24/04/2026
সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া—এই ঘটনাটি তনু হত্যা মামলায় এক ধরনের নতুন নড়াচড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেটিও ঘটনার এক দশক পর। এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও এই পদক্ষেপ অনেকের ভেতরে আবারও ক্ষীণ হলেও এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের একটি নির্জন ঝোপঝাড় এলাকা থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরু থেকেই ঘটনাটি ঘিরে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। পরপর দুইবার ময়নাতদন্ত করা হলেও মৃত্যুর কারণ "ভাল্কুকের আক্রমণ ” বলা হয় এবং ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়, যা শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়।
অথচ পরিবারের দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
✅ তনুর শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল
✅চুল কাটা,✅ মুখে রক্ত, ✅মাথার পেছনে গুরুতর জখম। এই বাস্তবতার সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অমিল অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—কোনোভাবে কি সেই রিপোর্ট প্রভাবিত হয়েছিল?
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সিআইডি জানায়, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং তার পোশাকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার পরও বছরের পর বছর কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি দীর্ঘ সময়।
এতে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জাগে—এই বিলম্ব কি কেবল অবহেলার ফল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল? তদন্ত কি কোনো প্রভাবের কারণে থেমে ছিল?
২০২৬ সালে এসে আবার নতুনভাবে আলোচনায় আসে মামলাটি। তিনজন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন সার্জেন্ট জাহিদ, যিনি নিখোঁজের দিন তনুর বাসায় ছিলেন; ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, যিনি এখন গ্রেপ্তার; এবং সৈনিক শাহিনুল আলম, যাকে পরিবার ভিন্ন নামে চিনত।
এই নতুন তথ্য যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনি কিছু বিভ্রান্তিও তৈরি করছে। তবে হাফিজুরকে রিমান্ডে নেওয়া—এটি অন্তত বোঝাচ্ছে যে তদন্ত আবার সক্রিয় হয়েছে।
দশ বছর ধরে এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, বৃহত্তর সমাজের জন্যও একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছে, প্রতিবাদ করেছে—একটাই চাওয়া, সত্য প্রকাশ পাক।
এখন দেখার বিষয়—এই নতুন উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। সত্য কি সামনে আসবে, নাকি আবারও আড়ালে থেকে যাবে?