27/07/2026
প্রতিবাদের অধিকার: আইন কী বলে?
নিঃসন্দেহে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধান অনুযায়ী, ৩৭ নং অনুচ্ছেদ নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে সমাবেশের স্বাধীনতাকে গণ্য করে। তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র এবং যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে হতে হবে। ৩৭ নং অনুচ্ছেদকে ৩৯ নং অনুচ্ছেদের সাথে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে, যা চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।
কিন্তু, এখন প্রশ্ন হলো এই স্বাধীনতা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে?
এর উত্তরে একই বিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতা, আদালত অবমাননা এবং মানহানির মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে এই স্বাধীনতা দেওয়া যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, কখন একটি সমাবেশ বেআইনি হয়ে যা?
এর উত্তর দিতে আমাদের ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা উল্লেখ করতে হবে, যেখানে বলা হয়েছে যে, একটি বেআইনি সমাবেশ হতে হলে প্রয়োজন— পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ এবং উক্ত সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো:
১. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকার বা আইনসভা, অথবা কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় ভয় দেখানো; অথবা
২. কোনো আইন বা কোনো আইনানুগ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া; অথবা
৩. কোনো অনিষ্টসাধন বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটন করা; অথবা
৪. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তির দখল নেওয়া বা অর্জন করা, অথবা কোনো ব্যক্তিকে তার পথচলার অধিকার, জল ব্যবহারের অধিকার বা অন্য কোনো অশরীরী অধিকার, যা সে দখলে বা ভোগে আছে, তা থেকে বঞ্চিত করা, অথবা কোনো অধিকার বা অনুমিত অধিকার বলবৎ করা; অথবা
৫. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা যা তিনি আইনত করতে বাধ্য নন, অথবা এমন কিছু করা থেকে বিরত রাখা যা তিনি আইনত করতে অধিকারী।
এগুলো হলো একটি সমাবেশকে বেআইনি ঘোষণা করার আইনগত উপাদান।
অধিকন্তু, এটি প্রতিরোধ করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু মহানগর এলাকাগুলোতে এগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ আইন রয়েছে, যেমন ঢাকা মহানগর এলাকার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশটি সমীচীন।
এর পাশাপাশি, আমাদের কাছে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ রয়েছে, যার ২৪ ধারায় কোনো মহানগর এলাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার কারফিউ (CURFEW) জারি করতে পারেন।
উপরোক্ত আলোচনাগুলো হলো প্রাসঙ্গিক আইনগত বিধান। অতএব, এটা বলা সমীচীন যে, প্রতিবাদ করার অধিকার আপনার মৌলিক অধিকার, তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে হতে হবে।