22/07/2026
মহামান্য হাইকোর্ট এখনো সরাসরি বলেনি যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হতে হলে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। বরং আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছে।
বিষয়টি সহজ ভাষায় বলতে; বর্তমানে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় চেয়ারম্যান বা সদস্য প্রার্থী হওয়ার জন্য নাগরিকত্ব, বয়স ইত্যাদি যোগ্যতা আছে; কিন্তু কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা—যেমন এসএসসি, এইচএসসি বা স্নাতক—নির্ধারিত নেই। এখন দুইজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করে দাবি করেছেন—
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাই চেয়ারম্যান প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক হওয়া উচিত। তাদের যুক্তির একটি উদাহরণ হলো, চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মামলা পরিচালনার ক্ষমতা রাখেন। অথচ বিচারিক কাজের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পদে সাধারণত উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। তাই চেয়ারম্যান পদের জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা যুক্তিসঙ্গত কি না—এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
হাইকোর্টের রুলের অর্থ কী?
হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেছে:
“ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কমপক্ষে স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না?”
এছাড়া, ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করায় কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এখন কি চেয়ারম্যান হতে স্নাতক লাগবে?
না, এখনো নয়।
এটি কেবল রুল। অর্থাৎ, হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। এখন—
সরকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জবাব দেবে;
হাইকোর্ট পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি বিবেচনা করবে; পরে আদালত চূড়ান্ত রায় দিতে পারে।
চূড়ান্ত রায়ে যদি আদালত স্নাতক বাধ্যতামূলক করে বা সরকারকে আইন সংশোধনের নির্দেশ দেয়, তখন বিষয়টি কার্যকর হতে পারে।
এক কথায় “হাইকোর্টের রুল” মানেই “স্নাতক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে এমন নয়। বরং সঠিক বক্তব্য হলো:
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক করার বিষয়ে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছেন। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বর্তমান খবর অনুযায়ী, রুলটি ২২ জুলাই ২০২৬ জারি হয়েছে এবং এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।