোগান ধরেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে আমীরে জামায়াত পেছন থেকে সামনে এগিয়ে আসেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে তিনি মাসুদ ভাইকে থামানোর জন্য সরিয়ে দেন, যা ছিল মূলত একজন অভিভাবকসুলভ ‘আদরের শাসন’।
এরপর সরকারকে ধিক্কার জানিয়ে আমীরে জামায়াত সেই এলাকা ত্যাগ করেন এবং আমরাও তার সাথে একাত্ম হয়ে ফিরে আসি।
পরিশেষ:
আমি গভীরভাবে অনুভব করেছি যে, একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের ১১ দফা দাবি গ্রহণ করতেও বিএনপি সরকারের লোকজন ভীত।
তাই আমীরে জামায়াতকে সামনে রেখে আমি তৎক্ষণাৎ স্লোগান ধরি- "ডরাইছে রে ডরাইছে, তারেক জিয়া ডরাইছে।"
কথায় আছে, "শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে।" গতকাল আমীরে জামায়াতের এই অভিভাবকসুলভ শাসন মাসুদ ভাইও পেয়েছেন, আমিও পেয়েছি। এতে আমরা বিন্দুমাত্র অপমানিত বা কষ্ট বোধ করিনি, বরং আমরা গর্বিত হয়েছি।
এই ঘটনা আমাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও শৃঙ্খলাবোধকে আরও শাণিত করেছে। সবাইকে ধন্যবাদ
— রাশেদ প্রধান (জাগপা)